বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব-৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান

আরেকবার তার ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে ‘ক্যাথলিক’। ধর্মশিক্ষার ক্লাস সে করতে চায় কি না জিজ্ঞেস করলে জ্যাকের নানির ভয়ের কথা মনে আসে এবং সে বলে, না। তার কথা শুনে মনিটর বললেন, তাহলে বুঝে গেলাম, তুমি ক্যাথলিক ঠিকই। কিন্তু ধর্মের বাস্তবায়ন করো না, তাই না? তার বাড়িতে ধর্মের কী আচার আচরণ পালন করা হয় সে সম্পর্কে জ্যাক ব্যাখ্যা করে বলতে পারে না। কিংবা তার এলাকার এবং জাতির লোকেরা ধর্মকে কীভাবে দেখে থাকে সেটাও তার জানার বাইরে। সুতরাং সে মনিটরের প্রশ্নের জবাবে বলল, হ্যাঁ। উপস্থিত সবাই হেসে উঠলে সেদিনই জ্যাকের একগুঁয়েমির একটা সুনাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং ওই মুহূর্তেই সে বুঝতে পারে, সে গভীর সাগরে পড়েছে।

আরেক দিন সাহিত্যের শিক্ষক তাদের সবার হাতে একটা ফরম ধরিয়ে দিলেন। ব্যক্তিগত কিছু তথ্য দিতে হবে এবং পিতামাতার স্বাক্ষর লাগবে। ছোটখাটো অস্ত্র থেকে শুরু করে ম্যাগাজিন এবং তাসসহ আরও কতিপয় জিনিস স্কুলে আনা যাবে না বলে উল্লেখ ছিল সেই ফরমে। ফরমের ভাষা এমনই জটিল ছিল যে, মা এবং নানি যাতে সহজে বুঝতে পারেন সেজন্য জ্যাককে সহজ করে বুঝিয়ে দিতে হয়েছিল। পরিবারের মধ্যে একমাত্র তার মা-ই কোনো রকমে স্বাক্ষর করতে পারতেন। কাজেই তিনি ফরমের নিচে এক কোণায় স্বাক্ষর করবেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর সরকারের তরফ থেকে তিন মাস পর পর তাকে দেওয়া টাকা তোলার সময়ও তাকে স্বাক্ষর করতে হতো। প্রতিবার যাওয়ার সময় মা বলতেন তিনি কোষাগারে যাচ্ছেন। তার কাছে ওই শব্দের বেশি কোনো অর্থ জানা ছিল না সেই অফিস সম্পর্কে। তার সন্তানরা জানত, মা এক পৌরাণিক জায়গায় যাচ্ছেন। সেখানে প্রাচুর্যের কোনো সীমা নেই। প্রথমবার স্বাক্ষর দেওয়ার সময় ঝামেলা হওয়াতে ওখানে উপস্থিত পাশের একজন পরামর্শ দিলেন ‘বিধবা কামু’ কথাটার একটা অতি সাধারণ নমুনাকে স্বাক্ষর হিসেবে চালিয়ে দিতে। পরবর্তীতে ওই স্বাক্ষর দিলেই হবে। তিনি সেরকমই চালিয়ে এসেছেন। যাই হোক পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জ্যাক দেখল, খুব ভোরে খোলে এরকম একটা দোকানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করার জন্য মা খুব ভোরে বের হয়ে গেছেন; তার ফরমে স্বাক্ষর করার কথা হয়ত ভুলেই গেছেন। নানি স্বাক্ষর করতে পারতেন না। তার হিসাব চালাতেন বৃত্তের মাধ্যমে, মানে কয়বার বৃত্ত ছেদ করা হয়েছে তার উপর নির্ভর করতেন তার হিসাব। ছেদ করা দিয়ে তিনি বুঝাতেন এক, দশ কিংবা একশো। শেষে জ্যাক তার ফরম স্বাক্ষর ছাড়াই ফিরিয়ে নিয়ে গেল এবং বলল তার মা স্বাক্ষর করতে ভুলে গেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, বাড়িতে স্বাক্ষর করার মতো আর কেউ ছিল কি না। জ্যাক বলল, না আর কেউ ছিল না। তখন শিক্ষকের বিস্মিত চাহনি থেকে জ্যাক বুঝতে পারল, ব্যাপরটা সে যতটা মনে করেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি অস্বাভাবিক।

সে এর চেয়েও বেশি বিব্রত বোধ করেছে আলজিয়ার্সে আসা ফরাসি বালকদের নিজেদের বাবাদের পেশা সম্পর্কিত খামখেয়ালিপনা দেখে। যাকে নিয়ে জ্যাক সবচেয়ে বেশি ভেবেছে সে হলো জর্জ দিদিয়ের। ফরাসি ভাষার ক্লাস এবং অন্যান্য পড়াশোনার বিষয়ে দুজনের মধ্যে যথেষ্ট মিল থাকায় জ্যাক এবং তার মধ্যে বেশ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। তবে তাদের বন্ধুত্বের কারণে পিয়েরে আবার ঈর্ষায় ভুগতে থাকে। দিদিয়ের এসেছে ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক পরিবার থেকে। তার মা ‘গান তৈরি করতে’ পারতেন এবং তার বোন (তাকে কখনও না দেখেই জ্যাক তার স্বপ্নে বিভোর হতো) কাপড়ে ফুল তুলতে পারত। দিদিয়ের নিজের সম্পর্কে বলত, বড় হয়ে সে পাদ্রি হবে। খুব বুদ্ধিদীপ্ত দিদিয়ের নৈতিকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাপারে আপোসহীন। তার বিশ্বাস ছিল যুক্তিতর্কের বাইরে। তার মুখ থেকে কেউ কখনও খারাপ কোনো শব্দ শোনেনি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্রিয়াকলাপ কিংবা জন্ম প্রক্রিয়া সম্পর্কে অন্যরা অহরহ অনেক কথাই উচ্চারণ করত। সেসব ব্যাপারে অবশ্য তাদের পরিষ্কার ধারণা তখনও জন্মায়নি। জ্যাকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব পাকাপাকি হয়ে যাওয়ার পরে তার পক্ষ থেকে জ্যাকের কাছে যেটা জোরালোভাবে চাওয়া হলো সেটা হলো, জ্যাক যেন অশ্লীল কথা উচ্চারণ না করে। দিদিয়েরের সঙ্গে কথা বলার সময় অশ্রাব্য কথা পরিহার করা জ্যাকের জন্য মোটেও কঠিন হয়নি। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কেমন করে যেন অবলীলায় ওইসব শব্দ বের হয়ে পড়ত। ততদিনে অবশ্য তার মধ্যে বহুমুখী স্বভাব গড়ে উঠতে শুরু করেছে। এই স্বভাবের বদৌলতে অনেক কিছুই তার জন্য সহজ হয়ে যেত। কারো ভাষা নকল করা, যেকোনো পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া, যেকোনো মানুষের ভূমিকা পালন করা ইত্যাদি তার কাছে তেমন কোনো ব্যাপারই ছিল না। দিদিয়েরের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় শুনে ফরাসি মধ্যবিত্ত পরিবার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধরণা লাভ করে সে। ফ্রান্সে তার নিজের বাড়ি আছে। প্রত্যেক ছুটিতে সে সেখানে বেড়াতে যায়। বাড়ি সম্পর্কে সে জ্যাকের সঙ্গে অহরহ অনেক কথা বলে কিংবা লেখে। বাড়ির চিলেকোঠায় অনেক পুরনো বাক্সপেটরা আছে। সেগুলোতে পরিবারের চিঠিপত্র, স্যুভেনির, ছবি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা আছে। তার দাদা এবং দাদার বাবার জীবন সম্পর্কে তার জানা শোনা আছে। এমনকি তাদের এক পূর্বপুরুষ ট্রাফালগারে নাবিক হয়ে গিয়েছিলেন, তার কথাও তার জানা আছে। তার স্মৃতিতে জ্বলজ্বলে সেই লম্বা ইতিহাস থেকে দৈনন্দিন জীবনের আচার ব্যবহার সম্পর্কে উপদেশ এবং উদাহরণ টানত সে। ‘আমার দাদা বলতেন’.... ‘বাবা মনে করেন’.... ইত্যাদি ইত্যাদি। ওইসব কথা থেকেই তার নিজের চারিত্রিক কঠোরতা এবং উদ্ধত পবিত্রতার সাফাই খুঁজে পেত জ্যাক। ফ্রান্স সম্পর্কে কথা বলতে গেলেই বলত, ‘আমাদের দেশ’। আর দেশ তার কাছে ভবিষ্যতে কী রকম ত্যাগ প্রত্যাশা করতে পারে সে সম্পর্কে সজাগ হয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে সে। জ্যাককে সে প্রায়ই বলত, তোমার বাবা আমাদের দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। দেশ সম্পর্কে জ্যাকের মনে এরকম কোনো ধারণা ছিল না। সে শুধু জানত, তারও পরিচয় ফরাসি হিসেবে এবং সে কারণেই তারও কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। তবে তার কাছে ফ্রান্স মানে বিমূর্ত একটা ধারণামাত্র। মানুষ সে রকমই মনে করে আসছে বলে তার বিশ্বাস এবং সেই বিমূর্ত সত্তার প্রতিই তার মতো সবারই কর্তব্য আছে। ভালো মন্দ সব কিছুর বণ্টনকারী যে ঈশ্বরের কথা বাড়ির বাইরের মানুষদের কাছ থেকে সে শুনেছে বিমূর্ত বিষয়টা সেই ঈশ্বরের মতো, তার উপরে প্রভাব ফেলা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তিনি মানুষের ভাগ্য নিয়ে যা খুশি তা করতে পারেন। ঈশ্বর সম্পর্কে এরকম বিশ্বাস তার চারপাশের নারীদের মধ্যে আরও প্রবল। একদিন সে জিজ্ঞেস করেছিল, মা, আমাদের দেশ কোনটা?

কোনো কিছু বুঝতে না পরলে মা যেমন চমকে উঠতেন ওই প্রশ্ন শুনেও তেমনি ভয়ে চমকে উঠেছিলেন, কী জানি বাবা, জানি না।

জ্যাক বলেছিল, আমাদের দেশ ফ্রান্স।
মা যেন স্বস্তি পেলেন। বললেন, ও, হ্যাঁ হ্যাঁ।

দেশ কাকে বলে সেটা দিদিয়ের খুব স্পষ্ট করে জানত। তার সামনে তার পরিবারের সুস্পষ্ট এবং জোরালো উপস্থিতি। যে দেশে তার জন্ম সে দেশের গোটা ইতিহাসই যেন তার নিজের। দেশের ইতিহাসের কথা বলতে গেলে সে জোয়ান অব আর্কের কথা বলে শান্তি পেত। তার নামের শুধু প্রথম অংশ উল্লেখ করত। ভালো আর মন্দ বলতে কী কী বুঝায় সেসব ব্যাপারে এবং নিজের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভাগ্য সম্পর্কে তার ধারণা বেশ পাকা ছিল। কম মাত্রায় হলেও নিজেদের সম্পর্কে পিয়েরে এবং জ্যাকেরও ধরণা ছিল। তারা জানত, তাদের জাতপাত আলাদা, অতীত বলতে কিছু নেই। পারিবারিক বিষয়ে বলার মতো কিছু নেই। বাড়িতে পুরনো চিঠিপত্র বোঝাই বাক্সপেটরা কিংবা পরিবারের মানুষদের ছবি রাখার মতো চিলেকোঠা নেই। ঝাপসা ইতিহাসের একটা দেশের নামমাত্র নাগরিক তারা। বড় হতে হতে দেখেছে, ঘরের ছাদ ঢেকে থাকত তুষারে আর মাথার উপরে চিরস্থায়ী এক বর্বর সূর্য। নৈতিক শিক্ষা বলতে যা ছিল তাতে চুরি করতে নিষেধ করা হয়েছে। মাসহ অন্য সব নারীকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নারীদের সম্পর্কে, বড়দের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে এবং আরও অনেক প্রসঙ্গে সেই নৈতিক শিক্ষা তাদের কিছুই বলেনি। তারা যে সমাজে বড় হয়েছে সেখানে শিশুরা ঈশ্বর সম্পর্কে কিছু জানে না। ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কেও তারা কিছু জনে না। কারণ এই জীবন সূর্য, সমুদ্র আর দারিদ্রের উদাসীন দেবতাদের নিচে প্রতি দিনই যেন অফুরন্ত মনে হয়েছে তাদের কাছে। সত্যিকার অর্থে জ্যাক যদি দিদিয়েরের প্রতি এতটা অনুগত হয়েই থাকে তাহলে সেটা হয়েছে দিদিয়েরের হৃদয়ের কারণে। নিরঙ্কুশতার সঙ্গে তার হৃদয়ের মিশে যাওয়ার বিষয় এবং প্রবল অনুভূতির কাছে তার অনুগত্যের বিষয়টা জ্যাককে মুগ্ধ করেছে। অনুগত্য কথাটা জ্যাক প্রথম শুনেছে দিদিয়েরের কাছ থেকেই এবং কয়েকশো বার শোনা হয়ে গেছে এই কথাটা। দিদিয়েরের রয়েছে মনোমুগ্ধকর চারিত্রিক কোমলতা। তার কোমলতা সত্যিই বিচিত্র এবং চমকপ্রদ। জ্যাকের দৃষ্টিতে দিদিয়ের সবার থেকে কত আলাদা! এই কোমলতা জ্যাককে দুর্বার আকর্ষণে টানার ক্ষমতা রাখে। বড় হয়ে জ্যাক ভিনদেশি নারীদের প্রতি যেরকম অপ্রতিরোধ্য প্রবল আকর্ষণ বোধ করেছে তেমনি এক আকর্ষণ ছিল দিদিয়েরের মধ্যে। পরিবার, ঐতিহ্য আর ধর্ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা ছেলে দিদিয়ের জ্যাককে যেন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় কোনো দুর্বোধ্য গুপ্ত কিছুর পাহারা থেকে ফিরে আসা অভিযাত্রীদের মতো দুর্বার আকর্ষণে টানত।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা