বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান

স্কুলের পড়া শেষ হয়ে আসার সময় একদিন এম বার্নার্ড জ্যাক, পিয়েরে, ফ্লিউরি এবং সান্টিয়াগোকে ড্কালেন। প্রথম তিনজন সকল বিষয়ে অসাধারণ পাণ্ডিত্য দেখিয়েছে। সুদর্শন সান্টিয়াগো খুব বেশি মেধাবী না হলেও নিজের চেষ্টায় ভালো করেছে। তাকে উদ্দেশ করে এম বার্নার্ড বললেন, ওর পলিটেকনিক মেধা। ক্লাসরুমের অন্যরা চলে যাওয়ার পরে তিনি ওদের বললেন, তোমরা আমার সবচেয়ে ভালো ছাত্র। এখন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বৃত্তির জন্য আমি তোমাদের নাম প্রস্তাব করব। পরীক্ষায় পাশ করলে তোমরা বৃত্তি পাবে এবং প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে লিসিতে তোমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। বলা হয়, এলিমেন্টারি স্কুলগুলো স্কুলের সেরা। তবে জীবনে কোনো বৃহত্তর দিকে যেতে হলে এলিমেন্টারি স্কুল তোমাদের পথ দেখাতে পারে না। অন্যদিকে লিসিতে পড়াশোনা করলে অনেক দরজা খোলা পাবে। আর আমি চাই তোমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের ছেলেরা ওইসব দরজা দিয়ে বাইরের জগতে প্রবেশ করো। তবে সে উদ্দেশে তোমাদের অভিভাবকদের অনুমতি লাগবে। ঠিক আছে, আজকের মতো যাও।

তারা সবাই বিস্ময়াভিভূত হয়ে বের হয়ে এল। এমনকি যার যার পথ ধরার আগে এই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আর কোনো আলাপ আলোচনাই হলো না। বাড়ি ফিরে জ্যাক দেখল, নানি খাবার ঘরের টেবিলের ওপরের ওয়েলক্লথের ওপরে বিছানো ডাল থেকে পাথর বাছছেন। খবরটা নানিকে দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল সে। শেষে সিদ্ধান্ত নিল, মা ফিরলে জানাবে। মা ফিরলেন খুব ক্লান্ত হয়ে এবং ফিরেই একটা অ্যাপ্রোন পরে নানির ডাল বাছার কাজে যোগ দিলেন। জ্যাকও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা বললে তারা জ্যাককে মোটা চিনা মাটির বাটিতে করে ডাল বাছতে দিলেন। ওই বাটিটাতে ডাল থেকে পাথরের নুড়ি বেছে ফেলা সহজ। ডাল বাছার কাজ শুরু করেই জ্যাক তার খবরটা জানাল তাদের।
শুনে নানি বললেন, এ আবার কোন ধরনের পড়া? এই প্রবেশিকার পড়া পড়তে কয় বছর লাগবে?

ছয় বছর।
নিজের সামনের ডালের প্লেটটা একপাশে সরিয়ে রেখে নানি তার মেয়ের উদ্দেশে বললেন, শুনেছিস কী বলছে জ্যাক?
মা আসলে শোনেননি। জ্যাক ধীরে ধীরে আবারো তার কথাটা বলল এবং মা বললেন, হ্যাঁ, সে বুঝতে পারছি। তুই বুদ্ধিমান বলেই ওরকম পড়ার সুযোগ পেতে পারিস।
নানি বললেন, বুদ্ধিমান হোক আর যা-ই হোক ওকে তো আগামী বছরই কাজকর্মে পাঠাতে চাচ্ছিলাম। জানিস তো, আমাদের টাকা পয়সা নেই। কাজে পাঠালে ও নিজের উপার্জনটা তো আনতে পারবে।
মা বললেন, সেটা ঠিকই।
বাইরে তখন তাপের তেজ কমে আসছে। দিনটাও ফুরিয়ে আসছে। দিনের এই সময়টাতে শুধু কারখানায় কাজ চলছে। পাড়ার সব কিছু নীরবতায় ঢাকা। জ্যাক রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে না তার কী চাই। শুধু জানে, এম বার্নার্ড যা বলেছেন সেটাই মানতে হবে। তবে নয় বছর বয়সে নানিকে না মানার কোনো উপায় নেই, ইচ্ছেও নেই। তখনও নানি দ্বিধান্বিত; তিনি বললেন, তারপর কী করবি তুই?

আমি জানি না। হতে পারে, এম বার্নার্ডের মতো কোনো শিক্ষক হবো।
ছয় বছর পড়েই, হ্যাঁ। তার ডাল বাছার গতি আরো ধীর হয়ে এল। তারপর আবার বললেন, না, মোটের ওপর আমরা তো গরিব। এম বার্নার্ডকে বলিস আমরা পারব না।


পরের দিন বাকি তিনজন জ্যাককে জানাল, তাদের পরিবারের সবাই রাজী হয়েছেন। তারা জ্যাকের খবর জানতে চাইলে জ্যাক বলল, জানি না। বাকি তিনজনের চেয়ে সে আরো গরিব। এই ভাবনাটাই তাকে মনের দিক থেকে আরো তলিয়ে দিল যেন।


স্কুল ছুটির পর সবাই চলে গেলে ওরা চারজন অপেক্ষা করতে লাগল। পিয়েরে, ফ্লিউর এবং সান্টিয়াগো তাদের কথা এম বার্নার্ডকে জানিয়ে দিল। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আর তোমার খবর কী পণ্ডিত?
আমি জানি না।
তিনি জ্যাকের দিকে তাকালেন। বাকি তিনজনকে বললেন, ঠিক আছে, তোমাদের কিন্তু স্কুল ছুটির পর বিকেলে আমার সঙ্গে আরো পড়তে হবে। আজ আপাতত যাও। ওরা চলে গেলে তিনি চেয়ারে বসে জ্যাককে আরো কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ঠিক আছে?
জ্যাক বলল, নানি বলেছেন, আমরা খুব গরিব বলে ওই পড়াটা আমার আর হবে না। আগামী বছর থেকে আমাকে কাজ করতে হবে।
আর তোমার মা?
সবকিছু নানির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলে।

জানি, বলে এম বার্নার্ড খানিক কী যেন ভাবলেন। তারপর জ্যাকের কাঁধের ওপর হাত রেখে বললেন, শোনো ওনাকে দোষ দেওয়া যায় না। তার জন্য জীবন খুব কঠিন। কী রকম নিঃসঙ্গ অবস্থায় তোমাকে, তোমার ভাইকে বড় করছেন তারা দুজন। তোমরা যে এত ভালো ছেলে হয়েছো তার জন্যই। সুতরাং তার সাহসহারা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বৃত্তির টাকা ছাড়াও আরো সামান্য কিছু টাকা তোমার দরকার হবে। আর ছয়টা বছর তুমি পরিবারকে কোনো টাকা পয়সা দিতে পারবে না। তার অবস্থাটা বুঝতে পারছ? শিক্ষকের দিকে মুখ না তুলেই জ্যাক শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল। এম বার্নার্ড বললেন, ভালো। আমরা তো বিষয়টা ওনাকে বুঝিয়ে বলতে পারি। তোমার ব্যাগ নাও। আমি তোমার সাথে আসছি।

আমাদের বাড়িতে?
হ্যাঁ, অনেক দিন পর তোমার মায়ের সাথে দেখা হলে ভালোই লাগবে।

কয়েক মিনিট পরই বিস্মিত জ্যাকের সামনে দাঁড়িয়ে এম বার্নার্ড তাদের দরজার কড়া নাড়লেন। অ্যাপ্রোনে হাত মুছতে মুছতে দরজায় এলেন জ্যাকের নানি। অ্যাপ্রোনের ফিতা বেশি আঁটো করে বাধার কারণে তার বুড়ি বয়সের পেটটা সামনের দিকে বেরিয়ে এসেছে। জ্যাকের শিক্ষককে দেখে তিনি এমন অঙ্গভঙ্গি করলেন যেন তার চুল হাত দিয়ে পেছনের দিকে সরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি কিছু বলার আগেই এম বার্নার্ড বলে উঠলেন, তাহলে ইনি তোমার নানি।

নিত্যদিনের মতো কাজেকর্মে কঠিন ব্যস্ত। আহা, আসলেই আপনি খুব কর্মী মানুষ। জ্যাকের নানি তাকে খাবার রুমে ঢোকার আগে যে রুমটা পার হতে হয় সেটার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। টেবিলে তাকে বসতে দিয়ে গøাস এনে তার সামনে এক বোতল এনিসেত রাখলেন আপ্যায়নের জন্য। এম বার্নার্ড বললেন, আপনি ব্যস্ত হবেন না। আমি এসেছি আপনার সাথে কয়েকটা জরুরি কথা বলতে। কথা শুরু করলেন তার ছেলেমেয়েদের প্রসঙ্গ দিয়ে; এরপর খামারে তার জীবন এবং তার স্বামী সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলেন। এরপর তিনি নিজের সন্তানদের কথাও বললেন। তখন জ্যাকের মা এলেন; মনে হলো কিছুটা আতঙ্কিত। তবু এম বার্নার্ডকে সম্বোধন করলেন মসিঁয়ে লে মাইত্রে বলে। নিজের ঘরে ঢুকে চুলে চিরুনি চালিয়ে এবং আরেকটা অ্যাপ্রোন চাপিয়ে বের হয়ে এসে বসলেন টেবিল থেকে একটু দূরের একটা চেয়ারের কোণায়। জ্যাকের উদ্দেশ্যে এম বার্নার্ড বললেন, তুমি রাস্তার ধারে গিয়ে দাঁড়াও। আমি না আসা পর্যন্ত ওখানে অপেক্ষা করো। জ্যাকের নানিকে এম বার্নার্ড বললেন, বুঝতে পারছেন হয়তো, আমি জ্যাকের পক্ষে কয়েকটা কথা বলতে চাই। সত্যি বলতে কী, ওর ওপরে ভরসা রাখা যায়। জ্যাক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে রাস্তার সামনে দরজায় এসে দাঁড়াল। জ্যাক ওখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষায় রইল। ততক্ষণে রাস্তা জনকোলাহলে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। ডুমুর গাছের ফাঁক দিয়ে আকাশটা সবুজ রং ধারণ করছে। এম বার্নার্ড সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসে জ্যাকের পেছনে দাঁড়ালেন। জ্যাকের মাথায় আদরের একটা সুরসুরি দিয়ে তিনি বললেন, ঠিক আছে; সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। তোমার নানি আসলেই খুব ভালো মানুষ গো। আর তোমার মা, তার কথা আর কী বলব...। তাকে কখনও ভুলে যেও না, বাছা।

জ্যাকের নানি এগিয়ে আসতে আসতে বললেন, মসিয়েঁ। তার হাতে অ্যাপ্রোন, চোখ মুছতে মুছতে এগিয়ে এসে বললেন, আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আপনি বলেছেন আপনি ওকে স্কুলের পড়ার বাইরেও পড়াবেন।

এম বার্নার্ড বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনি আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন। সেটা ওর জন্য শুধু ছেলেখেলা হবে না।
কিন্তু আপনাকে কিছু দেওয়ার মতো সামর্থ্য যে আমাদের নেই!
এম বার্নার্ড তার দিকে ভালো করে তাকিয়ে থেকে জ্যাকের কাঁধ ধরে ঝাঁকিুনি দিয়ে বললেন, ও নিয়ে আপনি কিচ্ছু ভাববেন না। আমি জ্যাকের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি।

(চলবে..)

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিরপুর এলাকার সাবেক সমন্বয়ক তানিফা আহমেদ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১০ জন নিহত হন, যার মধ্যে তানিফা আহমেদও ছিলেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তানিফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি লেখেন— “তানিফা আহমেদ ছাত্র আন্দোলনের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন এবং তিনি সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতেন। তার অকালমৃত্যু সংগঠনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

তানিফার আকস্মিক মৃত্যুতে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উমামা ফাতেমা বলেন, “তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, বরং বিশ্বাস ও আদর্শের জন্য কাজ করে গেছেন।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে তানিফার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং তার সহকর্মীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

উমামা ফাতেমা আল্লাহর কাছে তানিফার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করার দোয়া করেন।

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২