বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান

যে রাতে জ্যাক ওই ঘটনার বর্ণনা শুনেছিল সে রাতে বিছানার একপাশে গুটিশুটি মেরে পড়েছিল যাতে তার ভাইয়ের গায়ের সঙ্গে ছোঁয়া না লাগে। তখনকার দিনে তারা দুভাই এক বিছানায় ঘুমাত। বমনভাব এবং ভীতি ঠেকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হয়েছিল তাকে। ঘটনার বর্ণনা শুনে কল্পনায় যেসব চিত্র আসত সেগুলো তার কাছে ভীতিকর মনে হতো। সারা জীবনই ওইসব প্রতিমূর্তি তাকে তাড়া করেছে, তার ঘুমের মধ্যেও; কখনও কখনও মাঝে মধ্যে, কখনও কখনও নিয়মিতভাবে। বিভিন্ন রূপ ধরে দুঃম্বপ্ন তাকে তাড়া করে বেড়াত। তবে সব সময় ওইসব দুঃস্বপ্নের বিষয়বস্তু একটাই থাকত: তাকে ওই প্রতিমূর্তিগুলো ফাঁসি দেওয়ার জন্য নিতে এসেছে।

জেগে উঠে অনেক সময় ধরে চেষ্টা করার পরে তবে সেই ভয়জাগানিয়া মানসিক অবস্থা থেকে সে বের হয়ে আসতে পারত যেখানে সত্যি কোনো আশঙ্কা নেই তার ফাঁসি হয়ে যাওয়ার। বড় হওয়ার পর তার চারপাশে পৃথিবীর ঘটনাবলী এমনভাবে ঘটেছে তার ফাঁসি যেন আর খুব বেশি অসম্ভব ঘটনা থাকেনি। বাস্তবতা তার স্বপ্নকে আর প্রশমন করতেও পারেনি। বরং তার ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন বেশ কিছু বছর ধরে তার বাস্ততবাকে যেন হৃষ্টপুষ্ট করেছে। যে দুঃস্বপ্ন তার বাবাকে তাড়া করেছে সেটাই যেন তিনি তার ছেলের জন্য রেখে গেছেন একমাত্র সুস্পষ্ট এবং নিশ্চিত উত্তরাধিকার হিসেবে। এই রহস্যময় বন্ধন তাকে সেন্ট ব্রিউকের ওই অচেনা মানুষটির সঙ্গে সম্পর্কের সুতোয় বেঁধেছে যে মানুষটি হয়তো ধারণাই করতে পারেননি, তার এরকম অপঘাতী মৃত্যু হবে। এই বন্ধন তার মায়ের বোধগম্যতার বাইরে; কেননা তিনি ওই ফাঁসির রাতের ঘটনার বর্ণনা শুনেছিলেন, জ্যাকের বাবার বমি করা দেখেছেন এবং সকালবেলা ভুলেও গেছেন। সেভাবেই পরবর্তীতে তিনি অনুভব করতে অক্ষম থেকেছেন সময় বদলে গেছে সেকথাও। তার কাছে সময় একই রকম রয়ে গেছে: তিনি মনে করেছেন, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই যে কোনো মুহূর্তে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, জ্যাকের নানির সবকিছু সম্পর্কে অনেকটা সঠিক ধারণা ছিল: জ্যাককে তিনি প্রায়ই বলতেন, তোর শেষ পরিণতি হবে ফাঁসিকাঠ। কেন হবে না? এরকম আশঙ্কা একদম যে অস্বাভাবিক ছিল তাও নয়। তিনি পরিষ্কারভাবে তেমন কোনো আশঙ্কার কথা জানতেন না। তবে তার চারিত্রিক গঠন যেমন ছিল তাতে জ্যাকের ভাগ্যে সেরকম কিছু ঘটে গেলে তিনি বিস্মিত হতেন না মোটেও। কালো পোশাক পরিহিত দীর্ঘদেহী নানিকে দেখাত মহিলা পয়গম্বরের মতো। অনেক বিষয় সম্পর্কেই বেখবর এবং একগুঁয়ে ছিলেন বলে কী করে সবকিছু বিনা প্রতিবাদে মেনে নেওয়া যায় সে জ্ঞান তার ছিল না। জ্যাকের ছেলেবেলার অধিকাংশ অভিজ্ঞতা জুড়ে অন্য আর কারো থেকে সবচেয়ে বেশি তার উপস্থিতি। মাহুন থেকে আগত বাবা মা তাকে বড় করেছিলেন ছোট একটা খামার এলাকায় এবং অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়েছিলেন মাহুন থেকে আগত হালকা পাতলা কোমল গড়নের একজন মানুষের সঙ্গে। তার স্বামীর ভাইয়েরা ১৮৪৮ সালের দিকে তাদের দাদার মৃত্যুর পরে আলজেরিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।

তাদের দাদা জীবনের একটা সময় জুড়ে ছিলেন কবি: গাধার পিঠে চড়ে গোটা দ্বীপের সব্জি বাগানগুলোর দেয়ালের পাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াতেন আর কাব্য রচনা করতেন। এরকম কাব্য রচনা চলার এক পর্যায়ে হঠাৎ তিনি কাব্য রচনা ছেড়ে দিলেন: তার বিশ্বাস হয়েছিল, তিনি একজন প্রেমিককে শাস্তি দিচ্ছেন। কিন্তু সামনের ওই ছায়াচিত্র এবং বৃহৎ প্রান্তভাগঅলা কালো টুপির কাছে তিনি প্রতারিত হয়েছিলেন এবং এভাবেই পরিবারিকসূত্রে পাওয়া কাব্যগুণকে হত্যা করেছিলেন। শেষে তার সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেননি। একজন কবির প্রতারিত হওয়ার মতো এরকম ট্র্যাজিক পরিণতির মধ্যেই তার বংশধরদের আলজেরীয় উপকূলে বছর বছর সংখ্যায় বেড়ে ওঠা নিরক্ষর লোকদের মাঝে বসবাসের শুরু। আশেপাশে কোনো স্কুল ছিল না। প্রখর সূর্যের নিচে শ্রম ঢেলে শেষ হয়ে যাওয়া জীবনের সঙ্গেই তাদের অস্তিত্বের বন্ধন। কিন্তু জ্যাকের নানার ফটো দেখে বোঝা যায়, তার কবি দাদার উৎসাহের কিছু একটা রেশ তার মধ্যে ছিল।

তবে সরু মুখমণ্ডল, উঁচু ভ্রু রাশির নিচে তার সুস্পষ্ট চাহনি এবং চোখে স্বপ্নবাজের প্রকাশভঙ্গি দেখে মনে করার কোনো কারণ নেই, তিনি তার অল্পবয়সী, সুদর্শনা এবং শক্তিমতি স্ত্রীর সামনে নিজস্ব মূর্তি রক্ষা করতে পারবেন। নানি তার স্বামীকে নয় জন সন্তান উপহার দিয়েছিলেন: দুজন শৈশবেই মারা যায়। একজন প্রতিবন্ধী হয়ে রক্ষা পায়; শেষের জন জন্মের সময় থেকেই আধা বোবা এবং বধির। তার সন্তানদের তিনি বড় করেছেন একটা ছোট খামারের নিরানন্দ পরিবেশে এবং একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে নিজের ভাগের কঠিন কায়িক শ্রমের কাজকর্মও করেছেন। খাবার সময় টেবিলের এক কোণে লম্বা একটা লাঠি হাতে বসে থাকতেন। তাতে মুখের কথায় কাউকে শাসন করার মতো প্ররিশ্রমের হাত থেকে রেহাই মিলত। কারো দোষ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মাথার ওপর বাড়ি মারতেন।

ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে তিনি নিজের জন্য এবং তার স্বামীর জন্য শ্রদ্ধা আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করতেন: ছেলেমেয়েদের তিনি নির্দেশ দিতেন তারা যেন কথা বলার সময় বাবার সঙ্গে নম্র ভদ্রভাবে স্পেনীয় কায়দায় কথা বলে। তার স্বামী অবশ্য এই শ্রদ্ধা উপভোগ করেননি; অল্প বয়সেই তিনি মারা যান। রোদে পুড়ে, কঠিন পরিশ্রমের ফলে এবং সম্ভবত দাম্পত্য জীবনের কারণে তিনি মারা গেছেন; জ্যাক জানতে পারেনি, কী রোগে তিনি মারা গেছেন। একা হয়ে যাওয়ায় নানি খামার ছেড়ে তার ছোট সন্তানদের নিয়ে আলজিয়ার্সে বসবাসের জন্য চলে যান। বাকিরা কাজেকর্মে ব্যস্ত ছিল। কারণ সামান্য নবিশ হওয়ার মতো বয়স হতেই তাদেরকে কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তাকে বোঝার মতো বয়স হলে জ্যাক দেখতে পেয়েছে, না দারিদ্র, না অন্য কোনো বিরূপ পরিস্থিতি তাকে কাবু করতে পেরেছে। তখন শুধু তিন সন্তান তার সঙ্গে ছিল: ক্যাথরিন, যোসেফ এবং প্রতিবন্দ্বী এতিয়েনে। জ্যাকের মায়ের আরেক নাম ক্যাথরিন, তাকেও অন্য লোকদের বাড়ির কাজে লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল; প্রতিবন্দ্বী ছোট ছেলে, পরবর্তীতে উদ্যমী: টব, পিপে ইত্যাদি নির্মাতা হয়েছিল। যোসেফ তখনও বিয়ে করেনি এবং রেলওয়ের কাজ করত। তাদের তিন জনের রোজগার একত্র করলে খুব সামান্য পরিমাণই হতো এবং সেটা দিয়েই পাঁচ সদস্যের সংসার চলত। সংসারের টাকা পয়সার দেখভাল করতেন নানি এবং পরে জ্যাক তার সম্পর্কে প্রথমত যে ধারণাটা পেয়েছে সেটা হলো, তিনি কৃপণ। যে বাতাস আমাদের বাঁচিয়ে রাখে সে বাতাস প্রসঙ্গে আমরা যতখানি কৃপণ তার চেয়ে মনে হয় তিনি বেশি কৃপণ ছিলেন না।

ছোটদের কাপড়-চোপড় নানি নিজে কিনতেন। জ্যাকের মা কাজ থেকে বাড়ি ফিরতেন দিনের শেষ ভাগে। তার মায়ের কাছে যা শুনতেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন। তার মায়ের শক্তি দেখে বিমূঢ়ও হতেন এবং তার কাছেই তার নিজের রোজগার সবকিছুই বুঝে দিতেন। কাজেই জ্যাকের ছেলেবেলার সবটা সময় জুড়েই যেসব রেইনকোট পড়তে হয়েছে সেগুলো তার শরীরিক আকারের চেয়ে অনেক বড় থাকত। এখানে নানির যুক্তি ছিল প্রকৃতি নির্ভর, মানে ছোট জ্যাক বড় হতে থাকবে এবং যেহেতু রেইনকোটটা অনেক দিন ব্যবহার করতে হবে, জ্যাক বড় হয়ে গেলেও একই রেইনকোট তাকে মানিয়ে যাবে। পনের বছর বয়সের আগ পর্যন্ত জ্যাক খুব একটা দ্রুত বাড়েনি এবং রেইনকোটের মধ্যে জ্যাক বড় হয়ে ওঠার আগেই সেটা ছিড়ে গেছে।

পরবর্তীটা যখন কেনা হতো তখনও ওই মিতব্যয়িতার নীতিতেই কেনা হতো। আর জ্যাকের ক্লাসমেটরা তার লম্বা পোশাক নিয়ে দুষ্টুমি করলে তার কোমরের পাশে রেইনকোটটা ফুলিয়ে ওপরের দিকে তোলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না। কারণ তাতে রেইনকোটের হাস্যকর চেহারায় খানিকটা মানানসই ভাব ফুটে উঠত। অবশ্য স্কুলের ওই সব লজ্জার ঘটনাগুলো সে দ্রুতই ভুলে যেত ক্লাসে ঢুকলে। সেখানে জ্যাকের মর্যাদা সবার ওপরে থাকত। এছাড়া খেলার মাঠেও ছিল তার রাজত্ব: সে খুব ভালো ফুটবল খেলতে পারত। কিন্তু সেখানেও আনন্দের বিপরীতে আরেক সমস্যা ছিল: ফুটবল মাঠে ছিল সিমেন্টের গ্রাউন্ড; ক্লাসের বিরতিতে ফুটবল খেললে তার জুতার তলা ক্ষয়ে যেত বলে নানি নিষেধ করে দিয়েছিলেন এই খেলা। নাতির জন্য তিনি নিজে শক্ত তলাঅলা জুতা কিনে দিয়েছিলেন। আশা করেছিলেন, ওই জুতা অমর হয়ে থাকবে। জুতার আয়ু বাড়ানোর জন্য তলায় মোচাকৃতির বিরাট পেরেক লাগানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাতে জুতার আয়ু দ্বিগুণ হওয়ার কথা। পেরেক ক্ষয় হয়ে গেলে তারপর জুতার তলা ক্ষয়ে যাবে। তাতে নানির আরেক সুবিধা হয়েছিল: তিনি জ্যাককে ফুটবল খেলতে নিষেধ করেছিলেন; তার নিষেধাজ্ঞা জ্যাক কতখানি অমান্য করল তাও ধরা সহজ হয়ে গেল।

এরপরও জ্যাক মাঠে ফুটবল খেললে পেরেকের নাল তার অবাধ্য হয়ে ক্ষয়ে যেত। বাড়ি ফিরে প্রতিদিন জ্যাককে নানির কাছে হাজিরা দিতে হতো। তখন কাসান্ড্রা, তার নানি, সাধারণত রান্নাঘরে কালো হাঁড়িপাতিলগুলোর ওপর তার কৃর্তত্ব ফলাতে ব্যস্ত থাকতেন। নাল পরানোর সময় ঘোড়ার পা যেমন ওপরের দিকে তোলা থাকে সেভাবে জ্যাক হাঁটু মুড়ে জুতার তলা ওপরের দিকে তুলে নানিকে দেখাত। অবশ্য বন্ধুদের ডাক এবং প্রিয় খেলার লোভ তাকে টানতই। তখন অসম্ভব সদ্গুণ অবলম্বন না করে বরং পাপকে ঢাকার চেষ্টাই করত সে: স্কুল থেকে ফেরার পথে খানিকটা সময় ব্যয় করে কাদামাটির ভেতর জুতার তলা ঘষে নিতো যাতে পেরেকের ক্ষয়ে যাওয়া মাথা না দেখা যায়। কখনও কখনও এই চেষ্টা সফলও হতো। কিন্তু এক সময় পেরেকের ক্ষয়ে যাওয়া মাথা বের হয়েই যেত, কিংবা খোদ জুতার তলাটাই নষ্ট হয়ে যেত, কিংবা সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজিক বিষয়ও ঘটে যেত–খেলার সময় মাঠের মাটিতে কষে লাথি চালালে অথবা গাছপালা রক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত লোহার বেষ্টনীতে লাথি মারলে জুতার নিচের তলা থেকে ওপরের তলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। সে রকম ঘটনার দিনে দড়ি কিংবা সুতা দিয়ে জুতা বেঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরত জ্যাক।

ওইসব রাতে চামড়ার চাবুক ছিল অনিবার্য। কান্নারত জ্যাককে মা শুধু একটা সান্ত্বনাই দিতে পারতেন, জানিস তো জুতোগুলো কত দামি। আরেকটু সচেতন হতে পারিস না? মা কোনোদিন তার সন্তানদের গায়ে হাত তুলতেন না। পরের দিন জ্যাককে মোটা কাপড়ের তৈরি দড়ি দিয়ে বানানো তলাঅলা জুতা পরিয়ে জুতা মেরামতকারীর কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। দুতিন দিন পর তার সেই জুতা ফেরত পেত সে, নতুন নাল পরানো অবস্থায়। আরেকবার তাকে পিচ্ছিল নড়বড়ে তলার ওপরে ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন করতে হতো।

(চলবে)

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিরপুর এলাকার সাবেক সমন্বয়ক তানিফা আহমেদ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১০ জন নিহত হন, যার মধ্যে তানিফা আহমেদও ছিলেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তানিফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি লেখেন— “তানিফা আহমেদ ছাত্র আন্দোলনের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন এবং তিনি সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতেন। তার অকালমৃত্যু সংগঠনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

তানিফার আকস্মিক মৃত্যুতে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উমামা ফাতেমা বলেন, “তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, বরং বিশ্বাস ও আদর্শের জন্য কাজ করে গেছেন।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে তানিফার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং তার সহকর্মীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

উমামা ফাতেমা আল্লাহর কাছে তানিফার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করার দোয়া করেন।

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২