বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব-৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান

বস,আমরা এখন কী করব?
আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতাম তাহলে গেরিলায় যোগ দিতাম। ফ্রান্সে আর একটা লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
কৃষক হেসে ফেলে বলল, কী রকম ভোতাবুদ্ধি, তাই না?
জ্যাক বলল, তারা আপনার সঙ্গে থাকেন?

না, তিনি আলজেরিয়া সম্পর্কে একটা কথাও শুনতে চাননি। তিনি মার্সেইতে একটা আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। মা আমার কাছে চিঠিতে লিখেছেন বাবা তার রুমের চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন।
আর আপনি?

ওহ, আমি তো থেকেই গেলাম। শেষ পর্যন্ত যা-ই ঘটুক আমি থেকেই গেলাম। আমার পরিবার আলজিয়ার্সে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি এখানেই বুড়ো ব্যাঙের মতো কর্কশ স্বরে ডাকতে থাকব। যারা প্যারিসে আছে তারা এটা বুঝতে পারে না। আমরা ছাড়া আর কারা বুঝতে পারে? আরবরা।

ঠিক বলেছেন। আমরা উভয়ই যেন একে অপরকে বুঝতে পারি শুরু থেকেই। মানুষের একই রক্ত নিয়ে বোকারা আর নির্বোধেরা আমাদের পছন্দ করে। আমরা একে অন্যকে আরো কিছুদিন হত্যা করতে থাকব। একজন আরেকজনের বিচি কাটতে থাকব; একজন আরেকজনের ওপর অত্যাচার করতে থাকব। তারপর আমরা একসঙ্গে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য ফিরে যাব। দেশটা সেরকমই চাই। আরেকটু রস? হালকা একটু। আরেকটু পরে তারা দুজনই বাইরে বের হয়ে এলো। জ্যাক জিজ্ঞেস করল তার বাবা মাকে চিনতে পারে এমন কেউ আছে কি না। ভেইলার্ড বলল, না। যে বৃদ্ধ ডাক্তার তাকে পৃথিবীর আলোতে নিয়ে এসেছিলেন এবং পরে সলফেরিনোতেই অবসরে গেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। সেইন্ট আপোর্ত্রের সম্পত্তি দুবার হাত বদল হয়েছে। দুটো যুদ্ধে আরবের কর্মজীবি লোকেরা সবাই মারা গেছে; আরো কত জনের জন্ম হয়েছে। ভেইলার্ড বলেই চলল, এখানে সবকিছু বদলে যায়। পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটে। আর মানুষেরাও সব ভুলে যায়। তবে সেইন্ট আপোর্ত্রের খামারের কেয়ারটেকার তামজাল কিছু জেনে থাকতেও পারে। ১৯১৩ সালে তার বয়স বিশের কাছাকাছি ছিল। জ্যাক সিদ্ধান্ত নেয় যে করেই হোক তার জন্মস্থানটা দেখতে যাবে সে।

শুধু উত্তর দিক ছাড়া দেশটার বাকি সবদিক দূরবর্তী পাহাড় পর্বতে ঘেরা। দুপুরের রোদের তাপে পাথরের বড় বড় স্তুপ কিংবা উজ্জ্বল ঘন কুয়াশার মতো সেগুলোর চেহারা আবছা আবছা দেখা যায়। পাহাড়গুলোর মাঝখানে উত্তরে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সূর্যের তাপে সাদা হয়ে যাওয়া আকাশের নিচে এক সময়ের জলাপূর্ণ সাইবুজ সমতল ভূমি। সেখানকার সারিবদ্ধ আঙুরের গাছগুলোর পাতা কপার সালফেটে নীলাভ হয়ে গেছে। আর আঙুরগুলো ইতোমধ্যে গাঢ় রং ধারণ করেছে। মাঝে মাঝে দেখা যায় সাইপ্রেস কিংবা ইউক্যালিপটাসের ঝাড়, নিচের বাড়ি ঘরগুলো ছায়া দিয়ে ঢেকে রেখেছে। খামারের ভেতর দিয়ে হাঁটা পথে এগোচ্ছে জ্যাক এবং ভেইলার্ড। তাদের পায়ের নিচ থেকে লাল রঙের ধূলা উড়ে যাচ্ছে। পাহাড় পর্যন্ত সারাটা পথ বাতাস মরিচীকার মতো কাঁপছে। সূর্যের তাপ ঢেউ খেলে যাচ্ছে। সাধারণ গাছপালা গুচ্ছের পেছনে একটা বাড়িতে যখন তারা পৌঁছে তাদের শরীর থেকে ঘাম চুইয়ে পড়তে থাকে। আড়ালে কোথা থেকে যেন একটা কুকুর রাগান্বিত স্বরে ঘেউ ঘেউ করে তাদের স্বাগত জানায়।

প্রায় ভাঙা একটা ঘরের তুঁতকাঠের তৈরি দরজাটা যত্নে করে বন্ধ করা। ভেইলার্ড দরজায় টোকা দিলে কুকুরটা আগের মতোই চিৎকার দিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। ঘরের অন্য পাশের ঘেরা দেওয়া উঠোন থেকে মনে হয় শব্দটা আসছে। কিন্তু কারও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ভেউলার্ড জ্যাককে বলে, কী রকম বিশ্বাসী আমরা একে অপরের প্রতি! লোকজন আছে। কিন্তু অপেক্ষা করছে।
ডাক ছেড়ে বলল সে, তামজাল, আমি ভেইলার্ড।

এরপর জ্যাককে উদ্দেশ করে বলল, ছয় মাস আগে তার জামাতার খোঁজে লোক এসেছিল। তারা জানতে এসেছিল, সে গেরিলাদের কোনো কিছু সরবরাহ করছে কি না। তাকে নিয়ে যাওয়ার পরে তার সম্পর্কে আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। পরে লোকজন তামজালকে বলেছে, হয়তো পালাতে গিয়ে সে মারা পড়েছে।

জ্যাক বলল, আহ্ কী ভয়াবহ কথা! সে কি আসলেই গেরিলাদের সরবরাহকারী ছিল?
কী জানি; হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। যুদ্ধের সময় আর কী-ই বা আশা করা যায়। তবে এ থেকে বোঝা যায়, এই আতিথেয়তার দেশে কী কারণে দরজা খুলতে দেরি হয়।

ঠিক তখনই দরজা খুলে গেল। তামজাল বের হয়ে এল। ছোটখাটো শরীরের একজন মানুষ; মাথায় চারপাশে ছড়ানো একটা হ্যাট, জোড়াতালি দেওয়া একটা ওভারল। ভেইলার্ডের দিকে হাসি দিয়ে জ্যাকের দিকে তাকাল।
ভেইলার্ড পরিচয় করিয়ে দিল, একজন বন্ধু।
তামজাল বলল, ভেতরে আসুন; আপনারা চা খাবেন।
তামজালের তেমন কিছু মনে নেই। হ্যাঁ, হতে পারে: তার এক চাচার মুখে একজন ম্যানেজারের কথা শুনেছে। তিনি নাকি যুদ্ধের পরে কয়েক মাস এখানে ছিলেন।
জ্যাক বলল, যুদ্ধের আগে।
হ্যাঁ, আগেও হতে পারে; সেটাও সম্ভব। তার বয়স তো তখন খুব অল্প ছিল। যা-ই হোক তার বাবার কী হয়েছিল?
তিনি যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন। তামজাল বলল, কপালের লিখন; তবে যুদ্ধ জিনিসটা খুব খারাপ।
ভেইলার্ড বলল, যুদ্ধ সব সময়ই চলছে। তবে মানুষ খুব তাড়াতাড়িই শান্তির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই তাদের মনে হয় এরকমটাই স্বাভাবিক আসলে কোনো যুদ্ধই অন্য সব স্বাভাবিক বিষয়ের মতো নয়।
পাশের ঘরে তার স্ত্রী অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে চায়ের ট্রে হাতে। তার কাছ থেকে ট্রেটা আনতে যেতে যেতে তামজাল বলল, যুদ্ধের সময় মানুষেরা ক্ষেপাটে হয়ে থাকে।
তারা আগুন গরম চা শেষ করে তামজালকে ধন্যবাদ দিয়ে কঠিন তাপের নিচে দগ্ধ আঙুর ক্ষেতের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পথে বের হয়ে পড়ল।

জ্যাক বলল, আমি ট্যাক্সি নিয়ে সলফেরিনোতে যাচ্ছি। ডাক্তার সাহেব আমাকে দুপুরের খাবারে নিমন্ত্রণ করেছেন।
তার কথা শুনে ভেইলার্ড বলল, সঙ্গে আমি নিজেকে নিমন্ত্রণ করছি একটু অপেক্ষা করুন। সামান্য খাবার নিয়ে আসছি।

পরবর্তীতে আজিয়ার্সগামী বিমানে বসে জ্যাক প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে থেকে বাছাই করতে লাগল। আসলে সে সামান্য তথ্যই পেয়েছে। তার বাবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেমন কোনো তথ্য নেই বললেই চলে। রাতটা অদ্ভুতভাবে যেন মাটির পৃথিবী থেকে পরিমাপযোগ্য ছন্দে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। অবশেষে রাত বিমানটাকে এমনভাবে গিলে ফেলছে যেন রাতের শরীরে স্ক্রু ড্রাইভারের মতো গেঁথে দেওয়া হচ্ছে বিমানটাকে। তবে রাতটা জ্যাকের অস্বস্তিতে যেন আরো কয়েক মাত্রা যোগ করে দিচ্ছে। কেননা নিজেকে সে দুভাবে আটক বলে মনে করতে থাকে: প্রথমত বিমানের মধ্যে, দ্বিতীয়ত রাতের অন্ধকারের মধ্যে। নিঃশ্বাস ফেলতেই তার কষ্ট হতে থাকে। আবারও সে জন্ম নিবন্ধনের খাতায় প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম দেখে। দুটো ফরাসি নাম; এরকম নাম প্যারিসের বিভিন্ন সংকেতে দেখা যায়। তার বাবার আগমন এবং তার জন্ম সম্পর্কে বলার পর ডাক্তার বলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা ছিল স্থানীয় দোকানদার। তাদের মধ্যে প্রথমজন তার বাবাকে সহযোগিতা করতে রাজী হয়েছিল। তাদের নাম প্যারিসের উপশহরের নামের মতো। তবে সেটা কোনো বিস্ময়ের ব্যাপার নয়। কারণ সলফেরিনো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আটচল্লিশাদের দ্বারা।

ভেইলার্ডও বলেছে, ও হ্যাঁ, আমার দাদার বাবা মা ও তাদেরই অন্যতম। কাজেই আমার বাবার জিনের মধ্যেও বিপ্লব ছিল। সে আরো জানিয়েছে, তার পূর্ব পুরুষদের একজন ছিল ফবর্গ সেইন্ট-ডেনিস কাঠমিস্ত্রি; তার স্ত্রী ছিল ধোপানি। ফ্রান্সে তখন বেকার সমস্যা প্রকট এবং মানুষের মাঝে অস্থিরতাও ছিল। নির্বাচকম-লীর শাসনতন্ত্র নতুন বসতিস্থাপনকারীদের জন্য পঞ্চাশ মিলিয়ন ফ্রাঁ দানের অনুমোদন দিয়েছিল। সবার জন্য একটি করে ঘর এবং দুই থেকে দশ হেক্টর করে জমি দানের প্রতিজ্ঞা করেছিল। ভেইলার্ড বলে চলে, বুঝতে পারছেন, কী রকম কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। হাজার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রতিজ্ঞ ভূমির স্বপ্ন দেখেছিল। বিশেষ করে নারী পুরুষেরা অচেনা জায়গা সম্পর্কে ভীত ছিল। পুরুষেরা এমনি এমনি বিপ্লব করতে চায়নি। তারা সবাই সান্তা ক্লসে বিশ্বাস করার মতো মানুষ ছিল। আর তাদের সেই সান্তা ক্লস পরিধান করেছিল বুর্নুস। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে, তারা এক ধরনের সান্তা ক্লস পেয়েছিল। তারা যাত্রা করেছিল ’৪৯ সালে এবং প্রথম ঘর তৈরি হয়েছিল ’৫৪ সালের গ্রীষ্মে। ততদিনে...।

চলব...

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

এমএমএ/

 

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা