রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

ভ্যান প্লাজা

হতে পারে পোশাকের ব্র্যান্ড নেম ‘ভ্যান প্লাজা’। পোশাক নয় শুধু বহুবিধ পণ্যের এক ভ্রাম্যমাণ ক্রয়কেন্দ্রের নামও হতে পারে। হতে পারে চা-কফি-রুটি-সবজির ব্র্যান্ড নেম। ঢাকা শহরের সবচেয়ে সহজ কেনাকাটার জায়গা ‘ভ্যান প্লাজা’। রিকশা ভ্যানে দোকান। বেশি চলে পোশাক আশাক। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের পোশাক ভ্যান প্লাজায় সবচেয়ে সস্তায় পাওয়া যায়।

যদি বলা হয় ‘ঢাকা দ্য সিটি অব ভ্যান প্লাজা’ তাতে বিন্দুমাত্র ভুল হবে না। অনেক বহুত্বকে ছাপিয়ে ভ্যানের দোকান এখন সবচেয়ে এগিয়ে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে ভ্যানের দোকান। প্রতিদিন সকালে আমি যার কাছ থেকে সবজি কিনি, তার নাম সাজু। সাজুর বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী। সকালে কারওয়ান বাজার থেকে সবজি এনে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ান। তার নিয়মিত গ্রাহক গোটা বিশেক পরিবার। নয়টা থেকে এগারোটার মধ্যে সবজি শেষ হয়ে যায়। সাজু এখন শুধু ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন না, গ্রাহকদের বাসায় বাসায় ছেলেকে পাঠিয়ে চাহিদা নিয়ে আসেন। বিকেলে সাজু হয়ে ওঠেন ব্যস্ত এক চটপটিঅলা। তার চটপটির দোকানটিও একটি ভ্যান। সুসজ্জিত। চারদিকে কাঁচে ঘেরা উপরে ছাউনি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, সাজু তার ভ্যান দিয়ে দোকানকে টেক্কা দিয়েছেন। যেখানে চটপটি বিক্রি করেন, তার সামনেই তার দুটি দোকান ভাড়া নেওয়া আছে। দোকানে চেয়ার টেবিল সাজানো আছে। কাস্টমার বসানোর জন্য। সাজুর হিসাব, ভ্যানই তার বাণিজ্যের কেন্দ্র। দোকানে এমন ব্যবসা সম্ভব নয়। দোকান দোকোনদারকে কখনো কখনো ঝিমিয়ে দেয়।

তেজগাঁও এলাকায় নাবিস্কো বিস্কুট ফ্যাক্টরির অপর পাশের বটতলার নীচে অনেকগুলো ভ্যানদোকান। যে দোকানগুলোতে চা-সিগারেট বিক্রি হয়, সেগুলো জড়ো জীবনের মতো হয়ে গেছে। ভ্যানগুলো সে অর্থে আর চলে না। অনেকটা স্থায়ী কাঠামোর মতো। এখানেই চালু এক ভ্যানে পোশাক বিক্রি করতেন রশিদ নামের এক তরুণ। টানা পাঁচ ছয় বছর দেখছি। তেমন বিক্রি হতে দেখতাম না। কিন্তু ওই ভ্যানের উপার্জনে রশিদ ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া দিয়ে সংসার যাপন করতেন অনায়াসে। করোনোকালে বিক্রি বাট্টা কমে গেলে রশিদ ফরিদপুরে চলে গেছেন। সেখানে ব্যবসা জমিয়ে নিয়েছেন।

ভ্যানের ব্যবসায়ীরা দাঁড়িয়ে থাকেন। শারীরিক শ্রম থাকে। চাঞ্চল্য থাকে। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অভ্যস্থতা তৈরি হয়ে যায়। শ্রমের ভেতর দিয়ে নিষ্ঠা চলে আসে। নাখালপাড়া ব্যাংকার্স রো’র সামনে এক তরুণ বহুদিন ধরে ভ্যানে ডাব বিক্রি করছে। দোকান ভাড়া নেই, কিন্তু কিছু জায়গা সে দখল করছে। যদি কেউ বাঁধা দেয়, সে যখন তখন সরে যেতে পারবে। চালু ভ্যান হলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত স্থানান্তরের সুযোগ থেকে যায়।

জনবহুল ঢাকা শহরে ভ্যানের ব্যবসায়ীরা একেকটি জায়গায় কিছুটা থিতু হওয়ার অনুমতিও পায়। শোনা যায়, নেতা ও পুলিশে কিছু টাকা দিলে এই সুযোগ চলে আসে। ঢাকা সিটি করপোরেশনেরও ভ্যানের ব্যবসা বিষয়ক একটি কর্মসূচি আছে। যারা সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ভ্যানের ব্যবসায়ী, তারা এক ধরনের স্থায়ী ব্যবসায়ীর শক্তি সংরক্ষণ করেন।

ঢাকা শহরের অনেক বাজারের সামনে ভ্যান প্লাজার এক স্থায়ী অবস্থান দেখা যায়। একসময় চালু ভ্যান দিয়ে শুরু হলেও পরে ভ্যানের অস্তিত্ব থাকে না। একটি টেবিলের মতো বসানো হয়। সেটিই হয়ে ওঠে দোকান। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের প্রবেশ মুখে ফুটপাতজুড়ে অসংখ্য দোকান। জুতা, শার্ট, প্যান্ট থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি জিনিসের পসরা বসে এসব দোকানে। ভালো বেচা-কেনা হয়। ভ্যানে তাৎক্ষণিক ডিম পিঠা বানানোর কয়েকটি দোকানও থাকে এখানে। দোকানগুলো বিক্রির অবস্থা বুঝে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যায়।

অসাধারণ এক ‘ভ্যান প্লাজা’র শহর এই ঢাকা। ভ্যানে আকর্ষণীয় পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায়। মোবাইলের নানা উপকরণ থেকে শুরু করে পোশাক সামগ্রী, জুতা, অফিস স্টেশনারি, সবজি, ফল, মুখরোচক খাদ্য সবই। এলইডি আলোর যুগে সন্ধ্যা নামলে এক স্বপ্নিল আলো জ্বেলে জামা কাপড়ের পসরা সাজান কেউ কেউ। জনসমাগম হলে কয়েকঘন্টায় মাল শেষ হয়ে যায়। মতিঝিল এলাকায় ভ্যানের পোশাক পরেন না কে। ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন থেকে শুরু করে যে কোনো পেশাজীবন অপেক্ষাকৃত সস্তায় শার্ট প্যান্ট পেয়ে যান ভ্যানে। এটি এক আশীর্বাদের মতো ব্যাপার। তৃণমূল জীবন-জীবিকার এক গভীর পর্যবেক্ষক কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, ‘মানুষ এখন পোশাক পরে তার রুচি ও পছন্দ বিবেচনা করে। শুধু প্রয়োজন বা চাহিদার ব্যাপার নয় এটি। সবারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক আছে।’ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য এই সত্য মিলে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ভ্যান প্লাজার।

বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের দেশ। এই কারণেই ভ্যানে ভ্যানে পাওয়া যায় পৃথিবীর সেরা ব্র্যান্ডের পোশাক। কেউ বলেন, এগুলো বাতিল শিপমেন্টের মাল। কেউ বলেন, এক্সপোর্টের কপি। তবে বাস্তবতা হলো–পোশাকের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। একটু দেখে-শুনে নিলে নিখুঁত মাল পাওয়া যায়। অনেক বড় বড় মানুষ ভ্যানের পোশাক পরেন। একই মানের পোশাক নিয়ে ঢাকা শহরে অনেকগুলো পোশাক ব্র্যান্ড দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভ্যানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে পোশাক বিক্রি করে। একই পোশাক।

যারা গ্রাম ছেড়ে নানা যৌক্তিক কারণে ঢাকা শহরে পাড়ি জমায়, তাদের সবাই নিশ্চিত কাজের সন্ধান পান না। যারা রিক্ত হাতে আসেন তারা রিক্সা চালান। শ্রমিকের কাজ খুঁজে নেন। যাদের সামান্য টাকা থাকে তারা ব্যবসা খুঁজে বেড়ান। এই জনবহুল শহরে যে কোনো পণ্য নিয়ে যে কোনো জায়গায় বসলেই বিক্রি হয়। ব্যবসা জমে উঠে। যে কোনো ফুটপাত থেকে শুরু করে ফুটওভার ব্রিজ পর্যন্ত সবখানেই ব্যবসায়ীর ভীড় থাকে। এর ভেতরে বহু সফল ব্যবসায়ী রয়েছে। বহু সাফল্যের গল্প রয়েছে। যারা বিন্দু বিন্দু শিশির জমিয়ে অর্থবিত্ত করেছেন। এসব জায়গায় হতাশ চোখে তাকাত অনেকেই; কিন্তু ভেতরের আশার জায়গাটি দেখতে পেলে চোখ জ্বলজ্বল করে উঠবে।

এই ভাসমান ও ভ্যানের ব্যবসায়ী ও তাদের অর্থনীতি নিয়ে অনেক কিছু করা যেতে পারে। সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারে। প্রতিটি এলাকার সকল ভ্যান ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি ডাটাবেইজ তৈরি করা যেতে পারে। সপ্তাহের একেকটি দিন বড় কোনো খোলা জায়গা দেখে জমানো যেতে পারে ‘ভ্যান প্লাজা’। সেখানে পণ্যের মান নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে ক্রেতার জন্য দেওয়া যেতে পারে বিশেষ অফার। পণ্যের মান বজায় রাখার জন্য পুরস্কৃত করা যেতে পারে ব্যবসায়ীকে। তাদের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পৃথিবীর বড় বড় ব্র্যান্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরির জন্য তাদের প্রশিক্ষণসহ নানারকম কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।

জনসংখ্যা, আবাসন আর রাস্তা অবকাঠামোর চাপে দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে আসছে এই শহরের। শহরবাসীর সবকিছুর জন্য জায়গা ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কথা ভাবা অসম্ভব নয় যে, একসময় মানুষের চাপ সামলাতে শপিং মল ছেড়ে দিতে হবে আবাসনে। বন্ধ করে দিতে হবে দোকান। তখন ভ্রাম্যমান দোকান ও মার্কেটই হতে পারে ভরসার জায়গা। অনলাইনের পাশাপাশি ভ্যানের বাজারই তখন সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। রিক্সা ভ্যানের জায়গাতে বড় বড় কার্গো ট্রাকগুলো হয়ে উঠবে একেকটি দোকান। পণ্যে ঠাসা দোকান। টিসিবির ট্রাকের মতো একেকটি পণ্য বোঝাই ট্রাক নির্দিষ্ট সময়ে একেকটি জায়গায় দাঁড়াবে। তারপর চলে যাবে। এমন দোকান চালু করা গেলে বহু ফাঁকা জায়গা বের হবে। জনাকীর্ণ মোড়গুলোতে স্থায়ীভাবে গেড়ে বসা দোকান তুলে দেওয়া যাবে। শহরকে আরও সুন্দর করে সাজানো যাবে। ভ্যানের দোকানকে ঘিরে নগর পরিকল্পনাবিদরা দেখুক অনেক বড় স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখুক রাষ্ট্র ও সরকার।

লেখক: সাংবাদিক

এসএ/

Header Ad

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল

ছবি: সংগৃহীত

একইসঙ্গে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী। স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুই স্বামীর কাউকেই। গোপনে মন জয় করে চলছিলেন দুই স্বামীর। প্রায় দুই বছর দুই স্বামীর সংসার করার পর অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। সংসার জীবন ভালোই চলছিল এ দম্পতির। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

এদিকে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্বামী সাগরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল।

স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেয়ায় তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন স্বামী-স্ত্রী। চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন বলেও দাবি করেন সাগর।

তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। তবে হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মাথায় আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই।

কাজ থেকে এসে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি। ওই ছেলের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকবো। আমার আম্মু দেশে আসলে আমি তোমার কাছে চলে আসবো।’

সাগর বলেন, ‘আমি জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে বিভিন্ন সময় আমরা রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। ওর কলেজে আনা-নেয়াসহ সবকিছু আমিই করতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বরও আমরা আমার বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি।

তবে বিবাহ বার্ষিকী পালনের দুদিন পরে আমি জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছেন। অথচ তার মেয়ের সঙ্গে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন।

এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।’

সাগর আরও বলেন, ‘আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে আমার স্ত্রী অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে।

এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ। এছাড়া আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা বলেন, ‘কোন এক সূত্রে আমার শ্বশুর জান্নাতুলদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাকে পছন্দ করে। পরে আমি গিয়ে তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ধার্য হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে বলে জান্নাতুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে।

সে জান্নাতুলের সঙ্গে নিজের একটি ছবিও আমার ছেলেকে পাঠায়। এরপর আমি ওই এলাকায় আমার আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের কোন সম্পর্ক ছিল না। এছাড়া জান্নাতুলকেও আমি সরাসরি প্রশ্ন করলে সেও সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে।

পরে ঘরোয়া আয়োজনে জান্নাতুলের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়। এখন সাগর নামে ছেলেটি জান্নাতুলকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছে। আমি যতদূর জেনেছি সাগরের স্ত্রী ও সন্তান আছে। এখন বিষয়টি আইনগতভাবেই সমাধান হবে।

আর জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে তার বাবার বাড়িতে গেলে ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি।’

বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তার মা হাচিনা বেগম বলেন, ‘সাগরের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল৷ তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট বুঝে নাই, যে কারণে সেসময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪/৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।’

আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদে আসার কথা। এরকম কোন কপি কখনো পাননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা খেয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি।’

আবু বক্কার বলেন, ‘সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি জান্নাতুলের বাবাকে নোটিশের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকি। তবে নোটিশ পেয়ে তিনি তার ছোটভাই ও তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমি যেন পরিষদে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেই। তবে এর ১/২ দিন পরে তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা বসতে চান না।

আইনগতভাবে তারা বিষয়টি সমাধান করতে চান। পরে আবার তারা বসতে সম্মত হলে জান্নাতুল ও তার বাবা এবং তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ পরিষদের অন্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বসেছিলাম। সাগরও সেখানে ছিল। তবে সেখানে জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে কোনভাবেই সাগরের সঙ্গে ঘর সংসার করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা নির্যাতিত হয়। কিন্তু ছেলেরা যে কতোটুকু নির্যাতিত হয় তা এই সম্পর্কের জের দেখলে বোঝা যায়। আমাদের সমাজে ছেলেরা আরও বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। সেটা নীরবে নিভৃতে ছেলেরা সহ্য করে যাচ্ছে। আমি আশা করবো আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা বিষয়টি তুলে ধরবেন।

আপনাদের সংবাদের মাধ্যমে মানুষ যাতে সচেতন হতে পারে। আজকে আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর কোন ইউনিয়নে যেন এমন ঘটনা কোনদিন না ঘটে।’

Header Ad

শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

২৪ এর গনঅভূ্থানে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী, শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন।

এ সময় মোবাইল ফোনে লাউডস্পিকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেন, আব্দুল্লাহ দেশের জন্য মানুষের জন্য মানবতার কল্যাণের জন্য জীবনকে উৎস্বর্গ করে আল্লাহর দরবারে চলে গেছেন, আল্লাহ তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। শহীদরা মরে না। তারা আল্লাহর জীম্মায় জীবন্ত থাকে। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ খবর নেন,কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এর আগে তিনি নাভারণ দারুল আমান ট্রাষ্টে ওলামা সম্মেলনে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালে গুম হওয়া ইসলামি ছাত্র শিবিরে নেতা রেজোয়ানের বাড়িতে যান এবং খোঁজ খবর ও সমবেদনা জানান।

এসময় তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু বরনকারী সকলে ন্যায় বিচার পাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন। এবং গনঅভূ্থানে নিহত সকল পরিবারের সাথে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আছে থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোরের জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম রসূল, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আবু জাফর, মাওঃ শিহাব উদ্দিন শার্শা থানা আমীর রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা ইউসুফ আলী ও ঝিকরগাছা থানা আমীর মাওলানা আসাদুল আলম প্রমূখ।

Header Ad

বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

দিনাজপুরের বিরামপুরে বিশনি পাহান (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের ময়না মোড় এলাকার ধানক্ষেত থেকে ওই নারীর হাতবাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিশনি পাহান উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের বেণুপুর গ্রামের সাধন পাহানের মেয়ে।

নিহতের ভাই চরকা পাহান বলেন, আমার ছোট বোনের স্বামী বিশনি পাহানকে ছেড়ে চলে গেছেন। সে প্রতিরাতেই নেশা করতো। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার বাড়িতে থাকতো আমার বোন। আমার বোন এলাকায় মানুষের জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। শুক্রবার বিকেলে এলাকার এক ব্যক্তির জমিতে ধান কাটার কাজ শেষ করে আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে ধানক্ষেতে হাতবাঁধা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে আদিবাসী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে তাকে কে বা কাহারা হত্যা করেছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল
শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন
বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার
বিএনপির কাঁধে অনেক দ্বায়িত্ব: তারেক রহমান
'জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত'- তোফায়েল আহমেদ
৩ মাসে জ্বালানি খাতে সাশ্রয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা : জ্বালানি উপদেষ্টা
জুটি বাধলেন মিঠুন চক্রবর্তী-আফসানা মিমি
দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই : তারেক রহমান
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা
অক্টোবরে সড়কে প্রাণ গেছে ৪৭৫ জনের
গায়ানায় দলের সঙ্গে যোগ দিলেন সাকিব
আইপিএল নিলামের আগেই নিষিদ্ধ হলেন ভারতের ২ ক্রিকেটার
গাজীপুরে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কবে বিয়ে করবেন জানালেন তামান্না ভাটিয়া
পঞ্চগড়ে ৫০০ টাকায় সন্তান বিক্রি, অতঃপর যা ঘটল...
অ্যান্টিগায় প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে টাইগাররা
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পরীমণির প্রথম স্বামী
বিচারের আগে আ.লীগের মাঠে থাকার সুযোগ নেই: উপদেষ্টা নাহিদ
মাকে হত্যার পর থানায় হাজির ছেলে
৮ ক্রিকেটারসহ ৯ জনকে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি