রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪ | ৯ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এত দুরবস্থা কেন?

আমরা যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ি তখন একটি সিনেমার গান খুব হিট করেছিল, সিনেমার নামটি সম্ভবত ‘অশিক্ষিত’। নায়িকা গ্রাম থেকে ঢাকার সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়েছে। গানটি ছিল ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে, লাল লাল নীল নীল বাতি দেইখা পড়ান জুড়াইছে, মাটি ফাইটা বৃষ্টির পানি ঝরঝড়াইয়া পড়ে, আজব এই শহরে।’

আজব এই শহর! একবার একজন এনজিও নেতা বলেছিলেন নারী পল্লীতে অপুষ্টিতে ভোগা মেয়েরা ঠোঁটে লাল লিপস্টিক লাগিয়ে পুরুষ আকর্ষণের চেষ্টা করে কিন্তু তাদের শরীরে রয়েছে অপুষ্টির ছাপ। ঢাকা সিটির সেই সময়কার সাজানোকে অপুষ্টিতে ভোগা মেয়েদের ঠোঁটের লাল লিপস্টিকের সাথে তুলনা করেছিলেন উক্ত এনজিও কর্মী। আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবেমাত্র বেরিয়েছি। এ সব কিছুই এখন পুরনো কথা। ঢাকায় শুধু লাল লাল নীল নীল বাতি নয়, এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল। নির্মাণ করা হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিটির অনেক রাস্তাই এখন অর্ধ পশ্চিমা দেশের মতো, রয়েছে শত শত মাল্টিস্টোরেজ বিল্ডিং। গ্রামের অবস্থাও আগের মতো নেই। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে অনেক। এসব পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে একটি জায়গায় কিন্তু সেভাবে পরিবর্তন আসেনি আর সেটি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্রে সুষম উন্নয়ন হয়নি।

অনেক উদাহরণের মধ্যে একটি উদাহরণ যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে আবার সেই লিপস্টিকের কথা মনে পড়ে। এই ঢাকা সিটিতে ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে অনেকগুলোই টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি ছোট্ট ঘর, যেখানে ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চ বসিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলে। অনেক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত জরুরি। অনেক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। নেই শৌচাগার এবং বর্ষাকালে মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় শৌচাগার নির্মাণ করেছেন। সমস্যা শুধু জরাজীর্ণ ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার সার্বিক আয়োজনেই অবহেলার ছাপ ষ্পষ্ট। শিক্ষানীতি অনুসারে বিদ্যালয়গুলোয় প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু গড়ে এই সংখ্যা ৪৫ জন, কোথাও কোথাও আরও বেশি।

বিদ্যালয়গুলোতে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরি, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া নেই। ব্যবস্থাপনা কমিটির বা স্থানীয় মানুষের অনুদানে সামান্য বেতনে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মী রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো জরাজীর্ণ, মলিন ও অপরিচ্ছন্ন। মানে সর্বত্রই দারিদ্র আর অবহলোর ছাপ। বেশ কিছু বিদ্যালয়ের জমি ও অবকাঠামো বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। এভাবে শিক্ষার সব আয়োজনেই অবহেলার ছাপ বিদ্যমান। আর তাই্ সহজেই অনুমেয় এখানে কী ধরনের লেখাপড়া হয়, আর কোনো ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম যে অনুষ্ঠিত হয় না— তাতো বুঝাই যাচ্ছে। আলো ঝিলমিল ঢাকা সিটিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য শিক্ষার এই ধরনের আয়োজন আমাদের অনেকটাই অবাক করে দেয়।

আমাদের সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ৩৪২টি। এর মধ্যে ২১টি বিদ্যালয়ের জমি ও চারটির ভবন বেদখল হয়ে যাওয়ার খবর পত্রিকায় দেখলাম। সংবাদটি আমাদের বিস্মিত করেছে, ছোট বাচ্চাদের বিদ্যালয় বেদখল অথচ কোনো উচ্চবাচ্য নেই!

বিষয়টি আমাদের অজানা নয় যে, ক্ষমতার ছত্রছায়ায় এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই দখলের কাজটি করে থাকেন। রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের জন্য ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার— যেটি একটি প্রশংসনীয় কাজ এবং এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ১০টি বিদ্যালয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি এটিও বলতে হয় যে, বিশাল এক জনসংখ্যার শহর রাজধানী ঢাকা, এখানে মাত্র ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কি যথেষ্ট? তার মানে কি আমরা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করছি? যদি তাই করে থাকি, সেটি করলেও ভালোভাবে করতে হবে। পুরো শিক্ষার দায়িত্ব ও দেখভাল করা সরকারের একার পক্ষে যে সম্ভব নয় তা বহুবার এবং প্রতিদিনই প্রমাণিত হচ্ছে। অথচ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কিংবা সরকারি বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা পরিচালনা করার উদাহরণ তৈরি করা প্রয়োজন। সেটি মুখের কথায় নয় বরং কাজে প্রমাণ করতে হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলো যখন এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে যায় তখন দেখা যায় সরকারি বাধা। বিষয়টিকে স্পষ্ট করা দরকার এবং রাষ্ট্রীয় একটি সঠিক নীতি থাকা দরকার যে, মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে বেসরকারি সংস্থাগুলো কী কী করতে পারে, কীভাবে করতে পারে। ছোট শিশুদের ঠকানোর অধিকার আমাদের নেই। উপযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা পাওয়া তাদের অধিকার, আমরা তাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারি না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ দুরবস্থায় প্রতীয়মান হয় দেশের অন্যান্য এলাকা, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও ভালো নয়।

১৯৭৩ সালে প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়। ২০১৩ সালের দিকেও আবারও প্রায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়। এগুলো অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষক্ষেত্রে বৈষম্য বৃদ্ধি ও মানের উন্নয়নে আমরা এগুতে পারিনি। বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ বিপুল অর্থ খরচ করে সন্তানদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন, সেটি কেবল ঢাকা সিটিতে কিংবা বড় বড় শহর ও জেলা শহরেই নয়, এটি গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাকেও আমরা পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারব না, তা ছাড়া তুলনা করার জন্যও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষা থাকাটা একেবারে অর্বাচীন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নীতি এখানে যাই থাকুক আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা কিন্তু পিছিয়ে পড়ছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শোচনীয় অবস্থা হয়েছে মূলত দুটি কারণে।

প্রথমত, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়ে, তাই এগুলোর দিকে তেমন রাষ্ট্রীয় নজর নেই। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রভাবশালীরা চান না সেখানে সরকারি প্রাথমিকগুলো ভালোভাবে চলুক। সরকারি বিদ্যালয় উঠে গেলে তারা জামি ও ভবন অনায়াসে দখলে নিতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার আয়োজন জরুরি হলেও রাজধানীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫২টিতেই কোনো খেলার মাঠ নেই। সব মিলিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এতোই দুরবস্থা যে সেখানে সন্তানদের ভর্তি করানোকে নিজেদের সম্মানহানি হিসেবে গণ্য করেন সচ্ছল অভিভাবকরা।

সেদিন একজন রিকশাচালকের সাথে কথা বলছিলাম। তার দুটো সন্তানই বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ছে। আমি বললাম সরকারিতে পড়ালে তো কোনো টাকা লাগত না, তারপরও সেখানে পাঠাচ্ছেন না কেন? উত্তরে বললেন, ওইসব জায়গায় পাঠিয়ে ধরা খেয়েছি। কোনো পড়ালেখা নেই। আসলে এটিই তো বাস্তব কথা।

দিল্লির সরকারি বিদ্যালয়গুলোও একসময় জরাজীর্ণ ছিল। সংকট ছিল শিক্ষকের, শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের, শিক্ষার মান ছিল নিম্ন। ঢাকার মতো এ সব সরকারি বিদ্যালয়েও দরিদ্র ও নিম্নবিত্তরা ছাড়া আর কেউ তাদের সন্তানদের পাঠাতে চাইতেন না। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয় ২০১৫ সালে আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় আসার পর। তারা স্বাস্থ্য,পানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি পাবলিক সেক্টরগুলোর মতো শিক্ষা খাতেও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করতে থাকে। আম আদমি পার্টির লক্ষ্য ছিল দিল্লির সরকারি বিদ্যালয়গুলোকে এমনভাবে সংস্কার করা যেন সেখানে পড়তে আসা শিশুদের মধ্যে গরিবের বিদ্যালয়ে পড়ার হীনম্মন্যতা না থাকে। তারা জানে, ভারতের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের মন জয় করেই তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। এ কারণেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও পানির মতো পাবলিক সার্ভিস বা সর্বজন খাতের উন্নয়নের গুরুত্ব তাদের কাছে অপরিসীম।

আমাদের দেশেও বিভিন্ন সেক্টরে প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে কিন্তু স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও পানির মতো সর্বজন খাতে সুলভে মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে না। ফলে ক্রমাগত বাণিজ্যিকীকরণে এ সব খাত থেকে সুলভে মানসম্পন্ন সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। এ ঘটনা ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও দিল্লির শিক্ষা মডেল বিষয়ে যেমন আগ্রহ তৈরি করেছে, ভারতের বাইরেও সরকারি বিদ্যালয়ের এই ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন করেছে। শিরোনাম’ ক্লিন টয়লেটস’ ইন্সপায়র্ড টিচাস: হাউ ইন্ডিয়া’স ক্যাপিটাল ইজ ফিক্সিং ইটস স্কুল’।

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা জানি থাকে না কোন টয়লেট, থাকলেও দুর্গন্ধে সেগুলোতে ঢোকা যায় না। পানির ব্যবস্থা থাকে না, সর্বত্রই থাকে অব্যবস্থাপনার ছাপ। যেগুলোর দিকে দিল্লি সরকার সঠিক নজর দিয়ে পরিবর্তন এনেছে যা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় রয়েছে অনেক। যদি আমরা সেটি করতে ব্যর্থ হই তাহলে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে কিংবা স্থানভেদে শুধু প্রাইভেট শিক্ষাকে কীভাবে মানসম্পন্ন করা যায় তার জন্য একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এখন যে অবস্থায় চলছে এটিকে আমরা কোনোক্রমেই একটি সুষ্ঠু ও সার্বজনীন ব্যবস্থানা বলতে পারি না।

শিক্ষাব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন যেন ভৌগলিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে কাউকে যথাযথ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে না হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ সাংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হলেও দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেই লক্ষ্য থেকে বহু দূরে। এমনকি শিক্ষানীতিতে যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সবার জন্য একই মানের করার কথা বলা হয়েছে, সেই প্রাথমিক শিক্ষাই অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক ও ভৌগলিক বৈষম্যমুক্ত নয়। সরকারি, বেসরকারি এবং ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার খরচ ও মানে রয়েছে ব্যাপক তারতম্য, এমনকি শহরের সরকারি স্কুলের সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোর শিক্ষার আয়েজনেও রয়েছে বৈষম্য। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

মাছুম বিল্লাহ: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক

আরএ/

Header Ad

বর্ণচোরা বিএনপি আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা: ওবায়দুল কাদের

বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্ণচোরা বিএনপি আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা। এ অপশক্তিকে প্রতিহত করাই আওয়ামী লীগের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ।

রবিবার (২৩ জুন) দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দলের জন্মদিনে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে— আমাদের রক্তমূল্যে অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করব। আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা বর্ণচোরা বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধের নামে এ বর্ণচোরারা ভাঁওতাবাজি করে। সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শত্রু আজ আমাদের অভিন্ন শত্রু।

তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের অঙ্গীকার— আমাদের আজ শপথ এ অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণ করব। এটাই আজকের দিনের শপথ।

এর আগে সকাল ৭টায় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ধানমন্ডিতে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন শেখ হাসিনা। পরে দলের অন্যান্য নেতাও শ্রদ্ধা জানান।

৩টা জিতেছি, ৩টা হেরেছি, খুব একটা খারাপ নয়: সাকিব

সাকিব আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

অ্যান্টিগায় সুপার এইটের ম্যাচে ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং পেয়ে ১৯৬ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে তারা। জবাবে পুরো ওভার ব্যাট করেও বাংলাদেশ ১৪৬ রানের বেশি করেনি। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন ম্যাচ জিতে সুপার এইটে খেলছে বাংলাদেশ। আপাতদৃষ্টে একে উন্নতি বা সাফল্য বলাই যায়। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে এটুকু সাফল্য যথেষ্ট কি না, কেউ চাইলে সে প্রশ্ন তুলতেই পারেন।

এদিকে ভারতের কাছে গতকাল ৫০ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি অবশ্য নিজেদের পারফরম্যান্স ‘খারাপ নয়’ বলেই মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, ৫০ শতাংশ সাফল্য পেয়ে মোটামুটি একটা অবস্থানে আছেন তাঁরা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপে নিজেদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাকিব বলেছেন, যদি ফলের দিক থেকে বলেন, তবে আমি বলব আমরা মোটামুটি একটা অবস্থানে আছি। আমরা ৩টা জিতেছি, ৩টা হেরেছি। ৫০ শতাংশ (সাফল্য)। সেদিক থেকে খুব একটা খারাপ নয়। তবে আমরা যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে লড়াই করেছি, এই দুইটা (সুপার এইট) ম্যাচের একটাতে যদি সেভাবে লড়াই করতে পারতাম, তখন বিশ্বকাপটা আমাদের জন্য সফল একটা টুর্নামেন্ট হতো। সে জায়গায় আক্ষেপ আছে।

বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার বিপরীতে আলো ছড়িয়েছেন বোলাররা। তবে উইকেটের সহায়তা না পেলে বোলাররা কতটা ভালো করতেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন সাকিব, বোলিংয়ের ব্যাপারটা হচ্ছে, আমরা যখন উইকেটের একটু সুবিধা পাই, তখন আমাদের দল অনেক ভালো বোলিং করে। ফ্ল্যাট উইকেটে আমাদের এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে। যেহেতু এবারের উইকেটগুলো বোলারদের জন্য একটু মানানসই ছিল, আমরা অসাধারণ বল করেছি। বোলারদের অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। যেভাবে তারা বল করেছে, সেটা কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ব্যাটসম্যানরা কেন পারেন না, সে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাকিব বলেছেন, ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে যখন ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা হয়, ১৮০–২০০ রানের উইকেটে খেলা হয়, তখন আমরা পিছিয়ে যাই। আমরা ১৩০, ১৪০ বা ১৫০ রানের খেলাটা ভালো জানি। এ ধরনের খেলা খেলেই আমরা অভ্যস্ত। এটা আমাদের কাছে অনেক পরিচিত।

এদিকে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সময় শান্ত জানান, প্রতিপক্ষকে ১৫০ থেকে ১৬০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে ম্যাচ জিততে পারেন তারা। কিন্তু বাস্তবতার কাছাকাছিও ছিলো না তার পর্যবেক্ষণ।

এ প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব জানান তার কাছেও মনে হয়েছে আগে ব্যাটিং করাই ছিলো আদর্শ। তিনি বলেন, আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করেন ক্যারিবিয়ানে দুই একটা ম্যাচ ছাড়া (আগে ব্যাটিং উপযোগী)। ইংল্যান্ড শুধু ১৮০ তাড়া করেছিল। এছাড়া শুরুতে ব্যাটিং নেওয়াই ট্রেন্ড বেশিরভাগ দলের, তারা সফলও এটা করে। পরিসংখ্যান দেখলে আগে ব্যাট করাই আদর্শ হতো। অধিনায়ক ও কোচ হয়ত অন্যভাবে চিন্তা করেছেন। আমরা হয়ত ভেবেছি তাদের নাগালের মধ্যে আটকে রাখতে পারব।

এই সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তার কোন অভিমত দেয়ার ছিলো কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি বলেন, দলের যখন নেতা একজন থাকবে সিদ্ধান্ত তার। যদি ভাল করতে পারতাম অধিনায়কের কৃতিত্ব হতো। খারাপ করলে তাদের সিদ্ধান্তের উপর আমরা প্রশ্ন রাখি। এটা খুবই যুক্তিযুক্ত। এটা এভাবেই হয়। যদি প্রথম দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে নিতাম তাহলে মনে হতো ব্যাটিং করলে ভালো হতো। নিতে পারিনি তাই এখন মনে হচ্ছে আগে ব্যাট করলে ভালো হতো।

ছাগলকাণ্ডে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরকে ওএসডি করা হয়েছে

মতিউর রহমান ও তার ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি ছাগলকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামে এক তরুণ। এ ঘটনায় সামনে আসেন তার বাবা রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান। পরে তাদের পরিবারের অঢেল সম্পদের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে ওএসডি (দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া) করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ জুন) সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরপি) থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, তাকে ভ্যাট ও কাস্টমস আপিলাত ট্রাইবুনালের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে তাকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা করেছে।

এর আগে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এরপরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হল। এনবিআর কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পদ থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন মতিউর রহমান। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে বিষয়টি মতিউর রহমানকে জানিয়েছে। সোনালী ব্যাংক সিইও আফজাল করিম এ তথ্য নিশিত করেছেন।

এদিকে ঈদের ছুটির পর এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি মতিউর রহমান। সকালে ভ্যাট ও কাস্টমস আপিলাত ট্রাইবুনালের তাকে পাওয়া যায়নি। কর্মচারীরা জানান, ঈদের ছুটির পর কর্মস্থলে যোগ দেননি মতিউর রহমান।

সর্বশেষ সংবাদ

বর্ণচোরা বিএনপি আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা: ওবায়দুল কাদের
৩টা জিতেছি, ৩টা হেরেছি, খুব একটা খারাপ নয়: সাকিব
ছাগলকাণ্ডে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরকে ওএসডি করা হয়েছে
একাদশে ভর্তিতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ আজ
আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, ২০ নারী-পুরুষ আটক
সিভিল এভিয়েশনের গলার কাঁটা হোটেল শেরাটন, বিমান চলাচলে ঝুঁকি!
রোনালদোর রেকর্ডের রাতে তুরস্ককে উড়িয়ে দিয়ে নকআউটে পর্তুগাল
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আফগানিস্তান
আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত আরও শতাধিক
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক
ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী আজ
কেটে ফেলা হলো গোপালগঞ্জের সেই কথা বলা আলোচিত গাছ
ইরানে জনপ্রিয় গায়কের মৃত্যুদণ্ড বাতিল
দিল্লি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
নওগাঁয় বিষধর সাপের কামড়ে প্রাণ গেল কৃষকের
হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ আছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাবাঘরের চাবিরক্ষক সালেহ বিন জাইন আর নেই
নওগাঁয় বেশি দামে বাসের টিকিট বিক্রি করায় কয়েকটি পরিবহনকে জরিমানা