শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান

শুধু কি এমনই ছিল সব? সেই আদব, ওইসব খেলাধুলা, ওই রকম সাহস, পরিবার, কেরোসিনের বাতি, অন্ধকার সিঁড়ি, বাতাসের তালগাছ, সমুদ্রে জন্ম ও অভিসিঞ্চন এবং শেষে গ্রীষ্মের কঠোর পরিশ্রমই কি সব ছিল? ওইসব কিছু ছিল ঠিকই। তবে তার নিজের সত্তার গহন গোপন বলতেও একটা কিছু ছিল।

ভূতলের অপরিমেয় পানির মতো তার ভেতর থেকে একটা কিছু নাড়া দিয়ে যাচ্ছিল এতগুলো বছর ধরে। ভূতলের পানি শিলাময় গোলকধাঁধার নিচে থেকে আলোর মুখ দেখে না। তবু কে জানে আবছাভাবে পৃথিবীর বিকীরণশীল কেন্দ্র থেকে কৈশিক নালির মধ্য দিয়ে গুহার কৃষ্ণ বাতাসে আলোর বিচ্ছুরণ ফেলে। তার ফলে যেখানে অন্য কোনো প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয় সেখানেও অতিভোজী ঊদ্ভিদের খাদ্যলাভ সম্ভব হয়। তার ভেতরের ওই অন্ধ নাড়া কখনো থামেনি। এখনো সে টের পায় এর অস্তিত্ব। মাটির নিচের পচা উদ্ভিদের আগুনের মতো তার ভেতরের আগুন বাইরে বেরিয়ে এসেছে। তবু ভেতরের জ্বলুনি থামেনি। বরং পচা উদ্ভিদের বাইরের ফাটল কুণ্ডলি পাকিয়ে বের হয়ে এসে ছড়িয়ে পড়েছে গাছপালার জগতে। তাতে জলাভূমির পচা উদ্ভিদের মতোই বাইরের কর্দমাক্ত ভূপৃষ্ঠও একই গতি ও ছন্দে এগিয়ে গেছে। আর সেই অদৃশ্য ঢেউগুলো দিনের পর দিন তার সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রচণ্ড কামনা বাসনার জন্ম দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আরও জন্ম দিয়েছে সবচেয়ে ঊষর দুশ্চিন্তা, সবচেয়ে ফলপ্রসু স্মৃতিকাতরতা, তার আকস্মিক ক্ষমতাহীনতা ও সংযম এবং কেউ না হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

হ্যা, তার ভেতরের এই আলোড়ন এই বিশাল দেশটার সঙ্গে মানানসই হয়েই তার সঙ্গে সঙ্গে ছিল এতগুলো বছর। বালক বয়স থেকেই সে এই আলোড়নের চাপ, সামনের বিশাল সমুদ্রের এবং পেছনে সীমাহীন পাহাড়ের বিস্তৃতি, সমতলভূমি, অন্তর্জগৎ বলে পরিচিত মরুভূমি— এসবের চাপ অনুভব করেছে। সামনে পেছনের মাঝে ছিল অহর্নিশ বিপদ। সে বিপদের কথা কেউ মুখ ফুটে বলেনি। কারণ সেটাই স্বাভাবিক মনে হয়েছে সবার কাছে। কিন্তু জ্যাক এর অস্তিত্ব টের পেয়েছে বিরমানড্রাইসের উঁচু খিলানের মতো ছাদ এবং সাদা রং করা দেয়ালঅলা ছোট খামারবাড়িতে থাকাকালে। সেখানে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় তার খালা ভালো করে পরোখ করেছেন পুরু কাঠের তৈরি ঝাঁপ ঠিকমতো বন্ধ করা হয়েছে কি না। সেখানে তার মনে হতো, তাকে জোর করে ফেলে দেওয়া হয়েছে যেন সে সেখানকার প্রথম বাসিন্দা কিংবা প্রথম বিজেতা। সেখানে যেন তখনও জঙ্গল জীবনের আইন বলবত। করুণা ছাড়াই ন্যায়বিচার যেন শুধু শাস্তি দিতে প্রস্তুত এবং সেই ব্যবস্থাকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ প্রচলিত প্রথাও। তার সামনের মানুষগুলোকে মনে হতো প্রলুব্ধকর তবে বিরক্তিকর, খুব কাছের কিন্তু বিচ্ছিন্ন। তাদের চারপশেই সারাদিন থাকতে হতো। কখনোবা বন্ধুত্ব কিংবা সৌহার্দ্য তৈরি হতো। সন্ধ্যার দিকে তারা সবাই যার যার বন্ধ ঘরে ফিরে যেত। সেসব ঘরে জ্যাক কখনো ঢুকে দেখেনি। ঘরে ঢোকার পথে আরেক বাধা ছিল তাদের নারীরা। তাদেরকে হয়ত কখনো দেখা হয়নি। কিংবা রাস্তা-ঘাটে দেখা হলেও পরে চেনার কোনো উপায় ছিল না, মুখের বেশিরভাগ ঢাকা থাকত বোরকায়। তাদের সাদা পোশাকের ফাঁকে দেখা যেত সুন্দর, আকর্ষণীয়, কোমল চোখ। এমনকি চাল চলনে ক্লান্ত এবং নমনীয় হলেও এলাকাজুড়ে তাদের সংখ্যা এতই বেশি ছিল যে, তাদের উপস্থিতি প্রায়ই উপদ্রবের মতো মনে হতো, বিশেষ করে যখন সন্ধ্যার সময় রাস্তায় কোনো ফরাসি লোকের সঙ্গে কোনো আরব লোকের মারামারি শুরু হয়ে যেত। মারামারি অবশ্য দুজন আরবের মধ্যে কিংবা দুজন ফরাসি লোকের মধ্যেও হতে পারত। তবে সেসব ক্ষেত্রে লড়াইটাতে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। রংচটা নীল রঙের ঢিলা পোশাক কিংবা বিশ্রী রঙের আলখাল্লা পরিহিত পাড়ার আরব লোকেরা চারদিক থেকে চলমান ধারার মতো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসত। কোনো রকম উচ্চবাচ্য না করলেও গায়ে গা লাগানোর মতো ভিড়ের নিঃশব্দ ধাবমান চেহারা দেখেই মারামারি দেখতে আসা গুটিকয় ফরাসি লোক এলাকাছাড়া হয়ে যেত। আর যে ফরাসি লোকটা মারামারিতে জড়িত থাকত সে খানিক পরে দেখতে পেত, তার সামনে তার প্রতিপক্ষ তো আছেই, তার চারপাশে অগণিত দুর্বোধ্য মুখের উপস্থিতিও প্রচণ্ড জোরালো। সে যদি এই দেশে জন্মগ্রহণ না করে থাকত এবং এখানে টিকে থাকতে হলে সাহস থাকা চাই— এই সত্য যদি তার জানা না থাকত তাহলে ওই মুখগুলো তার সমস্ত সাহস বিলীন করে দিত। সে যা-ই হোক, ওই মুহূর্তে তার সামনের ভিড়ের আরব জনতা তার কাছে উচ্চবাচ্য করে কোনো রকম ভয়ভীতি দেখাত না ঠিকই। কিন্তু তাদের উপস্থিতি এবং সামনের দিকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসাটাই ছিল তার জন্য যথেষ্ট ভয়ের। আর সাধারণত ওই আরব লোকদের ভিড়ের অধীনেই চলে যেত রণক্ষেত্রের দখল। শেষে পড়িমরি করে ফরাসি লোকটা পালিয়ে বাঁচত পুলিশ আসার আগেই। মারামারি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য কে বা কারা পুলিশকে চটজলদি জানিয়ে দিত। পুলিশ এসে পারতপক্ষে মারামারিতে জড়িতদের ধরে নিয়ে যেত। জোর জবরদস্তি করে পুলিশের লোকেরা আসামিদের নিয়ে জ্যাকের জানালার পাশ দিয়ে থানার দিকে চলে যেত। তাদের চলে যাওয়া দেখে জ্যাকের মা বলে উঠতেন, বেচারা সব!

আসামিদের দুজনকে শক্ত করে বেঁধে ঘাড় ধরে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যেত পুলিশ। তারা চলে যাওয়ার পর জ্যাক বুঝতে পারত রাস্তায় সংঘর্ষ, ভয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভয়ে বালক জ্যাকের কণ্ঠ পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত। সেরকম কোনো রাত তার মনের ভেতর জট পাকানো শিকড়-বাকড় নিয়ে এই বিশাল এবং ভয়াবহ দেশের সঙ্গে তাকে বেঁধে ফেলতেন দেশের তাপে ফুটন্ত দিন, হৃদয় ভেঙে দেওয়ার মতো দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা গোধূলির সঙ্গেও তাকে একাত্ব করে দিত। সেটাই ছিল দ্বিতীয় জীবনের মতো। দ্বিতীয় জীবনটাই তার বাইরের জীবনের প্রাত্যহিকতার চেয়ে যেন বেশি সত্যি বলে মনে হতো। ওই জীবনের ইতিহাস বয়ান করা যেতে পারত আবছা আকুলতা এবং শক্তিশালী অবর্ণনীয় চাঞ্চল্যে স্কুলের নিজস্ব গন্ধে, পাড়ার আস্তাবলগুলোর গন্ধে, মায়ের হাতে লন্ড্রি করতে দেওয়া কাপড়গুলোর গন্ধে, শহরের দিকের ওপরের এলাকার জুঁই, মধুমতি ফুলের সুগন্ধে, অভিধান এবং গোগ্রাসে পড়া বইগুলোর গন্ধে, বাড়ির এবং চাকরি করার সময়ের সেই দোকানের টয়লেটের কটু গন্ধে, ক্লাসের আগে কিংবা পরে একা একা দেখতে যাওয়া সুপরিসর ঠাণ্ডা শ্রেণিকক্ষের গন্ধে, তার প্রিয় সহপাঠিদের শরীরের উষ্ণতায় এবং দিদিয়েরের আনা পশমি কাপড়ের গন্ধে। বিশাল বপুঅলা মার্কোনির মা তার গায়ে বেশি করে কোলনের গন্ধ মেখে দিতেন। জ্যাক ওর খুব কাছে ঘেঁষে বসার চেষ্টা করত। পিয়েরে তার খালাদের কাছ থেকে লিপস্টিকের গন্ধ নিয়ে আসত। সবাই মিলে সে গন্ধ শুঁকে দেখত। উত্তেজনায় তাদের অবস্থা হতো কোনো বাড়িতে কামদশায় থাকা কোনো মাদী কুকুরের কাছে চলে আসা পুরুষ কুকুরের মতো। কল্পনায় তারা বুঝতে পারত, এটাই নারীর অস্তিত্বের লক্ষণ। কসমেটিক ক্রিমের মিষ্টি গন্ধে তাদের হৈচৈ, চিৎকার, ঘাম আর ধূলির জগৎ থেকে তাদের এক মার্জিত, কোমল এবং অবর্ণনীয় রকমের প্রলুব্ধকর জগতে নিয়ে যেত। লিপস্টিক সম্পর্কে তাদের মুখ থেকে বের হয়ে আসা অশ্রাব্য ভাষার খিস্তিও ওই মোহনীয় জগৎ থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখতে পারত না। খুব ছোটবেলা থেকে শরীরের প্রতি ভালো লাগা, শরীরের সৌন্দর্য তার ভেতরে হাসির উদ্রেক করত। সমদ্রতটে দেখা নারী শরীরের প্রতি টান তার কখনো কমেনি। মনের মধ্যে অবশ্য বিশেষ কোনো জান্তব অস্বাভাবিকতা থাকত না। শরীরকে পাওয়ার মতো কোনো বাসনা তখন থাকত না। অবশ্য পাওয়ার পথও তার জানা ছিল না তখন, শুধু শরীরের ঔজ্জ্বল্যের ভেতর থাকতে ইচ্ছে করত। বন্ধুদের কারো কাঁধের সঙ্গে হেলে থেকে কিছুটা আত্মবিশ্বাসের অনুভূতির ছোঁয়া পেত। কখনো ট্রলিবাসের মধ্যে কোনো নারীর হাত তার হাতের ওপর খানিকক্ষণ রেখে দিলে ওই টানটা টের পেত সে। এই পার্থিব জীবন সবচেয়ে যে উষ্ণতাটা দিতে পারে তেমনি একটা উষ্ণতা সে পেত ওই সময়। মনে হতো, ওই প্রশান্তির মধ্যে ডুবে গিয়ে অনেকক্ষণ থেকে যায়। মায়ের কাছ থেকেও তেমনি প্রশান্তির উষ্ণতা প্রত্যাশা করত জ্যাক। কেন প্রত্যাশা করত সেই ব্যাখ্যা তার জানা ছিল না। সেই প্রশান্তি পেত না সে। পাওয়ার দুঃসাহসও ছিল না। তাদের বাড়ির কুকুর ব্রিলিয়ান্টের পাশে শুয়ে পশমের কড়া গন্ধের মধ্যে সেই প্রশান্তির উষ্ণতা পেত সে। আরও একটা অপ্রতিরোধ্য জান্তব গন্ধ পেত ব্রিলিয়ান্টের গা থেকে। সেই গন্ধের মধ্যে জীবনের একটা চমৎকার উষ্ণতা তার জন্য পুষে রাখা হয়েছে। সেই উষ্ণতা ছাড়া তার চলে না।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>
দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী