শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান

কিন্তু জ্যাকের অফিসের কাজের উৎস এবং গন্তব্য দুটোই অলীক মনে হয়েছে তার কাছে। বেচা আর কেনা সবকিছু এই অতি সাধারণ, তুচ্ছ কাজে এসে ঠেকেছে।

অফিসের কাজ করার পূর্ব পর্যন্ত সে দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করলেও অফিসের কাজ করতে গিয়ে জ্যাক আবিষ্কার করল তুচ্ছ জাগতিকতা কাকে বলে। আলোর দেখা পাওয়ার জন্য তার কান্না ঝরতে থাকে। যে অনুভূতির কারণে জ্যাক নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল তার জন্য তার সহকর্মীরা দায়ী ছিল তা নয়। তারা জ্যাকের প্রতি সদয়ই ছিল। তারা কখনো কোনো কাজ করার জন্য কড়া আদেশ দেয়নি। এমনকি কড়া চেহারার রাসলিন বেগমও তার দিকে মাঝে মধ্যে হাসি মুখে তাকিয়েছে। সহকর্মীদের মধ্যে কথাবার্তাই হতো খুব কম। তার মধ্যেও আলজেরিয়াবাসীদের স্বভাবগত হাসিখুশি ভাবটা ছিল। অফিসে অন্য সবাই আসার পনেরো মিনিটের মতো পরে আসতেন ম্যানেজার। কোনো কাজের আদেশ দেওয়ার জন্য কিংবা কোনো চালান পরীক্ষা করে দেখার জন্য তিনি তার রুম থেকে সহকর্মীদের রুমে আসতেন। বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে তিনি বয়স্ক হিসাবরক্ষক কিংবা তার রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে ডেকে পাঠাতেন। সেসব সময়ে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেত। মনে হতো, কর্তৃপক্ষীয় আদেশ পালন ছাড়া তাদের কোনো কিছুই প্রকাশ করার নেই। প্রধান হিসাবরক্ষক ছিলেন সৌজন্যহীন এবং স্বাধীনচেতা। রাসলিন বেগম কঠোর দিবাস্বপ্নে বিভোর। সহকারী হিসাবরক্ষক লোকটার স্বাধীনতা বোধ বলতে কিছু ছিল না। দিনের বাকি সময়টা তারা তাদের নিজ নিজ খোলসে ঢুকে কাটাতেন। জ্যাক তার নিজের চেয়ারে বসে অপেক্ষা করত কখন তার কাজের আদেশ আসে। তখন তাকে তড়িঘড়ি করে কিছু কাজ করতে হতো যেগুলোর কোনো মূল্য আছে বলে মনে হতো না তার। আর নানি ওই সব অকাট্য বাজে জিনিসগুলোকেই কাজ বলতেন।

যখন ওই পরিবেশ একদম অসহ্য মনে হতো, যখন চেয়ারে বসে অধৈর্যের যন্ত্রণায় ফুটতে থাকত, তখন জ্যাক চেয়ার থেকে উঠে দোকানের পেছনে উঠোনে নেমে যেত। সেখানকার সিমেন্টের দেয়ালের আড়ালে স্বল্পালোকিত তুর্কি টয়লেটে ঢুকে পড়ে লুকিয়ে থাকত কিছুক্ষণ। নাকে সর্বগ্রাসী মূত্রের গন্ধ লাগত। আবছা অন্ধকারে পরিচিত দুর্গন্ধের মধ্যে চোখ বন্ধ করে স্বপ্নের জগতে চলে যেত জ্যাক। ধরাছোঁয়া যায় না এমন কিছু কিংবা কতিপয় অযৌক্তিক বিষয় জেগে উঠত মনের ভেতর। তার রক্তের ভেতর, তার প্রবৃত্তির ভেতর কোনো কোনো দৃশ্য জীবন্ত হয়ে দেখা দিত। রাসলিন বেগমের পা দেখার দৃশ্যটা সেরকমই একটা। সেদিন রাসলিন বেগমের টেবিলের সামনে একটা পিনের বাক্স তার পায়ের ধাক্কায় পড়ে গেলে পিনগুলো তোলার জন্য জ্যাক নিচু হয়েছিল। বসা অবস্থায় চোখ তুলে টেবিলের তলায় তাকিয়ে রাসলিনের খোলা হাটু আর উন্মুক্ত উরুর উপরে স্কাটের্র তলায় ফিতা দিয়ে বাধা অন্তর্বাস দেখে ফেলেছিল জ্যাক। কোনো নারী স্কার্টের নিচে কী পরিধান করে জ্যাক তার আগে কখনো দেখেনি। হঠাৎ দেখা দৃশ্যে জ্যাকের মুখের ভেতরের লালা শুকিয়ে যায়। সমস্ত শরীর ভয়ঙ্কর রকমের কাঁপতে থাকে। অভিজ্ঞতার অনেক রহস্য অনুন্মোচিত ছিল তার কাছে। তেমনি একটা রহস্য তার কাছে তখন উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছিল।

দুপুরে একবার, ছটার সময় একবার, দিনে দুবার ট্রলি বাস ধরার জন্য জ্যাককে ঢালু রাস্তায় দৌড়ে বের হতে হত। যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে অপেক্ষমান ট্রলিবাসে উঠতে হত। বাসের দাঁড়িয়ে থাকাটা বেশিক্ষণ পাওয়া যেত না। আস্তে আস্তে চলা শুরু করলে চলন্ত বাসের পাদানিতে ভর করে লাফ দিয়ে উঠে পড়তে হত। বিভিন্ন জায়গার কাজ থেকে তাদের পাড়ার দিকে শ্রমিকরা রওনা হত ট্রলিবাসে উঠে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একে অন্যে গা ঘেঁষে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকত সবাই। ছোট বড় সবার দৃষ্টি মনের ভেতরে ভেসে ওঠা বাড়ির দিকে। বাড়ি তাদের ডাকছে। নীরবে দাঁড়িয়ে ঘামতে ঘামতে প্রাণহীন চাকরি আর কষ্টকর ট্রলিবাসের যাত্রার মধ্যে বিভক্ত হয়ে চলত জ্যাকের তখনকার অস্তিত্ব। সবশেষে বাড়ি ফিরে যেন হঠাৎ ঘুম পেয়ে বসত। কোনো কোনো সন্ধ্যায় ওই জীবনের ভাবনা জ্যাককে বিষণ্ন করে ফেলত। চাকরির আগে সে শুধু বিত্ত আর দারিদ্রের আনন্দের কথাই জানত। আর এখন তাকে তাপ, একঘেয়েমি আর ক্লান্তির অভিশাপ দেখতে হচ্ছে। কাজের ধরন এমনই বেকুবমার্কা যে, জ্যাকের মতো কর্মীকে মাঝে মাঝে কাঁদিয়ে দিতে পারত। শেষ না হওয়ার মতো একঘেয়ে কাজ কর্মদিবসকে করে দিত দীর্ঘতর, জীবনকে করত সংক্ষিপ্ত।

জাহাজের দালালের ওখানে কাজ করার সময় গ্রীষ্মকালটা তুলনামূলক আরামদায়ক ছিল। কারণ অফিসের মুখেই ছিল প্রধান সড়ক ফ্রন্ট-ডে-মের। আর বিশেষ কারণ হলো, তাকে বেশিরভাগ সময় কাজ করতে হতো বন্দরে। আলজিয়ার্সের বন্দরে আসা সব জাহাজে উঠে যেতে হত জ্যাককে। কোঁকড়া চুলের গোলাপী চেহারার সুদর্শন দালাল লোকটা বিভিন্ন সরকারি অফিসের হয়ে কাজ করতেন। জ্যাক জাহাজগুলোর কাগজপত্র অফিসে নিয়ে আসত। অফিসে সেসব কাগজপত্র অনুবাদ করা হত। এক সপ্তাহ পর সে নিজেও সরবরাহ এবং বিভিন্ন মালের তালিকার অনুবাদের কাজে লেগে গেল। সবগুলো ইংরেজিতে লেখা হয়ে গেলে শুল্ক কর্তৃপক্ষ কিংবা ওইসব জাহাজের পণ্যের আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় পাঠিনো হত। সুতরাং জ্যাককে প্রায়ই আঘা বাণিজ্যিক বন্দরে যেতে হতো কাগজপত্র আনার জন্য। গ্রীষ্মের খরতাপ পুড়িয়ে ছারখার করে দিত বন্দরের দিকে নেমে যাওয়া রাস্তাগুলো। রাস্তার ধারে পেটা লোহার তৈরি হাতলগুলো এমন গরম থাকত যে, হাত দিলে হাত পুড়ে যেত। শুধু নোঙর করা জাহাজের পাশ ছাড়া জাহাজ থেকে নামার বিশাল কাঠামোর ওপরে তাপ এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করত। সেখানে খালাসিরা ব্যতিব্যস্ত থাকত সিমেন্ট কিংবা কয়লার বস্তা অথবা চোখা কোণার প্যাকেট নামানোর কাজে। খালাসিদের পরনে থাকত নীল রঙের পায়ের গুল পর্যন্ত গোটানো পাজামা। সারা কবন্ধ খালি। মাথায় থাকত তোয়ালে ধরনের এক খণ্ড কাপড়; সেটা তাদের পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত ঢেকে রাখত। জাহাজের পাটাতন থেকে নামার কাঠামো পর্যন্ত ঢালু হয়ে নেমে আসা তক্তার সিঁড়ির ওপর দিয়ে তারা ওঠা নামা করত কিংবা সরাসরি জাহাজের খোলের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ত। সেখান থেকে নামার কাঠামো পর্যন্ত পথে অবিরত চলাচল করত। জাহাজের পাটাতন আর নামার কাঠামোর তাপদগ্ধ ধূলি এবং রোদের গন্ধ ছাড়াও জ্যাক প্রতিটা জাহাজের আলাদা আলাদা গন্ধ চিনতে পারত। নরওয়ের জাহাজগুলো থেকে কাঠের গন্ধ পেত; ডাকার কিংবা ব্রাজিল থেকে আসা জাহাজ থেকে পাওয়া যেত কফি এবং মসলার গন্ধ; জার্মান জাহাজ থেকে আসত তেলের গন্ধ। আর ইংরেজ জাহাজগুলো থেকে পেত লোহার গন্ধ। তক্তার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গিয়ে কোনো নাবিককে জ্যাক তার দালালের কার্ড দেখাত। নাবিকরা সাধারণত কার্ডের লেখা বুঝতে পারত না। তারপর মাঝখানের পথ দিয়ে কোনো অফিসার কিংবা ক্যাপ্টেনের রুম পর্যন্ত যেত। মাঝখানের পথটায় ছায়া থাকলেও সেখানেও প্রচণ্ড তাপ অনুভব করত সে। পথের দুপাশের সরু এবং ফাঁকা কেবিনগুলোর দিকে জ্যাক লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাত: তার মতে, পৌরুষদীপ্ত জীবনযাপনের উদাহরণ ছিল ওই সব কেবিনে। কেবিনগুলো সবচেয়ে বিলাসবহুল আবাসস্থলের চেয়েও আকর্ষণীয় মনে হত। জ্যাককে তারা মহানুভবতা দেখিয়েই স্বাগত জানাত। কারণ জ্যাক নিজেও তাদের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলত। তাদের কঠিন আকৃতির মুখ এবং একাকী থাকার কারণে যেরকম চেহারা তৈরি হত সেই চেহারাও তার পছন্দের ছিল। তাদের জীবন যাপন প্রণালী যে তার খুব পছন্দ হতো সেটাও জ্যাক বুঝিয়ে দিত। মাঝে মধ্যে তাদের কেউ কেউ ফরাসি ভাষায় তার সম্পর্কে টুকটাক কিছু জানতে চাইত। তারপর উৎফুল্ল চিত্তে তাপে ফুটন্ত কাঠামোর দিকে হাঁটা দিত জ্যাক। সেখান থেকে রাস্তার জ্বলন্ত হাতলে, তারপর অফিসে পৌঁছে আবার কাজে মগ্ন হয়ে যেত। প্রচণ্ড তাপের মধ্যে ঘুরে ওইসব ফাইফরমাস খাটতে হত বলে তার শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়ত। রাতে প্রচণ্ড ঘুম হত। সেপ্টেম্বরে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সময় আসতে আসতে জ্যাক হয়ে যেত শারীরিক দিক থেকে অনেক বেশি পলকা এবং মানসিক দিক থেকে খুব বেশি অস্থির।

লিসেতে আবার দিনে ১২ ঘণ্টা কাটানো যাবে এমন সময় সামনে চলে আসছে ভেবে জ্যাক মনে মনে খুশি হয়। কিন্তু বিব্রত বোধ করে যখনই মনে পড়ে যায়, লিসেতে ফিরে যাওয়ার আগে চাকরি দাতাদেরকে তার চাকরি ছাড়ার কথা জানিয়ে দিতে হবে। যন্ত্রপাতির দোকানে চাকরি ছাড়ার বিষয়টা জানানো তার জন্য কঠিন হয়ে দেখা দেয়। সে ভীরু মনে ঠিক করে, তার চাকরি ছাড়ার যে ব্যাখ্যাই তাদের দিতে হোক না কেন, সেটা যেন নানি গিয়ে তাদের জানিয়ে আসেন। সে নিজে যেতে চায় না। কিন্তু নানি মনে করেন, অতসব আনুষ্ঠানিকতার দরকারটা কী। তার সিদ্ধান্ত হলো, জ্যাক তার বেতনটা তুলে নিয়ে এসে আর অফিসে যাবে না। তাতেই সব চুকেবুকে গেল। আর এতো ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার নেই তো। জ্যাক মনে করে, ম্যানেজারের হম্বিতম্বির মুখোমুখি হওয়ার জন্য নানিকে পাঠানোই সঙ্গত। এই পরিস্থিতি এবং মিথ্যে বলার জন্য নানিই তো দায়ী। তবু কোনোরকম ব্যাখ্য না দিয়ে চাকরি থেকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টার কথা ভেবে জ্যাক রুষ্ট হয় এবং নানির সঙ্গে মীমাংসায় না আসার জন্য সে যুক্তি দেখায়, সেরকম কিছু করলে বস তো আমার কাছে কাউকে পাঠাতে পারেন।

নানি নতুন করে প্যাঁচ কষতে থাকেন, পাঠালে পাঠবে; তাতে কী? তুই বলবি তুই আর ওদের কাজ করবি না। তোর মামার কারখানায় কাজ করবি। ব্যস; হয়ে গেল। মনের মধ্যে অভিশাপ নিয়ে জ্যাক বের হয়ে যাওয়ার সময় নানি আবার বললেন, অথবা বেতনটা তোলার পর ম্যানেজারকে বুঝিয়ে বললেই তো পারিস।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা মিয়ানমারকে সরবরাহ করেছিল। এখনো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে। মূল তালিকায় থাকা বাকি সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত এই জোট বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৃহত্তর সংহতকরণের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ ভাগে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাত সদস্যের আঞ্চলিক ব্লক—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেক সনদ অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতীকী গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বিদায়ী বিমসটেক সভাপতি স্বাগত ভাষণ দেন। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এছাড়া, সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ