শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫২

দ্য ফার্স্ট ম্যান

আলজেরিয়ার গ্রীষ্মকাল খুব কঠিন ছিল। আমলা শ্রেণির লোকেরা এবং স্বচ্ছল লোকেরা স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য ‘ফরাসি হাওয়া’ খেতে যেত। ফিরে এসে কেউ কেউ অবিশ্বাস্য সব গল্প ফাঁদত। নয়নাভিরাম মাঠের বর্ণনা দিত। সেখানে নাকি আগস্ট মাসের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে পানি প্রবাহিত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। দারিদ্রপীড়িত এলাকায় কোনো পরিবর্তন ঘটত না। নিচের অঞ্চলগুলোতে কখনও কখনও অর্ধেক খালি হওয়ার কথা শোনা গেলেও তাদের এলাকায় জনসংখ্যা দেদারসে বাড়তেই থাকত, রাস্তায় বাচ্চাদের ঢল দেখে তার প্রমাণ পাওয়া যেত।

জ্যাক এবং পিয়েরের কাছে ছুটির দিন মানে গরমের সময় কাপড়ের তৈরি দড়ির তলাঅলা জুতো, সস্তা ট্রাউজার এবং গোল গলাঅলা গেঞ্জি পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো। সর্বশেষ বৃষ্টি নামত এপ্রিল মাসে, কিংবা বড়জোর মে মাসে। সপ্তাহ জুড়ে, মাস জুড়ে রোদ চড়া হতে থাকত। সূর্য আরও গরম হয়ে পড়ত। কড়া সূর্যালোক আশপাশের দেয়ালগুলো শুকিয়ে ভাজা ভাজা করে ফেলত। রাস্তার মাটি, টালি আর পাথরগুলোকে মিহি ধূলো বানিয়ে ফেলত। পাগলা বাতাসের কারণে দোকানপাট, রাস্তাঘাট এবং গাছের প্রতিটা পাতার ওপরে ধুলোর পুরু স্তর পড়ে যেত। জুলাই মাসে জ্যাকদের বাড়ির আশপাশের গোটা এলাকা ধূসর-হলুদ রঙের গোলকধাঁধায় পরিণত হয়ে যেত। দিনের বেলা জনমানবহীন; ভয়ঙ্কর সূর্যালোকের শাসনে বাড়িগুলোর সব ঘরের ঝাঁপ সতর্কতার সঙ্গে বন্ধ রাখা হতো। বাড়ি ঘরের দরজার সামনে কুকুর বিড়ালগুলো ভূপাতিত হয়ে পড়ে থাকত। জীবন্ত সবকিছুই দেয়ালের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করত। আগস্ট মাসে তাপে দগ্ধ হয়ে যাওয়া আকাশের ফেঁসোর মতো মেঘের আড়ালে চলে যেত সূর্য। ভারী, আর্দ্র আকাশ থেকে সাদা আলো ছড়িয়ে পড়ত। চোখের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। সে আলো রাস্তার রঙের শেষ বিন্দুটা পর্যন্ত মুছে দিয়ে যেত। সমবায় সমিতির শ্রমিকদের হাতুড়ির বাড়ি ধীর লয়ে নেমে আসত। শ্রমিকরা মাঝে মাঝেই কাজ থামিয়ে তাদের ঘর্মাক্ত মাথা বুক পেতে দিত পাইপ থেকে বের হয়ে আসা ঠাণ্ডা পানির সামনে। অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে পানির বোতল এবং কখনও কখনও মদের বোতল ভেজা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হতো। জ্যাকের নানি ছায়াময় রুমের মধ্যে খালি পায়ে চলাচল করতেন। পরনে শুধু একটা কামিজ থাকত। কয়দা করে খড়ের পাখা ঘোরাতেন; কাজ করতেন বেশির ভাগ সকাল বেলায়। জ্যাককে টেনে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিতেন দুপুরের ঘুমের জন্য। সন্ধ্যার প্রথম প্রহরের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করতেন। এভাবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে গ্রীষ্ম এবং গ্রীষ্মের শিকার যারা তারা সবাই ভারী, ঘাম ঝড়ানো, শরীর ভাজা ভাজা করা আকাশের নিচে যেন হামাগুড়ি দিয়ে চলত। শেষে সবার মন থেকে যেন শীতের ঠাণ্ডা আর বৃষ্টির স্মৃতি মুছেই যেত যেন প্রবল বাতাসের কথা, তুষারের কথা কিংবা হালকা বৃষ্টির কথা পৃথিবী কখনও শোনেনি। বিশ্ব সৃষ্টির লগ্ন থেকে এই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিশয় তাপে দগ্ধ করিডরে পরিণত হওয়া এই খনিজ কাঠামো ছাড়া আর কোনো কিছুর অস্তিত্বই ছিল না। এখানে ঘর্মাক্ত এবং ধূলিধূসরিত জীবকূল কোটরাগত চোখে গতিহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে এদিক ওদিক খুব আস্তে ধীরে চলাচল করত। আকাশটা সঙ্কুচিত হতে হতে এক সময় মাটির রাস্তাঘাটের ওপর যেন ভেঙে পড়ত। রাস্তার তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যেত। পরিমাণে অঢেল, স্বভাবে প্রবল সেপ্টেম্বরের প্রথম বৃষ্টি, গোটা শহরকে প্লাবিত করে দিত। আশপাশের সব রাস্তাঘাট, ডুমুরের গাছের পাতা, মাথার ওপরের ট্রলিরেইল সবকিছু চকচক করত। শহরের দিকে তাকিয়ে থাকা ওপরের পাহাড় বেয়ে চলে আসত দূরের মাঠের ভেজা মাটির গন্ধ, আসার সময় গ্রীষ্মের কাছে বন্দিদের জন্য বয়ে নিয়ে আসত খোলা জায়গা আর স্বাধীনতার বার্তা। বাড়িঘর থেকে বাচ্চারা ছুটে বের হয়ে আসত রাস্তায়, পরনে সামান্য কাপড় চোপড়। বৃষ্টির পানি গিলতে থাকত রাস্তার ফেনিল জলের মধ্যে হৈহুল্লোর করে। একে অন্যের কাঁধ ছুয়ে রাস্তার খানাখন্দের মধ্যেই গোলাকার হয়ে চিৎকার চেচামেচি করত। তাদের ঐকতানে অতিশয় ঘোলা জলে তৈরি হতো যেন মৌসুমের প্রথম মদ। সেটা বাস্তবের আসল মদের চেয়েও ভয়ানক রকমের কড়া।

গরমের মৌসুম আসলেই ভয়াবহ ছিল। সবাইকে মাথা খারাপ করে দিত। দিন দিন সবার স্নায়বিক শক্তি একেবারে শেষ প্রান্তে চলে আসত। চিৎকার করে কিংবা খিস্তি ঝেড়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো শক্তি পর্যন্ত কারো থাকত না। দারিদ্রক্লিষ্ট এলাকার এখানে ওখানে ফেটে পড়ার আগ পর্যন্ত কড়া তাপের মতো অসহিষ্ণুতা বাড়তেই থাকত। অত্যাধিক কড়া তাপের এরকম প্রভাবের একটা নজির জ্যাক দেখেছিল এক দিন, রিউ ডি লোইনে মারাবুট নামের আরব বসতিপূর্ণ এলাকার একেবারে প্রান্তে, পাহাড়ের গা ঘেঁষা কবর স্থানের কাছে নীল পোশাক পরা মাথা ন্যাড়া একজন আরব ধুলোময় মুরীয় ক্ষৌরাগার থেকে বের হয়ে এল। জ্যাকের সামনেই ফুটপাতে কয়েক কদম হেঁটে এসে শরীর সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে মাথা পেছনে হেলিয়ে দাঁড়াল সে। আসলে বাস্তবে এরকম করে দাঁড়ানো কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তার মাথা পরিষ্কার করার সময় নাপিত উন্মাদ হয়ে গেছে। উপস্থিত আরবরা লক্ষ করে দেখেছে, নাপিত লম্বা ক্ষুর দিয়ে তার গলায় পোচ মেরে দিয়েছে। সেখান থেকে গল গল করে রক্ত বের হচ্ছে। গলায় পোচ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ক্ষৌরাগার থেকে দৌড়ে বের হয়ে এসেছে। তার অবস্থা আধাখেচরাভাবে গলা কাটা হাঁসের মতো হয়েছে। উপস্থিত যারা ছিল তারা নাপিতকে সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলেছে। এই অন্তহীন তাপের মৌসুমের মতোই উন্মাদ নাপিত তখন হাউমাউ করে চিৎকার শুরু করে দিয়েছে।

তারপর আকাশ থেকে নেমে আসা পানির প্রপাত গাছের পাতা, ঘরের ছাদ, দেয়াল, রাস্তাঘাট সবখান থেকে গ্রীষ্মের ধুলা একেবারে ঘষেমেজে পরিষ্কার করে দিত। খুব দ্রুত কাদা পানিতে ভরে যেত পয়োনালী; গলগল শব্দে জলের ধারা নামত নালার মধ্যে। বেশিরভাগ বছর নিষ্কাসনের সব ব্যবস্থা চুরমার করে দিয়ে রাস্তায় বন্যা বইয়ে দিত বৃষ্টির জল। গাড়ি এবং ট্রলিবাসগুলো চলার সময় দুপাশে জল ছিটে পড়ত খুব উচু হয়ে। আর পেছনে ক্রমহ্রাসমান ধারা দেখে মনে হতো, গাড়িটা কিংবা ট্রলিবাসটা একটা হলুদ রঙের মাছের ডানা। তটের কাছে এবং বন্দরের কাছে সমুদ্রের পানিও ঘোলাটে রং ধারণ করত। বৃষ্টির পরে প্রথম সূর্যালোকে বাড়িঘর থেকে, রাস্তা থেকে, গোটা শহর থেকে বাষ্প উঠে যেত ওপরের দিকে। তাপ আবার হয়ত ফিরে আসত। কিন্তু আগের মতো শাসন করার ক্ষমতা থাকত না। আকাশ অনেক উন্মুক্ত মনে হতো। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো না। সূর্যের গভীর থেকে বাতাসে কম্পন ছড়িয়ে পড়ত। প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা শরতের আগাম বার্তা এবং স্কুলের পড়াশোনার মৌসুম শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আসত। নানি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতেন, গ্রীষ্ম কত লম্বা রে বাবা! শরতের আগমনকে এবং জ্যাকের বিদায়কে তিনি সমানভাবে স্বাগত জানাতেন। কারণ গরমের সময়ে জ্যাকের ঘরের মধ্যে বন্দি অবস্থা তার কাছে অসহিষ্ণু মনে হতো।

তাছাড়া বছরের একটা বিশেষ সময়ে আলাদাভাবে কোনো মানুষ কর্মহীন থাকবে সেটা তার বোধগম্য ছিল না। তিনি বলতেন, আমার কথাই বলি; আমার তো কোনো ছুটি নেই। আসলেই তার কথা ঠিক। স্কুল কী জিনিস, ছুটি কী জিনিস এসব তিনি জানতেন না। একদম ছোটবেলা থেকে তিনি কাজ করে আসছেন, কোনো রকমের আরাম বিশ্রাম নেই। সামনে বড় কোনো প্রাপ্তিযোগ হবে বলে তার নাতি যে আরও কয়েক বছর বাড়ির জন্য কোনো উপার্জন করতে পারবে না সেটা তিনি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি একেবারে প্রথম দিন থেকেই অযথা খরচ হওয়া তিন মাসের কথা বিশেষভাবে চিন্তায় এনেছেন। লিসেতে জ্যাকের চতুর্থ বছর যেবার শুরু হলো তিনি ঠিক করলেন এইবার জ্যাকের ছুটির দিনগুলো কাজে লাগাতে হবে। স্কুলের বছর শেষের দিন তিনি জ্যাককে বললেন, এবারের গ্রীষ্মে কিন্তু তোকে কাজ করতে হবে। বাড়ির জন্য কিছু উপার্জন করতে হবে। ঘরের ভেতর কাজহীন বসে থাকলে চলবে না। আসলে জ্যাক ভেবেছিল ছুটিতে তার অনেক কাজ করতে হবে সাঁতার কাটতে যেতে হবে, কুবা অভিযানে যেতে হবে; খেলাধুলা, বেলকোর্টের রাস্তায় ঘোরাঘুরি, সচিত্র কাহিনিগুলো পড়া, জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো পড়া, ভারমটের পঞ্জিকা, সেইন্ট এতিয়েনের অফুরন্ত ক্যাটালগ সবকিছু মিলে ছুটিটা কাটাতে পারবে। বাড়ির জন্য ফাইফরমাস খাটা, নানির চাপানো কাজ এসব তার কাজের মধ্যে গণনা করেনি সে। কিন্তু জ্যাকের পরিকল্পিত কাজগুলো নানির দৃষ্টিতে মোটেও কোনো কাজ নয়। স্কুলের সময়েও জ্যাক যেরকম কাজ করত এখন সে সেরকম কাজ করছে না এবং বাড়ির জন্য কিছু উপার্জনও করছে না। কাজেই তার এই ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টা নরকের আগুনের মতো জাজ্বল্যমানভাবে অসহনীয়। সবচেয়ে সোজা সহজ কাজ বলতে নানি বুঝতেন তার একটা চাকরি জোটানো।

চলবে….

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো