শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান

বেলা দুটোর সময় উপরের খিলানের কোথা থেকে যেন সামরিক বাজনায় ফরাসি জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। উপস্থিত সব ছাত্র এবং অভিভাবক সবাই উঠে দাঁড়াত। তখন প্রধান শিক্ষক এবং একজন উচ্চপদস্থ অফিসারের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষক প্রবেশ করতেন। আয়তাকার টুপি আর লম্বা গাউন পরা সবাই। তাদের গাউনের রং দেখে বোঝা যেত কে কোন বিভাগের শিক্ষক।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাধারণত ঔপনিবেশিক সরকারের কোনো আমলা হয়ে থাকতেন, তাকে ওই অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো হত। আরেকবার সামরিক বাজনা বাজত শিক্ষকদের আসন গ্রহণের জন্য। অনতিবিলম্বে উচ্চপদস্থ কর্তা বক্তব্য শুরু করতেন। তার বক্তব্যের বিষয় থাকত সাধারণভাবে ফ্রান্স এবং বিশেষভাবে শিক্ষা। ক্যাথরিন করমারি কানে কিছু না শুনলেও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতেন। তার ধৈর্যচ্যুতি কিংবা ক্লান্তির কোনো ছাপ দেখা যেত না। জ্যাকের নানি শুনতে পারতেন। কিন্তু খুব পরিষ্কার কিছু বুঝতেন না। তার মেয়ের উদ্দেশে তিনি বলতেন, উনি খুব চমৎকার কথা বলেছেন। তার মেয়ে তার কথায় সায় দিয়ে মাথা ঝাঁকাতেন। তখন নানি তার বাম পাশে বসা অন্য অভিভাবকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হাসি ছড়িয়ে দিয়ে মাথা ঝাঁকাতেন। প্রথম বছরেই জ্যাক খেয়াল করেছে, শুধু তার নানিই মাথা এবং কাঁধ ঢেকে রাখার জন্য পুরনো দিনের স্পেনীয় ওড়না পরেছেন। বিষয়টা জ্যাকের জন্য বিব্রতকর মনে হয়েছে। সত্যি কথা হলো, এই অহেতুক লজ্জার বিষয়টা সারা জীবন জ্যাকের পিছু ছাড়েনি। কারণ পরে জ্যাক নানিকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে ওড়নার বদলে একটা ক্যাপ পরলে ভালো। নানি বলেছেন, ক্যাপ কিনে বাজে ব্যয় করার মতো পয়সা তার নেই। বরং ওড়নায় তার কানের পাশটা উষ্ণ থাকে। কিন্তু অনুষ্ঠানে বসে নানি যখন পাশের কোনো মহিলার সঙ্গে কথা বলেছেন জ্যাকের লজ্জার সীমা থাকেনি। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য শেষ হলে কনিষ্ঠতম শিক্ষক বক্তব্য শুরু করতেন। তিনি সাধারণত ফ্রান্স থেকে আগত নতুন শিক্ষক হয়ে থাকতেন এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দায়িত্ব থাকত তার উপরেই। তার বক্তব্য ত্রিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকত। ওই নবীন শিক্ষাবিদ তার বক্তব্যের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উল্লেখ করতেন এবং সূক্ষ্ম মানবিক বিষয়াদির অনুপ্রবেশ ঘটাতে ভুল করতেন না। এতে করে তার বক্তব্য আলজেরীয় শ্রোতাদের কাছে পুরোপুরিই দুর্বোধ্য হয়ে উঠত। অত্যাধিক তাপের কারণে শ্রোতাদের মনোযোগ নেতিয়ে পড়ত এবং তাদের হাতের পাখা ঘন ঘন ঘুরতে থাকত। এমনকি মনোযোগী শ্রোতা নানিও এদিক ওদিক তাকিয়ে অবসন্নতা প্রকাশ করতেন। শুধু ক্যাথরিন করমারি তার উপরে বর্ষিত পান্ডিত্ব আর প্রজ্ঞার বর্ষণ একাগ্র দৃষ্টিতে গ্রহণ করে যেতেন সামান্যতম চোখ পিটপিট করার মতো অবহেলা না দেখিয়েও। আর জ্যাক এবং পিয়েরে অন্য বন্ধুদের অনুসন্ধানে এদিক ওদিক তাকিয়ে শরীর মোচড়াতে থাকত। তাদের প্রতি ইঙ্গিত ছুড়ে দিত এবং লম্বা আলাপ শুরু করেও দিত। আলাপের মধ্যে ভেংচি কাটাও থাকত। সবশেষে বিকট করতালি ছড়িয়ে পড়ত। কারণ বক্তা যথেষ্ট দয়াপরবশ হয়ে তার বক্তব্য শেষ করেছেন। তখনই শুরু হতো পুরস্কার ঘোষণা। প্রথমে শুরু হতো উপরের ক্লাসের এবং প্রথম দিকে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণ। তার ক্লাসের পুরস্কার বিতরণ শুরু হওয়া পর্যন্ত জ্যাকের নানি এবং মা অধীর অপেক্ষা করতেন। যারা পড়াশোনায় পরম উৎকর্ষ দেখাতে পারত তাদের পুরস্কার প্রদানের সময় অদৃশ্য থেকে সংগীতের বিশেষ দামামা বেজে উঠত। পুরস্কারের পালা বড় থেকে ছোটদের দিকে আসত। পুরস্কার প্রাপ্তরা উঠোনের একপাশ দিয়ে হেঁটে মঞ্চে উঠত, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রশংসাসূচক বাক্যে অভিসিক্ত হতো, তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করত। তারপর প্রধান শিক্ষক তাদের হাতে তুলে দিতেন বইয়ের বান্ডিল। মঞ্চের নিচে বই বোঝাই একটা ঠেলা গাড়ি দাঁড় করানো থাকত, সেখান থেকে একজন পরিচারক প্রধান শিক্ষকের হাতে বইয়ের বান্ডিল ধরিয়ে দিত এবং শেষে তিনি ছাত্রদের হাতে তুলে দিতেন বই। বিপুল করতালি আর সংগীতের মুর্ছনার মাঝে পুরস্কার বিজেতা চারপাশে তাকাতে তাকাতে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে হেঁটে নেমে আসত। তার অনুসন্ধানী চোখ তার গর্বিত অভিভাবকদের দিকে। তখন তারা আনন্দের অশ্রু মুছতে ব্যস্ত। আকাশের নীল রং ততক্ষণে একটুখানি ফিকে হয়ে এসেছে। তাপমাত্রা কমেছে আরেকটু। সমুদ্রের উপরে কোথাও অল্প একটু ফাটল পেয়ে আকাশ হয়ত সেখানে তাপ ঢেলে দিয়েছে খানিক। পুরস্কার বিজেতারা একে একে মঞ্চের দিকে যাচ্ছে আসছে। সঙ্গে সংগীতের দামামা চলছে এভাবে দর্শকদের মধ্যে ভীড় কমে আসছে। আকাশ আরেকটু মিশ্র নীলাভ হয়ে গেলে আসত জ্যাকের পুরস্কার গ্রহণের পালা। তার ক্লাসের পুরস্কারের ঘোষণা শুনলেই জ্যাক হাসি তামাশা থামিয়ে গম্ভীর হয়ে যেত। নিজের নাম ঘোষিত হলে জ্যাক উঠে দাঁড়াত। মাথার ভেতরে তখন কেমন যেন ভনভন শব্দ করে উঠছে। তার এগিয়ে যাওয়া দেখে মা জিজ্ঞেস করতেন, করমারি কথাটা বলেছে নাকি? তখন পেছনে মায়ের দিকে তাকানোর আর অবসর নেই জ্যাকের।

নানি বলতেন, হ্যা, বলেছে। নানির মুখটা তখন আনন্দে উত্তেজনায় রাঙা হয়ে উঠেছে।

প্রথম দিন সিমেন্টের পথ পাড় হয়ে মঞ্চে পৌঁছনো, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কোট এবং ঘড়ির চেইন, প্রধান শিক্ষকের মিষ্টি হাসি, মঞ্চের ভিড়ের মধ্যে কোনো শিক্ষকের আন্তরিক চাহনি এসব শেষ করে তারপর দর্শকদের বসার মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা মা এবং নানির কাছে ফিরল জ্যাক। মা তার দিকে তাকিয়ে আছেন বিস্মিত আনন্দের দৃষ্টিতে। জ্যাক মায়ের হাতে তুলে দিল বিজয়ীদের নামের মোটা তালিকা। নানি তার আশপাশের দর্শকদের দিকে গর্বের দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাদের আহ্বান করলেন জ্যাকের কৃতিত্ব দেখার জন্য। বিকেলের ওই সময়ের মধ্যেই এতসব কিছু ঘটে গেল দ্রুত। জ্যাক তখন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার জন্য উদগ্রীব, বাড়ি গিয়ে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া বইগুলো দেখতে হবে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।

বাড়ি ফেরার সময় তারা পিয়েরে এবং তার মায়ের সঙ্গে ফিরল। জ্যাকের নানি আড় চোখে দেখে নিলেন কার বইয়ের বান্ডিলটা বেশি উঁচু হয়েছে। বাড়িতে পৌঁছে জ্যাক মায়ের কাছ থেকে পুরস্কারের তালিকাটা নিলে নানি তাকে যে সব পৃষ্ঠায় তার নাম এসেছে সেসব পৃষ্ঠার কোণা ভাঁজ করে রাখতে বললেন যাতে পরিবারের আর সবাইকে এবং প্রতিবেশীদের তিনি ভালো করে দেখাতে পারেন। তারপর নিজের কী কী অর্জন হলো তার একটা তালিকা তৈরি করতে বসল জ্যাক। কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেখতে পেল মা আসছেন। ততক্ষণে মায়ের পোশাক বদলানো হয়ে গেছে, স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে ব্লাউজের বোতাম লাগাতে লাগাতে আসছেন। জানালার কাছে চেয়ার টেনে নিতে নিতে জ্যাকের দিকে তাকিয়ে মা হাসলেন। বললেন, খুব ভালো করেছিস। এরপর তাকিয়ে থাকতে থাকতে মৃদু মাথা ঝাঁকাতে লাগলেন। এভাবে কখনও মাকে তাকিয়ে থাকতে দেখেনি সে। জ্যাক মায়ের তাকানোর উত্তরে ফিরে তাকিয়ে দেখল, মা রাস্তার দিকে তাকিয়েছেন। জ্যাক বুঝতে পারল, মা এখন লিসে থেকে অনেক দূরে। আরও এক বছর মাকে এভাবে আর দেখতে পাবে না। আস্তে আস্তে ঘরের ভেতরটা অন্ধকার ছেয়ে ফেলল। বাইরে রাস্তার প্রথম আলো জ্বলে উঠল। সেখানে কারা হেঁটে যাচ্ছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। শুধু পথচারীদের হেঁটে যাওয়া দেখা যাচ্ছে।
জ্যাক কল্পনায় দেখতে পেল, তার মা লিসে এক নজর দেখার মতো দেখে চলে এসেছেন। নিজেকে সে শেষবারের মতো আবার ফিরিয়ে নিয়ে এল পরিবার এবং প্রতিবেশের মাঝে।

ছুটির দিনগুলো জ্যাককে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসত, বিশেষ করে প্রথম বছরগুলোর ছুটির দিনগুলো। তার পরিবারের কারো কোনো রকম ছুটির দিন ছিল না। তারা সারা বছর কাজ করত কোনো রকম বিশ্রাম ছাড়াই। কোনো বীমাকৃত কারখানায় কাজ করতে গেলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে হাসপাতালে কিংবা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার পড়লে শুধু সেটাই ছুটি বলে মনে হতো। একবার আর্নেস্ট মামা এরকম একটা জায়গায় কাজ করার সময় ক্লান্তিতে হাতের তালুর খানিক মাংস কেটে ফেলেছিল। সেই ঘটনাকে মামা বলত নিজেকে ‘বীমায় ফেলে দেওয়া’। পাড়ার অন্যান্য বউঝিদের এবং জ্যাকের মায়ের যেসব কাজ করতে হতো সেখানে কোনো বিরতি থাকত না। তাদের সামনে খুব পরিষ্কার যুক্তি ছিল, কাজের মাঝে বিশ্রাম মানেই পরিবারের সবার জন্য খাবারের ঘাটতি পড়া। তাদের বেকারত্বের বিপরীতে কোনো বীমা ছিল না। কাজেই তারা কর্মহীনতাকে বিপর্যয়ের মতো ভয় করত। সে কারণেই পিয়েরের পরিবারের এবং জ্যাকের পরিবারের পুরুষেরা যারা পরিশ্রমের দিক থেকে সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু ছিল তারাও পরিশ্রমের ব্যাপারে বিদেশিদেরকেও ভয় পেত। তারা মনে করত ইতালিয়, স্পেন, ইহুদি, আরব এবং সর্বোপরি সারা পৃথিবীর মানুষই তাদের কাজ চুরি করে নিতে পারে। যেসব বুদ্ধিজীবি সর্বহারা সম্প্রদায়ের পক্ষে তত্ত্ব প্রচার করে থাকেন তাদের জন্য এই মানুষগুলোর এরকম মনোভাব বিব্রতকর মনে হলেও আসলে কিন্তু মানবিক এবং সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। পৃথিবীর প্রভূত্ব অর্জন কিংবা সম্পদের সুবিধা অর্জনের জন্য এই জাতীয়তাবাদী মানুষগুলো অন্যান্যাদের জাতীয়তাবাদের প্রতি বিদ্বেষী ছিল না। তারা শুধু দাসত্ব করার অধিকার চাইত। তাদের কাছে কাজ মানে কোনো বিশেষ গুণ নয়, কাজ মানে প্রয়োজনীযতা। টিকে থাকার জন্যই কাজের দরকার। আর এই কাজই তাদের ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেত।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো