শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান

বইটা কোন পদ্ধতিতে ছাপা হয়েছে তার উপর নির্ভর করে পাঠক আগেই বুঝতে পারত, ওই বই থেকে কী ধরনের এবং কতখানি আনন্দ লাভ করতে পারবে। জ্যাক এবং পিয়েরে বড় বড় অক্ষরে দুপাশে সুপরিসর মার্জিনঅলা বই পছন্দ করত না। মার্জিত রুচির পাঠকদের জন্য তেমন বই পছন্দ হলেও তাদের পছন্দ ছিল ছোট অক্ষরে টাইপ করা এবং পৃষ্ঠায় কম মার্জিন সংবলিত বই। শব্দ আর বাক্যে পুরোপুরি ঠাসা বই ছিল তাদের প্রিয়। বড় আকারের পুরনো গামলার মধ্যে অনেক পরিমাণ খাবার যেমন ভয়াবহ ক্ষুধা নিবৃত্ত করার পরও কিছু খাবার অবশিষ্ট থাকে তেমনভাবে বইয়ের মধ্যে অনেক কিছু থাকবে যা দিয়ে তাদের পড়ার ক্ষুধা নিবৃত্ত করা যায়। সুক্ষ ব্যাপার স্যাপার তাদের পছন্দ ছিল না। তারা যেহেতু কোনো কিছুই ভালো করে জানত না, তাদের সবকিছুই জানার দরকার ছিল। বইটা সুলিখিত না হলে, কিংবা ভালো বাঁধাই না থাকলেও তাতে তাদের কিছু যেত আসত না। লেখার বক্তব্য হওয়া চাই প্রাঞ্জল এবং পৃষ্ঠা ভরা থাকা চাই অত্তুগ্র ঘটনাবলী। তাহলে ওইসব বই তাদের স্বপ্নের ক্ষুধা মিটাতে পারত এবং ওইসব বই পড়ার মাধ্যমে তারা যেন একটা প্রবল ঘুমের ভেতর ডুবে যেতে পারত।

তা ছাড়া প্রত্যেক বইয়ের ছিল আলাদা আলাদা সুগন্ধ, যে কাগজের উপর ছাপা হতো অক্ষরগুলো সেই কাগজেরও গন্ধ থাকত। বইয়ের গন্ধ সব সময় খুব কোমল আর অনন্য। একেকটা বইয়ের নিজস্ব গন্ধ একেক রকম। চোখ বন্ধ করেই জ্যাক বলে দিতে পারত, বইটা নেলসন সিরিজের কি না। তখনকার দিনে নেলসন সিরিজের বই প্রকাশ করত ফাসকেল। পড়া শুরু করার আগেই একেকটা বই জ্যাককে প্রতিশ্রুতিভরা জগতে টেনে নিয়ে যেত। ওই গন্ধে জ্যাক নিজের অবস্থানের ঘরটা পর্যন্ত ভুলে যেত। বাড়ির আশপাশের এলাকা, এলাকার হৈচৈ, খোদ শহরটা এবং বাস্তবের গোটা জগৎই তার বোধ থেকে মুছে যেত। বুনো অবাধ একটা বোধ নিয়ে পড়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে সামনের জগৎটা বিলীন হয়ে যেত। জ্যাক নিজেই অন্যরূপের ভেতর প্রবেশ করত। বার বার তাকে ডাকা হতো, জ্যাক, তৃতীয় বারের মতো টেবিল ঠিক কর। তবু তার চেতনা ফিরত না। আরও ডাকাডাকির পর সে টেবিল সাজাত ঠিকই, তবে তার দৃষ্টি থাকত বইয়ের দিকে। মনে হতো, সে মাতাল অবস্থায় আছে। টেবিলের কাজ সেরে বইয়ের কাছে আবার ফিরে আসত। মনে হতো, সে পড়া ছেড়ে ওঠেইনি। তারপর তাকে বলা হতো, জ্যাক খেতে বসো। খেতে বসলে তার মনে হতো খাবারগুলো বইয়ের কথাগুলোর চেয়ে ভারী, তবে অবাস্তব। খাবার শেষ করে টেবিল পরিষ্কার করে আবার পড়ায় ফিরে যেত সে। কখনো কখনো মা তার নিজস্ব জায়গায় বসতে যাওয়ার আগে তার কাছে আসতেন। মা বলতেন, লাইব্রেরি থেকে আনা। অবশ্য লাইব্রেরি কথাটা মা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারতেন না। তিনি শুধু তার ছেলের মুখে লাইব্রেরি কথাটা উচ্চারিত হতে শুনেছেন। তার কাছে কথাটার নিজস্ব কোনো অর্থ ছিল না। তবে তিনি বইয়ের মলাটের চেহারাটা ঠিক ঠিক চিনতেন এবং তার কথার সুরে জ্যাক মায়ের দিকে না তাকিয়েই বলে উঠত, হ্যাঁ। মা জ্যাকের কাঁধের উপর ঝুঁকে থাকতেন। মা লেখার লাইনগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে বইয়ের গন্ধ নিতেন। কখনো কখনো তার লন্ড্রির কাজ করে ফোলা আঙুল বইয়ের পাতার উপর ছুঁইয়ে যেতেন যেন বুঝতে চেষ্টা করছেন, বই জিনিসটা আসলে কেমন, যেন ওই রহস্যময় চিহ্নগুলোর আরও কাছে আসতে চাইছেন, দেখতে চাইছেন ওই দুর্বোধ্য চিহ্নগুলো কীভাবে তার ছেলেকে বার বার টেনে নিয়ে যায়। তার বোধের বাইরের এক জগতে ছেলে কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিচ্ছে। সেখান থেকে ফেরার সময় তার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন তিনি অচেনা কেউ। মায়ের খসখসে আঙুলগুলো মাঝে মাঝে জ্যাকের মাথায় আদর বুলিয়ে যেত। মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার নিজের জায়গায় গিয়ে বসতেন, জ্যাকের থেকে বেশ দূরে। নানি পর পর বেশ কয়েকবার আদেশ দিতেন, জ্যাক, ঘুমোতে যা। না হলে কাল সকালে দেরি হয়ে যাবে। জ্যাক উঠে দাঁড়িয়ে পরের দিনের ক্লাসের বইপত্র ব্যাগে গোছাতে শুরু করত; তবে বইটা তার বগলে ধরাই থাকত। বিছানায় মাতালের মতো ধপাস করে শুয়ে বইটা আস্তে করে পাশবালিশের নিচে চালান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ত।

সুতরাং বেশ কয়েক বছর জ্যাকের অস্তিত্ব দুটো জগতের মাঝে অসমভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। ওই জগৎ দুটো সে কোনোভাবেই এক করে মেলাতে পারেনি। দিনের প্রায় বারো ঘণ্টার জন্য তাকে থাকতে হতো যে জগতে সেখানে ছিল ঢোলের বাজনা, ছাত্র-শিক্ষকদের আনাগোনা, খেলাধুলা এবং পড়াশোনা। অন্যদিকে প্রাত্যহিক জীবনের দুতিন ঘণ্টা থাকতে হতো বাড়িতে, বাড়ির আশপাশের জগতে, মায়ের সান্নিধ্যে। অবশ্য শুধু গরিব মানুষের ঘুম ছাড়া আর কোনোভাবে মায়ের জগতের সঙ্গে সে নিজেকে মেলাতে পারেনি। যদিও বাড়ির আশপাশের জগৎ ছিল তার জীবনের প্রথমভাগের অংশ, তার বর্তমান এবং ভবিষ্যত ছিল লিসে। সুতরাং তার বাড়ির জগৎটা মিশে থাকত তার রাত, ঘুম এবং স্বপ্নের সঙ্গে। যে রাতে সে সিমেন্টের ওপর পড়ে গিয়েছিল তখনো কি মরুভূমির মতো হয়ে যাওয়া বাড়ির প্রতিবেশ তার সঙ্গেই ছিল?

লিসেতে কারও সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই জ্যাক তার মায়ের কথা কিংবা বাড়ির কথা বলতে পারত না। অন্যদিকে লিসের কথা বাড়ির কারও সঙ্গে বলার মতো ছিল না। প্রবেশিকা পরীক্ষার পূর্বে তার কোনো বন্ধু কিংবা কোনো শিক্ষক তার বাড়িতে কখনো আসেননি। বছরে শুধু একবার, জুলাই মাসের শুরুতে পুরস্কার প্রদানের সময় ছাড়া তার নানি এবং মা কখনো লিসেতে যাননি। সেদিন তারা লিসের বিশাল দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন পুরোদস্তুর পোশাকে সজ্জিত সব পিতামাতা এবং ছাত্রদের ভিড়ের মধ্যে। কখনো বাইরে যাবার সময় নানি সাধারণত কালো পোশাক এবং মাথায় ওড়না পরিহিত অবস্থায় যেতেন। লিসেতে যাওয়ার সময়ও সেই পোশাকই পড়তেন। বাদামী জাল আর কালো মোমের তৈরি আঙুরশোভিত হ্যাট, বাদামী রঙের গ্রীষ্মকালীন পোশাক এবং তার একমাত্র উঁচুতলাঅলা জুতা জোড়া পরে যেতেন মা। খোলা গলার কলারঅলা হাফহাতা সাদা শার্ট আর ট্রাউজার পরে যেত জ্যাক। দুটোই আগের রাতে মা খুব যত্ন করে ইস্ত্রি করে রাখতেন। তাদের দুজনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে জ্যাক তাদের লাল ট্রলিবাসের দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেত। দুপুর একটার দিকে তারা যাত্রা করত। বাসের মধ্যে নানি এবং মাকে সিটে বসিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত জ্যাক। মাঝখানের কাঁচের দেয়াল ভেদ করে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকত সে। মা মাঝে মাঝে জ্যাকের দিকে তাকিয়ে হাসতেন। কিছুক্ষণ পর পরই মা তার হ্যাটের কৌণিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখতেন, তার ঢিলা মোজা জোড়া নিচের দিকে নেমে যায় কি না দেখতেন এবং তার গলায় পরা পাতলা একটা মালার সঙ্গে মেরি মাতার ছোট সোনার একটা মেডেল পরোখ করে দেখতেন। দু গভার্নমেন্টে থেকে রিউ বাব আজুন পর্যন্ত পথটুকু জ্যাক তাদের দুজনের সঙ্গে বছরে একবার পাড়ি দিত। মা সেদিন একটা লোশন ব্যবহার করতেন? জ্যাক মায়ের গায়ের লোশনের সুগন্ধ নিতে নিতে হাঁটত। নানি মাথা উচু করে গর্বভরা পদক্ষেপে এগিয়ে যেতেন। পায়ে ব্যথা লাগছে বলে মা কিছু বললে নানি তাকে বকুনি দিয়ে বলতেন, কষ্ট হলেও তার বয়সের তুলনায় ছোট জুতা পড়ার অভ্যাসটা হয়ে যাচ্ছে আপাতত। তখন জ্যাক আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে দুপাশের দোকানপাট এমনকি দোকানিদেরও দেখিয়ে দিত নানি এবং মাকে। বুঝাতে চাইত, তার জীবনে এইসব চাকচিক্য এসেছে তার লিসেতে পড়াশোনা করার কল্যাণে। লিসেতে পৌঁছে দেখতে পেত বিশাল দরজা খোলা। সিঁড়ির উপর থেকে একেবারে নিচ পর্যন্ত টবের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। যেসব ছাত্র প্রথম ভর্তি হয়েছে তাদের বাবা মায়েরা প্রথম বারের মতো ওই সিঁড়ি দিয়ে প্রবেশ করবেন। রকমারি পরিবার অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগে এসে উপস্থিত হতো। গরিব লোকেরা সব সময় এ রকম করেই থাকে। কারণ, তাদের সামাজিক দায়দায়িত্ব এবং আনন্দের সুযোগ খুব কমই থাকে। কাজেই যে অল্প সংখ্যক সুযোগ পাওয়া যায় সেখানে যেন অনিয়মানুবর্তিতার ঘটনা না ঘটে। ভেতরের উঠোনের মতো জায়গাটাতে ঢুকে তারা পুরনো ছাত্র এবং অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসে পড়ত। সারি সারি সুসজ্জিত অনেক চেয়ার। চেয়ারগুলো ভাড়া করা হতো নাচ এবং গানের অনুষ্ঠানের আয়োজক একটা প্রতিষ্ঠান থেকে। ঊঠোনের অন্য প্রান্তে বিশাল ঘড়িটার নিচে উঁচু জায়গার সবটুকু ফাঁকা জায়গা ভরে থাকত সাধারণ চেয়ার এবং হাতলঅলা চেয়ারে। ওই জায়গাটাও জাকজমকপূর্ণভাবে সাজানো থাকত সবুজ গাছপালার টব দিয়ে। আস্তে আস্তে বসার পুরো জায়গাটাই ভরে উঠত। বিচিত্র রকমের হালকা রঙের পোশাক পরা মানুষ, তাদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। যারা আগে আসত তারা গাছের ছায়ার নিচে জায়গা নিয়ে বসত। অন্যরা আরব দেশের তৈরি বিনুনি করা খড়ের সঙ্গে প্রান্তভাগে লাল পশমী সুতোর টাসেলঅলা পাখা দিয়ে নিজেদের বাতাস করত। শ্রোতাদের যারা রোদে বসতে বাধ্য হতো তাদের মাথার উপরের সূর্য নীলাকাশটা আরও বেশি নীল করে জমাট বাধিয়ে দিতে থাকত আর নিচের দর্শকরা ভাজা এবং সিদ্ধ হতে থাকত।

চলবে...

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

 

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো