শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান

তবে সবচেয়ে আনন্দ হতো প্রবল বাতাসের দিনগুলোতে। পার্কমুখী দালানটা শেষ হয়েছিল এক সময়ের একটা উঁচু চত্বরের গায়ে। আগে হয়ত চত্বরের চারপাশে পাথরের রেলিং দেওয়া ছিল। এখন সেগুলো সিমেন্টের উপরে লাল টালি বিছানো পৈঠার সামনে ঘাসের মধ্যে পড়ে আছে। তিন দিক খোলা চত্বরে দাঁড়ালে পার্কসহ পার্কের বাইরেও দৃষ্টি চলে যেত। একটা গিরিখাত সাহেলের একটা সমতলভূমি থেকে কুবার পাহাড়ি অঞ্চলকে বিছিন্ন করেছে।

আলজিয়ার্সের পূবের হাওয়া সব সময়ই খুব প্রবলভাবে বয়ে যেত। সেই হাওয়া শুরু হলে চত্বরের উপর দিয়ে চাবুক মারতে মারতে চলে যেত। বাচ্চারা বাতাসের তোড়ে বড় বড় তালগাছের সঙ্গে বাড়ি খেত। তালগাছগুলোর চারপাশে ছড়ানো ছিটানো থাকত অনেক দিনের শুকনো তালগাছের বড় বড় ডাল। তারা ডালের গায়ের কাঁটাগুলো কেটে মসৃণ করে রাখত যাতে দুহাতে ধরে রাখতে পারে। তারপর নিজেদের পেছনে ডালগুলো ধরে বাতাসের তোড়ে চত্বরের দিকে এগিয়ে যেত। প্রবল বাতাস ইউক্যালিপটাস গাছের উঁচু ডালে বাড়ি মারত আর শোঁ শোঁ শব্দ তৈরি হত। বাতাস তালগাছগুলোর মাথা এলোমেলো করে দিত এবং রাবার গাছের ডালে প্রবল বেগে বাড়ি মারলে মচমচ শব্দ তৈরি হত। তালগাছের ডালগুলো উঁচু করে বাতাসের ধাক্কায় চত্বরে উঠে আসার খেলার একটা বুদ্ধি কাজে লাগাত তারা। বাতাসের ধাক্কায় ডালগুলো পেছন থেকে তাদের গায়ের সঙ্গে লেগে যেত। খুব কাছে থেকে তারা শুকনো ডালগুলোর গায়ে নাক লাগিয়ে ধুলি আর শুকনো পাতার গন্ধ নিত। ডালগুলো উঁচু করে ধরে বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কে কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে সেই চেষ্টা করত। যে সবার আগে হাতে ধরা ডালটা নিয়ে চত্বরে পৌঁছতে পারত সে হত বিজয়ী। তারপর সে ওখানে দাঁড়িয়ে ডালটা উঁচু করে ধরে প্রবল বাতাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে যেত। পার্কের ধারে, গাছপালা বোঝাই সমতলভূমির সামনে এবং দ্রুত ধাবমান মেঘভরা আকাশের নিচে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে, জ্যাক সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করত দূর থেকে বয়ে আসা বাতাস। উপরের দিক থেকে বাতাস নেমে এসে গাছপালার ডালগুলোকে বাড়ি মারত আর জ্যাকের শরীরে বাতাসের ছোঁয়ায় প্রবল শক্তি তৈরি হত। আনন্দে অবিরাম চিৎকার করতে থাকত সে। এক সময় বাতাসের কাছে হার মেনে হাতে ধরা ডালটা সে ছেড়ে দিত। বাতাস ডালটাসহ তার চিৎকারকে দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যেত। বিকেল বেলা এরকম খেলা থেকে ফিরে রাতে যখন হালকা ঘুমন্ত মায়ের বিছানার পাশের বিছানায় ক্লান্তশ্রান্ত হয়ে শুয়ে চুপচাপ পড়ে থাকত তখনও যেন সে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পেত। মনে হত, আজীবন সেই অনুভূতি বয়ে বেড়াবে মনের কোণে।

বৃহস্পতিবারে জ্যাক এবং পিয়েরে পাবলিক লাইব্রেরিতেও যেত। হাতের কাছে যেকোনো ধরনের বই পেলেই জ্যাক গোগ্রাসে গেলার মতো করে পড়ে ফেলত। বেঁচে থাকার জন্য, খেলাধুলার জন্য এবং স্বপ্ন দেখার জন্য যে রকম ক্ষুধা ছিল তার মনে সে রকম ক্ষুধা নিয়েই বইপত্র হজম করত সে। তবে পড়াশোনার কারণে সে একটা নিষ্পাপ জগতে প্রবেশ করতে পারত। সে জগতে দারিদ্র এবং ধন-সম্পদ একই রকমের আন্দদায়ক ছিল। কারণ দুটোই ছিল চরমভাবে কাল্পনিক। লা ইন্ট্রেপিডে ছিল ছবিতে ভরা কাহিনীর সিরিজ। তারা সব বন্ধু ওই বইটা একজনের পড়া হয়ে গেলে তার হাত থেকে নিয়ে আরেকজন পড়ত। এভাবে পড়তে পড়তে তারা বইটার মলাটের বাঁধাই ক্ষয় করে ধূসর বানিয়ে ফেলে। পৃষ্ঠার কোণাগুলো ভাঁজ হয়ে ছিঁড়ে যায়। ওই বইটাই তাকে কমেডি কিংবা বীরত্বপূর্ণ জগতে নিয়ে যায়। সেখানেই তার আনন্দ এবং সাহসের পরিতৃপ্তি খুঁজে পায়। তারা গোয়েন্দা কাহিনীগুলো যেভাবে হজম করতে পেরেছিল এবং পারদাইলানের চরিত্রগুলোকে যেভাবে বাস্তবের প্রাত্যহিক জগতের মাঝে স্থাপন করেছিল তাতে সহজেই বলা যায়, তাদের দুজনের মধ্যেই বীরত্ব এবং বড়াইয়ের ভাব খুব প্রবল ছিল। তাদের প্রিয় লেখক ছিলেন মিশেল জেভাকো এবং তাদের প্রিয় জগৎ ছিল রেনেসাঁর সময়ের জগৎ, বিশেষ করে ইতালির। রোম কিংবা ফ্লোরেন্সের রাজপ্রাসাদের কিংবা পোপের জৌলুসপূর্ণ সময়ের পটভূমিতে লিখিত তরবারির এবং বিষের ব্যবহার থাকত ওইসব কাহিনীতে। তারা নিজেদের ওই চরিত্রদের মতোই অভিজাত মনে করত। ধূলিভরা যে রাস্তার কাছে পিয়েরে থাকত সে রাস্তায় প্রায়ই তাদের দুজনকে দেখা যেত একজন আরেকজনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে কিংবা উচ্চ বেগে ময়লার ঝুড়িগুলোর মাঝে দ্বন্দ্বযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তাদের আঙুলে দীর্ঘস্থায়ী দাগ পড়ে যেত। অন্য কোনো ধরনের বই তাদের আয়ত্বে ছিল না বললেই চলে। কারণ আশপাশের লোকেরা পড়াশোনার অভ্যাসের মধ্যেই ছিল না। যাদের পড়ার অভ্যাস ছিল তারাও নিজেরা বই কিনতে পারত না বললেই চলে। কালে ভদ্রে যদি কিনেই থাকত তাহলে দোকানে পড়ে থাকা সস্তা পুরনো বই ছাড়া অন্য কোনো ধরনের বই কিনতে পারত না।

তবে তারা যখন লিসেতে পড়াশোনা শুরু করে সে সময়েই তাদের এলাকায় একটা পাবলিক লাইব্রেরি চালু হয়। আলজিয়ার্সে দ্রুত বাড়তে পারে এমন সুবাসওয়ালা বৃক্ষ-ঘেরা বাড়িগুলোর অপেক্ষাকৃত অভিজাত এলাকার শুরু এবং জ্যাকের বাড়ির মাঝখানের রাস্তায় ওই লাইব্রেরিটা তৈরি হয়েছিল। সেইন্টে ওডিলে নামের একটা ধমীয় বোর্ডিং স্কুলের চারপাশে ছিল উদ্যানসোভিত ওইসব বাড়ি। ওই স্কুলটাতে শুধু মেয়েদের ভর্তি করা হত। ওই এলাকাটা তাদের বাড়ি থেকে খুব কাছে হলেও তাদের জন্য দূরের ছিল এবং ওখানেই তাদের গভীর আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ হয়। তাদের এলাকাটা ছিল ধূলিময়, গাছপালাহীন। ফাঁকা জায়গা বলতে যা ছিল তার সবখানিই খরচ হয়ে গিয়েছিল মানুষ আর বসত বাড়ির দখলে। অন্য দিকে পাশের এলাকাটা গাছপালা আর ফলমুলের বিলাসবহুল সমারোহে ভরা। ওই দুই জগতের মাঝে বিভাজন হিসেবে ছিল প্রশস্ত প্রধান সড়ক এবং তার দুপাশে রোপিত বড় বড় গাছপালা। বিভাজনরেখার এক পাশে সারি সারি উদ্যানশোভিত বাড়ি। অন্য পাশে কম খরচে তৈরি বাড়িঘর। পাবলিক লাইব্রেরিটা ছিল ওই দুই এলাকার সীমান্তে অবস্থিত।

লাইব্রেরিটা বৃহস্পতিবারসহ সপ্তাহে তিন বার খোলা থাকত, কাজের শেষে সন্ধ্যায় এবং সকালে। অনাকর্ষণীয় চেহারার একজন শিক্ষক সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা স্বেচ্ছায় উপস্থিত থেকে কাজ করতেন। কাঠের একটা সাদা লম্বা টেবিলে বসে তিনি বই ধার দেওয়া ফেরত নেওয়ার কাজ করতেন। লাইব্রেরি ঘরটা বর্গাকার এবং এর দেয়াল সাদা তাক আর কালো মলাটে বাঁধানো বইয়ে পরিপূর্ণ। চারপাশে কয়েকটা চেয়ারওয়ালা একটা ছোট টেবিলও ছিল। যাদের খুব দ্রুত কোনো অভিধানের দরকার হত তাদের জন্য ছিল ওই টেবিলটা। কারণ লাইব্রেরিটা মূলত বই ধার দিত পাঠকদের। বর্ণনাক্রমিক কার্ডের একটা ক্যাটালগও ছিল। তবে জ্যাক এবং পিয়েরে কেউই সে ক্যাটালগের ভেতর কোনো দিন দৃষ্টি ফেলে দেখেনি। তাদের কাজ ছিল বইয়ের নাম দেখে কিংবা মাঝে মধ্যে লেখকের নাম দেখে তাকময় বই খুঁজে বেড়ানো। কাঙ্ক্ষিত বইটা পেয়ে গেলে একটা নীল চিরকুটে সেটার নাম লিখে জমা দিত ধার নেওয়ার জন্য। একটা রশিদ আর সামান্য অর্থের বিনিময়ে বই ধার নেওয়ার মতো সদস্য হওয়া যেত। ভাঁজ করা একটা মোটা কাগজে ধার নেওয়া বইটার নাম লেখা হত। আর দায়িত্বরত ওই শিক্ষকের কাছে একটা খাতা থাকত; সেখানেও বইটার নাম লেখা হত।

লাইব্রেরির বইগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ছিল উপন্যাস। তবে অনেকগুলো বই আলাদা করা ছিল এবং সেগুলো পনের বছরের নিচের বয়সীদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। আর পিয়েরে এবং জ্যাকের সজ্ঞামূলক পদ্ধতিতে যে বইগুলো পড়া বাদ ছিল সেগুলোর মধ্যে কোনো বাছাবাছির ব্যাপার ছিল না। তবে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে হাতের কাছে কোনো কিছু পেয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে খারাপ কোনো পদ্ধতি নয় এবং তাদের দুজনের মতো গোগ্রাসী পাঠক বাছবিচারহীন পড়ার কারণে সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ উভয়কেই গলাধকরণ করেছে। পড়ার পরে সুস্পষ্টভাবে কোনো কিছু মনে আছে কি না সে বিষয়েও তাদের খেয়াল থাকেনি। তবে কোনো শক্তিশালী এবং অদ্ভূত আবেগ সপ্তাহ, মাস এবং বছরব্যাপী তাদের সঙ্গে সঙ্গে থেকেছে এবং স্মৃতি ও গোটা চিত্রকল্পের জগৎ তৈরি করেছে ও লালন করেছে। ওই স্মৃতি এবং চিত্রকল্পগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতার কাছে হার মানেনি কখনও। আর তাদের বাস্তব জীবনও তাদের কাছে কম সন্নিকটস্থ ছিল না। তাদের স্বপ্ন যাপনের মধ্যে যতখানি প্রচণ্ডতা ছিল জীবনযাপনের মধ্যেও তার চেয়ে কম প্রচণ্ডতা ছিল না।

আসলে বইগুলোর মধ্যে উপস্থাপিত কথাগুলো তাদের কাছে বড় ছিল না। লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেই তারা কালো মলাটের বই দেখতে পেত— তা নয়, লাইব্রেরির দরজা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন অদ্ভূত সব জগৎ এবং বহুবিধ দিগন্ত খুলে যেত তাদের সামনে। চিরচেনা ভীড়ভাট্টার জগৎ ছেড়ে তারা চলে যেত অন্যখানে। তাদের কাছে বড় ছিল ওইসব জগৎ আর দিগন্ত। তারপর তাদের দুজনের জন্য দুটো বই বরাদ্দ হয়ে গেলে নিঃশব্দ পায়ে তারা নেমে আসত আসন্ন সন্ধ্যার হালকা আঁধার ঢাকা বিথিকার নিচে। ঘন ডালপালাঅলা গাছের নিচে পড়ে থাকা পাকা ফল বেখেয়ালে পায়ের তলায় পিষে ফেলে তারা হিসাব কষতে কষতে যেত কতটা আনন্দ পাবে নতুন বই থেকে। আগের সপ্তাহের বইয়ের সঙ্গেও তুলনা চলত মূল রাস্তায় ওঠা পর্যন্ত। রাস্তার আলো জ্বলে উঠলে সেই আলোর অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারা নিজ নিজ বই খুলত। দু-একটা টুকরো কথা দেখতে পেত— যেমন, ‘অমুকের শক্তি ছিল অসাধারণ,’ ইত্যাদি। তাতেই তাদের আনন্দময় বিশাল আশা আরও সুবিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ত। খুব তাড়াতাড়িই একজন আরেকজনের কাছ থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ঢুকে পড়ত। জ্যাক খাবার ঘরের টেবিলের উপরের বাতির নিচে পৌঁছেই বই খুলে ফেলত। বাঁধাইয়ের শুকনো আঠার একটা কড়া গন্ধ নাকে লাগত। অমসৃণ বাধাইয়ের খসখসে ছোঁয়াও লাগত হাতে।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো