শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান

তবে ক্যাবিল রাখাল তার পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে সূর্যের আলো বেয়ে ওঠা দেখে। সে আলো পর্বতকে ক্ষয় করেও দেয়। দীর্ঘ সমুদ্র ভ্রমণের পর যে উত্তর এলাকা থেকে তারা এসেছে সেদিকের স্বপ্ন মাখা দৃষ্টিতে সারসদের চলে যাওয়া দেখে সে। সারাদিন হয়তো তার স্বপ্ন দেখা চলে।

তবে সন্ধ্যা হলে এখনো সে বাকল-পাতা শোভিত খাবারের দিকে চলে যায়। লম্বা পোশাক পরা মানুষদের পরিবারের দিকে যায়। হতভাগাদের দিকে চলে যায়— তাদের কাছেই তার শিকড়। একই রকমভাবে জ্যাক বুর্জোয়া ঐতিহ্যের উপাচারের দ্বারাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তবে তার আনুগত্য সবদিক থেকে ঠিক তারই মতো একজন অর্থাৎ পিয়েরের প্রতিই অটুট থাকে।

রবিবার আর বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল সোয়া ছটায় তার ঘর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গ্রীষ্মের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কিংবা শীতের প্রবল বৃষ্টিতে দৌড়ে যেতে যেতে দেখত, তার ছোট প্রাবার ভিজে স্পঞ্জের মতো হয়ে গেছে। পানির ফোয়ারার কাছে পৌঁছে পিয়েরেদের রাস্তায় ঢুকে পড়ত। দৌড়ের উপরেই দোতলায় উঠে আস্তে করে দরজায় টোকা দিত। পিয়েরের মা দরজা খুলে দিতেন। তিনি সুঠাম দেহের সুন্দর চেহারার একজন মহিলা ছিলেন। দরজা দিয়ে সোজা এগিয়ে গেলে দুচারটে আসবাবে সাজানো খাবার ঘর। খাবার ঘরের দুপাশেই দুটো দরজা। একটা পিয়েরে এবং তার মায়ের শোয়ার ঘরের, আরেকটা তার দুজন মামার শোয়ার ঘরের দরজা। মামাদের চেহারা কর্কশ দেখালেও তারা বেশ হাসিখুশি ছিলেন, তবে কথা খুব কম বলতেন তারা। খাবার ঘরের ডানপাশটাতে আবছা অন্ধকার ঘরটা রান্নাঘর এবং গোসলখানা। পিয়েরে ঘুম থেকে সব সময়ই দেরি করে উঠত। উঠে এসে বসত অয়েল ক্লথ বিছানো টেবিলে। শীতের দিন হলে কেরোসিনের কুপি জ্বলত। দুহাত দিয়ে বড় একটা চকচকে মাটির তৈরি বাটি ধরে মায়ের সদ্য তৈরি করা কফিতে মুখ না পুড়িয়ে চুমুক দেওয়ার চেষ্টা করত পিয়েরে। তার মা বলতেন, ফুঁ দিয়ে জুড়িয়ে খাও। পিয়েরে ফুঁ দিয়ে একেক চুমুকে অল্প একটুখানি কফি পান করে জিহ্বা চাটাচাটি করত। সামনে দাঁড়ানো জ্যাক পিয়েরের কফি পান করা দেখতে দেখতে নিজের শরীরের ভর এক পা থেকে আরেক পায়ে স্থানান্তর করত। কফি শেষ করে আবার পিয়েরেকে যেতে হতো মোমবাতি জ্বালানো রান্নাঘরের ভেতর। সেখানে এক গ্লাস পানি এবং একপ্রান্তে পেস্ট জড়ানো দাঁত মাজার একটা ব্রাশ তার জন্য অপেক্ষা করত। তার আবার দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়ার রোগ ছিল। ছোট প্রাবার এবং ক্যাপ পরে নিয়ে স্কুলের ঝোলাটা তুলে নিয়ে পিয়েরে দাঁত মাজতে যেত। বেশ সময় নিয়ে সজোরে মাজতে থাকত। তারপর শব্দ করে থুথু ফেলত সিঙ্কের ভেতর। পেস্টের ওষুধের গন্ধ মিশে যেত কফির স্বাদের সঙ্গে। জ্যাক অধৈর্য হয়ে বিরক্তি প্রকাশ করত। কেননা ভালো বন্ধুত্বের জন্য এরকম দু-একটু কপট রাগ দেখানোর দরকার থাকে। তারপর দুজনে নীরবে সিঁড়ি বেয়ে রাস্তায় নামত। ট্রলিবাসের স্টেশন পর্যন্ত দুজনের মধ্যে আপাতত হাসি বিনিময় বন্ধ থাকত। তবে অন্য সময় একে অন্যকে ধাওয়া করতে করতে হাসাহাসি করত। কিংবা দৌড়ানোর সময় স্কুলব্যাগ রাগবি বলের মতো করে সামনে পেছনে চালান দিতে থাকত। বাসস্টপে পৌঁছে লাল ট্রলিবাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকত। এরপর বাসের দুতিনজন লোকের সঙ্গে তাদের যাত্রা শুরু হতো।

তারা সব সময় ট্রাক্টরে টানা গাড়িদুটো অপছন্দ করত এবং মোটরগাড়ির সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। সে কাজটা অবশ্য বেশ কঠিন ছিল। কারণ ট্রলিবাসটা ডাউনটাউনের উদ্দেশে ওঠা শ্রমিকদের ভিড়ে ঠাসা থাকত এবং তাদের নিজেদের কাঁধের স্কুল ব্যাগের কারণে সামনে এগুনো যেত না।

গাড়ি কিছুদূর এগিয়ে গেলে সামনের যাত্রীরা নেমে গেলে সে জায়গা দখল করার চেষ্টা করত তারা যাতে চালকের লোহার এবং কাচের ক্যাব এবং উঁচু সরু নিয়ন্ত্রকের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়। সেটার সমতল মাথার উপরে চক্রাকারে ঘুরত ইস্পাতের তৈরি খাঁজ ওয়ালা একটা গিয়ারশিফ্টের হাতল।। সেটা দিয়ে গিয়ারের নিষ্ক্রিয় অবস্থা বোঝাত। আর তিনটা চিহ্ন দিয়ে গিয়ারের সামনের গতি বুঝাত এবং পঞ্চমটা দিয়ে বুঝাত উল্টো গিয়ার। মোটরগাড়ির লোকদের শুধু গিয়ারশিফ্ট ছুঁয়ে কাজ করার অধিকার ছিল বলে বাচ্চাদের চোখে তারা ছিল নরদেবতার মতো। এই মর্যাদা তারা বেশ উপভোগ করত বোঝা যেত। আর মাথার উপরে চিহ্নের সাহায্যে বুঝিয়ে দেওয়া হতো, তাদের সঙ্গে বাচ্চাদের কথা বলা নিষেধ। তাদের পোশাক ছিল প্রায় সামরিক কায়দার— চামড়ার চুরাওয়ালা ক্যাপ মাথায়, শুধু আরব চালকরা পরত কিনারাবিহীন টুপি। তাদের চেহারা অনুযায়ী বাচ্চারা তাদের আলাদা করে দেখত। বাচ্চারা তাদের জন্য বিভিন্ন নাম ব্যবহার করত— হালকা কাঁধ ওয়ালা নেতৃস্থানীয় একজনকে তারা বলত ‘সুন্দর ছোট মিয়া’। মোটাসোটা গঠনের আরেকজন আরব চালকের নাম ছিল ‘সাদা ভালুক’, সে সব সময় শুধু সামনের দিকেই তাকিয়ে থাকত। আরেকজন ইতালীয় চালক ছিল—তার ম্যাড়মেড়ে মুখমণ্ডল জুড়ে স্বচ্ছ বলতে ছিল একজোড়া চোখ। সব সময় গিয়ারশিফ্টের উপর ঝুঁকে থাকত সে। তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘জন্তুর বন্ধু’। কারণ একবার সে একটা অন্যমনস্ক কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রলিবাসটাকে প্রায় থামিয়ে দিয়েছিল। আরেকবার একটা কুকুর উদাসীনভাবে রেইলের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছিল দেখে সেটাকেও বাঁচিয়ে দিয়েছিল সে। ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কসের মতো গোঁফ এবং ছোটখাটো মুখওয়ালা লম্বা আরেকজনের নাম দিয়েছিল তারা ‘জোরো’।

জন্তুর বন্ধুকে তারা সত্যিকার অর্থে হৃদয় দিয়ে পছন্দ করত। তবে তাদের প্রশংসা ছিল বাদামী ভালুকের জন্য। কারণ পায়ের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে নির্বিকার চিত্তে তার শব্দ করে চলা গাড়িটা ঝড়ের গতিতে চালাত সে। রাস্তায় গাড়ি ঘোড়ার কমতি দেখলেই বিশাল বাম হাত দিয়ে কাঠের হাতলটা ধরে থার্ড গিয়ারে ঠেলে দিত। ডান হাত গিয়ারবক্সের ডান পাশে বিরাট ব্রেকহুইলের উপর পাহারারত থাকত। গিয়ারশিফ্ট নিষ্ক্রিয় রেখে চাকায় কয়েকবার জোরে চাপ দিয়ে এমনভাবে চালাত যে গাড়ি যেন লাফ দিয়ে দিয়ে এগিয়ে যেত। কোনো বাঁক কিংবা সুইচের উপরে গাড়ির ছাদের খাড়া স্প্রিংয়ের সঙ্গে লাগানো ট্রলিপোল মাথার উপরের বৈদ্যুতিক তার পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। একটা ফাঁকা প্রান্তের সঙ্গে লাগানো ছোট একটা চাকা, সে চাকার সঙ্গে সংযোগ থাকত তারের। তারে বাড়ি লেগে গাড়ি সজোরে ঝাঁকি খেয়ে থেমে গেলে ফুলকি ছুটত। কনডাক্টার গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ে লম্বা ট্রলিক্যাচার তার তুলে ট্রলিপোলের প্রান্তের সঙ্গে সংযোগ করে দিত। গাড়ির পেছনের দিকে একটা লোহার বাক্স থেকে তার প্যাঁচ খুলে একাই বের হয়ে আসত। ইস্পাতের স্প্রিংয়ের শক্তি সবলে ঠেকিয়ে ট্রলিপোল আস্তে আস্তে উপরের দিকে তুলে আনত সে। তারপর তার আরেকবার চাকার প্রান্তের ফাঁকায় ঢুকিয়ে দিত। এসব কাজ করত সে ছুটন্ত ফুলকির মধ্যেই। গাড়ির বাইরের দিকে ঝুঁকে কিংবা শীতকাল হলে জানালার সঙ্গে নাক লাগিয়ে বাচ্চারা কনডাক্টারের কাজকর্ম দেখত। ঠিকমতো শেষ হয়ে গেলে চালকের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ থাকলেও তারা ফিসফিস করে তাকে জানানোর চেষ্টা করত। তবে নিয়মানুযায়ী কনডাক্টর তাকে সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত বাদামী ভালুক নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে থাকত। গাড়ির পেছনে ঝুলন্ত দড়ি তুলে এবং সামনের দিকের একটা বেল বাজিয়ে কনডাক্টার তাকে সংকেত দিত। আর কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই তখন বাদামী ভালুক গাড়িটা সামনের দিকে সচল করে দিত। গাড়ির সামনের দিকে ভিড় করে বাচ্চারা গাড়ির নিচে এবং উপর দিয়ে ধাতব লাইনগুলোর পেছনের দিকে দ্রুত সরে যাওয়া দেখত। বৃষ্টি কিংবা ঝলমলে রোদের সকালে ট্রলিবাস যখন দ্রুত গতিতে চলার সময় কোনো ঘোড়ায়টানা গাড়ি পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেত কিংবা দ্রুত ধাবমান কোনো অটোমোবাইলের সঙ্গে কিছুটা সময় সমানতালে এগিয়ে যেত তখন তারা আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ত। প্রতি স্টপেজে ট্রলিবাস আরব এবং ফরাসি শ্রমিকদের নামাতে থাকত। ডাউনটাউনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে যাত্রীদের কারো কারো পোশাকের কেতাও জেল্লাদার হতো। আবার বেলের শব্দে যাত্রা শুরু হতো। শহরের আধাবৃত্তাকার এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে এভাবেই তাদের ভ্রমণ চলত। তারপর হঠাৎ চোখের সামনে চলে আসত উপসাগরের বিশাল ফাঁকা এলাকার সামনের বন্দরের ছবি। উপসাগরের বিস্তৃতি ছিল দিগন্তের কাছে অবস্থিত নীল পাহাড়ের গা পর্যন্ত। আরও তিন স্টপেজের পর লাইনের শেষে ডু গুভার্নমেন্টের কাছে এলে বাচ্চারা নেমে পড়ত। ওই চত্বরের তিন দিকে গাছপালা আর খিলানঢাকা দালানকোঠা; সামনের খোলা মুখের দিকে সাদা মসজিদ এবং তার উপরেই বন্দরের খোলা পরিসর। চত্বরের মাঝখানে সামনের দুপা উপরে তোলা ঘোড়ার উপরে অরলিন্সের ডিউকের মূর্তি। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির নিচে সবটাই তাম্রমলে ঢাকা পড়ে যেত। বৃষ্টির সময় কালো হয়ে যাওয়া তামার গা বেয়ে জল গড়াত। বাচ্চারা ঘোড়াটার ওই চেহারা দেখে খুব সঙ্গত একটা গল্প ফেদে বসত। ভাস্কর মশাই নিশ্চয়ই ঘোড়ার অন্যান্য সাজসরঞ্জামের সঙ্গে লাগাম পড়াতে ভুলে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃষ্টির পানি ঘোড়টার লেজ বেয়ে অবিরত ঘের দেওয়া ছোট বাগানের দিকে গড়াত। চত্বরের বাকি অংশ জুড়ে সবখানে পাকা করার সুরকি ছিটানো ছিল। বাস থেকে নেমে লাফাতে লাফাতে ওইসব সুরকির টুকরো তুলে ছুড়তে ছুড়তে তারা বাব আজুনের দিকে পথ ধরত। পাঁচ মিনিট হাঁটলেই লিসে পেয়ে যেত তারা।

চলবে……

আগের পর্বগুলো পড়ুন

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

 

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের