শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব-৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সে বছর অক্টোবরের ১ তারিখে নতুন মোটা জুতা পরে টলোমলো পায়ে, খসখসে নতুন জামা পরে, বার্নিস আর চামড়ার গন্ধভরা ভারী ব্যাগ কাঁধে নুয়ে পড়ে যখন জ্যাক সামনে তাকাল দেখতে পেল, তার সামনে পিয়েরে এবং পিয়েরের সামনে বাঁকানো পিঠের চালক প্রথম গিয়ারের পাশে বসছে। ভারী মোটরযানটা বেলকোর্ট স্টপেজ পার হয়ে যাচ্ছে।

জ্যাক পেছনে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে। তখন তার মা আর নানি কয়েক মিটার দূরে জানালার সঙ্গে হেলান দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। রহস্যময় ওই লিসের দিকে প্রথম যাত্রার সময় তাকে আরেকটু সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু জ্যাক তাদের ভালো করে দেখতে পেল না। কারণ তার সামনের লোকটা লা দিপিসে আলজিরিয়েনে পত্রিকার ভেতরের পাতা পড়ায় ব্যস্ত। সুতরাং সে সামনের দিকে ঘুরে দেখতে পেল, স্টিলের রেইলগুলো দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছে, সেগুলোর উপরের ট্রলির তারগুলো সকালের ঠাণ্ডা হাওয়ার কাঁপছে।

বাড়ির দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে জ্যাক অনুভব করল, তার হৃদয়টা কেমন থমথমে হয়ে আছে। নিজের পাড়ার এই এলাকাটা ছেড়ে কখনও দূরে কোথাও যায়নি সে। বড়জোর শহরতলিতে গেলেও তারা বলত আলজিয়ার্সে যাচ্ছে। পিয়েরের ভ্রাতৃসুলভ কাঁধটা তার কাঁধের সঙ্গে লেগে আছে। তবু মনের আশঙ্কা দূর হচ্ছে না। নতুন জগত সম্পর্কে একাকীত্ব আর অস্বস্তির বোধটা লেগে আছে। নতুন জায়গায় কার সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে জানা নেই তার।

আসলে উপদেশ দেওয়ার মতো কেউ তাদের ছিলও না। পিয়েরে এবং সে খুব তাড়াতাড়িই বুঝতে পারে, এখন তাদের নিজের মতো চলতে শিখতে হবে। এম বার্নার্ডকে জিজ্ঞেস করার মতো সাহসও তাদের হয়নি। কারণ লিসে সম্পর্কে তার নিজের কোনো কিছু জানা না থাকার কারণে তিনিও কিছু বলতে পারতেন না। আর বাড়িতে সবার মধ্যে অজ্ঞতার তো কোনো শেষ নেই।

জ্যাকের পরিবারের সবার কাছে ল্যাটিন বলে যে শব্দটা আছে তার কোনো অর্থই নেই। তাদের কাছে কল্পনায় প্রাচীনকাল বলতে যা বোঝায় সেটাই শুধু পরিষ্কার। কারণ তাদের মধ্যে কেউ ফরাসি ভাষাও বলতে পারে না। তাদের কাছে সভ্যতা কথাটারও কোনো অর্থ নেই। ভাষা আর আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সভ্যতার ভেতরের মানুষরা একে অন্যের সঙ্গে এগিয়েছে সেরকম কোনো সত্য তাদের কাছে পৌঁছেনি। দৈনন্দিন কথাবার্তার মধ্য দিয়ে অর্জিত কোনো চিত্রকল্প, লিখিত কোনো জিনিস, মুখের কোনো কথা কিংবা সংস্কৃতির কোনো প্রলেপ— কোনোটাই তাদের কাছে পৌঁছেনি। বড় হয়ে জ্যাক কিনে নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত তাদের বাড়িতে কোনো খবরের কাগজ আসত না। কোনো বইপত্র ছিল না। রেডিও ছিল না। সরাসরি কাজে লাগে এমন জিনিস ছাড়া আর কিছুই ছিল না তাদের বাড়িতে। নিকট আত্মীয়রা ছাড়া আর কেউ তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসত না। তাদের পর্যায়ের নিকট আত্মীয় ছাড়া তারাও অন্য কোথাও বেড়াতে যেত না। লিসে থেকে জ্যাক কিছু নিয়ে এলে বাড়ির অন্যরা সেটার কোনো অর্থ বুঝতে পারত না। সুতরাং সবার সঙ্গে তার দূরত্বও বাড়তে থাকে। লিসেতেও জ্যাক তার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলতে পারত না। পরিবারের অদ্ভূত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মুখে কিছু না বলতে পারলেও সে ভেতরে ভেতরে ঠিকই বুঝতে পারত। এমন কি ওই দুর্লঙ্ঘ স্বল্পভাষিতাকে জয় করতে পারলেও পরিবারের বিষয়ে তার ঠোঁট যেন আটকা পড়েই থাকত।

যে জিনিসটা তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল সেটা আসলে শ্রেণিগত পার্থক্য নয়। কল্পনা, দ্রুত সম্পদলাভ এবং নয়নাভিরাম পতনের এই দেশে শ্রেণিবৈষম্য ততটা সুস্পষ্ট ছিল না যতটা ছিল জাতিবৈষম্য। তাদের মধ্যে যারা আরবদের সন্তান তাদের অনুভূতি ছিল অন্যদের চেয়ে বেশি তিক্ত এবং বেদনাদায়ক। যদিও তাদের ক্লাসের বন্ধুদের অনেকেই আরব বংশোদ্ভূত ছিল লিসেতে তাদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। আর লিসেতে যারা আরব বংশের ছিল তারা প্রায় সবাই ছিল ধনী এবং নামকরা পরিবারের। ওখানে পিয়েরের অবস্থান থেকে জ্যাকের অবস্থানও আলাদা ছিল। কারণ তাদের পরিবারের অদ্ভূত পরিচিতি আরও বেশি প্রকট ছিল। প্রচলিত মূল্যবোধ আর গতানুগতিকতার সঙ্গে তার পরিবারকে মেলানো তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। বছরের শুরুতে যে সব প্রশ্নের জবাব দিতে হতো সেগুলোর উত্তরে সে অবশ্য বলতে সক্ষম হয়েছিল, তার বাবা যুদ্ধে মারা গেছেন। সমাজে সেটা অবশ্য একটা মর্যাদার ব্যাপারই ছিল এবং সে সবাইকে বুঝিয়ে দিতে পারত, সে আসলে জাতির ছাত্র। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় আরও পরে। ছাপার একটা ফরম পুরণ করতে দেওয়া হয় তাদের। সেখানে একটা জায়গায় পিতামাতার পেশা বলে একটা জায়গা পূরণ করতে গিয়ে কী লিখবে বুঝতে পারে না জ্যাক। মায়ের পেশা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রথমে জ্যাক লিখল ‘গৃহিনী’। আর পিয়েরে লিখল ‘পোস্ট অফিসের কর্মচারী’। পিয়েরে বুঝিয়ে বলল, গৃহিনী কোনো পেশার নাম হয় না; এতে বুঝায় তিনি নিজের বাড়িঘর দেখা শোনা করেন এবং নিজের বাড়ির কাজ করেন।

জ্যাক বলল, না। মা তো অন্য লোকের বাড়ির কাজ করেন, বিশেষ করে রাস্তার ওপারের দোকানদারের বাড়ির কাজ।
কিছুটা দ্বিধা নিয়ে পিয়েরে বলল, ঠিক আছে; তাহলে লিখতে পারো ‘গৃহকর্মী’।

এই কথাটা জ্যাকের মনেই আসেনি কখনও। কারণ তাদের বাড়িতে এই বিরল শব্দটা ব্যবহার করা হয়নি। কাজেই বাড়ির কারো মনেই হয়নি, তার মা অন্য লোকের বাড়িতে কাজ করছেন। তাদের মনে হয়েছে, তিনি প্রথমত তার সন্তানদের জন্য কাজ করছেন। জ্যাক প্রথমে ওই শব্দটাই লিখতে শুরু করল, তারপর থেমে গেল। হঠাৎ করেই লজ্জা কাকে বলে উপলব্ধি করতে পারল। লজ্জিত হওয়ার লজ্জা অনুভব করল জ্যাক।

কোনো শিশু তার নিজের পরিচয়ে পরিচিত নয়। তার বাবা মায়ের পরিচয়ে পরিচিত। তাদের মাধ্যমেই সে পৃথিবীর কাছে সংজ্ঞায়িত হয়ে থাকে। জ্যাকের মনে হতে থাকে, বাবা মায়ের মাধ্যমেই তার সত্যিকারের মূল্যায়ন হয়ে থাকে। এরকম মূল্যায়ন বিচারের মতো মনে হয়। সে বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো রকম আবেদন করার সুযোগ থাকে না। চারপাশের জগত এরকম বিচার করতে পারে— এই প্রথম সে জানতে পারে। এই আবিষ্কারের পর তার মনে হতে থাকে, তার নিজের বিচারের সঙ্গে বাইরের জগতের এই বিচারের সাংঘর্ষিক একটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। সে জানতে পারেনি, বড় হয়ে যাওয়ার পরে কেউ যদি এই অশুভ অনুভূতি চিনতে না পারে তাহলে তার দোষের কিছু থাকে না। কারণ বড় হয়ে যাওয়ার পরে পরিবারই তখন তার পরিচয়ে পরিচিত হয়ে থাকে।

কিন্তু জ্যাক ইতোমধ্যে যে সত্য আবিষ্কার করেছে সেটার কষ্ট থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে পবিত্রতার দিক থেকে বিরল এবং বীরত্বপূর্ণ একটা হৃদয় থাকা চাই। তার নিজের স্বভাব সম্পর্কে তার দুর্ভোগ তার কাছে যে সত্য আবিষ্কার করে ফেলেছে সে সত্যের প্রতি লজ্জা এবং ক্ষোভ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে যাওয়াটাই তার জন্য অসম্ভব রকমের এক অপমানের ব্যাপার হয়ে যাবে। এরকম কোনো গুণ তার মধ্যে নেই। বরং তার মধ্যে আছে একটা কঠিন এবং নিম্নস্তরের একগুঁয়েমি। তার ফলে সে ওই ফরমে মায়ের পেশা সম্পর্কে গৃহকর্মী কথাটা কঠিন হাতে লিখতে পারে এবং মনিটরের কাছে নিয়ে যেতে পারে। তবে তিনি জ্যাকের ফরমটার দিকে নজর দিয়েও দেখলেন না। এরকম পরিস্থিতিতে জ্যাকের একটুও মনে হয়নি, তার পরিবারের কিংবা তার নিজের জীবনের কোনো অবস্থা অন্য রকম হলে ভালো হতো। বরং তার মায়ের অবস্থান যেমন আছে তেমনটিই তার সবচেয়ে প্রিয়। জগৎজুড়ে আর কোনো কিছুই তার মায়ের প্রতি ভালোবাসার সমকক্ষ হতে পারে না। হোক না মায়ের প্রতি তার ভালোবাসায় অনেক হতাশা আছে, তাতে কী। তাছাড়া, কোনো শিশু ঈর্ষান্বিত না হয়ে মাঝে মধ্যে লজ্জিত বোধ করতে পারে—সে কথা কী করেই বা পরিষ্কার করে বোঝানো যায়?

চলবে…

আগের পর্বগুলো..

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি