শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব-৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সেই বিস্মৃতিতেই তিনিও ডুবে গেছেন। কোনো রকম শিকড় ছাড়াই শুরু হয়েছিল তাদের জীবন এবং সেই জীবনের পরিণতি ওই বিশাল বিস্মৃতিতে। সময়ের গ্রন্থাগারে হয়তো আছে তাদের মতো কুড়িয়ে পাওয়াদের বসতিস্থাপনের কথা, তাদের দ্বারা গড়ে ওঠা ক্ষণস্থায়ী শহরের কথা। তারা ওইসব ক্ষণস্থায়ী শহর গড়ে তুলেছিল যেন সেখানে নিজেদের মাঝে এবং অন্যদের মাঝে মৃত্যুবরণ করার জন্যই।

মানুষের ইতিহাস যেন পুরনো ভূ-খণ্ডের উপর দিয়ে নিরবধি হেঁটে যায়। খুব বেশি স্পষ্ট পদচিহ্ন রেখে যায় না। যেটুকু চিহ্ন থাকে সেটুকুও চিরন্তন সূর্যের প্রখর তাপে বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়। যারা ওই ভূখণ্ড তৈরি করেছিল তাদের স্মৃতিও খুন আর ঘৃণার আগুনে পরিণত হয়েছে। তার আকস্মিক প্রকোপের ফলে ঝড়েছে রক্তের ধারা। দ্রুত তৈরি হয়েছে ক্ষত। আবার দ্রুত শুকিয়ে গেছে ঠিক এই দেশের মৌসুমি নদীগুলোর মতোই। এখন রাত নেমে আসছে, যেন সরাসরি মাটির ভেতর থেকে, দেশের বুকের ভেতর থেকে। যেন সব সময়ের আকাশতলে জীবিত মৃত সবকিছু গিলে খাওয়ার জন্য নেমে আসছে এই রাত। না, জ্যাক বাবাকে কখনো জানতে চিনতে পারবে না।

বাবা ঘুমিয়ে আছেন ওখানে, ওই মাটিতে। তার মুখটা ছাইয়ের মধ্যে মিশে গেছে, হারিয়ে গেছে। বাবাকে ঘিরে ছিল একটা রহস্য। সেই রহস্যের ভেতর সে প্রবেশ করতে চেয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, যে রহস্য পাওয়া গেছে সেটা ছিল দারিদ্রের রহস্য। দারিদ্র মানুষকে তৈরি করেছে নামহীন অবস্থায়। সে মানুষের যেন কোনো অতীত নেই। দারিদ্র তাদের সবাইকে ঠেলে দিয়েছে মৃতদের বিশাল ভীড়ের মধ্যে। ওই মৃতরা পৃথিবী তৈরি করেছে; বিনিময়ে নিজেরাই চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেছে। লাব্রাডরে করে যারা দেশান্তরে বের হয়েছিল তাদের নিয়তির সঙ্গে জ্যাকের বাবার নিয়তির এখানেই মিল। সেহেলের মাহুন গোত্রের লোকেরা, উঁচু মালভূমির অ্যালসেসীয়রা ছড়িয়ে পড়েছিল সমুদ্র আর মরুভূমির মাঝের বিশাল দ্বীপাঞ্চলে। পরিচয়হীনতার নীরবতা সেই বিশাল অঞ্চলটা গ্রাস করতে শুরু করে। রক্ত, সাহস, কর্ম আর প্রবৃত্তিও গ্রাস করে ফেলে।

সেই নীরবতা একই সঙ্গে নিষ্ঠুর এবং করুণাময়। আর যে দেশ থেকে, মানুষদের ভীড় থেকে, নামহীন পরিবার থেকে নামহীন অবস্থায় পালাতে চেয়েছিল এবং যার ভেতরে অন্ধকার আর নামহীনতা গজিয়ে উঠেছিল সেও ওই গোত্রেরই একজন হয়ে যায়। সেও ডাক্তারের ডানপাশে থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে রাস্তার মোড়ের উচ্চনাদী সংগীতের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে, বাদন মঞ্চের চারপাশের আরবদের দুর্বোধ্য মুখগুলো আরেকবার দেখতে দেখতে, ভেইলার্ডের হাসি আর কঠিন চাহনির মুখের দিকে তাকিয়ে রাতের মধ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। তার মনে ভেসে ওঠে বোমা পতনের সময় মায়ের মুখের ওপরের মৃত্যু-সদৃশ চেহারা। সেই মুখচ্ছবি তার হৃদয় মিষ্টি আর দুঃখী একটা অনুভূতিতে মোচড়াতে থাকে।

বছরের পর বছর সময়ের ব্যাপ্তি জুড়ে থাকা রাতের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে সে চলে যায় বিস্মৃতির দেশে। সেখানে সবাই প্রথম মানব। সেখানে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়েছে পিতৃহীন অবস্থায়; বাবা নিজের মুখে ছেলেকে ডাক দিলে কী অনুভূতি জাগে, সে মুহূর্ত কেমন তার জানা হয়নি কখনো। অন্যদের কথা বুঝতে পারার বয়স পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করে পরিবারের গোপনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য, কিংবা সুদূর অতীতের কোনো দুঃখ অথবা জীবনের কোনো অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছে সে। এরকমই কোনো মুহূর্তে হাস্যকর পোলোনিয়াম তার কাছে হঠাৎ করে মহান হয়ে ওঠে যেহেতু সে লিয়ারটেসের সঙ্গে কথা বলে। তারপর তার বয়স হয়ে গেল ষোল, এরপর বিশ।

কিন্তু কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেনি। জীবন জগত সম্পর্কে তাকে নিজে জানতে হয়েছে; ধৈর্য ধারণ করে একা একা বড় হতে হয়েছে। নিজের শক্তি বলে নিজের নৈতিক শক্তি আর সত্যকে খুঁজে নিতে হয়েছে। শেষে মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়া এবং অন্যদের সংশ্লিষ্টতায় শিশু হিসেবে কঠিন অবস্থায় জন্ম নেওয়া, এখানকার পুরুষরা যেমন শিকড় ছাড়া এবং বিশ্বাস ছাড়াই বেঁচে থাকতে শেখে তেমনি নারীরাও। চিরন্তন পরিচয়হীনতা এবং পৃথিবীতে নিজের একমাত্র চিহ্ন মুছে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে আজ তারা সবাই। রাত তাদের অস্পষ্ট কবর ফলক ঢেকে দিয়েছে। অন্যদের সংশ্লিষ্টতায় তাদের বেঁচে থাকতে শিখতে হয়েছে। অন্যদের, মানে বিজেতাদের যারা এখন ক্ষমতাবর্জিত হয়ে পড়েছে তাদের সংশ্লিষ্টতায়। এই বিভূঁইয়ে তারাই প্রথম এসেছিল এবং তাদের মধ্যেই বর্তমানের মানুষগুলোকে ভ্রাতৃত্ব, জাতি এবং গন্তব্য খুঁজে নিতে হচ্ছে।

বিমান এখন আলজিয়ার্সের দিকে নেমে যাচ্ছে। সেইন্ট ব্রিউকের ছোট কবরখানার কথা মনে পড়ছে জ্যাকের। ওখানে সৈনিকদের কবরগুলো মনডোভির কবরগুলোর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় রাখা হয়েছে। ভূমধ্যসাগর আমার মনের ভেতরের ভুবন দুভাগে ভাগ করে ফেলছে: এক দিকে স্মৃতি আর নামগুলো পরিমাপমতো জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। অন্য অংশে খোলা প্রান্তরে মানুষের সব চিহ্ন মুছে দিয়ে গেছে বাতাস আর বালির ঝড়। দরিদ্র, অজ্ঞ আর পশুর মতো জীবন থেকে এবং পরিচয়হীনতা থেকে সে পালাতে চেষ্টা করেছে বর্তমানের বাইরে, কোনো চিন্তা নেই যে জীবনে সেই বোবার মতো অন্ধ সহিষ্ণুতার জীবন যাপন করতে সে পারেনি। অনেক দূরে দূরে সে ভ্রমণ করে বেরিয়েছে।

অনেক কিছু তৈরি করার চেষ্টা করেছে, সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। মানুষজনকে ভালোবেসেছে। আবার ছেড়েও এসেছে তাদের। তার জীবন মাঝে মাঝেই ভরপুর হয়ে উপচে পড়েছে। তবু এখন সে অন্তরের অন্তস্থল দিয়ে বুঝতে পেরেছে, সেইন্ট ব্রিউক এবং এর সকল তাৎপর্য তার কাছে যেন কিছুই নয়। একটু আগে ছেড়ে আসা ক্ষয়ে যাওয়া নীল আবরণ ধারণ করা কবরস্থানের কথা তার মনে আসছে। মনে আসছে, মৃত্যু তাকে তার সত্যিকারের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ভাবনাটা মনে আসতে কিছুটা যেন আনন্দের ছোঁয়া অনুভব করে সে। যে মানুষটি সমুদ্র পাড়ের ভাগ্যবাহী দেশে এসে কারো সাহায্য ছাড়াই দারিদ্রের মাঝে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন দেশত্যাগী ওই সাধারণ মানুষটিকে মৃত্যু তার বিশাল বিস্মৃতি দিয়ে তার সব চিহ্ন মুছে দেবে। পৃথিবীর প্রথম সকালের আলোয় একাকী স্মৃতিহীন বিশ্বাসহীন অবস্থায় তার সমসাময়িক মানুষদের জগতে, তাদের ভয়াবহ এবং মর্যাদাসম্পন্ন ইতিহাসে তিনি প্রবেশ করেছিলেন।

চলবে...

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি