শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান

গোথিক রীতিতে তৈরি সেন্ট চার্লসের গির্জার প্রার্থনাকালীন পোশাক রাখার ঘরে ঢুকে নানি একটা চেয়ারে বসে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জ্যাকের হাত ধরে রইলেন। সামনে বসা স্থূল শরীরের পাদ্রীর বয়স ষাট বছরের মতো:  গোলাকার তুলতুলে মুখ, লম্বা নাক, রূপালি রঙের চুলের নিচে মোটা ঠোঁটে তার স্মিত হাসি। হাঁটু পর্যন্ত ছড়িয়ে রাখা আলখাল্লার ওপরে দুহাত একসঙ্গে জড়ো করে ধরা। নানি বললেন, এই ছেলেটার গির্জার ভোজসভায় যোগদানের শিক্ষা দরকার।

পাদ্রী বললেন, খুব ভালো কথা, ম্যাডাম। আমরা ওকে খুব ভালো খ্রিস্টান বানিয়ে দেব। ওর বয়স কত?

নয় বছর।
বেশ অল্প বয়সে ওকে ধর্মীয় শিক্ষাদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি খুব ভালো করেছেন। তিন বছর পরই সে বড় অনুষ্ঠানের জন্য ঠিক ঠিক তৈরি হয়ে যাবে।
নানি বললেন, না, ওকে বাইরে শিখতে হবে।
কিন্তু এখন থেকে এক মাস পরই তো অনুষ্ঠান। আর ওকে বেদীর কাছাকাছি যেতে হলে কমপক্ষে দুবছর ধর্মীয় শিক্ষালাভ করতে হবে।

নানি তাদের অবস্থার কথা খুলে বললেন। কিন্তু পাদ্রীকে বোঝানোই গেল না যে, একই সময়ে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য পড়া আর ধর্মীয় শিক্ষা লাভ জ্যাকের পক্ষে অসম্ভব। খুব ধৈর্য আর কোমলতা দিয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বললেন এবং উদাহরণ দিলেন। তবে নানি উঠে পড়ে বললেন, সেরকম হলে ওর দরকার নেই এই শিক্ষার। আয়রে জ্যাক।

জ্যাকের হাত ধরে তিনি বের হওয়ার পথ ধরলেন।
তবে পাদ্রী উঠে গিয়ে তাড়াতাড়ি তাদের কাছে পৌঁছে বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, ম্যাডাম। একটু অপেক্ষা করুন।
তার কোমল আচরণের সঙ্গে নানি এবং জ্যাককে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। নানিকে আবার তার চেয়ারে বসালেন। এবার যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেন।
কিন্তু নানি বুড়ো খচ্চরের মতো মাথা ঝাঁকাতে লাগলেন, বাইরে গিয়ে যদি ও শিখতে পারে তো হবে, না হলে বাদ।

অবশেষে পাদ্রী মহাশয় পরাজয় মানলেন: সিদ্ধান্ত হলো, জ্যাক এক মাস পরে গির্জার ভোজসভায় যোগ দিতে পারবে; তবে তার আগে তাকে দ্রুত গতিতে ধর্মীয় শিক্ষার একটা কোর্স শেষ করতে হবে। পাদ্রী রাজী হওয়ার ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে তাদের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এলেন। জ্যাকের কপোলে আদর করে দিয়ে তিনি বললেন, তোমাকে যা যা বলা হয় মন দিয়ে শুনবে, ঠিক আছে?

কথা বলার সময় তিনি জ্যাকের দিকে তাকালেন বিষন্ন দৃষ্টিতে।

এম বার্নার্ডের সঙ্গে তার অতিরিক্ত ক্লাসের সঙ্গে যোগ হলো বৃহষ্পতিবার এবং শনিবার বিকেলের ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাসগুলো। গির্জার ভোজসভায় যোগদানের পরীক্ষা আর বৃত্তির পরীক্ষা ক্রমেই ঘনিয়ে আসতে লাগল। তার দিন কাটতে লাগল কাজের বোঝা ঠেলে ঠেলে। খেলাধুলার প্রসঙ্গ শিকেয় উঠল। এমনকি রবিবারের দিনও যখন সে খাতা রেখে একটু অবসরের কথা ভাবতে পারে তখন নানি বাড়ির কাজ আর ফাইফরমাস গছাতে লাগলেন তার ঘাড়ে। তিনি উল্লেখ করতে ছাড়লেন না তার পড়াশোনার জন্য পরিবার ভবিষ্যতেও ত্যাগ স্বীকার করতে রাজী হয়েছে। কেননা পরে আরো অনেক বছর সে হয়তো বাড়ির জন্য কিছুই করবে না।

জ্যাক যুক্তি দেখাল, আমি তো ফেইল করতে পারি। পরীক্ষাটা খুব কঠিন। আসলে সে মনে মনে এরকমটিই চাইতে লাগল মাঝে মাঝে। কারণ পরিবারের লোকজন তার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে সেকথাটা তাকে বার বার শোনানোর কারণে তার কচি মনে অহংবোধের জায়গাটাতে বার বার আঘাত লাগছিল।

নানি তার দিকে বিস্মিত হয়ে তাকালেন। তিনি কখনও সেরকম সম্ভাবনার কথা ভাবেননি। তারপর তিনি বৈপরীত্বের কথা না ভেবেই কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, ঠিক আছে; এগোতে থাক; পারলে ফেইল করেই আসিস। ধর্মীয় দীক্ষাদানের কাজ করতেন দ্বিতীয় পাদ্রী। দীর্ঘদেহী লোকটাকে কালো আলখাল্লায় আরো লম্বা মনে হতো। ভাঙা চোয়াল গর্তের মতো, নাক ঈগলের ঠোঁটের মতো লম্বা, আর বুড়ো পাদ্রী যেমন নরম কোমল স্বভাবের, ইনি ঠিক তার উল্টো: কাঠখোট্টা। তার পাঠদান ছিল মূলত আবৃত্তির মতো সুর করে শুধু উচ্চারণ করে যাওয়া। প্রাচীন ওই পদ্ধতিই নাকি দুষ্ট আর জেদী বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি। এটাই নাকি তাদের আত্মিক প্রশিক্ষণের মোক্ষম পদ্ধতি। বাচ্চারা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেও দীক্ষালাভ করত, যেমন ঈশ্বর কে.... ইত্যাদি ইত্যাদি। কোমলমতি দীক্ষিতদের কাছে ওইসব কথার কোনো মূল্য ছিল না। জ্যাকের স্মৃতি শক্তি প্রখর হওয়াতে ওইসব কথার অর্থ না বুঝলেও নির্বিকারভাবে সে আবৃত্তি করে যেত। যখন অন্য কোনো ছেলে আবৃত্তি করত জ্যাক নিজের চিন্তাকে অন্য কোথাও চালিয়ে দিত, দিবা স্বপ্ন দেখত কিংবা অন্য কারো দিকে ভেংচি কাটত। একদিন লম্বা পাদ্রী মশাই জ্যাকের ওইরকম ভেংচি কাটা দেখে ফেললেন এবং তার উদ্দেশে জ্যাক ভেংচি কেটেছে ভেবে তার পবিত্র পেশার প্রতি জোর করে হলেও সমীহ আদায় করার সিদ্ধান্ত নিলেন। উপস্থিত ছেলেদের সামনে জ্যাককে তার কাছে ডাকলেন এবং তার হাড্ডিসার হাতে শরীরের সর্বশক্তি নিয়োগ করে জ্যাকের চোয়ালে একটা চড় কষালেন। তার চড়ের আঘাতে জ্যাক প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। তখন পাদ্রী মশাই বললেন, এবার তোমার জায়গায় যাও। তার দিকে অশ্রুহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে জ্যাক নিজের জায়গায় ফিরে এল। উল্লেখ্য যে, সারা জীবনই শাস্তি কিংবা ব্যথা বেদনা থেকে কান্না আসেনি তার চোখে, বরং তার সংকল্প এবং মনের শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে; কান্না এসেছে ভালোবাসা আর করুণা পেলে। গালের বাম পাশটা প্রচণ্ড ব্যথা করতে লাগল। মুখের ভেতর রক্তের স্বাদ অনুভব করতে পারল সে। জিহ্বার ডগা দিয়ে ছুঁয়ে দেখে বুঝতে পারল, চড়ের আঘাতে তার মুখের ভেতরে কেটে গেছে। সেখান থেকে রক্ত ঝড়ছে। নীরবে রক্ত গিলে ফেলল সে।

দীক্ষালাভের গোটা সময়ই জ্যাকের মন বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছে। পাদ্রী তার দিকে তাকিয়ে কথা বলার সময়, যিশুর স্বর্গীয় স্বভাব এবং ত্যাগের কথা বলার সময় জ্যাক শুধু তার দিকে ভাবলেশহীনভাবে তাকিয়ে থাকত। তার দৃষ্টিতে না থাকত বন্ধুতা, না শত্রুতা। পাদ্রীর কথা বলার সময় জ্যাকের মন চলে যেত প্রায় তিন শ মাইল দূরে: তার মনে আগে যে দুটো পরীক্ষার কথা ছিল সে দুটো পরীক্ষা এখন যেন একটা হয়ে গেল। নিজের কাজের মধ্যে ডুবে থেকে তার অটল স্বপ্নের ভেতর কোনো এক অজানা কারণে জ্যাককে শুধু সান্ধ্য সভা খুব মোহিত করে রাখত: গির্জার ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা পরিবেশে বাদ্যযন্ত্রের বাজনা শুনে মনে হতো সে এরকম সুর আগে আর কখনও শোনেনি। মনে হতো, আগে যে সব সুর সে শুনেছে সবই বোকার সুর। পাদ্রীদের বিভিন্ন বিষয় এবং আধো অন্ধকারে চকচক করে ওঠা পুরোহিতের পোশাক সম্বলিত স্বপ্ন আরো গভীর, আরো সর্বব্যাপী হয়ে দেখা দিত তার সামনে যেন শেষ পর্যন্ত কোনো রহস্যের সঙ্গে মিশে যাবে। তবে সেই নামহীন রহস্যের ভেতর জোর করে বেখাপ্পাভাবে অনুপ্রবিষ্ট স্বর্গীয় ব্যক্তিবর্গ কিংবা তাদের নাম কোনো ভূমিকাই পালন করতে পারত না তার জন্য। সেগুলো আসলে তার অভিজ্ঞতালব্ধ জগতেরই যেন বর্ধিতাংশ শুধু। তাকে অভিষিক্ত করে দেওয়া সেই ঊষ্ণ, অন্তর্মুখি এবং দ্ব্যর্থক রহস্য যেন তার মায়ের নীরবতার দৈনন্দিন রহস্য কিংবা নীরব হাসিটাই যেন গভীর করে তুলত। অনেকবার সে সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফিরে দেখেছে, একা নির্জন বাড়ির খাবার ঘরে মা বসে আছেন। আলো জ্বালেননি যেন অন্ধকারকে একটু একটু করে ঘরটা গ্রাস করতে দিচ্ছেন। মা ঘণ অন্ধকারের প্রতিমূর্তি হয়ে জানালার বাইরের দিকে তাকিয়ে নীরব হয়ে বাইরের রাস্তার চঞ্চলতা দেখছেন। মায়ের প্রতি হতাশা আর ভালোবাসা ভরা হৃদয়ে বালক জ্যাক চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়ে পড়ত। মা তখন এবং পরবর্তীতেও সব তুচ্ছতার অধীনতা থেকে মুক্ত। প্রথম সভার আগের দিনের তওবা করা ছাড়া জ্যাকের আর কিছু মনে নেই। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তোমার মনের ভেতর কি কোনো পাপের চিন্তা ছিল কখনও? জ্যাক বলল, হ্যাঁ, ফাদার, ছিল। অবশ্য সে নিজেই তখনও জানে না কোনো চিন্তা কী করে পাপের হতে পারে। পরের দিন পর্যন্ত তার ভয় পিছু ছাড়েনি, হয়তো সে অজ্ঞাতে কোনো পাপের চিন্তাকে স্থান দিয়ে ফেলতে পারে। স্কুল পড়–য়া জ্যাকের অভিজ্ঞতায় যে সকল আপত্তিকর শব্দ ছিল সেগুলোর মধ্যে কোনো একটাকে উৎসবের দিন সকাল পর্যন্ত আটকে রেখেছিল বলে তার পরিষ্কার মনে আছে। সেদিন জ্যাক নাবিকের পোশাকে, বাহুতে একটা মাদুলির মতো বন্ধন নিয়ে, একটা প্রার্থনা-বই এবং মার্গারেট খালাসহ তার সবচেয়ে গরিব আত্মীয়দের দেওয়া একটা তসবীসহ আন্যান্য ছেলেদের দাঁড়ানো সারির মাঝখানের জায়গা দিয়ে একটা মোমবাতি হাতে নিয়ে এগিয়ে গেল; অন্যদের হাতেও মোমবাতি। গির্জার পেছন পাশে দাঁড়ানো তাদের আত্মীয়স্বজনদের চোখ পরমানন্দে উজ্জ্বল।

চলবে...

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

 

 

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি