শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান

পরের দিন ম্যানেজার সব কর্মকর্তা কর্মচারীকে তার রুমে ডাকলেন হাতে হাতে বেতন দেওয়ার জন্য। জ্যাকের দিকে তাকিয়ে একটা খাম এগিয়ে দিয়ে বললেন, এই নাও, বাছা। জ্যাক দ্বিধান্বিত হাত বাড়াল। তিনি হাসিমুখে বললেন, তোমার কাজ বেশ ভালো হচ্ছে। তোমার বাবা-মাকে জানিয়ে দিতে পারো।

জ্যাক ততক্ষণে কথা বলা শুরু করেছে এবং জানাতে থাকে, সে আর আসবে না। ম্যানেজার বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তার খাম ধরা হাত তখনও জ্যাকের দিকে প্রসারিত। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কেন? জ্যাককে তখন মিথ্যা বলতে হবে। কিন্তু মিথ্যা তার মুখ দিয়ে বের হবে না। জ্যাকের দুঃখী চাহনির দিকে তাকিয়ে থেকে ম্যানেজার বুঝতে পারেন এবং জিজ্ঞেস করেন— ও, তাহলে তুমি লিসেতে ফিরে যাবে?

হ্যাঁ, উত্তর দেয় জ্যাক। ভয় আর অসহায়ত্বের মধ্যে আকস্মিক স্বস্তির সম্ভাবনা তার চোখে জল নিয়ে আসে।

উত্তেজিত হয়ে ম্যানেজার দাঁড়িয়ে পড়লেন, তুমি যখন এখানে কাজ নিলে তখন তুমি জানতে তোমাকে ফিরে যেতে হবে। তোমার নানিও জানতেন নিশ্চয়ই! জ্যাক শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে ইতিবাচক অর্থটাই প্রকাশ করতে পারে। ম্যানেজারের কণ্ঠ থেকে বজ্র নিনাদ ঝড়ে পড়ে। তিনি বুঝতে পারছেন, তারা অসৎ। তিনি অসততা পছন্দ করেন না। তিনি যদি জানতে পারতেন তার অধিকার আছে জ্যাককে বেতন না দেওয়ার, তিনি যদি জানতে পারতেন তাকে বোকা হতে হবে! না, তিনি বেতন দেবেন না। তার নানিকে আসতে হবে। তাকে সাদরে স্বাগত জানানো হবে। শুরুতে তারা যদি তাকে সত্য কথাটা বলত তবু হয়ত তিনি জ্যাককে কাজে নিতেন। কিন্তু কী ভয়ংকর কথা লিসেতে তার থাকার সাধ্য নেই, তারা খুব গরিব, তাকে কাজে নিতেই হবে!
বিমূঢ় জ্যাক শুধু বলতে পারে, শুধু ওই কারণেই।
কেন ওই কারণে?
কারণ আমরা গরিব। তারপর জ্যাক নীরব হয়ে যায়। তার দিকে তাকিয়ে ম্যানেজার বলতে থাকেন, ওই কারণেই তুমি এরকম একটা কাজ করতে পারলে? ওই কারণেই এরকম একটা কাহিনি ফাঁদলে? জ্যাক শক্ত মুঠিতে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে। অন্তহীন নীরবতা ঘিরে ধরে। তারপর ম্যানেজার টেবিল থেকে খামটা নিয়ে জ্যাকের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে কর্কশ কণ্ঠে বলেন, নাও তোমার বেতন। এবার ভাগো এখান থেকে।
জ্যাক বলে, না।

এবার ম্যানেজার খামটা জ্যাকের পকেটের মধ্যে ঠেসে দিয়ে বলেন, ভাগো এখন!
রাস্তায় নেমে জ্যাক দৌড়তে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে সে দুহাতে শার্টের কলার চেপে ধরে যাতে পকেটের টাকার সঙ্গে তার হাতের ছোঁয়া না লাগে।
ছুটি না কাটানোর অধিকারের জন্য মিথ্যা বলা, গ্রীষ্মের আকাশ এবং তার ভালোাবাসার সমুদ্র থেকে দূরে কাজ করা এবং লিসেতে ফিরে আসার উদ্দেশে কাজ ত্যাগ করতে গিয়ে মিথ্যা বলা— এসব অবিচার তাকে প্রচণ্ড দুঃখী করে তোলে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল মিথ্যা বলা। অবশ্য সে মিথ্যা বলতে পারত না এবং মিথ্যা বলতে হয়নি। আনন্দ-ফুর্তি করার ক্ষেত্রে সে মিথ্যা বলতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা তার পক্ষে কঠিন। কাজ করার কারণে তার সবচেয়ে প্রিয় ছুটিটাই হারাতে হয়েছে, তার কাছ থেকে তার ছুটির অধিকার হরণ করা হয়েছে। এখন শুধু তাড়াহুড়ো করে শুরু হওয়া এবং দ্রুত ধাবমান বিষণ্ন দিনগুলো ছাড়া বছরের সামনের দিনগুলোতে আর কিছু নেই। দারিদ্রের মধ্যে থেকেও পেটুকের মতো করে যেসব রাজকীয় আনন্দ এবং অপূরণীয় সম্পদ উপভোগ করতে পারত সেগুলো হারাতে হয়েছে সামান্য কয়েকটা টাকা উপার্জনের জন্য, ওই কয়টা টাকা দিয়ে তার আনন্দের লক্ষ ভাগের এক ভাগও কেনা যাবে না। তবু সে বুঝতে পারে, ওই কাজটা না করলে তার উপায় ছিল না। কাজটা করার সময় সে অন্য সময়ের চেয়ে অনেকখানি বেশি বিদ্রোহী ছিল। কাজটা করার পরে তার গর্বও হয়েছে। মিথ্যা বলার অসহায়ত্বের ক্ষতিপূরণ সে প্রথম বেতনের দিনই পেয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে প্রথমেই খাবার ঘরে ঢুকে দেখতে পেল, তার নানি আলুর খোসা ছড়িয়ে বেসিনের পানির মধ্যে ছুড়ে মারছেন। আর্নেস্ট মামা বসে তার দুপায়ের মাঝে ধরে রাখা কুকুর ব্রিলিয়ান্টের গা থেকে মাছি তাড়ান। মা কিছুক্ষণ আগে ফিরেছেন এবং দেয়ালের পাশের ড্রয়ারের মতো জায়গাটা থেকে ধোয়ার জন্য এক স্তুপ কাপড় বের করছেন। জ্যাক সরাসরি এগিয়ে গিয়ে টেবিলের ওপর একশো ফ্রাঁ এবং একটা মুদ্রা রাখল। সারা পথ সে মুদ্রাটা হাতের মুঠোয় ধরে বাড়ি ফিরেছে। কোনো কথা না বলে নানি তার দিকে বিশ ফ্রাঁ এগিয়ে দিলেন এবং বাকিটা নিয়ে নিলেন। হাত দিয়ে ক্যাথরিন করমারির গা ছুঁয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, তোর ছেলে একটা কাজের মতো কাজ করেছে।

মায়ের দুঃখী চাহনি ছেলেকে আদর করে দিল। মা মুখে বললেন, হ্যাঁ।
অর্নেস্ট মামার পায়ের মাঝখানে ধরা ব্রিলিয়ান্ট ভাবল, তার কঠিন পরীক্ষা শেষ। তবে মামা কুকুরটাকে পায়ের মধ্যে ধরে রেখই বলল, ভালো, ভালো। বড় হয়ে গেছ।

সে অবশ্যই বড় হয়ে গেছে, তার ঋণের খুব অল্প একটা অংশ হলেও সে শোধ করে দিতে পেরেছে। সামান্য ওই টাকা দিয়ে পরিবারের দারিদ্র কিছুটা কমাতে পেরেছে— এই ধারণাটা তার মনকে কিছুটা দুষ্ট অহংকারে ভরে তুলল। এরকম অহংবোধ মানুষের মনে এসে থাকে যখন সে স্বাধীনবোধ করে এবং বুঝতে পারে, কোনো কিছুর কাছে, কারো কাছে তাকে আর অধীন হয়ে থাকতে হবে না। পঞ্চম বর্ষের ক্লাস শুরুর প্রথম দিন লিসের চত্বরে পা রেখেই বুঝতে পারে, সে আগের মতো নেই; চার বছর আগে বেলকোর্ট ছেড়ে প্রথম যেদিন এসেছিল সেদিনের মতো অচেনা সে নয়। সেদিন পায়ের তলার পুরু তলিঅলা জুতা পরে কেমন যেন টলোমলো মনে হচ্ছিল। অচেনা যে জগৎ তার জন্য অপেক্ষা করছিল সে জগৎ সম্পর্কে তার মনের ভেতর অনেক অজানা আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আজ তার সহপাঠীদের দিকে সে যে চাহনি নিয়ে তাকাচ্ছে সে চাহনির মধ্যে নিষ্পাপ ভাবটা অনেকখানি অনুপস্থিত। তা ছাড়া ওই সময়ের মধ্যে তাকে শৈশব থেকে অনেক কিছুই ওপরের দিকে টেনে নিয়ে গেছে। সেদিনের আগ পর্যন্ত সে নানির হাতের প্রচণ্ড মার খেয়ে এসেছে বিনা প্রতিবাদে যেন মার খাওয়া বাল্যবেলার একটা অপ্রতিরোধ্য বাধ্যবাধকতা। কিন্তু এখন জ্যাককে মারতে গেলে সে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যদি তার হাত থেকে চামড়ার চাবুকটা কেড়ে নেয়— এই ভয়ে নানি একদিন নিজের রুমের দিকে ফিরে গিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদা শুরু করলেন। বুঝতে পারলেন, এতদিন ধরে এই অস্বাভাবিক শিশুকে বড় করেছেন। এটা তার দুর্ভাগ্য। তার আফসোসের আরও কারণ হলো, জ্যাককে তিনি আর কখনো মারতে পারবেন না। বাস্তবে অবশ্য তা-ই হয়েছিল, জ্যাককে আর মারতে পারেননি তিনি। কারণ, ততদিনে এই হালকা পাতলা পৌরুষদীপ্ত কিশোরের মধ্য থেকে আগের সেই বালকটি হারিয়ে গেছে। ছোট ছোট করে ছাঁটা চুল এবং আগুনে চাহনির এই যুবক গ্রীষ্মের গোটা সময় কাজ করে পরিবারের জন্য উপার্জন করেছে। সে লিসের ফুটবল দলের প্রথম সারির গোল রক্ষক। দিন তিনেক আগে জীবনে প্রথমবারের মতো সে একটা মেয়ের ঠোঁটের কম্পমান স্পর্শও লাভ করে ফেলেছে।

হ্যাঁ, এই বালকের জীবন এরকমই ছিল। দারিদ্র-দ্বীপের প্রচণ্ড প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত প্রতিবেশের জীবন এরকমই ছিল। অজ্ঞ আর প্রতিবন্দ্বী পরিবারে উঠতি যুবা বয়সের টগবগে রক্তের বয়সে অজানা এক জগৎ তার জীবনের জন্য প্রচণ্ড ক্ষুধা, বশ না মানা ক্ষুধার্ত ধীশক্তি এবং সর্বদা আনন্দের উত্তুঙ্গ মানসকে প্রত্যাঘাতে ধরাশায়ী করতে চেষ্টা করেছে। মুহূর্তের জন্য সে লজ্জিত বোধ করেছে। আবার উঠে দাঁড়িয়েছে, শিখতে চেষ্টা করেছে এবং বুঝতে চেষ্টা করেছে এই অচেনা জগৎ। এই জগতৎ সে নিজের ভেতর ধারণ করার চেষ্টা করেছে। কারণ সে এই জগৎ নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধরার চেষ্টা করেছে। সে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে। তবে নিজেকে ছোট করে নয় এবং শেষমেষ সে যে আত্মবিশ্বাস পায়নি তা নয়। হ্যাঁ, এক ধরনের নিশ্চয়তা সে পেয়েছে যেহেতু সে নিশ্চিত হতে পেরেছে, সে যা মনপ্রাণ দিয়ে চায় তা সে পাবে। যা কিছু এই জগতের এবং শুধুই এই জগতের সেসবের কোনো কিছুই তার কাছে অসম্ভব হয়ে থাকবে না। যে কোনোখানে একটুখানি ভরসার জায়গা পাওয়ার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করছিল। ছেলেবেলার শূন্যতা নিয়েই সে নিজেকে প্রস্তুত করছিল। কারণ কোনো উচ্চাভিলাষী আসন সে চায়নি। সে শুধু চেয়েছে আনন্দ, মুক্ত প্রাণশক্তি, উদ্যম এবং জীবনে যা কিছু ভালো এবং পয়সার কাছে বিকিয়ে দিতে হয় না এমন কিছু। এমনকি দারিদ্রের বলই নিজেকে সে প্রস্তুত করতে থাকে, যাতে একদিন পয়সা না চেয়ে, পয়সার কাছে নতিস্বীকার না করে, পয়সা গ্রহণ করতে পারে, ঠিক এখন চল্লিশ বছর বয়সী জ্যাক যেমন অনেক দোদুল্যমান হয়েও অনেকখানি নিশ্চিত যে, অন্যসব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব যারা তাদের চেয়েও নিঃস্ব সে, একমাত্র মা ছাড়া আর কেউ নেই তার। এভাবেই সে জীবন পার করেছে সমুদ্রের ধারে, ঝড়ো বাতাসের মধ্যে, খোলা রাস্তায়, গ্রীষ্মের খরতাপের নিচে, সংক্ষিপ্ত শীতের ভারী বর্ষণ-তলের খেলাধুলার মধ্যে। জীবন পার করেছে সে বাবা ছাড়া। উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো কিছুই পায়নি সে। জীবনে একটি বছরের জন্য বাবাকে খুব দরকার ছিল। চারপাশের মানুষজন আর বিভিন্ন বিষয় থেকে শিক্ষা লাভ করেছে। যে জ্ঞান তার কাছে নিজেই এসে হাজির হয়েছে সে জ্ঞান দিয়েই সে বুঝে নিয়েছে, কখন কোনো আচরণের আদব শিখতে হবে এবং নিজের উত্তরাধিকার নিজেই তৈরি করতে হবে। তার পরিস্থিতির জন্য কখনো যথেষ্ট মনে হয়েছে সেই আদব, কখনো বা পৃথিবীর ক্ষতের মুখোমুখি হলে পরবর্তীতে অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী