শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান

বেলা দুটোর সময় উপরের খিলানের কোথা থেকে যেন সামরিক বাজনায় ফরাসি জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। উপস্থিত সব ছাত্র এবং অভিভাবক সবাই উঠে দাঁড়াত। তখন প্রধান শিক্ষক এবং একজন উচ্চপদস্থ অফিসারের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষক প্রবেশ করতেন। আয়তাকার টুপি আর লম্বা গাউন পরা সবাই। তাদের গাউনের রং দেখে বোঝা যেত কে কোন বিভাগের শিক্ষক।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাধারণত ঔপনিবেশিক সরকারের কোনো আমলা হয়ে থাকতেন, তাকে ওই অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো হত। আরেকবার সামরিক বাজনা বাজত শিক্ষকদের আসন গ্রহণের জন্য। অনতিবিলম্বে উচ্চপদস্থ কর্তা বক্তব্য শুরু করতেন। তার বক্তব্যের বিষয় থাকত সাধারণভাবে ফ্রান্স এবং বিশেষভাবে শিক্ষা। ক্যাথরিন করমারি কানে কিছু না শুনলেও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতেন। তার ধৈর্যচ্যুতি কিংবা ক্লান্তির কোনো ছাপ দেখা যেত না। জ্যাকের নানি শুনতে পারতেন। কিন্তু খুব পরিষ্কার কিছু বুঝতেন না। তার মেয়ের উদ্দেশে তিনি বলতেন, উনি খুব চমৎকার কথা বলেছেন। তার মেয়ে তার কথায় সায় দিয়ে মাথা ঝাঁকাতেন। তখন নানি তার বাম পাশে বসা অন্য অভিভাবকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হাসি ছড়িয়ে দিয়ে মাথা ঝাঁকাতেন। প্রথম বছরেই জ্যাক খেয়াল করেছে, শুধু তার নানিই মাথা এবং কাঁধ ঢেকে রাখার জন্য পুরনো দিনের স্পেনীয় ওড়না পরেছেন। বিষয়টা জ্যাকের জন্য বিব্রতকর মনে হয়েছে। সত্যি কথা হলো, এই অহেতুক লজ্জার বিষয়টা সারা জীবন জ্যাকের পিছু ছাড়েনি। কারণ পরে জ্যাক নানিকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে ওড়নার বদলে একটা ক্যাপ পরলে ভালো। নানি বলেছেন, ক্যাপ কিনে বাজে ব্যয় করার মতো পয়সা তার নেই। বরং ওড়নায় তার কানের পাশটা উষ্ণ থাকে। কিন্তু অনুষ্ঠানে বসে নানি যখন পাশের কোনো মহিলার সঙ্গে কথা বলেছেন জ্যাকের লজ্জার সীমা থাকেনি। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য শেষ হলে কনিষ্ঠতম শিক্ষক বক্তব্য শুরু করতেন। তিনি সাধারণত ফ্রান্স থেকে আগত নতুন শিক্ষক হয়ে থাকতেন এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দায়িত্ব থাকত তার উপরেই। তার বক্তব্য ত্রিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকত। ওই নবীন শিক্ষাবিদ তার বক্তব্যের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উল্লেখ করতেন এবং সূক্ষ্ম মানবিক বিষয়াদির অনুপ্রবেশ ঘটাতে ভুল করতেন না। এতে করে তার বক্তব্য আলজেরীয় শ্রোতাদের কাছে পুরোপুরিই দুর্বোধ্য হয়ে উঠত। অত্যাধিক তাপের কারণে শ্রোতাদের মনোযোগ নেতিয়ে পড়ত এবং তাদের হাতের পাখা ঘন ঘন ঘুরতে থাকত। এমনকি মনোযোগী শ্রোতা নানিও এদিক ওদিক তাকিয়ে অবসন্নতা প্রকাশ করতেন। শুধু ক্যাথরিন করমারি তার উপরে বর্ষিত পান্ডিত্ব আর প্রজ্ঞার বর্ষণ একাগ্র দৃষ্টিতে গ্রহণ করে যেতেন সামান্যতম চোখ পিটপিট করার মতো অবহেলা না দেখিয়েও। আর জ্যাক এবং পিয়েরে অন্য বন্ধুদের অনুসন্ধানে এদিক ওদিক তাকিয়ে শরীর মোচড়াতে থাকত। তাদের প্রতি ইঙ্গিত ছুড়ে দিত এবং লম্বা আলাপ শুরু করেও দিত। আলাপের মধ্যে ভেংচি কাটাও থাকত। সবশেষে বিকট করতালি ছড়িয়ে পড়ত। কারণ বক্তা যথেষ্ট দয়াপরবশ হয়ে তার বক্তব্য শেষ করেছেন। তখনই শুরু হতো পুরস্কার ঘোষণা। প্রথমে শুরু হতো উপরের ক্লাসের এবং প্রথম দিকে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণ। তার ক্লাসের পুরস্কার বিতরণ শুরু হওয়া পর্যন্ত জ্যাকের নানি এবং মা অধীর অপেক্ষা করতেন। যারা পড়াশোনায় পরম উৎকর্ষ দেখাতে পারত তাদের পুরস্কার প্রদানের সময় অদৃশ্য থেকে সংগীতের বিশেষ দামামা বেজে উঠত। পুরস্কারের পালা বড় থেকে ছোটদের দিকে আসত। পুরস্কার প্রাপ্তরা উঠোনের একপাশ দিয়ে হেঁটে মঞ্চে উঠত, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রশংসাসূচক বাক্যে অভিসিক্ত হতো, তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করত। তারপর প্রধান শিক্ষক তাদের হাতে তুলে দিতেন বইয়ের বান্ডিল। মঞ্চের নিচে বই বোঝাই একটা ঠেলা গাড়ি দাঁড় করানো থাকত, সেখান থেকে একজন পরিচারক প্রধান শিক্ষকের হাতে বইয়ের বান্ডিল ধরিয়ে দিত এবং শেষে তিনি ছাত্রদের হাতে তুলে দিতেন বই। বিপুল করতালি আর সংগীতের মুর্ছনার মাঝে পুরস্কার বিজেতা চারপাশে তাকাতে তাকাতে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে হেঁটে নেমে আসত। তার অনুসন্ধানী চোখ তার গর্বিত অভিভাবকদের দিকে। তখন তারা আনন্দের অশ্রু মুছতে ব্যস্ত। আকাশের নীল রং ততক্ষণে একটুখানি ফিকে হয়ে এসেছে। তাপমাত্রা কমেছে আরেকটু। সমুদ্রের উপরে কোথাও অল্প একটু ফাটল পেয়ে আকাশ হয়ত সেখানে তাপ ঢেলে দিয়েছে খানিক। পুরস্কার বিজেতারা একে একে মঞ্চের দিকে যাচ্ছে আসছে। সঙ্গে সংগীতের দামামা চলছে এভাবে দর্শকদের মধ্যে ভীড় কমে আসছে। আকাশ আরেকটু মিশ্র নীলাভ হয়ে গেলে আসত জ্যাকের পুরস্কার গ্রহণের পালা। তার ক্লাসের পুরস্কারের ঘোষণা শুনলেই জ্যাক হাসি তামাশা থামিয়ে গম্ভীর হয়ে যেত। নিজের নাম ঘোষিত হলে জ্যাক উঠে দাঁড়াত। মাথার ভেতরে তখন কেমন যেন ভনভন শব্দ করে উঠছে। তার এগিয়ে যাওয়া দেখে মা জিজ্ঞেস করতেন, করমারি কথাটা বলেছে নাকি? তখন পেছনে মায়ের দিকে তাকানোর আর অবসর নেই জ্যাকের।

নানি বলতেন, হ্যা, বলেছে। নানির মুখটা তখন আনন্দে উত্তেজনায় রাঙা হয়ে উঠেছে।

প্রথম দিন সিমেন্টের পথ পাড় হয়ে মঞ্চে পৌঁছনো, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কোট এবং ঘড়ির চেইন, প্রধান শিক্ষকের মিষ্টি হাসি, মঞ্চের ভিড়ের মধ্যে কোনো শিক্ষকের আন্তরিক চাহনি এসব শেষ করে তারপর দর্শকদের বসার মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা মা এবং নানির কাছে ফিরল জ্যাক। মা তার দিকে তাকিয়ে আছেন বিস্মিত আনন্দের দৃষ্টিতে। জ্যাক মায়ের হাতে তুলে দিল বিজয়ীদের নামের মোটা তালিকা। নানি তার আশপাশের দর্শকদের দিকে গর্বের দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাদের আহ্বান করলেন জ্যাকের কৃতিত্ব দেখার জন্য। বিকেলের ওই সময়ের মধ্যেই এতসব কিছু ঘটে গেল দ্রুত। জ্যাক তখন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার জন্য উদগ্রীব, বাড়ি গিয়ে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া বইগুলো দেখতে হবে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।

বাড়ি ফেরার সময় তারা পিয়েরে এবং তার মায়ের সঙ্গে ফিরল। জ্যাকের নানি আড় চোখে দেখে নিলেন কার বইয়ের বান্ডিলটা বেশি উঁচু হয়েছে। বাড়িতে পৌঁছে জ্যাক মায়ের কাছ থেকে পুরস্কারের তালিকাটা নিলে নানি তাকে যে সব পৃষ্ঠায় তার নাম এসেছে সেসব পৃষ্ঠার কোণা ভাঁজ করে রাখতে বললেন যাতে পরিবারের আর সবাইকে এবং প্রতিবেশীদের তিনি ভালো করে দেখাতে পারেন। তারপর নিজের কী কী অর্জন হলো তার একটা তালিকা তৈরি করতে বসল জ্যাক। কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেখতে পেল মা আসছেন। ততক্ষণে মায়ের পোশাক বদলানো হয়ে গেছে, স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে ব্লাউজের বোতাম লাগাতে লাগাতে আসছেন। জানালার কাছে চেয়ার টেনে নিতে নিতে জ্যাকের দিকে তাকিয়ে মা হাসলেন। বললেন, খুব ভালো করেছিস। এরপর তাকিয়ে থাকতে থাকতে মৃদু মাথা ঝাঁকাতে লাগলেন। এভাবে কখনও মাকে তাকিয়ে থাকতে দেখেনি সে। জ্যাক মায়ের তাকানোর উত্তরে ফিরে তাকিয়ে দেখল, মা রাস্তার দিকে তাকিয়েছেন। জ্যাক বুঝতে পারল, মা এখন লিসে থেকে অনেক দূরে। আরও এক বছর মাকে এভাবে আর দেখতে পাবে না। আস্তে আস্তে ঘরের ভেতরটা অন্ধকার ছেয়ে ফেলল। বাইরে রাস্তার প্রথম আলো জ্বলে উঠল। সেখানে কারা হেঁটে যাচ্ছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। শুধু পথচারীদের হেঁটে যাওয়া দেখা যাচ্ছে।
জ্যাক কল্পনায় দেখতে পেল, তার মা লিসে এক নজর দেখার মতো দেখে চলে এসেছেন। নিজেকে সে শেষবারের মতো আবার ফিরিয়ে নিয়ে এল পরিবার এবং প্রতিবেশের মাঝে।

ছুটির দিনগুলো জ্যাককে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসত, বিশেষ করে প্রথম বছরগুলোর ছুটির দিনগুলো। তার পরিবারের কারো কোনো রকম ছুটির দিন ছিল না। তারা সারা বছর কাজ করত কোনো রকম বিশ্রাম ছাড়াই। কোনো বীমাকৃত কারখানায় কাজ করতে গেলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে হাসপাতালে কিংবা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার পড়লে শুধু সেটাই ছুটি বলে মনে হতো। একবার আর্নেস্ট মামা এরকম একটা জায়গায় কাজ করার সময় ক্লান্তিতে হাতের তালুর খানিক মাংস কেটে ফেলেছিল। সেই ঘটনাকে মামা বলত নিজেকে ‘বীমায় ফেলে দেওয়া’। পাড়ার অন্যান্য বউঝিদের এবং জ্যাকের মায়ের যেসব কাজ করতে হতো সেখানে কোনো বিরতি থাকত না। তাদের সামনে খুব পরিষ্কার যুক্তি ছিল, কাজের মাঝে বিশ্রাম মানেই পরিবারের সবার জন্য খাবারের ঘাটতি পড়া। তাদের বেকারত্বের বিপরীতে কোনো বীমা ছিল না। কাজেই তারা কর্মহীনতাকে বিপর্যয়ের মতো ভয় করত। সে কারণেই পিয়েরের পরিবারের এবং জ্যাকের পরিবারের পুরুষেরা যারা পরিশ্রমের দিক থেকে সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু ছিল তারাও পরিশ্রমের ব্যাপারে বিদেশিদেরকেও ভয় পেত। তারা মনে করত ইতালিয়, স্পেন, ইহুদি, আরব এবং সর্বোপরি সারা পৃথিবীর মানুষই তাদের কাজ চুরি করে নিতে পারে। যেসব বুদ্ধিজীবি সর্বহারা সম্প্রদায়ের পক্ষে তত্ত্ব প্রচার করে থাকেন তাদের জন্য এই মানুষগুলোর এরকম মনোভাব বিব্রতকর মনে হলেও আসলে কিন্তু মানবিক এবং সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। পৃথিবীর প্রভূত্ব অর্জন কিংবা সম্পদের সুবিধা অর্জনের জন্য এই জাতীয়তাবাদী মানুষগুলো অন্যান্যাদের জাতীয়তাবাদের প্রতি বিদ্বেষী ছিল না। তারা শুধু দাসত্ব করার অধিকার চাইত। তাদের কাছে কাজ মানে কোনো বিশেষ গুণ নয়, কাজ মানে প্রয়োজনীযতা। টিকে থাকার জন্যই কাজের দরকার। আর এই কাজই তাদের ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেত।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের