শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান

তবে সবচেয়ে আনন্দ হতো প্রবল বাতাসের দিনগুলোতে। পার্কমুখী দালানটা শেষ হয়েছিল এক সময়ের একটা উঁচু চত্বরের গায়ে। আগে হয়ত চত্বরের চারপাশে পাথরের রেলিং দেওয়া ছিল। এখন সেগুলো সিমেন্টের উপরে লাল টালি বিছানো পৈঠার সামনে ঘাসের মধ্যে পড়ে আছে। তিন দিক খোলা চত্বরে দাঁড়ালে পার্কসহ পার্কের বাইরেও দৃষ্টি চলে যেত। একটা গিরিখাত সাহেলের একটা সমতলভূমি থেকে কুবার পাহাড়ি অঞ্চলকে বিছিন্ন করেছে।

আলজিয়ার্সের পূবের হাওয়া সব সময়ই খুব প্রবলভাবে বয়ে যেত। সেই হাওয়া শুরু হলে চত্বরের উপর দিয়ে চাবুক মারতে মারতে চলে যেত। বাচ্চারা বাতাসের তোড়ে বড় বড় তালগাছের সঙ্গে বাড়ি খেত। তালগাছগুলোর চারপাশে ছড়ানো ছিটানো থাকত অনেক দিনের শুকনো তালগাছের বড় বড় ডাল। তারা ডালের গায়ের কাঁটাগুলো কেটে মসৃণ করে রাখত যাতে দুহাতে ধরে রাখতে পারে। তারপর নিজেদের পেছনে ডালগুলো ধরে বাতাসের তোড়ে চত্বরের দিকে এগিয়ে যেত। প্রবল বাতাস ইউক্যালিপটাস গাছের উঁচু ডালে বাড়ি মারত আর শোঁ শোঁ শব্দ তৈরি হত। বাতাস তালগাছগুলোর মাথা এলোমেলো করে দিত এবং রাবার গাছের ডালে প্রবল বেগে বাড়ি মারলে মচমচ শব্দ তৈরি হত। তালগাছের ডালগুলো উঁচু করে বাতাসের ধাক্কায় চত্বরে উঠে আসার খেলার একটা বুদ্ধি কাজে লাগাত তারা। বাতাসের ধাক্কায় ডালগুলো পেছন থেকে তাদের গায়ের সঙ্গে লেগে যেত। খুব কাছে থেকে তারা শুকনো ডালগুলোর গায়ে নাক লাগিয়ে ধুলি আর শুকনো পাতার গন্ধ নিত। ডালগুলো উঁচু করে ধরে বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কে কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে সেই চেষ্টা করত। যে সবার আগে হাতে ধরা ডালটা নিয়ে চত্বরে পৌঁছতে পারত সে হত বিজয়ী। তারপর সে ওখানে দাঁড়িয়ে ডালটা উঁচু করে ধরে প্রবল বাতাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে যেত। পার্কের ধারে, গাছপালা বোঝাই সমতলভূমির সামনে এবং দ্রুত ধাবমান মেঘভরা আকাশের নিচে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে, জ্যাক সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করত দূর থেকে বয়ে আসা বাতাস। উপরের দিক থেকে বাতাস নেমে এসে গাছপালার ডালগুলোকে বাড়ি মারত আর জ্যাকের শরীরে বাতাসের ছোঁয়ায় প্রবল শক্তি তৈরি হত। আনন্দে অবিরাম চিৎকার করতে থাকত সে। এক সময় বাতাসের কাছে হার মেনে হাতে ধরা ডালটা সে ছেড়ে দিত। বাতাস ডালটাসহ তার চিৎকারকে দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যেত। বিকেল বেলা এরকম খেলা থেকে ফিরে রাতে যখন হালকা ঘুমন্ত মায়ের বিছানার পাশের বিছানায় ক্লান্তশ্রান্ত হয়ে শুয়ে চুপচাপ পড়ে থাকত তখনও যেন সে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পেত। মনে হত, আজীবন সেই অনুভূতি বয়ে বেড়াবে মনের কোণে।

বৃহস্পতিবারে জ্যাক এবং পিয়েরে পাবলিক লাইব্রেরিতেও যেত। হাতের কাছে যেকোনো ধরনের বই পেলেই জ্যাক গোগ্রাসে গেলার মতো করে পড়ে ফেলত। বেঁচে থাকার জন্য, খেলাধুলার জন্য এবং স্বপ্ন দেখার জন্য যে রকম ক্ষুধা ছিল তার মনে সে রকম ক্ষুধা নিয়েই বইপত্র হজম করত সে। তবে পড়াশোনার কারণে সে একটা নিষ্পাপ জগতে প্রবেশ করতে পারত। সে জগতে দারিদ্র এবং ধন-সম্পদ একই রকমের আন্দদায়ক ছিল। কারণ দুটোই ছিল চরমভাবে কাল্পনিক। লা ইন্ট্রেপিডে ছিল ছবিতে ভরা কাহিনীর সিরিজ। তারা সব বন্ধু ওই বইটা একজনের পড়া হয়ে গেলে তার হাত থেকে নিয়ে আরেকজন পড়ত। এভাবে পড়তে পড়তে তারা বইটার মলাটের বাঁধাই ক্ষয় করে ধূসর বানিয়ে ফেলে। পৃষ্ঠার কোণাগুলো ভাঁজ হয়ে ছিঁড়ে যায়। ওই বইটাই তাকে কমেডি কিংবা বীরত্বপূর্ণ জগতে নিয়ে যায়। সেখানেই তার আনন্দ এবং সাহসের পরিতৃপ্তি খুঁজে পায়। তারা গোয়েন্দা কাহিনীগুলো যেভাবে হজম করতে পেরেছিল এবং পারদাইলানের চরিত্রগুলোকে যেভাবে বাস্তবের প্রাত্যহিক জগতের মাঝে স্থাপন করেছিল তাতে সহজেই বলা যায়, তাদের দুজনের মধ্যেই বীরত্ব এবং বড়াইয়ের ভাব খুব প্রবল ছিল। তাদের প্রিয় লেখক ছিলেন মিশেল জেভাকো এবং তাদের প্রিয় জগৎ ছিল রেনেসাঁর সময়ের জগৎ, বিশেষ করে ইতালির। রোম কিংবা ফ্লোরেন্সের রাজপ্রাসাদের কিংবা পোপের জৌলুসপূর্ণ সময়ের পটভূমিতে লিখিত তরবারির এবং বিষের ব্যবহার থাকত ওইসব কাহিনীতে। তারা নিজেদের ওই চরিত্রদের মতোই অভিজাত মনে করত। ধূলিভরা যে রাস্তার কাছে পিয়েরে থাকত সে রাস্তায় প্রায়ই তাদের দুজনকে দেখা যেত একজন আরেকজনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে কিংবা উচ্চ বেগে ময়লার ঝুড়িগুলোর মাঝে দ্বন্দ্বযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তাদের আঙুলে দীর্ঘস্থায়ী দাগ পড়ে যেত। অন্য কোনো ধরনের বই তাদের আয়ত্বে ছিল না বললেই চলে। কারণ আশপাশের লোকেরা পড়াশোনার অভ্যাসের মধ্যেই ছিল না। যাদের পড়ার অভ্যাস ছিল তারাও নিজেরা বই কিনতে পারত না বললেই চলে। কালে ভদ্রে যদি কিনেই থাকত তাহলে দোকানে পড়ে থাকা সস্তা পুরনো বই ছাড়া অন্য কোনো ধরনের বই কিনতে পারত না।

তবে তারা যখন লিসেতে পড়াশোনা শুরু করে সে সময়েই তাদের এলাকায় একটা পাবলিক লাইব্রেরি চালু হয়। আলজিয়ার্সে দ্রুত বাড়তে পারে এমন সুবাসওয়ালা বৃক্ষ-ঘেরা বাড়িগুলোর অপেক্ষাকৃত অভিজাত এলাকার শুরু এবং জ্যাকের বাড়ির মাঝখানের রাস্তায় ওই লাইব্রেরিটা তৈরি হয়েছিল। সেইন্টে ওডিলে নামের একটা ধমীয় বোর্ডিং স্কুলের চারপাশে ছিল উদ্যানসোভিত ওইসব বাড়ি। ওই স্কুলটাতে শুধু মেয়েদের ভর্তি করা হত। ওই এলাকাটা তাদের বাড়ি থেকে খুব কাছে হলেও তাদের জন্য দূরের ছিল এবং ওখানেই তাদের গভীর আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ হয়। তাদের এলাকাটা ছিল ধূলিময়, গাছপালাহীন। ফাঁকা জায়গা বলতে যা ছিল তার সবখানিই খরচ হয়ে গিয়েছিল মানুষ আর বসত বাড়ির দখলে। অন্য দিকে পাশের এলাকাটা গাছপালা আর ফলমুলের বিলাসবহুল সমারোহে ভরা। ওই দুই জগতের মাঝে বিভাজন হিসেবে ছিল প্রশস্ত প্রধান সড়ক এবং তার দুপাশে রোপিত বড় বড় গাছপালা। বিভাজনরেখার এক পাশে সারি সারি উদ্যানশোভিত বাড়ি। অন্য পাশে কম খরচে তৈরি বাড়িঘর। পাবলিক লাইব্রেরিটা ছিল ওই দুই এলাকার সীমান্তে অবস্থিত।

লাইব্রেরিটা বৃহস্পতিবারসহ সপ্তাহে তিন বার খোলা থাকত, কাজের শেষে সন্ধ্যায় এবং সকালে। অনাকর্ষণীয় চেহারার একজন শিক্ষক সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা স্বেচ্ছায় উপস্থিত থেকে কাজ করতেন। কাঠের একটা সাদা লম্বা টেবিলে বসে তিনি বই ধার দেওয়া ফেরত নেওয়ার কাজ করতেন। লাইব্রেরি ঘরটা বর্গাকার এবং এর দেয়াল সাদা তাক আর কালো মলাটে বাঁধানো বইয়ে পরিপূর্ণ। চারপাশে কয়েকটা চেয়ারওয়ালা একটা ছোট টেবিলও ছিল। যাদের খুব দ্রুত কোনো অভিধানের দরকার হত তাদের জন্য ছিল ওই টেবিলটা। কারণ লাইব্রেরিটা মূলত বই ধার দিত পাঠকদের। বর্ণনাক্রমিক কার্ডের একটা ক্যাটালগও ছিল। তবে জ্যাক এবং পিয়েরে কেউই সে ক্যাটালগের ভেতর কোনো দিন দৃষ্টি ফেলে দেখেনি। তাদের কাজ ছিল বইয়ের নাম দেখে কিংবা মাঝে মধ্যে লেখকের নাম দেখে তাকময় বই খুঁজে বেড়ানো। কাঙ্ক্ষিত বইটা পেয়ে গেলে একটা নীল চিরকুটে সেটার নাম লিখে জমা দিত ধার নেওয়ার জন্য। একটা রশিদ আর সামান্য অর্থের বিনিময়ে বই ধার নেওয়ার মতো সদস্য হওয়া যেত। ভাঁজ করা একটা মোটা কাগজে ধার নেওয়া বইটার নাম লেখা হত। আর দায়িত্বরত ওই শিক্ষকের কাছে একটা খাতা থাকত; সেখানেও বইটার নাম লেখা হত।

লাইব্রেরির বইগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ছিল উপন্যাস। তবে অনেকগুলো বই আলাদা করা ছিল এবং সেগুলো পনের বছরের নিচের বয়সীদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। আর পিয়েরে এবং জ্যাকের সজ্ঞামূলক পদ্ধতিতে যে বইগুলো পড়া বাদ ছিল সেগুলোর মধ্যে কোনো বাছাবাছির ব্যাপার ছিল না। তবে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে হাতের কাছে কোনো কিছু পেয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে খারাপ কোনো পদ্ধতি নয় এবং তাদের দুজনের মতো গোগ্রাসী পাঠক বাছবিচারহীন পড়ার কারণে সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ উভয়কেই গলাধকরণ করেছে। পড়ার পরে সুস্পষ্টভাবে কোনো কিছু মনে আছে কি না সে বিষয়েও তাদের খেয়াল থাকেনি। তবে কোনো শক্তিশালী এবং অদ্ভূত আবেগ সপ্তাহ, মাস এবং বছরব্যাপী তাদের সঙ্গে সঙ্গে থেকেছে এবং স্মৃতি ও গোটা চিত্রকল্পের জগৎ তৈরি করেছে ও লালন করেছে। ওই স্মৃতি এবং চিত্রকল্পগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতার কাছে হার মানেনি কখনও। আর তাদের বাস্তব জীবনও তাদের কাছে কম সন্নিকটস্থ ছিল না। তাদের স্বপ্ন যাপনের মধ্যে যতখানি প্রচণ্ডতা ছিল জীবনযাপনের মধ্যেও তার চেয়ে কম প্রচণ্ডতা ছিল না।

আসলে বইগুলোর মধ্যে উপস্থাপিত কথাগুলো তাদের কাছে বড় ছিল না। লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেই তারা কালো মলাটের বই দেখতে পেত— তা নয়, লাইব্রেরির দরজা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন অদ্ভূত সব জগৎ এবং বহুবিধ দিগন্ত খুলে যেত তাদের সামনে। চিরচেনা ভীড়ভাট্টার জগৎ ছেড়ে তারা চলে যেত অন্যখানে। তাদের কাছে বড় ছিল ওইসব জগৎ আর দিগন্ত। তারপর তাদের দুজনের জন্য দুটো বই বরাদ্দ হয়ে গেলে নিঃশব্দ পায়ে তারা নেমে আসত আসন্ন সন্ধ্যার হালকা আঁধার ঢাকা বিথিকার নিচে। ঘন ডালপালাঅলা গাছের নিচে পড়ে থাকা পাকা ফল বেখেয়ালে পায়ের তলায় পিষে ফেলে তারা হিসাব কষতে কষতে যেত কতটা আনন্দ পাবে নতুন বই থেকে। আগের সপ্তাহের বইয়ের সঙ্গেও তুলনা চলত মূল রাস্তায় ওঠা পর্যন্ত। রাস্তার আলো জ্বলে উঠলে সেই আলোর অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারা নিজ নিজ বই খুলত। দু-একটা টুকরো কথা দেখতে পেত— যেমন, ‘অমুকের শক্তি ছিল অসাধারণ,’ ইত্যাদি। তাতেই তাদের আনন্দময় বিশাল আশা আরও সুবিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ত। খুব তাড়াতাড়িই একজন আরেকজনের কাছ থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ঢুকে পড়ত। জ্যাক খাবার ঘরের টেবিলের উপরের বাতির নিচে পৌঁছেই বই খুলে ফেলত। বাঁধাইয়ের শুকনো আঠার একটা কড়া গন্ধ নাকে লাগত। অমসৃণ বাধাইয়ের খসখসে ছোঁয়াও লাগত হাতে।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের