শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সেই প্রথম রাতে তার ভাই চাপা রাগের সঙ্গে বলল, আমি এসব দেখতে পারি না। অসহ্য!
অনিশ্চয়তার সুরে জ্যাক বলল— না, অসহ্য হলো কী করে! লুই তার দিকে হিংস্র এবং উৎসাহী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।

জ্যাক নিজেকে ঠিক করে নিল এবং তার ভয়টা তখন কিছুটা কমে এল। মুরগি আনার সময়ের এবং জবাই করার দৃশ্যের আতঙ্ক বিলীন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে তার মধ্যে যেন গর্ব ফিরে এল। শেষে সাহসের সঙ্গেই সে ভাইয়ের উদ্দেশে বলতে পারল, তুমি আসলে ভয় পাও, এটাই বড় কথা।
নানি খাবার রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, ঠিক তাই। এখন থেকে জ্যাকই এই কাজটা করবে।
হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে আর্নেস্ট মামা বলল, ভালো ভালো; জ্যাকের সাহস আছে।

জ্যাক যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানেই অনড় থেকে তার মায়ের দিকে তাকাল। মা অন্য সবার থেকে একটু দূরে বসে এক জোড়া মোজা রিফু করছিলেন। মা তার দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ, ঠিকই তুই সাহসী। এরপর তিনি রাস্তার দিকে ফিরে তাকালেন। জ্যাক অন্য দিকে কোনো রকম খেয়াল না করে শুধু মাকেই দেখতে লাগল। তার বুকের ভেতর একটা ভারী কিছু দলা পাকাতে লাগল।
নানি বললেন, ঘুমুতে যা। শোয়ার ঘরের আলো না জ্বালিয়েই জ্যাক কাপড় বদলাতে লাগল। খাবার রুমের আলো এসে কিছুটা আলোকিত করেছে শোয়ার ঘরটা। দুজনের শোয়ার মতো জায়গা যে বিছানাটাতে আছে সেখানে একপাশে সরে গিয়ে শুয়ে পড়ল সে যাতে ভাইয়ের গায়ের সঙ্গে ছোঁয়া না লাগে কিংবা তার ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। শোয়ার সঙ্গেই ঘুম চলে এল। সারাদিন বেশ পরিশ্রম গেছে। আবেগের ধকলও গেছে। মাঝে ভাইয়ের শোয়ার সময় তার ঘুম ভেঙে যায়। জ্যাককে পার হয়ে দেয়ালের দিকে তাকে শুতে হবে। কারণ ঘুম থেকে সে জ্যাকের পরে উঠে। মাঝে মাঝে মায়ের শোয়ার সময়ও জ্যাকের ঘুম ভেঙে যায়। কাপড় বদল করার জন্য মা অন্ধকারেই আলমারি খোলেন; খোলার শব্দে জ্যাকের ঘুম ভাঙে। মা বিছানায় উঠার সময় কোনো রকম শব্দ হয় না। তার শোয়া এবং ঘুমিয়ে পড়া খুব নিঃশব্দ। মনে হয়, তিনি জেগে আছেন। জ্যাকেরও মাঝে মাঝে সেরকমই মনে হয়েছে। মনে হয়েছে মাকে ডাকবে। তবে বুঝতে পেরেছে, মা শুনতে পাবেন না। তারপর মায়ের চুপচাপ পড়ে থাকার সঙ্গে নিজেও চুপ করে শুয়ে থেকেছে জ্যাক। এভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে এক সময় সেও ঘুমিয়ে পড়েছে। ততক্ষণে হয়তো মা ও ঘুমিয়ে পড়েছেন। সারাদিন লন্ড্রি আর অন্য লোকের বাড়িতে কাজ করে মা খুব ক্লান্ত।

শুধু বৃহস্পতিবার এবং রবিবারে পিয়েরে এবং জ্যাক নিজেদের জগতে ফিরে আসতে পারত। অবশ্য কোনো কোনো বৃহস্পতিবারে ডিটেনশন ক্লাসে আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত অতিরিক্ত দুঘণ্টা লিসেতে কাটাতে হতো। কোনো কোনো সময় মারাত্মক অপরাধ করে ফেললে চার ঘণ্টাও কাটাতে হতো। একটা রুমে আরও সব অপরাধীর সঙ্গে একজন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে তাদের পড়াশোনা করতে হতো। অতিরিক্ত ওই সময়টাতে দায়িত্ব পালন করার কারণে তত্ত্বাবধায়কের মেজাজ থাকত গরম। প্রধান তত্ত্বাবধায়কের দফতর থেকে এরকম একটা ফরমে ডিটেনশন ক্লাসের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল জ্যাকের মায়ের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। সেখানে ওই অতিরিক্ত পড়াশোনার বিষয়টিকে শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। লিসেতে পড়ার আট বছর সময়ে পিয়েরেকে একবারও ডিটেনশনে থাকতে হয়নি। জ্যাক অতিরিক্ত মাত্রায় হৈহুল্লোড়ে স্বভাবের এবং কিছুটা অহংকারী ছিল। নিজের বাহাদুরি দেখানোর জন্য প্রায়ই মজায় মত্ত থাকত এবং ডিটেনশনের পুরস্কার গলায় পড়ত। যেহেতু জ্যাক নানিকে বোঝানোর চেষ্টা করত এসব শাস্তি আচরণের জন্য দেওয়া হয় তিনি বোকামি আর খারাপ আচরণের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। তিনি বুঝতেন, একজন ভালো ছাত্রের স্বভাব চরিত্র ভালো হয়, আচার ব্যবহারও সুন্দর হয়ে থাকে। আর সুস্বভাব মানুষকে জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং তিনি অন্ততপক্ষে প্রথম বছরে বৃহস্পতিবারগুলোর শাস্তিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতেন বুধবারে জ্যাককে আচ্ছামতো পিটুনি দিয়ে।

বৃহস্পতিবারে কোনো শাস্তি না থাকলে সেদিন এবং রবিবারগুলোতে বাড়ির আশেপাশে যে সকল ছোটখাটো কাজকর্ম থাকত সেগুলো করতে হতো জ্যাককে। বিকাল বেলা পিয়েরে এবং জ্যাক বের হয়ে পড়ত এক সঙ্গে। গরমের দিনে তারা সাবলতেস সমুদ্রতট এবং একটা প্যারেড গ্রাউন্ডে যেত। প্যারেড গ্রাউন্ডটা মোটামুটি একটা ফাঁকা জায়গা। সেখানে একটা ফুটবল মাঠও ছিল। তারা ফুটবল খেলত ন্যাকড়া দিয়ে বল বানিয়ে এবং আরব আর ফরাসি ছেলেদের সমন্বয়ে তৈরি হতো দল। তবে বছরের অন্যান্য সময়ে তারা দুজন চলে যেত কুবাতে। সেখানে তাদের বেড়ানোর জায়গাটা ছিল যুদ্ধপ্রবীণদের আশ্রমে। পিয়েরের মা পোস্ট অফিসের কাজ ছেড়ে কুবাতে প্রধান লন্ড্রির কর্মীর কাজ নিয়েছিলেন। আলজিয়ার্সের পূর্বে একটা পাহাড়ি অঞ্চলের নাম কুবা। একটা ট্রলিবাসের শেষ স্টপেজ ছিল সেখানে। আসলে আলজিয়ার্সের শহরাঞ্চল ওখানে শেষ হয়েছে এবং সেহেলের শান্ত গ্রামাঞ্চলের শুরু ওখানেই। চারপশে একই রকম পাহাড় শ্রেণি, এখানে ওখানে পানির উৎসের ছড়াছড়ি, দ্রুত বর্ধনশীল ঘাস, ক্ষুধা চাগিয়ে দেওয়ার মতো গন্ধওয়ালা লাল মাটির মাঠঘাট, মাঠের মধ্যে থেকে থেকে সাইপ্রেস কিংবা লম্বা নলখাগড়ার ঝোপঝাড়ের সারি। আঙুরলতা, ফলের গাছ, শস্য সবকিছুই অবলীলায় বেড়ে উঠত খুব একটা চেষ্টা ছাড়াই। শহরের স্যাঁতসেঁতে গরমের এলাকা থেকে যারা এখানে আসত তাদের বিশ্বাস ছিল, এখানকার জলহাওয়া বলদায়ক এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আলজিয়ার্সের যাদের হাতে অধুনা কাঁচা পয়সা কিংবা সম্পদ এসেছে তারা আলজিয়ার্স ছেড়ে অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ‘ফরাসি হাওয়া’ গায়ে মাখানোর জন্য এখানে ছুটে আসত। সামান্য খানিক ঠাণ্ডা হওয়া গলাধকরণ করতে পারলেই তারা সেই হাওয়াকে ফরাসি বাতাস বলে চালিয়ে নিত। এভাবেই তারা কুবাতে এসে ফরাসি বাতাস উপভোগ করত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পরই শুরু হয়েছিল বৃদ্ধ সৈনিকদের আশ্রম। ট্রলিবাস লাইন থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত ছিল সেটা। আশ্রম তৈরি হওয়ার আগে এটা ছিল জটিল স্থাপত্যের একটা মঠ, বেশ কয়েকটা দিক খোলা, সাদা রং করা খুব পুরু সব দেয়াল, বড় বড় হলরুম এবং খিলানঢাকা, ভেতরের ছাদও খিলানের মতো বাঁকানো। তার নিচে ছিল খাবার রুম এবং অন্যান্য আচার অনুষ্ঠানের জায়গা।

পিয়েরের মা ম্যাম মারলোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত লন্ড্রিটা ছিল সেই হলরুমগুলোর একটাতে। সেখানে লোহার লন্ড্রি এবং আর্দ্র লিনেনের গন্ধের মধ্যে তিনি পিয়েরে এবং জ্যাককে স্বাগত জানাতেন। তার অধীনে ছিল দুজন কর্মচারী— একজন আরব, আরেকজন ফরাসি। তাদের দুজনকেই এক টুকরো রুটি আর একটা চকলেট খেতে দিতেন পিয়েরের মা। তারপর তার সুন্দর সবল বাহুর হাতা গুটাতে গুটাতে বলতেন, পকেটে রেখে দাও। চারটের সময় খেও। এখন বাগানে বেড়াতে যাও। আমার হাতে অনেক কাজ।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের