রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

নতুন বাজেট বাস্তবায়নেই শঙ্কা

করোনার ধকল না কাটতেই বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতি নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। নিত্যপণ্যের চড়া দামে সাধারণ মানুষের ত্রাহি অবস্থা। মূল্যস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার দৌড়ে ব্যয় কুলাতে পারছে না জনগণ। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বৃহম্পতিবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রায় পৌনে সাত লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে। এতে আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

তারমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এই ঘাটতি পূরণে বিদেশি ও দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটে অর্থের জোগান থেকে শুরু করে বাস্তবায়নে শঙ্কা রয়েছে।

বাজেটের রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে শুরু হয়েছে টানাহ্যাচড়া। কারণ আমদানি ব্যয় মেটাতে টাকা অবমূল্যায়ন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ডলারের দাম ৯২ টাকা হয়েছে। রিজার্ভ কমে ৪২ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাজার সামলাতে ব্যাংকের কাছে প্রায় প্রতিদিন ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে, রাজস্ব বাড়াতে তাগিদ দেওয়া হলেও ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি। যা খুবই দরকার ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডলারের সংকট দুর করতে ও আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকার বাজেটে বিভিন্ন সময়ে পাচার করা টাকা আনতে জোড়ালোভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা অর্থ পাচাররোধে কাজ করছে। তাই বাইরে থেকে টাকা ফেরতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারাই দেশে টাকা ফেরত আনবে তাদের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। আইন করেই তাদের সেই সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজেটে তা ঘোষণা করা হয়েছে। কাজেই যারা দেশে টাকা পাঠাবে তাদের ভয়ের কিছু নেই। গোপনীয়তা মানা হবে। এটা দেশের জন্য করা হচ্ছে। এ কাজে কেউ বাধা দেবেন না।’

তারপরও অর্থনীতিবিদ এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এই প্রক্রিয়া অনৈতিক। শুধু তাই নয়, এটা কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্যও নয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, ‘পাচার করা টাকা কর দিয়ে দেশে আনার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এতে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। এটা অনৈতিক। এটা থেকে কোনো অর্থ আসবে না। কারণ যারা দেশের বাইরে টাকা পাচার করে, তারা দেশে ফিরে আসার জন্য টাকা পাচার করে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনও বলেছেন, ‘৭ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত আনার প্রস্তাব অনৈতিক ও বেআইনি। এসব অর্থ বৈধ হয়ে গেলে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না আয়কর কর্তৃপক্ষসহ কোনো কর্তৃপক্ষ।’

শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনও বলেছেন, ‘ব্যবসায়ীরা ২৭ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করে। এ ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। আর কেউ বিদেশে টাকা পাচার করেছে, সে টাকা দেশে আনা হলে সৎ ব্যবসায়ীরা উৎসাহ হারাবে। ডলারের সংকট দূর করতে সরকার হয়ত পাচার করা টাকা আনার কথা বলছে। কিন্তু আমরা এটা সমর্থন করি না। কারণ পাচার করা অর্থ দেশে আনা হলে ভালো ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন।’

আবার করোনার ধকল সামলে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তাপে দেশের মূল্যস্ফীতি সবাইকে দগ্ধ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করলেও পরিত্রাণের ইতিবাচক দিক এখনও অস্পষ্ট। মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে কমানো হয়নি অনেক নিত্যপণ্যের দাম। এ ছাড়া বাজেট ঘোষণার দিনই সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে ২০৫ টাকা লিটার করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে বেশি করে ব্যয় করতে গিয়ে দেশি-বিদেশি যে ঋণের সুদ আসবে সেটি পরিশোধেই সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা মোট ব্যয়ের ১৯ দশমিক দুই শতাংশ।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় শিল্পকে রক্ষায় অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে আমদানিকৃত পণ্যের উপর। এমনকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থাকলেও ল্যাপটপ আমদানিতেও কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সব কারণে আগামীর বাজেট ব্যবসাবান্ধব হলেও জনবান্ধব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, ‘বাজেটে কোথাও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে আবার কোথাও কমানো হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে আমরা যে সংকটকালীন অবস্থায় আছি, সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোনো ইনোভেটিভ প্রস্তাব এই বাজেটে আসেনি। বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থচিন্তা করে বাজেট তৈরি হয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষা করা হয়নি।

করোনার প্রভাবে অনেকে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের হার ২০ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং ১০ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে বেড়ে গেছে। অথচ সামাজিক নিরাপত্তাখাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ দশমিক আট শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভর্তুকি ও প্রণোদনায় ৮২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় করার প্রস্তাব করেছেন। যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৫৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এটা এক বছরের ব্যবধানে বাড়লেও তা আশানুরুপ নয়। কারণ করোনায় বেকারত্ব অনেক বেড়ে গেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, এ বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশাসন। যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করতে হবে। ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই তিন লাখ টাকা প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তা বাড়ানো দরকার।’

কোভিভ-১৯ পরিস্থিতি এবং রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, পণ্যের কাঁচামালের মূল্য এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সব ধরনের দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

কঠিন সময়েও বাজেটের আকার রেকর্ড পরিমান বাড়ানো হয়েছে। ৬ লাখ সাড়ে তিন হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু এই ব্যয়ের মধ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকাই খরচ হবে উন্নয়ন খাতে। তাই এই ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষদের যুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারণ উন্নয়ন ব্যয়ের নামে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা হরিলুট করছে। অযথা বিদেশ ভ্রমন, শিক্ষা সফরের নামে ব্যয় করছে। যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে সেগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হাওড়ে বাঁধ নির্মাণেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের উপর জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘নাগরিকদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে হবে। ঢালাওভাবে সব কোম্পানির জন্য উৎসে কর বাড়ানো, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের উপর কর বৃদ্ধি, এবং পাচার করা টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রাখার যে প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে সেগুলো অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতে হবে’।

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এর প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। করোনা পরবর্তী সময়ে এ বিশাল বাজেট অর্জন সরকারের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে প্রফেশনালদের সম্পৃক্ততা আব্যশক। ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা দরকার।’

জেডএ/এনএইচবি/আরএ/

Header Ad
Header Ad

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। শনিবার (৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি এবং মাস্কের অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ওয়াশিংটনের কানেটিকাট অ্যাভিনিউ ও ন্যাশনাল মল এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই’, ‘মাস্ককে বিতাড়িত করুন’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। আয়োজকদের ধারণা, শুধু ওয়াশিংটনেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউরোপের শহরগুলোতেও ছিল একই দৃশ্য। জার্মানির বার্লিনে টেসলার শোরুমের সামনে এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘হ্যান্ডস অফ’ ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার: ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’, ‘ট্রাম্প চলে যাও’। প্যারিসের প্যালেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় মার্কিন অভিবাসীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যেখানে ‘আইনের শাসন চাই’, ‘অত্যাচারীকে প্রতিহত করুন’—এমন বার্তাবাহী প্ল্যাকার্ড বহন করা হয়।

লন্ডন, লিসবনসহ আরও বেশ কিছু শহরেও মাস্ক ও ট্রাম্প বিরোধী আন্দোলনের ঝড় উঠে। বার্লিনে “ইলন, তোমাকে কেউ ভোট দেয়নি”—এই স্লোগানটি মাস্কের অগণতান্ত্রিক প্রভাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মনোভাব স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। আয়োজকরা বলেন, এখনকার বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তঃসংযুক্ত—একটি দেশের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে অন্য দেশেও। এই বিক্ষোভ তাই স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজাগরণের প্রতিচ্ছবি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Header Ad
Header Ad

চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিজিটিএন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর এবং কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে চান তিনি। শনিবার (৫ এপ্রিল) চার মিনিটের সেই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এই সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলোর জন্যও উপকার বয়ে আনবে।” তিনি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প-কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে রয়েছে, আর এ যাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে চীনের ভূমিকা হতে পারে উল্লেখযোগ্য। “আমাদের অর্ধেক জনগণের বয়স ২৭ বছরের নিচে। এরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, এবং তাদের অর্থনৈতিক দক্ষতায় পরিণত করতে হবে,” বলেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্য আরও এগিয়ে নিতে সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি বাংলাদেশে চাইনিজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশের মানুষ চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চীনের সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “চীনের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও পরিষেবা থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে পারে। দেশের সাধারণ মানুষ চীনের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেতে আগ্রহী।”

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শান্তিই একমাত্র সমাধান, যুদ্ধ কোনো পথ নয়। একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার বিকল্প নেই।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ চীনের হাইনান দ্বীপে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে বেইজিং সফর করেন। এটি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব বড় নয়, সামাল দেয়া সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। রবিবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে যেসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হবে না।

তিনি জানান, “ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমাদের রপ্তানি বাজার বহুমুখী, সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আছি।”

ঈদের পরবর্তী সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “মানুষ এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করেছে। মার্চ মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যার প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।”

সালেহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং যেকোনো বৈশ্বিক চাপে তা টিকে থাকতে সক্ষম হবে।

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা
চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব বড় নয়, সামাল দেয়া সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা
রাশিয়ার দাবি ইউক্রেনে একদিনে ৪৩০ সেনা হতাহত
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায় হেফাজত, বিএনপির সঙ্গে একমত
চীনের পাল্টা শুল্কারোপে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উত্তেজনা
সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
পরকীয়া করলে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের আইন করতেন অপু বিশ্বাস
বিএনপির দল পুনর্গঠনে তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অগ্রাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে: প্রেসসচিব
টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ
বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫