ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫৪

ছবি: সংগৃহীত
শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৫৪ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪ হাজার ৮৫০ জন, নিখোঁজ রয়েছেন ২২০ জন। শনিবার (৫ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সফররত জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় মানবিক ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমরাপুরা। সেখানে খাবার ও ত্রাণ সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সামান্য খাবার পেতেও মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
এদিকে, সেনা সরকারপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং একটি বিদেশ সফর শেষে নেপিদোতে ফিরেছেন। তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন এবং সেখানে থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে জেনারেল মিন অং হ্লাইং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে 'স্বাধীন ও নিরপেক্ষ' নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে জান্তা সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেন, “নির্বাচন হতে হবে সমন্বিত ও বিশ্বাসযোগ্য।”
তবে সমালোচকরা এই নির্বাচনী পরিকল্পনাকে 'প্রহসন' বলেই দেখছেন। তাদের মতে, এতে সেনাবাহিনী কেবল নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত।
২০২১ সালে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাতের পর থেকে সেনাবাহিনী ব্যর্থভাবে দেশ পরিচালনা করে আসছে। ফলে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবাখাত ভেঙে পড়েছে। ২৮ মার্চের ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে ৩০ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ জনগণ মানবিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছে।
এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দফতর জানিয়েছে, জান্তা সরকার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা সরবরাহে বাধা দিচ্ছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় তারা জনগণের সমর্থন হারিয়েছে। তারা আরও জানায়, ৫৩টি হামলার তদন্ত চলছে, যার মধ্যে ১৬টি যুদ্ধবিরতির পর সংঘটিত, এবং কয়েকটিতে বিমান হামলার ঘটনাও রয়েছে।
