শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৫৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান

পরের দিন ম্যানেজার সব কর্মকর্তা কর্মচারীকে তার রুমে ডাকলেন হাতে হাতে বেতন দেওয়ার জন্য। জ্যাকের দিকে তাকিয়ে একটা খাম এগিয়ে দিয়ে বললেন, এই নাও, বাছা। জ্যাক দ্বিধান্বিত হাত বাড়াল। তিনি হাসিমুখে বললেন, তোমার কাজ বেশ ভালো হচ্ছে। তোমার বাবা-মাকে জানিয়ে দিতে পারো।

জ্যাক ততক্ষণে কথা বলা শুরু করেছে এবং জানাতে থাকে, সে আর আসবে না। ম্যানেজার বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তার খাম ধরা হাত তখনও জ্যাকের দিকে প্রসারিত। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কেন? জ্যাককে তখন মিথ্যা বলতে হবে। কিন্তু মিথ্যা তার মুখ দিয়ে বের হবে না। জ্যাকের দুঃখী চাহনির দিকে তাকিয়ে থেকে ম্যানেজার বুঝতে পারেন এবং জিজ্ঞেস করেন— ও, তাহলে তুমি লিসেতে ফিরে যাবে?

হ্যাঁ, উত্তর দেয় জ্যাক। ভয় আর অসহায়ত্বের মধ্যে আকস্মিক স্বস্তির সম্ভাবনা তার চোখে জল নিয়ে আসে।

উত্তেজিত হয়ে ম্যানেজার দাঁড়িয়ে পড়লেন, তুমি যখন এখানে কাজ নিলে তখন তুমি জানতে তোমাকে ফিরে যেতে হবে। তোমার নানিও জানতেন নিশ্চয়ই! জ্যাক শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে ইতিবাচক অর্থটাই প্রকাশ করতে পারে। ম্যানেজারের কণ্ঠ থেকে বজ্র নিনাদ ঝড়ে পড়ে। তিনি বুঝতে পারছেন, তারা অসৎ। তিনি অসততা পছন্দ করেন না। তিনি যদি জানতে পারতেন তার অধিকার আছে জ্যাককে বেতন না দেওয়ার, তিনি যদি জানতে পারতেন তাকে বোকা হতে হবে! না, তিনি বেতন দেবেন না। তার নানিকে আসতে হবে। তাকে সাদরে স্বাগত জানানো হবে। শুরুতে তারা যদি তাকে সত্য কথাটা বলত তবু হয়ত তিনি জ্যাককে কাজে নিতেন। কিন্তু কী ভয়ংকর কথা লিসেতে তার থাকার সাধ্য নেই, তারা খুব গরিব, তাকে কাজে নিতেই হবে!
বিমূঢ় জ্যাক শুধু বলতে পারে, শুধু ওই কারণেই।
কেন ওই কারণে?
কারণ আমরা গরিব। তারপর জ্যাক নীরব হয়ে যায়। তার দিকে তাকিয়ে ম্যানেজার বলতে থাকেন, ওই কারণেই তুমি এরকম একটা কাজ করতে পারলে? ওই কারণেই এরকম একটা কাহিনি ফাঁদলে? জ্যাক শক্ত মুঠিতে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে। অন্তহীন নীরবতা ঘিরে ধরে। তারপর ম্যানেজার টেবিল থেকে খামটা নিয়ে জ্যাকের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে কর্কশ কণ্ঠে বলেন, নাও তোমার বেতন। এবার ভাগো এখান থেকে।
জ্যাক বলে, না।

এবার ম্যানেজার খামটা জ্যাকের পকেটের মধ্যে ঠেসে দিয়ে বলেন, ভাগো এখন!
রাস্তায় নেমে জ্যাক দৌড়তে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে সে দুহাতে শার্টের কলার চেপে ধরে যাতে পকেটের টাকার সঙ্গে তার হাতের ছোঁয়া না লাগে।
ছুটি না কাটানোর অধিকারের জন্য মিথ্যা বলা, গ্রীষ্মের আকাশ এবং তার ভালোাবাসার সমুদ্র থেকে দূরে কাজ করা এবং লিসেতে ফিরে আসার উদ্দেশে কাজ ত্যাগ করতে গিয়ে মিথ্যা বলা— এসব অবিচার তাকে প্রচণ্ড দুঃখী করে তোলে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল মিথ্যা বলা। অবশ্য সে মিথ্যা বলতে পারত না এবং মিথ্যা বলতে হয়নি। আনন্দ-ফুর্তি করার ক্ষেত্রে সে মিথ্যা বলতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা তার পক্ষে কঠিন। কাজ করার কারণে তার সবচেয়ে প্রিয় ছুটিটাই হারাতে হয়েছে, তার কাছ থেকে তার ছুটির অধিকার হরণ করা হয়েছে। এখন শুধু তাড়াহুড়ো করে শুরু হওয়া এবং দ্রুত ধাবমান বিষণ্ন দিনগুলো ছাড়া বছরের সামনের দিনগুলোতে আর কিছু নেই। দারিদ্রের মধ্যে থেকেও পেটুকের মতো করে যেসব রাজকীয় আনন্দ এবং অপূরণীয় সম্পদ উপভোগ করতে পারত সেগুলো হারাতে হয়েছে সামান্য কয়েকটা টাকা উপার্জনের জন্য, ওই কয়টা টাকা দিয়ে তার আনন্দের লক্ষ ভাগের এক ভাগও কেনা যাবে না। তবু সে বুঝতে পারে, ওই কাজটা না করলে তার উপায় ছিল না। কাজটা করার সময় সে অন্য সময়ের চেয়ে অনেকখানি বেশি বিদ্রোহী ছিল। কাজটা করার পরে তার গর্বও হয়েছে। মিথ্যা বলার অসহায়ত্বের ক্ষতিপূরণ সে প্রথম বেতনের দিনই পেয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে প্রথমেই খাবার ঘরে ঢুকে দেখতে পেল, তার নানি আলুর খোসা ছড়িয়ে বেসিনের পানির মধ্যে ছুড়ে মারছেন। আর্নেস্ট মামা বসে তার দুপায়ের মাঝে ধরে রাখা কুকুর ব্রিলিয়ান্টের গা থেকে মাছি তাড়ান। মা কিছুক্ষণ আগে ফিরেছেন এবং দেয়ালের পাশের ড্রয়ারের মতো জায়গাটা থেকে ধোয়ার জন্য এক স্তুপ কাপড় বের করছেন। জ্যাক সরাসরি এগিয়ে গিয়ে টেবিলের ওপর একশো ফ্রাঁ এবং একটা মুদ্রা রাখল। সারা পথ সে মুদ্রাটা হাতের মুঠোয় ধরে বাড়ি ফিরেছে। কোনো কথা না বলে নানি তার দিকে বিশ ফ্রাঁ এগিয়ে দিলেন এবং বাকিটা নিয়ে নিলেন। হাত দিয়ে ক্যাথরিন করমারির গা ছুঁয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, তোর ছেলে একটা কাজের মতো কাজ করেছে।

মায়ের দুঃখী চাহনি ছেলেকে আদর করে দিল। মা মুখে বললেন, হ্যাঁ।
অর্নেস্ট মামার পায়ের মাঝখানে ধরা ব্রিলিয়ান্ট ভাবল, তার কঠিন পরীক্ষা শেষ। তবে মামা কুকুরটাকে পায়ের মধ্যে ধরে রেখই বলল, ভালো, ভালো। বড় হয়ে গেছ।

সে অবশ্যই বড় হয়ে গেছে, তার ঋণের খুব অল্প একটা অংশ হলেও সে শোধ করে দিতে পেরেছে। সামান্য ওই টাকা দিয়ে পরিবারের দারিদ্র কিছুটা কমাতে পেরেছে— এই ধারণাটা তার মনকে কিছুটা দুষ্ট অহংকারে ভরে তুলল। এরকম অহংবোধ মানুষের মনে এসে থাকে যখন সে স্বাধীনবোধ করে এবং বুঝতে পারে, কোনো কিছুর কাছে, কারো কাছে তাকে আর অধীন হয়ে থাকতে হবে না। পঞ্চম বর্ষের ক্লাস শুরুর প্রথম দিন লিসের চত্বরে পা রেখেই বুঝতে পারে, সে আগের মতো নেই; চার বছর আগে বেলকোর্ট ছেড়ে প্রথম যেদিন এসেছিল সেদিনের মতো অচেনা সে নয়। সেদিন পায়ের তলার পুরু তলিঅলা জুতা পরে কেমন যেন টলোমলো মনে হচ্ছিল। অচেনা যে জগৎ তার জন্য অপেক্ষা করছিল সে জগৎ সম্পর্কে তার মনের ভেতর অনেক অজানা আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আজ তার সহপাঠীদের দিকে সে যে চাহনি নিয়ে তাকাচ্ছে সে চাহনির মধ্যে নিষ্পাপ ভাবটা অনেকখানি অনুপস্থিত। তা ছাড়া ওই সময়ের মধ্যে তাকে শৈশব থেকে অনেক কিছুই ওপরের দিকে টেনে নিয়ে গেছে। সেদিনের আগ পর্যন্ত সে নানির হাতের প্রচণ্ড মার খেয়ে এসেছে বিনা প্রতিবাদে যেন মার খাওয়া বাল্যবেলার একটা অপ্রতিরোধ্য বাধ্যবাধকতা। কিন্তু এখন জ্যাককে মারতে গেলে সে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যদি তার হাত থেকে চামড়ার চাবুকটা কেড়ে নেয়— এই ভয়ে নানি একদিন নিজের রুমের দিকে ফিরে গিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদা শুরু করলেন। বুঝতে পারলেন, এতদিন ধরে এই অস্বাভাবিক শিশুকে বড় করেছেন। এটা তার দুর্ভাগ্য। তার আফসোসের আরও কারণ হলো, জ্যাককে তিনি আর কখনো মারতে পারবেন না। বাস্তবে অবশ্য তা-ই হয়েছিল, জ্যাককে আর মারতে পারেননি তিনি। কারণ, ততদিনে এই হালকা পাতলা পৌরুষদীপ্ত কিশোরের মধ্য থেকে আগের সেই বালকটি হারিয়ে গেছে। ছোট ছোট করে ছাঁটা চুল এবং আগুনে চাহনির এই যুবক গ্রীষ্মের গোটা সময় কাজ করে পরিবারের জন্য উপার্জন করেছে। সে লিসের ফুটবল দলের প্রথম সারির গোল রক্ষক। দিন তিনেক আগে জীবনে প্রথমবারের মতো সে একটা মেয়ের ঠোঁটের কম্পমান স্পর্শও লাভ করে ফেলেছে।

হ্যাঁ, এই বালকের জীবন এরকমই ছিল। দারিদ্র-দ্বীপের প্রচণ্ড প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত প্রতিবেশের জীবন এরকমই ছিল। অজ্ঞ আর প্রতিবন্দ্বী পরিবারে উঠতি যুবা বয়সের টগবগে রক্তের বয়সে অজানা এক জগৎ তার জীবনের জন্য প্রচণ্ড ক্ষুধা, বশ না মানা ক্ষুধার্ত ধীশক্তি এবং সর্বদা আনন্দের উত্তুঙ্গ মানসকে প্রত্যাঘাতে ধরাশায়ী করতে চেষ্টা করেছে। মুহূর্তের জন্য সে লজ্জিত বোধ করেছে। আবার উঠে দাঁড়িয়েছে, শিখতে চেষ্টা করেছে এবং বুঝতে চেষ্টা করেছে এই অচেনা জগৎ। এই জগতৎ সে নিজের ভেতর ধারণ করার চেষ্টা করেছে। কারণ সে এই জগৎ নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধরার চেষ্টা করেছে। সে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে। তবে নিজেকে ছোট করে নয় এবং শেষমেষ সে যে আত্মবিশ্বাস পায়নি তা নয়। হ্যাঁ, এক ধরনের নিশ্চয়তা সে পেয়েছে যেহেতু সে নিশ্চিত হতে পেরেছে, সে যা মনপ্রাণ দিয়ে চায় তা সে পাবে। যা কিছু এই জগতের এবং শুধুই এই জগতের সেসবের কোনো কিছুই তার কাছে অসম্ভব হয়ে থাকবে না। যে কোনোখানে একটুখানি ভরসার জায়গা পাওয়ার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করছিল। ছেলেবেলার শূন্যতা নিয়েই সে নিজেকে প্রস্তুত করছিল। কারণ কোনো উচ্চাভিলাষী আসন সে চায়নি। সে শুধু চেয়েছে আনন্দ, মুক্ত প্রাণশক্তি, উদ্যম এবং জীবনে যা কিছু ভালো এবং পয়সার কাছে বিকিয়ে দিতে হয় না এমন কিছু। এমনকি দারিদ্রের বলই নিজেকে সে প্রস্তুত করতে থাকে, যাতে একদিন পয়সা না চেয়ে, পয়সার কাছে নতিস্বীকার না করে, পয়সা গ্রহণ করতে পারে, ঠিক এখন চল্লিশ বছর বয়সী জ্যাক যেমন অনেক দোদুল্যমান হয়েও অনেকখানি নিশ্চিত যে, অন্যসব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব যারা তাদের চেয়েও নিঃস্ব সে, একমাত্র মা ছাড়া আর কেউ নেই তার। এভাবেই সে জীবন পার করেছে সমুদ্রের ধারে, ঝড়ো বাতাসের মধ্যে, খোলা রাস্তায়, গ্রীষ্মের খরতাপের নিচে, সংক্ষিপ্ত শীতের ভারী বর্ষণ-তলের খেলাধুলার মধ্যে। জীবন পার করেছে সে বাবা ছাড়া। উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো কিছুই পায়নি সে। জীবনে একটি বছরের জন্য বাবাকে খুব দরকার ছিল। চারপাশের মানুষজন আর বিভিন্ন বিষয় থেকে শিক্ষা লাভ করেছে। যে জ্ঞান তার কাছে নিজেই এসে হাজির হয়েছে সে জ্ঞান দিয়েই সে বুঝে নিয়েছে, কখন কোনো আচরণের আদব শিখতে হবে এবং নিজের উত্তরাধিকার নিজেই তৈরি করতে হবে। তার পরিস্থিতির জন্য কখনো যথেষ্ট মনে হয়েছে সেই আদব, কখনো বা পৃথিবীর ক্ষতের মুখোমুখি হলে পরবর্তীতে অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৫০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান:পর্ব-৪৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব-৪৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

আরএ/

 

Header Ad
Header Ad

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা মিয়ানমারকে সরবরাহ করেছিল। এখনো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে। মূল তালিকায় থাকা বাকি সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত এই জোট বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৃহত্তর সংহতকরণের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ ভাগে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাত সদস্যের আঞ্চলিক ব্লক—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেক সনদ অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতীকী গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বিদায়ী বিমসটেক সভাপতি স্বাগত ভাষণ দেন। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এছাড়া, সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ