শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান

স্কুলের পড়া শেষ হয়ে আসার সময় একদিন এম বার্নার্ড জ্যাক, পিয়েরে, ফ্লিউরি এবং সান্টিয়াগোকে ড্কালেন। প্রথম তিনজন সকল বিষয়ে অসাধারণ পাণ্ডিত্য দেখিয়েছে। সুদর্শন সান্টিয়াগো খুব বেশি মেধাবী না হলেও নিজের চেষ্টায় ভালো করেছে। তাকে উদ্দেশ করে এম বার্নার্ড বললেন, ওর পলিটেকনিক মেধা। ক্লাসরুমের অন্যরা চলে যাওয়ার পরে তিনি ওদের বললেন, তোমরা আমার সবচেয়ে ভালো ছাত্র। এখন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বৃত্তির জন্য আমি তোমাদের নাম প্রস্তাব করব। পরীক্ষায় পাশ করলে তোমরা বৃত্তি পাবে এবং প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে লিসিতে তোমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। বলা হয়, এলিমেন্টারি স্কুলগুলো স্কুলের সেরা। তবে জীবনে কোনো বৃহত্তর দিকে যেতে হলে এলিমেন্টারি স্কুল তোমাদের পথ দেখাতে পারে না। অন্যদিকে লিসিতে পড়াশোনা করলে অনেক দরজা খোলা পাবে। আর আমি চাই তোমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের ছেলেরা ওইসব দরজা দিয়ে বাইরের জগতে প্রবেশ করো। তবে সে উদ্দেশে তোমাদের অভিভাবকদের অনুমতি লাগবে। ঠিক আছে, আজকের মতো যাও।


তারা সবাই বিস্ময়াভিভূত হয়ে বের হয়ে এল। এমনকি যার যার পথ ধরার আগে এই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আর কোনো আলাপ আলোচনাই হলো না। বাড়ি ফিরে জ্যাক দেখল, নানি খাবার ঘরের টেবিলের ওপরের ওয়েলক্লথের ওপরে বিছানো ডাল থেকে পাথর বাছছেন। খবরটা নানিকে দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল সে। শেষে সিদ্ধান্ত নিল, মা ফিরলে জানাবে। মা ফিরলেন খুব ক্লান্ত হয়ে এবং ফিরেই একটা অ্যাপ্রোন পরে নানির ডাল বাছার কাজে যোগ দিলেন। জ্যাকও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা বললে তারা জ্যাককে মোটা চিনা মাটির বাটিতে করে ডাল বাছতে দিলেন। ওই বাটিটাতে ডাল থেকে পাথরের নুড়ি বেছে ফেলা সহজ। ডাল বাছার কাজ শুরু করেই জ্যাক তার খবরটা জানাল তাদের।


শুনে নানি বললেন, এ আবার কোন ধরনের পড়া? এই প্রবেশিকার পড়া পড়তে কয় বছর লাগবে?
ছয় বছর।


নিজের সামনের ডালের প্লেটটা একপাশে সরিয়ে রেখে নানি তার মেয়ের উদ্দেশে বললেন, শুনেছিস কী বলছে জ্যাক?


মা আসলে শোনেননি। জ্যাক ধীরে ধীরে আবারো তার কথাটা বলল এবং মা বললেন, হ্যাঁ, সে বুঝতে পারছি। তুই বুদ্ধিমান বলেই ওরকম পড়ার সুযোগ পেতে পারিস।

নানি বললেন, বুদ্ধিমান হোক আর যা-ই হোক ওকে তো আগামী বছরই কাজকর্মে পাঠাতে চাচ্ছিলাম। জানিস তো, আমাদের টাকা পয়সা নেই। কাজে পাঠালে ও নিজের উপার্জনটা তো আনতে পারবে।
মা বললেন, সেটা ঠিকই।

বাইরে তখন তাপের তেজ কমে আসছে। দিনটাও ফুরিয়ে আসছে। দিনের এই সময়টাতে শুধু কারখানায় কাজ চলছে। পাড়ার সব কিছু নীরবতায় ঢাকা। জ্যাক রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে না তার কী চাই। শুধু জানে, এম বার্নার্ড যা বলেছেন সেটাই মানতে হবে। তবে নয় বছর বয়সে নানিকে না মানার কোনো উপায় নেই, ইচ্ছেও নেই। তখনও নানি দ্বিধান্বিত; তিনি বললেন, তারপর কী করবি তুই?

আমি জানি না। হতে পারে, এম বার্নার্ডের মতো কোনো শিক্ষক হবো।

ছয় বছর পড়েই, হ্যাঁ। তার ডাল বাছার গতি আরো ধীর হয়ে এল। তারপর আবার বললেন, না, মোটের ওপর আমরা তো গরিব। এম বার্নার্ডকে বলিস আমরা পারব না।

পরের দিন বাকি তিনজন জ্যাককে জানাল, তাদের পরিবারের সবাই রাজী হয়েছেন। তারা জ্যাকের খবর জানতে চাইলে জ্যাক বলল, জানি না। বাকি তিনজনের চেয়ে সে আরো গরিব। এই ভাবনাটাই তাকে মনের দিক থেকে আরো তলিয়ে দিল যেন।

স্কুল ছুটির পর সবাই চলে গেলে ওরা চারজন অপেক্ষা করতে লাগল। পিয়েরে, ফ্লিউর এবং সান্টিয়াগো তাদের কথা এম বার্নার্ডকে জানিয়ে দিল। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আর তোমার খবর কী পÐিত?
আমি জানি না।

তিনি জ্যাকের দিকে তাকালেন। বাকি তিনজনকে বললেন, ঠিক আছে, তোমাদের কিন্তু স্কুল ছুটির পর বিকেলে আমার সঙ্গে আরো পড়তে হবে। আজ আপাতত যাও। ওরা চলে গেলে তিনি চেয়ারে বসে জ্যাককে আরো কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ঠিক আছে?

জ্যাক বলল, নানি বলেছেন, আমরা খুব গরিব বলে ওই পড়াটা আমার আর হবে না। আগামী বছর থেকে আমাকে কাজ করতে হবে।

আর তোমার মা?
সবকিছু নানির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলে।

জানি, বলে এম বার্নার্ড খানিক কী যেন ভাবলেন। তারপর জ্যাকের কাঁধের ওপর হাত রেখে বললেন, শোনো ওনাকে দোষ দেওয়া যায় না। তার জন্য জীবন খুব কঠিন। কী রকম নিঃসঙ্গ অবস্থায় তোমাকে, তোমার ভাইকে বড় করছেন তারা দুজন। তোমরা যে এত ভালো ছেলে হয়েছো তার জন্যই। সুতরাং তার সাহসহারা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বৃত্তির টাকা ছাড়াও আরো সামান্য কিছু টাকা তোমার দরকার হবে। আর ছয়টা বছর তুমি পরিবারকে কোনো টাকা পয়সা দিতে পারবে না। তার অবস্থাটা বুঝতে পারছ? শিক্ষকের দিকে মুখ না তুলেই জ্যাক শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল। এম বার্নার্ড বললেন, ভালো। আমরা তো বিষয়টা ওনাকে বুঝিয়ে বলতে পারি। তোমার ব্যাগ নাও। আমি তোমার সাথে আসছি।

আমাদের বাড়িতে?

হ্যাঁ, অনেক দিন পর তোমার মায়ের সাথে দেখা হলে ভালোই লাগবে।

কয়েক মিনিট পরই বিস্মিত জ্যাকের সামনে দাঁড়িয়ে এম বার্নার্ড তাদের দরজার কড়া নাড়লেন। অ্যাপ্রোনে হাত মুছতে মুছতে দরজায় এলেন জ্যাকের নানি। অ্যাপ্রোনের ফিতা বেশি আঁটো করে বাধার কারণে তার বুড়ি বয়সের পেটটা সামনের দিকে বেরিয়ে এসেছে। জ্যাকের শিক্ষককে দেখে তিনি এমন অঙ্গভঙ্গি করলেন যেন তার চুল হাত দিয়ে পেছনের দিকে সরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি কিছু বলার আগেই এম বার্নার্ড বলে উঠলেন, তাহলে ইনি তোমার নানি।
নিত্যদিনের মতো কাজেকর্মে কঠিন ব্যস্ত। আহা, আসলেই আপনি খুব কর্মী মানুষ। জ্যাকের নানি তাকে খাবার রুমে ঢোকার আগে যে রুমটা পার হতে হয় সেটার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। টেবিলে তাকে বসতে দিয়ে গ্লাস এনে তার সামনে এক বোতল এনিসেত রাখলেন আপ্যায়নের জন্য।

এম বার্নার্ড বললেন, আপনি ব্যস্ত হবেন না। আমি এসেছি আপনার সাথে কয়েকটা জরুরি কথা বলতে। কথা শুরু করলেন তার ছেলেমেয়েদের প্রসঙ্গ দিয়ে; এরপর খামারে তার জীবন এবং তার স্বামী সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলেন। এরপর তিনি নিজের সন্তানদের কথাও বললেন। তখন জ্যাকের মা এলেন; মনে হলো কিছুটা আতঙ্কিত। তবু এম বার্নার্ডকে সম্বোধন করলেন মসিঁয়ে লে মাইত্রে বলে। নিজের ঘরে ঢুকে চুলে চিরুনি চালিয়ে এবং আরেকটা অ্যাপ্রোন চাপিয়ে বের হয়ে এসে বসলেন টেবিল থেকে একটু দূরের একটা চেয়ারের কোণায়। জ্যাকের উদ্দেশ্যে এম বার্নার্ড বললেন, তুমি রাস্তার ধারে গিয়ে দাঁড়াও। আমি না আসা পর্যন্ত ওখানে অপেক্ষা করো। জ্যাকের নানিকে এম বার্নার্ড বললেন, বুঝতে পারছেন হয়তো, আমি জ্যাকের পক্ষে কয়েকটা কথা বলতে চাই। সত্যি বলতে কী, ওর ওপরে ভরসা রাখা যায়। জ্যাক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে রাস্তার সামনে দরজায় এসে দাঁড়াল। জ্যাক ওখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষায় রইল। ততক্ষণে রাস্তা জনকোলাহলে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। ডুমুর গাছের ফাঁক দিয়ে আকাশটা সবুজ রং ধারণ করছে। এম বার্নার্ড সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসে জ্যাকের পেছনে দাঁড়ালেন। জ্যাকের মাথায় আদরের একটা সুরসুরি দিয়ে তিনি বললেন, ঠিক আছে; সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। তোমার নানি আসলেই খুব ভালো মানুষ গো। আর তোমার মা, তার কথা আর কী বলব...। তাকে কখনও ভুলে যেও না, বাছা।


চলবে..

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

 

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের