সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

আন্তর্জাতিক সুখ দিবসের প্রত্যাশা

২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২০ মার্চ সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক সুখ দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। ২০১২ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটানের উপস্থাপিত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক সুখ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মানুষের জীবনে সুখের গুরুত্ব এবং সুখ প্রাপ্তিতে বাধার কারণগুলো তুলে ধরার জন্য দিবসটি পালন করা হয়। মূলত দিনটি উদযাপনের উদ্দেশ্যই হলো অসুখী মানুষদের সুখের সন্ধান দেওয়া, পথ দেখানো।

আন্তর্জাতিক সুখ দিবস একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠান হওয়ায় বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। সরকার, সুশীল সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহ এই দিনে সম্মেলন, জনসমাবেশ, আলোচনা সভা, ইত্যাদির আয়োজন করে যাতে জনগণকে সচেতন করা যায় যে সুখী হওয়া একটি মানবাধিকার। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও দিবসটি পালনের জন্য নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও কম জনসমাগম এবং ন্যূনতম কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রেখে দিবসটি উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এবারের সুখ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো–শান্ত থাকুন, বিচক্ষন হোন, দয়ালু হোন। অর্থাৎ প্রতিপাদ্যটিতে সুখ অর্জনের জন্য তিনটি মৌলিক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখতে পারলে আমরা সর্বোচ্চ তৃপ্তি ও সুখ পেতে পারি। শান্ত থাকলে শান্তির পরিবেশ বজায় থাকে। আর শান্তি সুখ সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। বিচক্ষণতার সঙ্গে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা আমাদেরকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সফলতা মনের প্রসন্নতাকে উজ্জীবিত করে সুখের অনুভূতি দেয়। দয়া হলো একজন মানুষের সেরা মানবিক গুণাবলীর একটি এবং অন্যের প্রতি সদয় হওয়া তাকে অপার সুখের জগতে নিয়ে যায়। দয়া-দাক্ষিণ্য অনুশীলনের মাধ্যমে মনে যে আনন্দানুভূতির সৃষ্টি হয় তার তুলনা হয় না। বিদ্যমান কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে এ বিষয়গুলো আমাদের সকলের জীবনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষিতে এই প্রতিপাদ্যটি নির্ধারণ যথাযথ হয়েছে বলে মনে করি।

পৃথিবীতে কে না সুখী হতে চায়? একজন মানুষের জীবনে সুখের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই হতে পারে না। এই যে আমরা এতো পরিশ্রম করছি সেতো সুখের জন্যই। জীবন তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে যখন সুখের আলোয় কারো জীবন আলোকিত হয়। সুখী মানুষের জীবনের সবকিছুই সুন্দর, প্রাণময় এবং গতিশীল। অসুখী মানুষের জীবনে কোনো কিছুরই মূল্য নেই, সবই যেন শূন্যতায় ভরা। জন্মই তার কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। সে যেন এক অভিশপ্ত জীবন, কোনো দিন শেষ হবে না। তাইতো সুখের সন্ধানে মানুষের প্রচেষ্টার অন্ত নেই। সবাই সুখের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছে, দিনের পর দিন চলে যায় সুখের দেখা মিলে না।

সুখকে মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ যাতে একটি সুখী পরিবেশে শ্বাস নিতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া বিশ্ব নেতৃত্বের বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত দেশগুলোর মানুষ তাদের জীবনে সুখ এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক বেশি পরিচিত, কিন্তু উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর মানুষের সুখ উপভোগের সুযোগ সবচেয়ে কম। প্রকৃতপক্ষে, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার মতো বিষয়গুলো তাদের সুখ উপভোগ করতে বাধা দিচ্ছে। এই বাধাগুলো অতিক্রম করার জন্য, জাতিসংঘ ২০১৫ সালে, দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য হ্রাস এবং পৃথিবীকে রক্ষাসহ ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য চালু করে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় ২০৩০ সালের মধ্যে সেই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য কাজ করছে।

একজন ব্যক্তি যে জন্য খুশি হতে পারে, অন্য ব্যক্তি তাতে খুশি নাও হতে পারে। সুখের উৎস যেমন ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন, তেমনি সুখের সংজ্ঞাও একেক জনের কাছে একেক রকম। সুখের অনুভব একেক জনে একেক ভাবে করে থাকে। তবে সুখের অর্থ এই নয় যে আমরা সুখী হওয়ার জন্য যখন যা খুশি তাই করে বেড়াব। সুখের অন্বেষণ বলতে অন্য কোন ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘন না করে নিজের জন্য সুখ খোঁজা বা অর্জিত সুখকে উপভোগ করার স্বাধীনতাকে বোঝায়। আমার সুখ ভোগের কারণে অন্যজনের সুখ নষ্ট হবে বা দুঃখের কারণ হবে, তা কখনোই কাম্য হতে পারে না।

লোভ আমাদের সুখ লাভের পথে বড় অন্তরায়। লোভ হচ্ছে সকল অসুখের বীজ। জীবন থেকে লোভ দূর করতে না পারলে কখনও সুখের দেখা পাওয়া যায় না। যে আত্ম-হাহাকার মনকে লোভের বিষে ভরে রাখে তার থেকে না বেরুতে পারলে সুখের আলো আঁধারেই ঢেকে থাকে। লোভকে জীবন থেকে বিসর্জন দেওয়া গেলে জীবন অনেক সহজ ও সুন্দর হয়ে ওঠে। তখন সুখ এসে এভাবেই ধরা দেয়। আমাদের যা আছে তাতেই যদি আমরা সন্তুষ্ট থাকি তবেই সুখ আমাদের জীবনকে প্লাবিত করে দিতে পারে। এ বিশ্বাস ধারণ করতে পারলে প্রতিটি ব্যক্তিই সুখের অকৃত্রিম ছোঁয়ায় জীবনকে রাঙিয়ে তুলতে সক্ষম হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বর্তমানে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে, যেখানে আরও অসংখ্য মানুষ তাদের জীবনে সুখের বিন্দুমাত্র ছোঁয়াও পাচ্ছে না। পরিবর্তনশীল সামাজিক ব্যবস্থা, পারিবারিক বন্ধনে শৈথিল্য, কাজের সন্তুষ্টির অভাব এবং নানা ধরণের বৈষম্যের মতো কারণ রয়েছে যা একজন ব্যক্তির হতাশাগ্রস্ত হওয়ার এবং একটি অসুখী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আরও বলা হয় যে সুখ, যা একটি মানসিক বিষয়, শুধুমাত্র একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উপরই নির্ভর করে না, এ ক্ষেত্রে সামাজিক কাঠামো ও রীতিনীতি এবং পারিবারিক পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ভুটান দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের একটি ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘে সুখ বিষয়ক একটি প্রস্তাব উত্থাপনের পেছনে কি কোনো দর্শন কাজ করেছে? এর উত্তরে উল্লেখ করতে হয় যে, ভুটান ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (জিএনএইচ)’ নামক ‘উন্নয়ন মাপকাঠি’র কোনো অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। তবে অন্যরা বিশ্বাস না করলেও জিএনএইচ হচ্ছে ভুটানের উন্নয়ন মতাদর্শের অন্যতম স্তম্ভ। ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি ভুটানিদের জীবনধারা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাই ভুটানের মানুষ সুখ বলতে কি বুঝে থাকে সে ব্যাপারে কিছু কথা বলতে চাই, যা আমাদের সুখী হওয়ার উপায়গুলো অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

ভুটানে ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ নামে দেশের উন্নয়ন সূচক নির্ধারণের একটি অনন্য পদ্ধতির প্রচলন ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭২ সালে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দর্শন হিসাবে জারি করা হয়। ভুটান সরকার জিএনএইচের চারটি স্তম্ভের কঠোর অনুসরণের মাধ্যমে নীতিগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে–ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভুটানের সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসনের প্রবর্ধন। তারা দেশের জিডিপি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। জিএনএইচ নিয়েই তাদের ওঠাবসা।

জিএনএইচের প্রবর্তক এবং অনুসারী হিসেবে, ভুটানিরা বিশ্বাস করে যে মানব সমাজের প্রকৃত বিকাশ হলো বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতার ফলাফল। অর্থনৈতিক অর্জন যদি মানুষের আধ্যাত্মিক ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সুখের দ্বার উন্মুক্ত হতে পারে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক চাহিদার মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য শুধুমাত্র ব্যক্তি এবং সমাজ উভয় স্তরেই একটি সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করতে পারে। পরিবার ও সমাজের মতো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও নৈতিক কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আসলে ভুটানের লোকেরা তাদের জীবিকার ক্ষেত্রে নানা প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনুশীলন করে থাকে। মনে হয়, বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের মতো তারা ততটা লোভী নয়। এ কারণেও তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী। আমরা, দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের মানুষ হওয়ায়, কীভাবে আমাদের জীবনে সুখ আনতে হয় সে সম্পর্কে ভুটানিদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

কয়েকদিন আগের এক জরিপে দেখা গেছে যে, সামাজিক সম্পর্ক যেসব দেশের মানুষের সুখের মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেসব দেশ করোনা মহামারির কারণে সুখী দেশের তালিকায় আগের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তবে যেসব দেশের মানুষ পারস্পরিক আস্থাকে সুখের ভিত্তি হিসাবে মনে করে সেসব দেশ তালিকায় এগিয়েছে। ওই জরিপ মতে, যেহেতু ভারত, লাতিন অঞ্চল ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোতে সামাজিক মেলামেশা ও সম্পর্ককে সুখের ভিত্তি ধরা হয় এবং এই মহামারিতে এসব সামাজিক ক্রিয়াকলাপ ব্যাহত হয়েছে, তাই ওই দেশগুলো সুখী দেশের তালিকায় নিচের দিকে চলে গেছে। অন্যদিকে, চীন, জাপান বা নরডিক দেশগুলোতে আইন ও প্রশাসনের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সুখের মাত্রা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে বিধায় ওই দেশগুলো করোনাকালেও পূর্বের তুলনায় বেশি সুখী হয়েছে এবং সুখী দেশের তালিকায় তাদের উন্নতি ঘটেছে।

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব যখন কিছুটা স্বস্তির দিকে যাচ্ছে, সেই সময় আন্তর্জাতিক সুখ দিবসটি উদযাপনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। করোনা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের জীবন থেকে সুখ কেড়ে নিয়েছে। আমাদের অবশ্যই শান্ত থাকতে হবে এবং ইতিমধ্যে যে ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে আমরা পতিত হয়েছি, সেই অবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে কাটিয়ে উঠতে আমাদের বিচক্ষণতার সঙ্গে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। যে মানুষগুলো অপরিসীম দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাদের মুখে সুখের হাসি ফোটাতে হবে। কথায় বলে–‘সুখের ভাগী কেউ যদি হয়, সুখ যে তখন দিগুণ হবে; দুঃখ যদি ভাগ করে নেই, দুঃখ তবে আধেক রবে।’ আমাদের সবার মন-মানসিকতায় সেই অনুভূতি জাগ্রত হোক–এই প্রত্যাশা নিয়ে আন্তর্জাতিক সুখ দিবস উদযাপনের সফলতা কামনা করি।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

এসএ/

Header Ad
Header Ad

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর আত্রাইয়ে সন্ধ্যার আকাশ থেকে বিরল আকৃতির শীলা এবং হালকা বৃষ্টি হয়েছে,যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ শুরু হওয়া শীলাবৃষ্টির সঙ্গে মিশে ছিল ছোট ছোট বরফখণ্ড (শীলা), যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে আত্রাইয়ের সাহেবগঞ্জ,পাঁচুপুর ও আহসানগঞ্জ এলাকায় পরিলক্ষিত হয়।

অনেকেই এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, বিশেষ করে শীলার আঘাতে টিনের ছাদে তীব্র শব্দে স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন। তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শীলাবৃষ্টি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সাধারণত মৌসুম পরিবর্তনের সময় তীব্র গরমে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে জলীয় বাষ্প জমে বরফে পরিণত হয়ে ভারী হয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে,আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগামী কয়েকদিনে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে,তবে শীলা আবার হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির ডাক

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা সোমবার (৭ এপ্রিল) ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং এ ঘটনার বিরুদ্ধে সমবেদনা জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলন’-এর দুই সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এ বি জোবায়ের দেশের প্রতিটি বিভাগে এই কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘MARCH For Palestine’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রনেতা এ বি জোবায়ের লিখেছেন, “আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা আগামীকাল বিশ্বব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছেন। তারা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে একযোগে বিশ্বের সব দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশেও আমরা ৭ এপ্রিল সারাদিনের জেনারেল স্ট্রাইক পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আগামীকাল সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ রাখুন। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করুন। আসুন, বৈশ্বিক প্রতিবাদের অংশ হই। আওয়াজ তুলুন—Free, Free Palestine।”

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে বলেন, “ইয়া গামযাহ! তোমাদের শাহাদাত ও লড়াইয়ের প্রতি আমাদের গভীর সংহতি। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই আমরা তোমাদের সংগ্রামে সরাসরি অংশ নেবো। গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হিসেবে ৭ এপ্রিল ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানাই।”

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, “‘MARCH For Palestine’-এর আহ্বানে আগামীকাল দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে রাজু ভাস্কর্যে বিকেল ৪টায় সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে ৭ এপ্রিল ফিলিস্তিনের পক্ষে হরতাল পালিত হবে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তাই সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমাদেরও রাজপথে নামতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে। একটিও জীবন যেন অবহেলায় হারিয়ে না যায়—এই চেতনাতেই আমাদের কর্মসূচি।”

Header Ad
Header Ad

বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি, ভাঙল বিয়ে

বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে একটি বিয়েবাড়ির গেটে বরপক্ষে প্রবেশের সময় পার্টি স্প্রে ছেটানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে কনে পক্ষের অনুরোধ সত্ত্বেও ফিরে গেছে বরপক্ষ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে কনের বাবা সামেদ মাতুব্বর ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, তিন মাস আগে মোবাইলে সামেদ মাতুব্বরের মেয়ে বর্ণা আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার চরব্রহ্মনদী ভেন্নতুলী গ্রামের তৈয়ব মোল্লার ছেলে প্রবাসী নাঈম মোল্লার বিয়ে হয়। দুপক্ষ বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য দিন ধার্য করে।

মেয়ের বাড়িতে ১৩০ জন মেহমানের খাবার আয়োজন করা হয়। ছেলে পক্ষ এলে মেয়ের বাড়ির লোকেরা ছেলেকে গেটে আটকায়। সেখানে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেটি সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে কনের বাবাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে নববধূকে না নিয়েই ফিরে যান জামাই।

মেয়ের বাবা সামেদ আলী মাতুব্বর বলেন, গেটে দুপক্ষের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্প্রে করছিল। এর মধ্যে দুপক্ষের ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ও খাবার নষ্ট করা হয়। বরপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছি কিন্তু তারা মেয়েকে না নিয়ে চলে যায়।

বর নাঈম মোল্লা বলেন, ছয় বছর প্রবাস জীবন খেটে বিয়ে করার জন্য এসেছি বাংলাদেশে। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। আমার এক চাচাকে কনেপক্ষরা মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে আমাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি তাদের হেফাজতে আমাদেরকে পার করে দিয়েছে।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, মেয়ের বাবা সামেদ আলী মাতুব্বর একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির ডাক
বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি, ভাঙল বিয়ে
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় ছাত্রদলের নিন্দা ও কর্মসূচি ঘোষণা
দপ্তর হারালেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব নিজাম উদ্দিন
বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমোদন পেল স্টারলিংক
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব
দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বাস্তবায়নে এডিবির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন
ফেসবুকে নির্বাচনের কথা লিখলে সংঘবদ্ধ গালি শুরু হয়ে যাচ্ছে: ইশরাক
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদ: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব সামাল দেওয়া কঠিন হবে না: অর্থ উপদেষ্টা
বিদেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বুধবার
এসএসএফের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রীর ফ্ল্যাট-জমি জব্দ, ৩৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
আওয়ামীপন্থি ৮৪ আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ, ৯ জনের জামিন
গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে সোমবার দেশবাসীকে রাজপথে নামার আহ্বান সারজিসের
ইতিহাস সৃষ্টি করে মার্চে এলো ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স
দুদকের সাবেক অ্যাম্বাসেডর থেকে আসামি হতে যাচ্ছেন সাকিব!
গাজায় ইসরায়েলি মিসাইলের আঘাতে মরদেহ উড়ছে আকাশে! (ভিডিও)
মা হারালেন অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ
‘দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পারেননি বলেই টিউলিপ পদত্যাগ করেছেন’