শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস র্পব-৩৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান

এখন জ্যাকের শ্বাস নেওয়া সহজ হয়ে গেছে। প্রথম পর্যায়ের অন্ধকারের প্রবাহ থেমে গেছে। জোয়ার ভাটার মতো এই প্রবাহ। পেছনে ফেলে গেছে তারার মেঘ। সারা আকাশ ছেয়ে আছে তারায় তারায়। এখন শুধু মোটরের বিকট শব্দ বিরক্তি ঘটাচ্ছে। পশু-খাদ্যের বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর মুখটা স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে সে। লোকটা তার বাবাকে চিনত। জ্যাকের বাবার চেহারা আবছা আবছা মনে আছে তার। লোকটা বার বার বলছিল, কথা বলতেন না। একদম কথা বলতেন না তিনি।

তবে হট্টোগোলের কারণে জ্যাকের চিন্তাশক্তি রহিত হয়ে যাচ্ছে; এই হট্টোগোল তাকে এক অসাড় অবস্থায় ফেলে দিয়েছে; বাবার চেহারাটা মনে আনার চেষ্টা করেও পারছে না। অনেক কল্পনা খাটিয়েও বাবাকে স্পষ্টরূপে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এই বিশাল এবং বৈরী দেশে নিরাকার হয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম এবং সমতলভূমির অনামি ইতিহাসের মধ্যে তিনি গলিত হয়ে মিশে গেছেন। প্যারিসের বসতি স্থাপনকারীদের সলফেরিনোতে আনা হয়েছিল বজরায় করে। ওইসব বজরার মতোই ডাক্তারের ওখানে শোনা কথাবার্তার রেশ যেন ঢেউয়ে ঢেউয়ে ফিরে আসছে জ্যাকের মনে। তখন এদিকে কোনো ট্রেন ছিল না। একটা ট্রেন ছিল; শুধু লিয়নের দিকে যাতায়াত করত। বাছাই করা ঘোড়া দিয়ে টেনে নেওয়া হতো বজরাগুলো। নগরের পিতলনির্মিত বাদ্যযন্ত্র ব্যাবহারকারী বাদকদল ‘মার্সে’ এবং ‘চান্ট ডু ডিপার্ট’ বাজাত। বজরার যাত্রীরা কোনো এক যাদু বলে যে গ্রামের পত্তন করবে এমন একটা গ্রামের নাম লেখা ব্যানার হাতে সিন নদীর তীড়ে দাঁড়িয়ে একজন যাজক তাদের জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করত, খোদা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন।। ততক্ষণে বজরা যাত্রা শুরু করেছে; প্যারিস পেছনের দিকে সরে যেতে যেতে এক সময় অদৃশ্য হয়ে যেত। যাত্রীদের মধ্যে যাদের আত্মিক শক্তি প্রবল, যারা মনের দিক থেকে সবার চেয়ে শক্ত তারাও প্রচণ্ড রকমের দমে যেত, নিশ্চুপ হয়ে থাকত। তাদের শক্তিতে ভর করেই তাদের স্ত্রীরা ভরসা পেত। বজরার খোলে বিছানো খসখসে খড়ের মধ্যে তাদের ঘুমাতে হতো; চোখ বরাবর ময়লা পানির দৃশ্য। পোশাক বদলের সময় নারীরা পালাক্রমে বিছানার চাদরের আড়াল তৈরি করত। ওইসবের ভেতর তার বাবার অস্তিত্ব কোথায় জ্যাক বুঝে পায় না। কোথাও না। তবু বজরাগুলো শ খানেক বছর আগে শরতের শেষে খানাখন্দ, নালা পার হয়ে এগিয়ে যেত। মাসের পর মাস ধরে গাছের শেষ পাতার জমাট হয়ে থাকা ছোট বড় নদী পার হয়ে যেত। বাদাম আর উইলো গাছ সামনের দিকে হাতছানি দিয়ে ডেকে নিয়ে যেত। শহরাঞ্চলে পৌঁছুলে দামামা বাজিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হতো। তাদের সঙ্গে আরও কোনো বজরা যোগ হতো আরো সব যাত্রী নিয়ে। সবারই গন্তব্য অজানা দেশ। বয়সী মানুষের এলোমেলো যে তথ্য সে সংগ্রহ করতে এসেছিল তার চেয়ে বরং সবার কাছ থেকে শোনা তথ্যে জ্যাক দেখতে পায়, সবাই তাকে সেন্ট ব্রিউকে মারা যাওয়া অল্প বয়সী এক যুবকের কথা বলে।

মোটর এখন গতি বদল করছে। রাতের ঘন অন্ধকারের পিণ্ডগুলো, রাতের স্থানচ্যুত তীক্ষ্ণ ফলার মতো টুকরোগুলো এখন কাবিলিয়ার উপরে। দেশের এই হিংস্র এলাকাটার দিকে, এই রক্তাক্ত এলাকাটার দিকেই যাত্রা করেছিল তার পূর্বপুরুষেরা একশ বছর আগে। ’৪৮ সালের শ্রমজীবি মানুষেরা একটা প্যাডেল করা চাকাঅলা বজরায় গাদাগাদি অবস্থায় যাত্রা করেছিল। ডাক্তার বলেছেন, বজরাটার নাম ছিল লাব্রাডর। কল্পনা করতে পারো, লাব্রাডর মশা আর সূর্যের আধিপত্যের এলাকায় যাবে? একদিকে লাব্রাডরের চাকার ব্লেড ঘুরতে ঘুরতে ঠাণ্ডা পানিতে ফেনা তুলছে। অন্যদিকে ঠাণ্ডা বাতাস সেখানে ঝড়ের পাঁয়তারা খুঁজছে। বজরার পাটাতন পাঁচ দিন পাঁচ রাত বিধৌত হয়েছে গোলার্ধের বাতাসে। আর বিজেতারা বজরার খোলে মৃতপ্রায় অসুস্থ অবস্থায় একে অপারের গায়ে বমি করতে করতে মরে যেতে উদ্যত। অবশেষে সকলেই তারা বন বন্দরে পৌঁছে। বন্দর তাদের স্বাগত জানাতে সংগীতের আয়োজন করেছে। ইউরোপের রাজধানী থেকে ততক্ষণে স্ত্রী সন্তানদের এবং পোটলাপুটলি যার যা ছিল সব নিয়ে তারা যেন খোঁড়াতে খোঁড়াতে পাঁচ সপ্তাহের দীর্ঘ ভ্রমণে বহুদূর এই দূরবর্তী নীলাভ পটভূমির দেশে চলে এসেছে। এসেই মুখোমুখি হয়েছে সার, মসলা আরও কত কিছুর।

জ্যাক তার আসনে পাশ ফিরল। আধো ঘুমে জ্যাক বাস্তবে না দেখা বাবাকে স্বপ্নে দেখল। বাবার উচ্চতা সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই। স্বপ্নে দেখল, বাবা অন্যান্য অভিবাসীদের মাঝে বন বন্দরে দাঁড়িয়ে আছেন। কপিকলের গুড়ি দিয়ে সবার জিনিসপত্রের যা কিছু টিকে আছে সেসব তুলে ধরা হচ্ছে। এরপর খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র নিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হলো সবার মাঝে। বাবা খুব দৃঢ়চিত্তে ভাবগম্ভীর চেহারায় দাঁতে দাঁত আটকে দাঁড়িয়ে আছেন। যে রাস্তাটা দেখা যাচ্ছে এই রাস্তা ধরেই প্রায় চল্লিশ বছর আগে ওয়াগনে চড়ে এরকম একই শরতের আকাশের নিচে তিনি বন থেকে সলফেরিনো গিয়েছিলেন, তাই না? তবে অভিবাসীদের জন্য সেরকম কোনো রাস্তা আসলে ছিল না। নারী এবং শিশুদের সেনাবাহিনীর অস্ত্রের গাড়িতে এবং পুরুষদের পায়ে হেঁটে জলাপূর্ণ সমতলভূমি কিংবা কণ্টকিত ঝোপঝাড় পার হতে হয়েছে কিছুদূর পর পর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আরব পাহারাদারদের কড়া চোখের নজরদারির অধীনে। অভিবাসীদের সঙ্গী বলতে ছিল অবিরত ঘেউ ঘেউ করে যাওয়া কাবিলে কুকুরের দল। চল্লিশ বছর আগে তার বাবাও ওই দলের সঙ্গে দিনের শেষে পৌঁছেছিলেন ওই দেশেরই একটা এলাকায়। সেখানে চারপাশে দূরে দূরে পাহাড় পর্বত; কোথাও জনবসতি ছিল না, কোথাও একখণ্ড আবাদী জমি ছিল না; শুধু মাঝে মাঝে মেটে রঙের সামরিক তাবু চোখে পড়েছিল তাদের। বিশাল ফাঁকা জায়গা ছাড়া আর কিছু চোখের সামনে ছিল না। তাদের মনে হয়েছিল, জগতের শেষ প্রান্তে এসে গেছে তারা। ফাঁকা আকাশ আর বিপদসঙ্কুল ভূমির মাঝখানে আর কিছু দেখতে পায়নি তারা। ক্লান্তি, ভয় আর হতাশায় নারীরা সারারাত কান্নাকাটি করে কাটিয়েছে।

সেই একই রকম রাতে একটা হতভাগা বৈরী জায়গায় পৌঁছনো; সেই মানুষগুলোই, তারপর তারপর...,নাহ, বাবা সম্পর্কে জ্যাক আর কিছু জানে না। তবে শুধু এরকমই শুনেছে, তারা সবাই সৈনিকদের হাসি তামাশার সামনে নিজেদের একত্রিত করতে এবং তাঁবুতে বসতি স্থাপন করতে পেরেছে। বাড়িঘরের প্রসঙ্গ পরে এসেছে। বাড়িঘর তৈরি করতে হয়েছে; জমি ভাগাভাগি হয়েছে; কাজ করতে হয়েছে। হ্যাঁ কাজই তখন পবিত্র কর্ম ছিল নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য। ভেইলার্ড বলেছে, তারা কাজ করতেও পারেনি ঠিক মতো। কারণ বৃষ্টি, আলজেরিয়ার কঠিন বৃষ্টি ঝড়েছে একটানা আট নয় দিন। ব্যাপক বৃষ্টি পতনের যেন কোনো শেষ ছিল না। গোটা সেবাউস প্লাবিত হয়েছে। তাঁবু পর্যন্ত পানি উঠেছে। তারা বাইরে বের হতে পারেনি। যেখানে সেখানে তৈরি আবর্জনাপূর্ণ বড় বড় তাঁবু বিরামহীন অশেষ বৃষ্টির নিচে অনুরণন তুলতে থাকে। ভেতরের আবদ্ধ অবস্থার দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা ফাঁপা নল খাগড়া কেটে নালার মতো ব্যবহার করতে থাকে যাতে তাদের শরীরিক বর্জ্য ভেতর থেকে বাইরে বের করে দিতে পারে। বৃষ্টি থামলে শেষে তারা ছুতারের আদেশ অনুসারে হালকা পলকা ঘরবাড়ি তৈরি করতে কাজে বের হয়।

ভেইলার্ড হাসতে হাসতে বলেছে, আহা, সহজ সরল মানুষগুলো। বসন্তকালে তাদের বাড়িঘর তৈরির কাজ শেষ করে। তারপরই তারা কলেরার তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। আমার বুড়ো বাবার কথা যদি বিশ্বাস করি তাহলে বলতে পারি, আমাদের পূর্বপুরুষ যিনি ছুতার ছিলেন এভাবেই তিনি তার স্ত্রী এবং মেয়েকে হারান। তারা ওই ভ্রমণে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

এদিক ওদিক পদচারণা করতে করতে বৃদ্ধ তবে টান টান শরীরের ডাক্তার বললেন, হ্যাঁ, তারা গড়ে দিনে দশ জনের মতো মারা গেছে। গরমের মৌসুম আগে আগেই শুরু হয়ে যায়। আর তারা সবাই কুঁড়ে ঘরগুলোতে তাপে ভাজা ভাজা হতে থাকে। স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যাপার, কী বলব আর...,সব দিক থেকে তারা দিনে দশ জন করে মারা যায়।

চলবে...

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

এমএমএ/

 

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি