বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান

তার চুল কাটার ধরনে নানির জন্য অবশ্যই চমক একটা ছিল বটে। নানি তাকে আপাদমস্তক এক নজর দেখে তার ওই অপূরণীয় বিপর্যয় সম্পর্কে এক মুহূর্ত চিন্তা করে জ্যাকের সামনেই তার মাকে উদ্দেশ্য করে শুধু বললেন, তোকে এখন আস্ত একটা বেশ্যার মতো দেখাচ্ছে। কথাগুলো বলেই নানি রান্না ঘরের দিকে চলে গেলেন। ক্যাথরিন করমারির মুখ থেকে হাসি উবে গেল।

সমস্ত পৃথিবীর দুঃখ আর ক্লান্তি এসে জমা হলো তার মুখে। জ্যাকের প্রকাশ-উদ্যত মুখের দিকে তাকিয়ে একটুখানি হাসার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তার ঠোঁট কাঁপতে থাকায় মা যেন নিভে গেলেন। কাঁদতে কাঁদতে নিজের শোয়ার ঘরের দিকে দৌড়ে চলে গেলেন। ওটাই তার বিশ্রামের জায়গা, নৈঃসঙ্গের জায়গা, দুঃখ বিলাসের আশ্রয়।

হতবিহ্বল জ্যাক মায়ের পিছে পিছে শোয়ার ঘরে গিয়ে দেখল, মা বালিশে মুখ ডুবিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। তার হালকা পলকা পিঠ কান্নার দমকে দমকে ওঠানামা করছে। চুল ছোট করে ফেলার কারণে মায়ের ঘাড়ের অনেকখানি অনাবৃত।

মাকে হাত দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে জ্যাক ডাক দিল, মামণি, মা। তুমি চুল কাটলেও খুব সুন্দর, মা।

কিন্তু মা মনে হলো শুনলেন না। হাতের ইশারায় তাকে চলে যেতে বললেন। জ্যাক ফিরে এসে দরজার বাজুতে হেলান দিয়ে মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর নিজের অসহায়ত্ব নিয়ে নীরবে কাঁদতে শুরু করল।

পরবর্তী কয়েক দিন নানি তার মেয়ের সঙ্গে একটা কথাও বললেন না। আঁতোই লোকটাকেও কেউ আর তেমন উষ্ণতায় গ্রহণ করল না। আর্নেস্ট মামা সদানন্দ স্বভাবের এবং বাচাল হলেও আঁতোইয়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলল। আঁতোই লোকটা কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছিল হয়তো: কী হচ্ছে? জ্যাক বেশ কয়েকবার তার মায়ের সুন্দর চোখ জোড়ায় অশ্রু দেখতে পেয়েছে। আর্নেস্ট সব সময় চুপচাপ নীরবতায় ডুবে রইল এবং কারণে অকারণে ব্রিলিয়ান্টকে মারপিট করতে লাগল। গ্রীষ্মের এক বিকেলে জ্যাক খেয়াল করল, মামা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কী যেন দেখার চেষ্টা করছে।

বালক জ্যাক জিজ্ঞেস করল, ডানিয়েল আসছে না কি?

মামা মুখে কিছু না বলে রাগে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করতে লাগল। জ্যাক দেখতে পেল, আঁতোই আসছে। বেশ কয়েকদিন আসেনি লোকটা। আর্নেস্ট দ্রুত বের হয়ে গেল এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিঁড়ির দিক থেকে ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ আসতে লাগল। জ্যাক তাড়তাড়ি এগিয়ে গিয়ে দেখল, দুজন অন্ধকারের মধ্যে মারামারি করছে। নিজের দিকে কীভাবে কেমন আঘাত আসছে সেদিকে বিন্দুমাত্র নজর না দিয়ে আর্নেস্ট তার লোহাদণ্ডের মতো শক্ত মুষ্টিতে সমানে ঘুষি চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই আঁতোই সিড়ি দিয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে গেল। সে উঠে দাঁড়াতেই দেখা গেল, তার সারা মুখে রক্ত। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছে নিল সে।

তবে এতক্ষণ আর্নেস্টের ওপর থেকে এক পলকের জন্যও দৃষ্টি সরানোর সাহস পায়নি লোকটা। তখনও আর্নেস্ট উন্মাদের মতো রাগে ফেটে পড়ছে। ভেতরে গিয়ে জ্যাক দেখল, মা নিথর মুখে খাবার টেবিলে বসে আছেন। জ্যাকও চুপ করে বসে রইল তার পাশে। জোরে জোরে গালিগালাজ ঝাড়তে ঝাড়তে আর্নেস্ট ভেতরে চলে এল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বোনের দিকে আগুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে গেল শুধু। মুখে কিছু বলল না। রাতের খাবার যথারীতি শেষ হয়ে গেল। মা কিছুই খেলেন না। নানি তাকে খেতে বললে মা শুধু বললেন, আমার ক্ষিধে নেই। সবার খাওয়া শেষ হয়ে গেলে মা উঠে শোয়ার ঘরে চলে গেলেন। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে জ্যাক বুঝতে পারল, মা নির্ঘুম বিছানায় এপাশ ওপাশ করছেন। পরদিন সকালেই মা কালো পোশাক পরে নিলেন, শুধু গরীবের পোশাক, আর কিছু নয়। জ্যাকের মনে হলো, মায়ের সৌন্দর্যে ঘাটতি পড়েনি; বরং গরীবের পোশাকে তার সৌন্দর্য আরো বেশি করে ফুটে উঠেছে। কারণ মা আরো দূরবর্তী হয়ে গেছেন, নিজের আত্মার ভেতর গুটিয়ে গেছেন। দারিদ্র, নৈঃসঙ্গ আর আসন্ন বার্ধক্যে থিতু হয়ে গেছেন মা।

আর্নেস্ট মামার প্রতি জ্যাক বেশ কিছুদিন অসন্তোষ পুষে রেখেছিল; তবে কেন পুষে রেখেছিল তার উত্তর জানা ছিল না। আবার এরকমও মনে হয়েছে, মামাকে কিছুতেই দোষ দেয়া যায় না। তাদের পরিবার দারিদ্র, দুর্বলতা আর অতীব প্রয়োজনীয়তার ভেতর জীবন অতিবাহিত করত। সেগুলো যদি কোনো কিছুর সঙ্গেই আপোষ না করত তাহলে পরিবারের যে ব্যক্তিটি ওই অসুবিধাগুলোর শিকার হতো তাকে তারা নিশ্চয়ই বিচারাধীন করতে পারত না কিছুতেই।

তাদের পরিবারের লোকেরা একে অন্যকে আঘাত দিতে বাধ্য হয়েছে নিরুপায় হয়েই। তারা প্রত্যেকেই অন্যকে কষ্ট দিয়েছে শুধু যখন আপাত দায়ী ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব দেখতে পেয়েছে জীবনের অতীব প্রয়োজনীয়তার ভেতর। প্রথমত নানির প্রতি, তারপর তার মায়ের প্রতি এবং তাদের প্রতি মামার গভীর অনুরক্তিতে জ্যাক কখনওই সন্দেহ পোষণ করতে পারেনি। তার প্রতি মামার গভীর অনুরক্তি দেখতে পেয়েছে বিশেষ করে যেদিন মামার কারখানায় সে একটা দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল সেদিন। জ্যাক প্রতি বৃহষ্পতিবার মামার কারখানায় যেত। অন্যান্য দিন রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার জন্য জ্যাক উৎফুল্ল হয়ে ছুটে যেত।

বৃহষ্পতিবার বাড়ির কাজ থাকলে সেগুলো তাড়াতাড়ি গুছিয়ে রেখে মামার কারখানাতেও সেরকম উৎফুল্ল হয়ে ছুটে যেত সে। কারখানাটা ছিল প্যারেড গ্রাউন্ডের পাশেই। কারখানাটা উঠোনের মতো একটা ফাঁকা জায়গায়। ময়লা আবর্জনা, পুরনো চাকার বলয়, ধাতুমল আর নিভিয়ে ফেলা আগুনের ছাইয়ে ভরা। একদিকে সমান দূরত্বের বড় বড় পাথরের থামের মাথার ওপরে তৈরি ইটের ছাদ। পাঁচ ছয়জন কারিগর ওই ছাদের নিচে কাজ করত।

ওইটুকু জায়গার মধ্যেই প্রত্যেকের কাজের আলাদা আলাদা সীমানা ছিল: দেয়াল ঘেঁষা একটা বেঞ্চ, তার সামনে ফাঁকা জায়গা, সেখানে পিপা কিংবা মদের জালা জড়ো করে রাখা যেত এবং পাশের কারিগরের এলাকা থেকে আলাদা করা যায় এমনভাবে খাঁজকাটা বেঞ্চের মতো ছিল। সেটার মধ্যে পিপার মাথা ঢুকিয়ে দেওয়া যেত। তারপর চাকুর মতো একটা অস্ত্র দিয়ে হাতে সেটার আকার দেওয়া হতো।

তবে এর ধারালো পাশটা থাকত কারিগরের দিকে মুখ করা এবং এর হাতল ধরা থাকত কারিগরের হাতে। আসলে এরকম বিন্যাস প্রথম দর্শনে চোখে পড়ার মতো ছিল না। প্রথম থেকে পরিকল্পনা অবশ্য এরকমই ছিল। তবে আস্তে আস্তে বেঞ্চগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। বেঞ্চের মাঝখানের জায়গা ভরে উঠেছে চাকার বলয় জমা হয়ে। এখানে ওখানে নাটবল্টুর কেনেস্তারা পড়ে আছে। প্রত্যেক কারিগর নিজ নিজ জায়গার মধ্যে যে সব কাজকর্ম সম্পাদন করছে সেগুলো খুটিয়ে দেখতে গেলে অনেক সময়ের দরকার। মামার খাবার নিয়ে তার কাছে পৌঁছনোর আগে দূর থেকেই জ্যাক চাকার বলয়ের ড্রাইভারের ওপরে হাতুড়ির শব্দ শুনে চিনতে পারত।

কাঠের টুকরোটা ঠিক জায়গায় বসানোর পরে ড্রাইভার যন্ত্রটা দিয়ে ধাতব বলয় পিপার গলায় নামিয়ে দেওয়া হতো এবং কারিগর ড্রাইভার যন্ত্রটির এক প্রান্তে বাড়ি মারতে থাকত এবং অন্য প্রান্ত দক্ষতার সঙ্গে বলয়ের চারপাশে ঘোরাতে থাকত। দূর থেকে আরো বেশি ভারী এবং ধীর পৌনঃপুনিকতার শব্দ শুনে জ্যাক আরো বুঝতে পারত, হয়তো কোনো কারিগর দোকানের বাইসের সঙ্গে আটকানো কোনো বলয়ের সঙ্গে নাটবল্টু সেট করছে। হাতুড়ির কোলাহলের মধ্যে জ্যাক ওখানে গিয়ে পৌঁছনোর সময় তাকে সানন্দে গ্রহণ করা হতো এবং এরপর হাতুড়িগুলোর নাচ আবার শুরু হতো। আর্নেস্টের পরনে থাকত পুরনো তালি মারা নীল ট্রাউজার, ঘুণঢাকা কাপড়ের তৈরি দড়ির তলাঅলা জুতা, হাতাছাড়া ধূসর রঙের শার্ট আর একটা রঙচটা পুরনো কিনারাবিহীন টুপি। টুপিটা তার সুন্দর চুলকে ধূলি আর চাঁচনি থেকে রক্ষা করত।

ওখানে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে মামা জ্যাককে বুকে জড়িয়ে নিত আর মামার কথাবার্তায় জ্যাক বুঝতে পারত, মামার কাজে হাত লাগালে ভালোই হয়। মাঝে মাঝে জ্যাক নেহাইয়ের ওপরে বলয়টাকে ধরে থাকত। আর মামা সেটার সঙ্গে বল্টু লাগানোর জন্য জোরে জোরে বাড়ি মারত। বলয়টা জ্যাকের হাতের মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠত। হাতুড়ির প্রত্যেকটা বাড়ির সঙ্গে সেটা তার তালুতে বসে যেত। কখনও কখনও মামা বেঞ্চের এক প্রান্তে দুপা দুদিকে ছড়িয়ে দিয়ে বসে পড়ত। জ্যাকও একই ভঙ্গিতে অন্য প্রান্তে বসত। জ্যাক পিপার নিচের পাশটা ধরত। আর মামা সেটার আকার দিতে থাকত।

তবে জ্যাকের সবচেয়ে মজা লাগত কাঠের টুকরোগুলো উঠোনের মাঝখানে এনে জড়ো করতে যাতে মামা সেগুলো মোটামুটি চাকার একটা বলয়ের কাছাকাছি সাজিয়ে রাখতে পারে। দুপাশ খোলা পিপার মধ্যে আর্নেস্ট একগাদা চাঁচনি ঢুকিয়ে দিত। আর জ্যাকের দায়িত্ব ছিল সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া। আাগুনের তাপে লোহা আকারে আরো বেশি বিস্তৃতি লাভ করত এবং আর্নেস্ট সে সুযোগে হাতুড়ির সজোর আঘাতে বলয়টাকে বসিয়ে দিত।

এই কাজে ধোঁয়ার কারণে দুজনেরই চোখ জুড়ে অশ্রু নামতে থাকত। বলয়টা জায়গা মতো বসিয়ে দেওয়া হয়ে গেলে জ্যাক উঠোনের কোণের কল থেকে পানি ভরে রাখা কাঠের বালতি নিয়ে আসত। বালতি নামিয়ে দিয়ে জ্যাক খানিকটা সরে দাঁড়াত এবং আর্নেস্ট পিপার ওপরে সজোরে পানি ঢেলে দিত। বলয় ঠাণ্ডা হতে হতে সংকুচিত হয়ে কাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ত। সঙ্গে সঙ্গে ওপরের দিকে বাষ্পের কুণ্ডলী উঠে আসত।

চলবে...

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা