বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শিক্ষার খোলসটা পাল্টানো দরকার


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৬ বছর বয়সে একটি লেখা লিখেছিলেন ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে। সেখানে তিনি একটি বেশ বড়সড় মন্তব্য করেছিলেন। তবে প্রাসঙ্গিক অংশটি ছিল এমন–‘আমাদের দেশে সৃষ্টি ছাড়া এক শিক্ষা প্রণালী প্রচলিত রহিয়াছে। যাহাতে শিক্ষার্থীর রুচিরও পরিবর্তন হয় না, তারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করিতেও পারেনা।’ আর ‘শিক্ষার হেরফের’ নামে তার আরেকটি বিখ্যাত প্রবন্ধ আছে। সেখানে তিনি মত প্রকাশ করেন, আমাদের দেশের নিম্নশ্রেণির শিক্ষকরা বাংলা অথবা ইংরেজি কোনোটাই ভালো জানেন না। তারা কি শিখাবেন?

আমি রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করি সবসময়। কারণ শিক্ষার ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের যে ভাবনা, তা আমরা এখনো ধারণ করতে পারি না বলেই বাংলাদেশের শিক্ষার হ য ব র ল অবস্থা। আমি ৫২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে অকপটে স্বীকার করব যে, আমার শিক্ষার্থীদের রুচির কোনো পরিবর্তন আমি করতে পারিনি এবং তাদের স্বাধীন চিন্তার কোনো সুযোগও দেইনি। কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের দুটির একটিও উদ্ধৃত হবার নয়। যদি তা না হয়, তবে শিক্ষা কি হলো?

রবীন্দ্রনাথের আরেকটি উদ্ধৃতি দিচ্ছি, ’বিদ্যা সহজ শিক্ষা কঠিন। বিদ্যা আবরণে, শিক্ষা আচরণে।’ আমরা বই থেকে, কাগজ থেকে, টেলিভিশন থেকে,শিক্ষকের মুখ থেকে যা পাই, তা হলো বিদ্যা। বিদ্যাভিত্তিক যে আলোকন, যেখানে মানুষ আলোকিত হয়, সেটি আচরণভিত্তিক। সেই জায়গায় আমাদের ব্যাপক ঘাটতি আছে। আমাদের দেশে অনেক ডিগ্রিধারী মানুষ আছে; কিন্তু আচরণগতভাবে সেই মানুষ নেই। ব্যক্তিগতভাবে একজন মানুষ শিক্ষিত বা আলোকিত কি-না, তার জন্য আমি চারটি বৈশিষ্ট্য খুঁজে বেড়াই। সেগুলো হলো–আচরণ, বচন, বসন, বিচরণ। চারটি মাত্রায় যদি কেউ উতরে যান, আমার কাছে তিনি স্নেহভাজন, শ্রদ্ধাভাজন হবেন। চারটি মাত্রায় না থাকলে আমার কাছে তার কণামাত্র মূল্য নেই। এ কথাগুলো বলছি এজন্য যে, শিক্ষা মানুষকে এই চারটি মাত্রায় আলোকিত করে, যা বাংলাদেশে এখনো নেই।

প্রারম্ভিক কথার পরে আরও একটি কথা আসে–বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের দ্রষ্টা। তবে এ কথাটি যখন বলি তখন আমাকে মেনে নিতে হবে যে, একজন মানুষ একা একা নেতা হয় না। তার অনুসারী লাগে, অনুগামী লাগে। বাংলাদেশের মানুষ তার অনুসারী এবং অনুগামী হয়েছিলেন বলেই তিনি ইতিহাসের একটি বাঁকবদল ঘটিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি শুধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা নয়, বাংলাদেশ গড়ার একটি দিকনির্দেশনাও দিয়েছিলেন। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২, তিনি ১৭ মিনিটের এক ভাষণে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। বাংলাদেশের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র; পরে জাতীয়তাবাদ যুক্ত হয়েছে। এই চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এবং এই আদর্শ রাষ্ট্র কেমন হবে, তা স্পষ্ট করে বলা মুশকিল। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র আদর্শ কি-না, তা স্পষ্ট করে বলা যায় না।

তবে এটা ঠিক, বঙ্গবন্ধু মানুষের বসবাসযোগ্য একটি রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। সে কারণে শিক্ষার খোলসও পাল্টানো দরকার ছিল। কারণ ইংরেজ উপনিবেশ আমল এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ আমলে যে শিক্ষা ছিল, তা শিক্ষার প্রহসনমাত্র। তিনি ১৯৭২ সালের ২৮ মে শিক্ষা কমিশন করলেন, ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন। ১৯৭৪ সালের ৩০ এপ্রিল তারা রিপোর্ট দিলেন। সেই রিপোর্ট দেওয়ার সময় কনিষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছিলেন যে, এখানে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে আপনি তা দেখে দিবেন। উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যে, আমাদের স্যাররা যা করেছেন, তা পরিবর্তন করার অধিকার কি আমার আছে? এই কথা থেকেই বোঝা যায়–বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের কী পরিমাণ সম্মান করতেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনে যে দিকনির্দেশনা দেওয়া ছিল, সেভাবে যদি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হতো, তাহলে বাংলাদেশের শিক্ষা আজ হ য ব র ল হতো না। যে কোনো সরকার আসলেই একটা লোক দেখানো অপচয় করে এমন শিক্ষা কমিশন করে। সর্বসম্মতিতে যে শিক্ষা কমিশন ২০১০ সালে হয়েছিল, তখন আমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সামনে। বলেছিলাম, যারা কমিশনে রয়েছেন তারা সম্মানিত এবং স্নেহভাজন ব্যক্তি; কিন্তু এই সদস্যবৃন্দ কোনোদিনও শিক্ষা নিয়ে ভাবেননি, বলেননি, লেখেননি। তার ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো।

আমি নিজেও একটির সদস্য ছিলাম ১৯৯৭ সালে, ড. শামসুল হক শিক্ষা কমিশনে। কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের পর থেকে যতগুলো কমিশন হয়েছে, আমি আমি মনে করি বাংলাদেশে ওই একটিই কার্যকর শিক্ষা কমিশন হয়েছিল। এই একটি শিক্ষা কমিশনের দিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করলে আমরা অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারব শিক্ষায়। তবে কোনো সরকারই চায় না শিক্ষার যথার্থ উন্নতি হোক।

সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে একটি সংলাপ আছে, ছবিতে বলা হয়–যে যত বেশি জানে, সে তত কম মানে। কোনো সরকার শিক্ষিত মানবগোষ্ঠীকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারেনা। সেজন্য লোক দেখানো অনেক কিছু করা হয়। যেমন–বর্তমানে আমরা দেখছি, মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার সংখ্যায় বিস্ফোরণ। আর তারাই যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়, যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গ’ ইউনিটে ৮০ ভাগ ফেল করেছে। বুয়েটে ৩৩ ভাগ পাশ করেছে মাত্র। এবং যারা ফেল করেছে তাদের মধ্যে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া পরীক্ষার্থী আছে। শিক্ষার নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত একটা হ য ব র ল অবস্থা চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বলা যায়, সেগুলো বিশ্বের বিদ্যালয় প্রাপ্ত হয়েছে। সেখানে উপাচার্য আছে বলে আমি মনে করি না, সবাই উপযাচক। আমার কাছে এমন মনে হয়েছে যে, বাংলাদেশে অর্বাচীনরাই ভিসি অথবা উপাচার্য হয়েছে। আমরা কথ্য ভাষায় ছাত্রজীবনে বলতাম ‘ক্ষ্যাত’। তারাই এখন উপাচার্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক, প্রাথমিক স্তর শেষ করার শিক্ষক নাই। সবমিলিয়ে শিক্ষার খোলসও পালটানো দরকার।

পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের বৈষয়িক প্রবৃদ্ধি হয়েছে; কিন্তু শিক্ষা ধসে গেছে, রাজনীতি ধসে গেছে, সংস্কৃতি উধাও হয়ে গেছে। আজ সংস্কৃতি থাকলে, রাজনীতি থাকলে শিক্ষা এগুতো। বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের মতো সার্চ কমিটি গঠন করা দরকার। সার্চ কমিটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হবে। সার্চ কমিটির সদস্য যারা, তারা যথার্থ শিক্ষিত মানুষ হতে হবে। পঞ্চাশ বছরে আমরা কিছুটা এগিয়েছি; কিন্তু অনেকটা পিছিয়েছি।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট
শ্রুতিলিখন: শেহনাজ পূর্ণা

এসএ/

Header Ad
Header Ad

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়ক মন্ডপ নামাটারী সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে এক ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম জাহানুর ইসলাম (২০)। তিনি ভারতের নাগরিক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে নামাটারী সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯২৯-এর কাছ দিয়ে কয়েকজন ভারতীয় চোরাকারবারি বাংলাদেশে মাদকসহ বিভিন্ন মালামাল পাচারের চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাংলাদেশি সন্দেহ করে গিদালদাহ মরাকুটি ক্যাম্প ও হরদিাস খামারের ধনিটারী বিএসএফ ক্যাম্প থেকে রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে চোরাকারবারিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জাহানুর ইসলাম। পরে তার মরদেহ বিএসএফ নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আরও দুই ভারতীয় নাগরিক, হারুন ও হাসান, গুলিবিদ্ধ হয়ে দৌড়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। বর্তমানে তারা গোড়ক মন্ডপ সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গোড়ক মন্ডপ ক্যাম্পের বিজিবি কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ব্যস্ত থাকায় পরে কথা বলবেন বলে জানান।

সীমান্তে বিএসএফের এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Header Ad
Header Ad

গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের

ছবি: সংগৃহীত

টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান চালানোর পর এবার গাজার দক্ষিণাঞ্চল দখলের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। দু’জনই পৃথক বার্তায় এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় হাঙ্গেরির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ ও খান ইউনূসের মাঝামাঝি এলাকায় ‘মোরাগ এক্সিস’ নামে একসময় ইহুদি বসতি ছিল, যেখান থেকে পরবর্তীতে ইহুদিদের উচ্ছেদ করা হয়। তিনি জানান, এবার গাজায় সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ওই অঞ্চলকে পুনরায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং নিরাপত্তা জোনের অন্তর্ভুক্ত করা।

নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা গাজা উপত্যকাকে ভাগ করছি এবং ধাপে ধাপে হামাসের ওপর চাপ বাড়াচ্ছি, যেন তারা জিম্মিদের আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানান, তাদের এই পদক্ষেপের ফলে রাফাহ শহর পার্শ্ববর্তী খান ইউনিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। মিসর-গাজা সীমান্তে অবস্থিত এই রাফাহ ক্রসিং এতদিন ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করত, যার মাধ্যমে খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী প্রবেশ করত গাজায়। তবে ইসরায়েল বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, ওই পথ দিয়ে হামাস অস্ত্র পাচার করে।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার আগে বুধবার সকালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “গাজাকে জঙ্গিমুক্ত করা এবং বিশাল এলাকাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা জোনের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিরতির পর নতুন অভিযান শুরু হয়েছে।”

দীর্ঘ ২ মাসের যুদ্ধবিরতির পর গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ দিনে ইসরায়েলের হামলায় এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু বুধবারই নিহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি।

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির জানিয়েছেন, তাদের অভিযানের লক্ষ্য হামাসের কব্জায় থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের উদ্ধার করা। আইডিএফ ধারণা করছে, হামাসের কাছে এখনো অন্তত ৩০ জন জীবিত জিম্মি রয়েছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা গিশা’র তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দখলের ঘোষণা দেওয়া গাজার ওই অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৬২ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো গাজা উপত্যকার প্রায় ১৭ শতাংশ।

সূত্র: রয়টার্স

Header Ad
Header Ad

মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

রংপুরের মিঠাপুকুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর চুরিসহ নানান অপকর্মে জড়িত বলে জানায় পুলিশ।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক।

এর আগে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার ৯ নম্বর ময়েনপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারে সদস্যরা ও স্থানীয়রা জানান, শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী অভিযুক্ত কিশোর (১৫) জাকিরুল ইসলাম সম্পর্কে শিশুটির দাদা হন। ঘটনার আগে শিশুটির মা সহ অভিযুক্ত কিশোর এবং এক প্রতিবেশী নারী বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি জায়গায় বসে গল্প করছিল। গল্প শেষে শিশুটির মা বাড়ি ফিরে যান। তবে শিশুটি বাড়ি ফিরে না আসায় মা তাকে খুঁজতে থাকেন।

পরে অভিযুক্ত ওই কিশোরের বাড়ি থেকে শিশুটির চিৎকার শুনতে পাওয়া যায়। এ সময় শিশুটির মা সেখানে গিয়ে দেখেন ওই কিশোর শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে এবং ছেলেটির পরনে কাপড় নেই। পরে শিশুটির মা স্থানীয়দের জানালে ওই কিশোরকে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৪টার দিয়ে ওই কিশোরকে মিঠাপুকুর থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ কিশোর জাকিরুল ইসলাম শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযুক্ত কিশোর জাকিরুল ইসলাম কে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ কিশোর শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে আইনি ব্যবস্থা শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ভ্যাল কিলমার আর নেই
ময়মনসিংহে সিনেমা হলে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দর্শকদের ভাঙচুর
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারের ভূমিকম্পে এক ইমামের ১৭০ স্বজনের মৃত্যু