শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

আইনে পিতামাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব

মানবজাতির পৃথিবীতে আগমনের মাধ্যম হলো তার পিতামাতা। তাই মানুষের জীবনে পিতামাতার মর্যাদা ও অধিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে একজন মানব সন্তানকে পিতামাতা সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করেন। সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনায় পিতামাতা তিলে তিলে নিজেদের জীবন ও সামর্থ্যকে বিসর্জন করে এক সময় বার্ধক্যে উপনীত হন। কর্মক্ষম শরীর নিশ্চল হয়ে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে থাকেন সন্তানের উপর।

তাই সন্তান কর্মক্ষম ও সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকেই পিতামাতার সার্বিক ভরণপোষণ ও সেবাযত্ন করার দায়িত্ব সন্তানদের উপর বর্তায়। নৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে পিতামাতার অজান্তে সন্তানের ক্ষতি হলেও তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না।

সন্তানের কাছ থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সদাচরণ পাওয়া পিতামাতার নৈতিক ও আইনগত অধিকার। বিশেষভাবে তারা যখন বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হন এবং কর্মক্ষম থাকেন না, তখন তারা ভরণপোষণ ও সেবাযত্ন পাওয়ার জন্য সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকেন। সন্তানের কর্তব্য, তার পিতামাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করা, অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তাদের সঙ্গ দেওয়া এবং তাদের মনে কষ্ট পাবার মতো কোনো ব্যবহার না করা।

বর্তমান সমাজে পিতামাতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার যথেষ্ট চিত্র রয়েছে। অনেক সন্তানের সক্ষমতা থাকার পরেও তারা আদর্শ শিক্ষা বা সদিচ্ছার অভাবে পিতামাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। পিতামাতার ব্যয়ভার বহন না করে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে বা রাস্তায়, রেলওয়ে বা বাস স্টেশনে ফেলে যাওয়ার অনেক ঘটনা প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে, যা চরম অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করে। এমন পরিস্থিতি অনুধাবন করে নৈতিক ও মানবিকবোধ থেকে বাংলাদেশ সরকার সন্তান কর্তৃক পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করার জন্য ২০১৩ সালে পিতামাতার ভরণপোষণ আইন প্রণয়ন করে।

এ আইন তৈরির পূর্বে পিতামাতার দেখোশোনা করা সামাজিক স্বীকৃত রীতি ছিল। সামাজিক বাস্তবতার কারণে প্রবীণ পিতামাতার পরিস্থিতি অমানবিক হওয়ায় সন্তানের দায়-দায়িত্বকে আইনী বাধ্যবাধকতায় আনতে হয়েছে। মানুষ আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন হলে আইনের বাস্তবায়ন সামাজিক দায়বদ্ধতায় পরিণত হবে। এ ছাড়া ইসলাম ধর্মে ও অপরাপর অন্যান্য সব ধর্মে পিতামাতার সার্বিক সেবা-যত্নের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র কোরআনে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পিতামাতার প্রতি সদাচরণের বিষয়টিতে অন্যান্য ধর্মেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সব ধর্মে পিতামাতার সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সন্তানদের উপর তাদের অধিকারের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে পিতামাতার প্রতি কর্তব্য

সব ভালোবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিন্তু সন্তানদের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও পিতামাতা সন্তানদের সুখী দেখতে চান। এ কারণে পৃথিবীর সব ধর্মে পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও বাধ্যকরী নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামসহ অন্যান্য সব ধর্মেই সৃষ্টিকর্তার পরেই পিতামাতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর ইবাদাতের পরই পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের প্রতি পবিত্র কোরআনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ্-তে পিতামাতার মর্যাদা ও সদাচরণের বিষয়ে সব সময় গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

পিতামাতার প্রতি আচরণ ও ব্যবহার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
‘তোমার রব ফয়সালা করে দিয়েছেন তোমরা তাঁর ইবাদত ছাড়া অন্য কারোর ইবাদত করো না, পিতামাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো। যদি তোমাদের কাছে তাদের কোনো একজন বা উভয় বৃদ্ধ অবস্থায় থাকে, তাহলে তাদের ‘উহ্’ পর্যন্তও বলো না এবং তাদের ধমকের সুরে জবাব দিও না বরং তাদের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে কথা বলো। আর দয়া ও কোমলতা সহকারে তাদের সামনে বিনম্র থাকো এবং দোয়া করতে থাকো এই বলে, হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা (দয়া, মায়া, মমতাসহকারে) শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন (আল-কোরআন, ১৭: ২৩-২৪)।

আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং ভূমিষ্ঠের পর তার দুধ ছাড়ানোর দুই বছর পর্যন্ত। আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। পিতামাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থাপন করতে পীড়াপীড়ি করে, তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করব (আল-কোরআন, ৩৯: ১৪-১৫)।

এতো সব আমলের মধ্যে পিতামাতার প্রতি সদাচরণকে রাসুলুল্লাহ্ (সা.) আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল বলে ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে সন্তানদের অবশ্যই পিতামাতার সাথে নম্রভাবে কথা বলতে হবে, পিতামাতার আদেশ নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। পিতামাতার সাথে কোমল ব্যবহার এবং নম্র ভাষায় বিনয়ী হয়ে কথা বলার নির্দেশ দেওয়ার কারণ হলো, বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হলে তারা অনেক সময় স্বাভাবিক আচরণ নাও করতে পারেন। তখন তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে বা কোনো বিষয়ে অধৈর্য হয়ে পড়তে পারেন। সেই অবস্থায়ও সন্তানদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং কোমল ভাষায় কথা বলতে হবে। কেননা, বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও সেবা-যত্ন পাওয়া পিতামাতার আইনগত ও ধর্মীয় অধিকার।

এ ছাড়া পিতামাতার সেবা-যত্নের গুরুত্ব বিষয়ে একাধিকবার বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘আপনার রব নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে’।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বলেন, যথাসময়ে নামাজ পড়া। আমি বললাম, তারপর কোন কাজ? তিনি বলেন, পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা’ (ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, হাদিস নং ২৭৮২; মুসলিম: ৮৫)।

ইসলামে এভাবে প্রবীণদের সামাজিক মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে আল-কুরআন ও হাদীসে সুবিস্তৃত নির্দেশনা রয়েছে, যাতে জীবনের এ ক্রান্তিকালে প্রবীণদের অবহেলার শিকার হতে না হয়। সমাজের বয়স্ক প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে বয়সে ছোটদের সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইসলাম ঘোষণা করেছে সমাজে প্রবীণদের মধ্যে কল্যাণ ও বরকত সুরক্ষিত। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবীণদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ্ ইব্নে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ (সা.) বলেন, ‘প্রবীণদের সঙ্গেই রয়েছে তোমাদের জন্য কল্যাণ ও বরকত’।

সনাতন ধর্মে পিতামাতার ভক্তির ওপর জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে- ‘দশজন উপধ্যায় থেকে একজন আচার্য উত্তম, শত আচার্যের চেয়েও পিতা উত্তম এবং হাজার পিতার চেয়ে মাতা সম্মানিত।’ তাই আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হচ্ছে নিজের পিতামাতার প্রতি যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রদর্শন করা।

বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী পিতামাতার সন্তুষ্টি অর্জন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি স্বর্গে যেতে পারে না। পিতামাতার সাথে অশোভনীয় আচরণ করলে পার্থিব জীবনের দুঃখ-কষ্টের পাশাপাশি পারলৌকিক জীবনেও কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। খ্রিস্টান, ইহুদি, জৈন, শিখ, কনফুসীয়ানসহ অন্যান্য ধর্মে পিতামাতার আইনী অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে নানা দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইনে পিতামাতার ভরণপোষণ

বাংলাদেশে পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য একটি আইনী কাঠামোতে আনা হয়েছে। ২০১৩ সালে গৃহীত পিতামাতার ভরণপোষণ আইনে দায়িত্ব লঙ্ঘনের অপরাধে দণ্ডিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পিতামাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রণীত এটিই প্রথম আইন। সাধারণ মানুষের মধ্যে পিতামাতার ভরণপোষণের প্রতি অবহেলা ও অসচেতনতা দূর করতে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এশিয়ায় ভারত ও সিঙ্গাপুরেও পিতামাতার ভরণপোষণের আইন আছে। উভয় দেশেই সন্তানরা পিতামাতার ভরণপোষণ দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। তবে পার্থক্য হলো, তাদের আইনে আদালত দেওয়ানী প্রতিকার হিসেবে ভরণপোষণ বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের আইনে ভরণপোষণকে যখন অর্থের পরিবর্তে সেবা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে এবং আইনের লংঘনকে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ফলে আইনটি বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বৃদ্ধ পিতামাতার সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ধরনের সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে হবে সামাজিকভাবেই, কঠোর আইন দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা যায় না। বৃদ্ধ পিতামাতাকে যখন তার সন্তানেরা একাকিত্বে ঠেলে দেন, তখন এর সামাজিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে আমাদের দুর্বল সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোরও দায় রয়েছে। আমাদের চিহ্নিত করতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোর সেই সমস্যাগুলোকে, যা বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতাকে সন্তানের মুখাপেক্ষী করতে বাধ্য করে। যে হারে আমাদের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে, সেই অনুপাতে বয়স্কভাতা, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।

বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। মূলত পিতামাতার প্রতি সদাচরণ যতটা না আইনগত তার চেয়ে বেশি নৈতিক ও ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সম্পৃক্ত। মৌলিক নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়ে পতিত কোনো সমাজে আইনের মাধ্যমে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য জনসাধারণকে বাধ্য করা সম্ভব নয়। বরং সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অনুশীলন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাই আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতার অনুশীলন চর্চা করতে হবে। কারণ, মানুষ আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন হলে আইনের বাস্তবায়ন সামাজিক দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা সকল স্তরে বিষয়টি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্তকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনটি আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ড. নাহিদ ফেরদৌসি: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

আরএ/

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো