বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বাজেট বিষয়ে একটি গাণিতিক সমাধান দরকার

বাজেটের মূল বিষয় হলো–বাজেট অবশ্যই বড় হবে। টাকার অঙ্ক আরও বড় হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাজার বড় হচ্ছে। এখন আসল কথা হলো–বাজেট কোন খাতে কীভাবে বরাদ্দ হবে, কোন কোন খাতে খরচ করা হবে, আর কীভাবে রাজস্ব আদায় করা হবে, সেটা দেখতে হবে। অর্থ আদায়ের বিষয়ে যেটুকু সম্ভব কর আদায় বা ইনকাম ট্যাক্সের বোঝা না বাড়িয়ে, যতটুকু সম্ভব সহনীয়ভাবে রাজস্ব আদায় করা উচিত।

প্রত্যক্ষ কর আদায়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। দুঃখজনক হলো–বাংলাদেশ ভ্যাটের উপর নির্ভরশীল বেশি। ভ্যাট হলো পরোক্ষ কর। অনেকেই ঠিক মতো ট্যাক্স দেয় না। মানুষের উপর কর বোঝা মনে হওয়ার কারণে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়ছে। অনেকের টিন আছে, ট্যাক্স দেন না। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, লিকেজ যেন না হয়। ঘাটতি বাজেট তো হবেই। তবে তা যতটা সম্ভব দেশীয় উৎস থেকে নিতে হবে। বাইরের উৎস থেকে অর্থ নেওয়াটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। অধিক সুদে ঋণ না নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সফট লোন বা স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়াটা অধিক গ্রহণযোগ্য।

আমার মতে, সবচেয়ে জরুরি হলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অবকাঠামো খাতে মনোযোগ দেওয়া। বাজেটে অবকাঠামো খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে। অথচ আমাদের দেশে স্বাস্থ্যখাতে মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্যয় করা হয়, যেটি মোটেও কাম্য নয়। এখন তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ আসছে। সেখানে মাত্র পাঁচ শতাংশ তো একেবারেই কম। এটি বাড়াতে হবে। শুধু বাড়ানো নয়, সঠিক ব্যবহার করতে হবে–অপচয় যেন না হয়। দুর্নীতি যেন না হয়।

শিক্ষার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশের মতো বরাদ্দ থাকে। আসল যে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, ক্লাসরুমের উন্নতি, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নসহ শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে অবহেলা দেখা যায়। আগে কিন্তু এ রকম ছিল না। আগে শিক্ষকদের ট্রেনিং ছিল আবশ্যক।

সবচেয়ে বড় একটা বিষয় হলো–সামাজিক সুরক্ষাবোধ। সামাজিক নিরাপত্তা। যেমন–বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, অবসরে পেনশন প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলা হলেও এটি আসলে এই খাতে ব্যবহার করা হয় না। যা বরাদ্দ থাকে, সেটিও সঠিক ব্যবহার হয় না।

কৃষি খাতেও কিন্তু প্রণোদনা অপেক্ষাকৃত কম। কৃষকদের মানোন্নয়নে আরও বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। পেট্রল, ডিজেল, বিদ্যুৎ ইত্যাদির দাম বেড়েছে। অথচ তা কমানো দরকার ছিল।

রপ্তানি খাতেও দেখা যায় তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে প্রণোদনা বেশি থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্র যেমন–পাট, চামড়া, সিরামিক ক্ষেত্রে আরও প্রণোদনা দেওয়া দরকার। আমার মনে হয় এখানে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।

বাজেটের ক্ষেত্রে আমি মনে করি, মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের কীভাবে আরেকটু উন্নত জীবনযাত্রার অংশীদার করা যায়, সেটি খেয়াল রাখা খুব দরকার। আমাদের দেশে আয় এবং বণ্টনের বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। বেশিরভাগ কর্মকাণ্ডের সুফল ভোগ করে ধনী বা উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এগুলোতে কাউন্টার করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এসব ক্ষেত্রগুলোতে ব্যালেন্স করতে হবে।

বাজেটকে উন্নয়নের জায়গা থেকে করতে হবে। এ উন্নয়ন হবে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যেন উন্নত হয়। সাধারণ মানুষকে উপকৃত করতে হলে আয় বৈষম্য কমাতে হবে। সুষম উন্নয়নের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ গঠনের একটা মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। সে লক্ষ্য কতটুকু ফলপ্রসূ করতে পারছি? বাজেট তো এ লক্ষ্য অর্জনের একটি হাতিয়ার।

আমাদের বাজেট ইমপ্লিমেন্টেশন বা বাস্তবায়বন ঠিকভাবে হয়না বলেই বাজেট অনেক দুর্বল। বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়; কিন্তু আমরা দেখি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ। দুই বছরের প্রকল্প পাঁচ বছরে যায়, পাঁচ বছরেরটি আরও দীর্ঘমেয়াদি। ফলে এটার খরচ বেড়ে যায়। আমাদের বাস্তবায়নটা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। আমার মনে হয় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা না হলে সেটি ফলপ্রসু হবে না।
সরকার যে আলোচনা করে তা শুধু শিল্প বা বনিক সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নেই।

স্থানীয় পর্যায়ে যেসকল প্রতিনিধি আছে ,তাদের সাথে আলোচনা করতে হবে, তাদের মতামত নিতে হবে। এমপিরা বলে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য এই লাগবে সেই লাগবে। তাতে কিন্তু মানুষের চাহিদার প্রতিফলন ঘটে না। সবচেয়ে দুর্বলতা হলো সংসদে যেটি আলোচনা হয়, সেটি মোটেও অর্থবহ না। কন্সট্রাক্টিভ আলোচনা সেখানে হয় না।

বাজেটের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনার জায়গাটি তো আর নেই বললেই চলে। সংসদ সদস্যদেরও দোষ আছে। বাইরে থেকে যেটুকু সমালোচনা হয়, সেটি আমলে নেওয়া হয় না। কাজেই বাজেট প্রণয়নের দিকটিও আমাদের আরও বেশি চিন্তাভাবনা করে করতে হবে। বাজেট বরাদ্দ এবং সমন্বয়ের বিষয়ে আরও বেশি নজর দিতে হবে। একটি গাণিতিক সমাধান দরকার। এত টাকা আয় করব, এত টাকা খরচ করব। তা না হলে বাজেট আসলে কোনোভাবেই অর্থবহ হবে না।

লেখক: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এসএ/

Header Ad
Header Ad

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এর আগে, সকাল ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকা ত্যাগ করেন।

ইতোমধ্যে বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অংশ নিয়েছেন। আলোচনার অংশ হিসেবে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে, যেখানে সাত সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ব্যাংকক স্থানীয় সময় বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখবেন ড. ইউনূস। এছাড়া, আগামীকাল (৪ এপ্রিল) তিনি মূল বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককের বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইনে বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাণিজ্য ও সমুদ্র নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তৃতীয় দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হবে।

এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

Header Ad
Header Ad

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা ভারতজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূসের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর এক আলোচনায় এস জয়শঙ্কর ভারতের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "ভারতের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধুমাত্র পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে না, বরং তাদের অনেককে সংযুক্তও করে। ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।”

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও কৌশলগত সংযোগকে আরও মজবুত করেছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এই বৃহত্তর ভৌগোলিক অঞ্চলে পণ্য, পরিষেবা ও মানুষের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভারত সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত এক দশকে ভারত বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে।"

তিনি আরও দাবি করেন, "সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়, পক্ষপাতমূলক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের বক্তব্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে এনেছে। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। বিশেষ করে, ভারত যে বাংলাদেশকে ভৌগোলিক প্রবেশাধিকার ছাড়াই নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে চায়, তা আরও স্পষ্ট হলো।

এই বিতর্ক বিমসটেকের কৌশলগত পরিকল্পনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বর্ণের দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেল ৪টার দিকে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করা সব দেশের ওপর নতুন রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশভেদে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮.৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১২৯.৪৬ ডলারে, যা আগের চেয়ে ০.৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ দাম প্রায় ৩,৭৬,৮৯৯.৩৩ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে বলেন, “নতুন এই শুল্ক পরিকল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কঠোর। এর ফলে স্বর্ণের বিক্রি আরও বাড়বে এবং ডলারের মান কমতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্বর্ণের বাজার এখনো চাঙা, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে। খুব শিগগিরই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,২০০ ডলার (প্রায় ৩,৮৫,৩৯৪.৮৮ টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। করোনা মহামারির পর থেকেই ডলারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের অন্যতম বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া, বিনিয়োগকারীরাও ডলারকে পুঁজি রাখার পরিবর্তে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন শুল্ক নীতি বাস্তবায়ন করে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা এর মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫