শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

গুরুবাস পর্যটনের শিক্ষা দর্শন

গুরুগৃহ পৃথিবীর প্রাচীনতম শিক্ষাব্যবস্থা, যাতে শিক্ষার্থী ছিল কেবল শ্রোতা। অতপর কালক্রমে শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী সক্রিয়তা দানের জন্য সার্বিক পাঠ, দর্শন ও ব্যবস্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বাধিক সজীব উপাদান হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ও এদের কেন্দ্র করে সমস্ত শিক্ষা কার্যক্রম আবর্তিত হয়।

শিক্ষা হলো সমস্ত প্রক্রিয়ার সমন্বয় যার দ্বারা ব্যক্তি তার সক্ষমতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধসহ সব রকম ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণের অধিকারী হয়ে ওঠেন। যার ফলশ্রুতিতে সর্বোত্তম আত্ম পরিস্ফূরণ সাধিত হয়। মানবাত্মার অন্তর্নিহিত শক্তির প্রগতিশীল বিকাশই শিক্ষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় শিক্ষা দ্বারা অন্তরের আলোর সম্পদ অর্জিত হয়। শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি নিরবচ্ছিন্ন ও জীবনব্যাপী জ্ঞান অর্জিত হতে থাকে। শিক্ষা এমন একটি কর্মযজ্ঞ যা একজন শিক্ষার্থী তার জ্ঞান, দক্ষতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জন করে। হাল আমলে পর্যটন শিক্ষা ও পর্যটনের মাধ্যমে শিক্ষা সার্বিক শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে দর্শন হলো সত্যের প্রতি ভালোবাসা। সত্যের অনন্ত অনুসন্ধানে সর্বজনীন জিজ্ঞাসাই দর্শনের লক্ষ্য। প্লেটোর মতে বহুবিধ বস্তু বা ঘটনার সঠিক প্রকৃতি সম্পর্কীয় জ্ঞানই দর্শন। অর্থাৎ বাস্তবতার যুক্তিসঙ্গত অনুসন্ধানই দর্শন। অনুসন্ধান, যুক্তি, নান্দনিকতা ও মূল্যবোধ দ্বারা দর্শন পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্যগতভাবেই দর্শন ও শিক্ষা নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। দার্শনিকগণ তাদের নিজস্ব চিন্তা দ্বারা শিক্ষাব্যবস্থার রীতিনীতি ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে দৃষ্টিপাত করেন, যা পর্যটন শিক্ষার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

দর্শনের মূল শাখাসমূহের মধ্যে নন্দনতত্ত্ব অর্থাৎ সৌন্দর্যের প্রকৃতি, শিল্প ও সত্যের ব্যক্তিগত ধরনের সৃষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা; জ্ঞানতত্ত্ব অর্থাৎ জ্ঞান ও বিশ্বাসের প্রকৃতি এবং সুযোগ সংক্রান্ত দার্শনিক গবেষণা; নীতিশাস্ত্র অর্থাৎ নীতি, মঙ্গল ও মূল্যবান দার্শনিক গবেষণা; যুক্তি অর্থাৎ যুক্তির বৈধতা পরীক্ষা সংক্রান্ত দার্শনিক গবেষণা এবং অধিবিদ্যা অর্থাৎ প্রকৃতির অস্তিত্ব, সম্ভাবনা ইত্যাদির দার্শনিক গবেষণা। এর প্রত্যেকটি বিষয় মানুষকে শিখতে ও অনুশীলন করতে হয়। পর্যটনের মাধ্যমে স্থান, ব্যক্তি ও সময়ভেদে এইসব দর্শন শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব। আবার পর্যটন কর্মকাণ্ডের ভেতরেও রয়েছে দর্শনের বহু শাখা, যার ভিত্তি পর্যটন নৈতিকতা পরিচালিত হয়।

এ কথা সবারই জানা যে, শিক্ষা ও দর্শন দুটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়। হাল আমলে গবেষকগণ দাবি করছেন যে, শিক্ষা ও দর্শনের সঙ্গে পর্যটন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষা ও দর্শনের লক্ষ্য হলো জ্ঞান ও অনুসন্ধান। পর্যটন ধারণার সকল বাস্তবসম্মত প্রয়োগ দ্বারা পর্যটন শিক্ষা পরিচালিত হয় এবং এর প্রয়োগকালে পর্যটনের অবয়ব অনেক বেশি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। এই লক্ষ্য নির্মাণের কাজটি করছে দর্শন, যাকে প্রাথমিকভাবে পর্যটন দর্শন বলে অভিহিত করা যায়।

শিক্ষা ও দর্শনকে মুদ্রার দুই পিঠ বলা হয়। দর্শন হলো চিন্তাশীল ও শিক্ষা হলো সক্রিয় পিঠ। নিজ বাসস্থানের বাইরে গিয়ে সম্পাদিত ইতিবাচক মানব কর্মকাণ্ডের যোগফলই পর্যটন। তাই এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে উৎপাদন, সুষম বণ্টন, দর্শন, সমাজকর্ম ও প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতিটি পদক্ষেপ।

শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ হলো শিক্ষক। শিক্ষক একাধারে প্রশিক্ষক, নির্দেশক, বন্ধু, দার্শনিক ও পথ প্রদর্শক। শিক্ষাব্যবস্থায় তিনিই নেতা, তার নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে শিক্ষার্থী উপযুক্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। শিক্ষার লক্ষ্য, শিখন পরামর্শ এবং শিখন কর্মকাণ্ড ইত্যাদি শিক্ষক দ্বারাই পরিচালিত হয়।

আমরা সকলেই জানি যে, সমসাময়িক কালে মানুষের উপর সাম্যহীন কৃত্রিম ও করপোরেট ধারা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য মানুষ ও সমাজ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সমাজের মূল বুনটে ফাঁটল ধরেছে। তাই সময় এসেছে মানুষের জীবনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত জ্ঞান ও বৈচিত্র্যকে অনুসন্ধান করে তা দিয়ে সুখের নিবাস তৈরি করার। এই কাজের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসবে চিরন্তন গুণী মানুষেরা, যাদের গুরু বলে আখ্যায়িত করা যায়। গুরু দুইটি সংস্কৃত শব্দ থেকে জন্মলাভ করেছে। গু অর্থ অন্ধকার এবং রু অর্থ আলো। অন্ধকার থেকে আলোতে নিতে সক্ষম কোনো ব্যক্তি বা স্বত্ত্বাই গুরু। গুরুবাসের মাধ্যমে জীবন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির কাছ থেকে নতুন আঙ্গিকে শিক্ষা শুরু করা উচিত। এই শিক্ষা প্রক্রিয়ায় প্রগতিশীলতার মোড়কে উপস্থাপিত হবেন শস্যগুরু, মৎস্যগুরু, খাদ্যগুরু, ধর্মগুরু, শিল্পগুরু, গল্পগুগুরু, পর্যটনগুরু প্রমুখ।

গুরুবাস ধারণাটি স্থানীয় মানুষের জীবনধারা থেকে উৎসারিত। হাজার বছরের জীবনধারা, যাপনরীতি ও উদযাপনের আনন্দ নিশ্চিত করেছে যে, মানুষের এই সকল অনুশীলন টেকসই। গুরুবাস বঙ্গীয় জীবনধারার অভিজ্ঞতার নতুন দর্শনতত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুযায়ী সম্পদ, জ্ঞান ও মর্যাদা একীভূত হয়ে সমাজ জীবনে সমস্বত্ব প্রভাব তৈরি করতে পারে। সাধারণ মানুষের সকল অভিজ্ঞতাকে অন্যের চৈতন্য বিকাশে প্রয়োগের এক দর্শনতাত্ত্বিক চিন্তার আয়োজন এই গুরুবাস। এর মৌলিক চেতনা দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ও সমাজে বিশুদ্ধতা, স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রেরণা যোগাবে।

গুরু শিক্ষক থেকে আলাদা। গুরু নিজেকে সর্বজ্ঞ ভাবেন না। বরং তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেখার লক্ষ্যে ব্রতী হন এবং পরিস্থিতি ও সময়েরর সঙ্গে শিক্ষাগুরু প্রয়োজনীয় অবদান রাখেন। শিক্ষার দর্শনের ভিত্তিতে পর্যটনগুরু নিচের বৈশিষ্টগুলির মাধ্যমে জীবনমুখী পর্যটন শিক্ষা প্রদান করবেন:

ক) পর্যটনগুরু কখনোই শিক্ষার্থীকে চাপ প্রদান করবেন না।
খ) গুরুর নিজের গুণেই জ্ঞান-বুদ্ধি বিকশিত হবে ।
গ) শিক্ষার্থীকে তিনি সুস্থির পরিকল্পনা মোতাবেক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহযোগিতা করেন।

পল্লি এলাকায় বসবাস করেন এমন অনেক গুণী মানুষ আছেন যারা জ্ঞান ও বোধ দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের বাইরে থেকে জীবনের অর্জনগুলি নিশ্চিত করছেন। এরা উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, হস্তশিল্প, গান, নাচ, গল্পবলা ইত্যাদি নানাবিধ জীবনমুখী কর্মকাণ্ডের প্রয়োগ ও দক্ষতার উৎকর্ষ সাধনের সক্ষমতা দিয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করতে পেরেছেন। গণ মানুষের ভেতর থেকে উঠে আসা এই সকল ব্যক্তিবর্গ হবেন গুরু এবং অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে জীবনের নির্যাস থেকে তরুণদের উদ্বুদ্ধ ও প্রস্তুত করবেন - এর নাম গুরুবাস পর্যটন। গুরুবাসের মাধ্যমে প্রকৃতির মাঝে থেকে প্রকৃতিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম যা পর্যটনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এই শিক্ষার প্রতিটি পর্বে শিক্ষার্থীর মনে ও চিন্তায় সুস্থির শিক্ষা দর্শনের ছাপ সৃষ্টি করা হবে, যা শিক্ষার্থীকে সামাজিক ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে বিরত রাখবে। একজন শিক্ষার্থী ভ্রমণকালে জীবনের প্রকৃত শিক্ষায় গুরুর সংস্পর্শে এসে ভবিষ্যৎ জীবনে তার পছন্দের কর্মের অনুসন্ধান করা এবং জীবন ও পৃথিবী সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে। মূল্যবোধ, নীতিশিক্ষা, জীবনবোধ ও কর্মক্ষমতার বাস্তবতার নিরীখে শিক্ষার্থী নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারবে। উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থীরা ১৫-৩০ দিন পর্যন্ত গুরুদের বাসস্থানে বাস করবে।

গুরুবাসকালে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাচুর্য বহির্ভূতভাবে সময় অতিবাহিত করবে এবং গুরুর নিকট থেকে তাত্ত্বিক নয়, বরং জীবনের বাস্তব বিষয়গুলি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করবে। গুরুবাস যেহেতু এক ধরনের জীবনমুখী শিক্ষা পর্যটন। তাই তরুণ শিক্ষার্থীরা একে প্রচলিত শিক্ষার বাধাঁধরা চাপ থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবে। বিশেষত উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, সংযুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রবৃত্তি, প্রাকৃতিক মূলধনের গুরুত্ব, সম্পদ ব্যবহার ও সংরক্ষণ রীতি, সামাজিক আচরণ, সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ, ঐতিহ্য ইত্যাদি বিষয়ে গুরুমুখী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

উপসংহারে এইটুকু বলা যায় যে, গুরুবাস পর্যটন কর্পোরেট শিক্ষা বাণিজ্যের এই দেশে পর্যটনের নতুন ধারা আমাদের, শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করবে। তবে সমাজের সকল মানুষকে এর মর্মার্থ ও দর্শনতত্ত্বে অনুধাবন করতে হবে। শিক্ষা ও পর্যটন বিষয়ক নীতি নির্ধারকগণ নিশ্চয়ই এসব নিয়ে ভাববেন।

সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারী ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ঘাড়ে, তাদেরও ভাবতে হবে বৈকি! আগামী দিনে যারা এই জাতিকে নেতৃত্ব দিবে, পথ দেখাবে তাদেরকে সৃজনশীল, উৎপাদনশীল ও গণমুখী না করতে পারলে হোয়াইট কলার জব দিয়ে রাষ্ট্রটাকে ধরে রাখা যাবে না। প্রকৃত শিক্ষার অভাবে ইতোমধ্যে জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, বোধ করি একদিন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।

এই গুরুবাসকে কেন্দ্র করে গড়ে গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠবে পর্যটনের অভিনব দর্শনতাত্ত্বিক প্রকাশ গুরুবাস পর্যটন। সকল পর্যটকরা গুরুদর্শনকালে জেনে নিবেন জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোতে নেওয়ার সেতু নির্মাণের কৌশল।

এসএন

Header Ad
Header Ad

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা মিয়ানমারকে সরবরাহ করেছিল। এখনো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে। মূল তালিকায় থাকা বাকি সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত এই জোট বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৃহত্তর সংহতকরণের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ ভাগে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাত সদস্যের আঞ্চলিক ব্লক—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেক সনদ অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতীকী গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বিদায়ী বিমসটেক সভাপতি স্বাগত ভাষণ দেন। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এছাড়া, সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ