শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩২
Dhaka Prokash

ফেসবুকে ইংরেজি শেখানোর ধুম, আসলে কতটা কার্যকরী?

ইংরেজি আমরা সব সময় রহিম, করিম দিয়ে বাক্য শুরু করি, শিক্ষার্থীদের শেখাই। কিন্তু একটি বাক্যের বড় একটি অংশ, একটি ফেইজ, একটি ধারণা বাক্যের অংশ হয় এবং এ ধরনের ইংরেজিই বেশি। শিক্ষার্থীরা কিন্তু তাদের শিখে যাওয়া গ্রামার ট্রান্সফার করতে পারছে না। তারা ওই ধরনের বাক্য পড়ে বুঝতে পারছে না এবং নিজেরা লিখতে পারছে না। ইংরেজি পত্রিকার কোনো সংবাদ, কিংবা কোনো আর্টিকেল কিংবা বিদেশি বইয়ের কোনো গল্প পড়ে দেখলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। মূল ইংরেজি কিন্তু সেগুলোই। আমাদের বারটি টেন্স আর ভয়েস, ন্যারেশন, সিম্পল, কমপ্লেক্স আর কম্পাউন্ড বাক্য পড়িয়েই আমরা ধরে নেই ইংরেজি যথার্থভাবে পড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে।

অনেক শিক্ষক বলে থাকেন যে, প্রতিদিন দশ বিশটা শব্দ মুখস্থ করতে হবে। এভাবে শিক্ষার্থীদের পুরো ডিকশনারি মুখস্থ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটিও বিজ্ঞানসম্মত নয়। কারণ ভোকাব্যুলারি বাড়াতে হবে ভাষা ব্যবহার করার জন্য। তারও কিছু গ্রামার আছে, নিয়ম-কানুন আছে, শুধু শব্দ মুখস্থ করে বসে থাকলে হবে না। কোন শব্দ কোথায় বসাতে হবে এটিই হচ্ছে প্রধান কাজ। শব্দ বাক্যে বসাতে না পারলে সেই ভোকাব্যুলারি ইনঅ্যাকটিভ। ভোকাব্যুলারি শিখতে হয় কনটেক্সট থেকে, বাক্যের অর্থ মুখস্থ করে নয়। সেটি একটি দুর্বল পদ্ধতি। মাইমিং, অ্যাক্টিং, ব্যাখ্যা, সিনোনিম, অ্যান্টোনিম, রিয়ালিয়া (বাস্তব জিনিস প্রদর্শন), ইনফারেন্স ইত্যাদি মাধ্যমে ভোকাব্যুলারি শিখতে হয়, শেখাতে হয়। সরাসরি ট্রান্সলেশন বা ইংরেজি থেকে বাংলা ব্যবহার করে ভোকাব্যুলারি শেখা বা শেখানো সর্বশেষ পদ্ধতি। ফেসবুকে দেখছি শিক্ষক নিজেই সব শব্দের অর্থ বাংলায় বলে দিচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের দ্বারা বলাচ্ছেন না, তাদের বলতে সময়ও দিচ্ছেন না। এটি ভোকাব্যুলারি শেখানোর সঠিক পদ্ধতি নয়। ভোকাব্যুলারি গ্রামারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ গ্রামার জেনে একটি বাক্য তৈরি করা, ভাষা ব্যবহার করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু প্রয়োজন মেটানোর জন্য শব্দ জানা থাকলে প্রয়োজন অনেকটাই মেটানো যায়। যেমন আপনার যদি পানির পিপাসা পায় এবং পানির ইংরেজি যে, ওয়াটার এটি জানা থাকলে আপনি হাত ইশারা করে বলতে পারেন , ওয়াটার’। পুরো বাক্য আই অ্যাম থার্স্টি, আই নিড টু ড্রিংক ওয়াটার না বললেও বিদেশে গিয়ে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।

ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পারসোনাল এনগেজড হতে হয় অর্থাৎ নিজেদেরকেই বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হয় অথচ ফেসবুকে যেসব শিক্ষক ইংরেজি স্পোকেন শেখাচ্ছেন— দেখলাম অবিরাম তারাই কথা বলে যাচ্ছেন, কথা বলতে বলতে ঘাম ঝরাচ্ছেন। টিচার টকিং টাইম বা টিটিটি এবং স্টুডেন্ট টকিং টাইম সম্পর্কে শিক্ষকদের ধারণা থাকতে হয়। স্টুডেন্ট টকিং টাইম হতে হবে সত্তর কিংবা আশি শতাংশ, বাকিটা হবে টিচার টকিং টাইম। অর্থাৎ টিচারদের কথা কম বলতে হবে, শিক্ষার্থীরা কথা বলবে যদি তারা ভাষা শিখতে চায়। এই নিয়ম অনুসরণ করার ধারেকাছেও নেই ফেসবুকে যারা এ জাতীয় ভিডিও আপলোড করছেন প্রতিদিন।

ইংরেজি আমরা কেন শিখব? আমাদের শিক্ষার্থীরা আসলে বাস্তবে জানে না তারা ইংরেজি কেন পড়ছে? তারা জানে যে, ইংরেজিতে পাস করতে হবে, এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠতে হবে, এটিই তাদের কাছে জানা, তাদের লক্ষ্য। বাস্তব জীবনে যে ইংরেজি তাদের বিভিন্ন জায়গায় কাজে লাগবে, ভাল ইংরেজি শিখলে সেটি যে সারা জীবন তার এক বিরাট সম্পদ হয়ে থাকবে সেটি কিন্তু তারা ছাত্রজীবনে বুঝতে পারে না, বুঝার কথাও নয়। শিক্ষকদের দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টি তাদের ধরিয়ে দেওয়া ও উৎসাহিত করা। আমরা যারা ছাত্রজীবন পার করে এসেছি এবং বাস্তব জীবনের পদে পদে ইংরেজি ব্যবহার করতে হচ্ছে কিন্তু ব্যবহার করতে পারছি না। কারণ ছাত্রজীবনে সেভাবে আমাদের ইংরেজি শেখা হয়নি। আমরা গ্রামারের কিছু নিয়ম তাও বাংলায় শুনেছি ক্লাসে।

আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, বর্তমানযুগে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, পছন্দ করে হোক, না করে হোক ভারতীয় হিন্দি ছবি, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রতিনিয়ত টিভির পর্দায় দেখছে আর কানে শুনছে। এই শুনে শুনে এবং দেখে দেখে তারা হিন্দি বলা শিখে ফেলেছে অর্থাৎ তারা ভাষার দুটো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা ‘শোনা ও বলা’ অর্জন করে ফেলেছে। তারা ভারতে যায়নি, স্কুলে যায়নি, হোমওয়ার্ক করেনি, কোনো কোচিং সেন্টারে যায়নি, কোনো প্রাইভেট টিচারের কাছে যায়নি হিন্দি শিখতে। জীবনে কোনো পরীক্ষা দেয়নি, পাবলিক পরীক্ষা দেয়নি। কিন্তু হিন্দি বলতে পারে, হিন্দি শুনে বুঝতে পারে অর্থাৎ তারা দুটো গুরুত্বপূর্ণ স্কিল অর্জন করে ফেলেছে। অথচ ইংরেজি আমরা ক্লাসে পড়ি, বাসায় পড়ি ও পড়াচ্ছি, কোচিংএ পড়াচ্ছি, প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ছি, ক্লাসে পরীক্ষা দিচ্ছি, প্রাইভেট টিউটরের কাছে পরীক্ষা দিচ্ছি, কোচিং এ পরীক্ষা দিচ্ছি, প্রাইভেট টিউটরের কাছে পরীক্ষা দিচ্ছি, পাবলিক পরীক্ষা দিচ্ছি সার্টিফিকেট অর্জন করছি কিন্তু হিন্দির মতো ইংরেজি বুঝি না, বলতে পারি না। কারণগুলো কি কি হতে পারে?

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছি— কারণগুলো তোমরা নিজেরাই বের করে দেখ। তোমরা কি চাও না হিন্দিতে যেভাবে কথা বলতে পার, হিন্দি শুনে যেভাবে বুঝতে পার ইংরেজিতেও তোমারা সেভাবেই পারবে? শিক্ষক এবং অভিভাবক হিসেবে আমরা যদি ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সামনে রঙিন ছবি ও আকর্ষণীয় অ্যাক্টিভিটি করাতে পারি তাহলে তারা তাদের অজান্তেই ইংরেজি ভাষা শেখা শুরু করবে যেমনটি তারা হিন্দি সিনেমা দেখে হিন্দি শিখে ফেলেছে।

ভাষা শেখাতে হবে ভাষা দিয়ে, গ্রামারের নিয়ম মুখস্থ করিয়ে নয়। দু-চার-দশ কিংবা ডজন খানেক বা ডজন দুয়েক গ্রামারের নিয়ম হয়ত মুখস্থ করানো যায়, তা দিয়ে কি একটি ভাষা ব্যবহার করানো বা শেখানো যায়? ভাষা তো সাগর। আমরা প্রতিদিন কত শত কিংবা কত হাজার বাক্য বাংলায় ব্যবহার করি, তার কোনো হিসেব আছে? এটি হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়মে শেখা বা শেখানো বা ব্যবহার করা। এখানে যদি কাঠের সাঁকো পাড়ানোর মতো হিসেব করে করে, সাবধানে পা ফেলি অর্থাৎ বাক্যে প্রথম কর্তা বসালাম, তারপর ক্রিয়া বসালাম, তারপর কর্ম বসালাম তাহলে কি আমরা এত সহজে বাংলা কথা বলতে পারতাম প্রতিদিন? স্বত:স্ফূর্তভাবে ভাষা ব্যবহার করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যেভাবে ব্যবহার করি, ইংরেজিও সেভাবে ব্যবহার করতে হবে। সেটি যতক্ষণ করা না যাবে ততক্ষণ বুঝতে হবে বিষয়গুলো সঠিকভাবে শেখা হয়নি, শেখানো হয়নি।

শিক্ষার্থীরা ভাষা ব্যবহার করবে, ব্যবহার করে করে যখন ভাষাটি নিজেদের আয়ত্বে চলে আসবে, তখন আলোচনা করা যেতে পারে যে, বাক্যগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা কী পাই অর্থাৎ কীভাবে বাক্যটি তৈরি হলো। শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে বলবে অর্থাৎ মুখস্থ করে নয়, তারা দেখে , লজিক বের করবে কীভাবে বাক্যটি তৈরি হলো। তারা যেভাবেই বলুক দেখতে হবে তারা সঠিক বলছে কিনা অর্থাৎ বাক্যের প্রথমে সাবজেক্ট তারপর ভার্ব বসেছে ইত্যাদি। গ্রামার তারা আবিষ্কার করবে, তারা ব্যাখ্যা করবে, শিক্ষক নয়। শিক্ষক সবার শেষে একটি ফিনিশিং দিতে পারেন যে, তোমরা বাক্যগুলোর গঠনপ্রণালী যেভাবে বলেছ ঠিক আছে। শিক্ষক আগে স্ট্রাকচার শিখিয়ে সেই অনুযায়ী বাক্য গঠন করার প্রক্রিয়া শেখানো সেকেলে প্রক্রিয়া এবংতাতে শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় তাদের পক্ষে ভাষা শেখার ও ব্যবহার করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সীমিত করে দেওয়া হয়।

লেখক: প্রেসিডেন্ট, ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)

আগের পর্বটি পড়ুন>>>

প্রথম পর্ব/ফেসবুকে ইংরেজি শেখানোর ধুম, আসলে কতটা কার্যকরী?

আরএ/

Header Ad
Header Ad

রাঙামাটিতে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৫

প্রতীকী ছবি

রাঙামাটির কাউখালীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাবারবাগান এলাকায় একটি পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এফ আই ইসহাক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।

বিস্তারিত আসছে...

Header Ad
Header Ad

রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে রিয়াল, ফাইনাল ম্যাচ বয়কটের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

কোপা দেল রে ফাইনালের আগে মাঠের লড়াইয়ের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাচ-পূর্ব সকল আনুষ্ঠানিকতা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির ভাষ্য, রেফারিদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে "স্পষ্ট বিদ্বেষ ও অসম্মান" ফুটে উঠেছে, যা তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে রিয়াল জানায়, তারা ফাইনালের আগে প্রচলিত সকল প্রটোকল—ম্যাচ-পূর্ব প্রেস কনফারেন্স, মিডিয়ায় উন্মুক্ত অনুশীলন, প্রেসিডেন্টদের ডিনার এবং ঐতিহ্যবাহী ফটোসেশন—বর্জন করবে।

উত্তেজনার সূত্রপাত ক্লাবটির নিজস্ব চ্যানেল রিয়াল মাদ্রিদ টিভি-তে সম্প্রচারিত এক ভিডিও ঘিরে। সেখানে ফাইনালের রেফারি রিকার্দো দে বুরগোস বেংগোয়েচিয়ার প্রতি তীব্র সমালোচনা করা হয়। পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আবেগপ্রবণ রেফারি জানান, এসব সমালোচনার প্রভাব তার ব্যক্তিগত জীবনেও পড়েছে। “যখন আপনার সন্তান স্কুলে গিয়ে শুনে—তার বাবা একজন চোর—তখন সেটা সত্যিই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা,” বলেন তিনি, চোখের পানি মুছতে মুছতে।

তবে বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পাবলো গনসালেস ফুয়ের্তেসের এক মন্তব্যে আরও জ্বালানি পড়ে আগুনে। তিনি বলেন, “রেফারিরা এক হচ্ছেন এবং রিয়াল মাদ্রিদ টিভির চাপ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।” এই বক্তব্যকেও হুমকি হিসেবে দেখছে রিয়াল।

স্প্যানিশ মিডিয়ায় জল্পনা ছিল—রিয়াল হয়তো ফাইনালেই অংশ নেবে না। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে পরে দ্বিতীয় বিবৃতিতে জানানো হয়, ম্যাচ বর্জনের কোনো পরিকল্পনা নেই। “রিয়াল মাদ্রিদ কখনও ফাইনালে না খেলার কথা বিবেচনা করেনি,” জানানো হয় স্পষ্ট ভাষায়।

এদিকে, লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস ক্লাবটির এই অবস্থানকে 'ক্ষমতার খেলা' বলে আখ্যায়িত করেছেন। রেফারিরাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ টিভির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের বর্জন রিয়ালের জন্য নতুন নয়। গত অক্টোবরে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে যথাযথ সম্মান না জানানোর প্রতিবাদে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল ক্লাবটি। তাদের ভাষায়, “যেখানে সম্মান নেই, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ যায় না।”

Header Ad
Header Ad

আইন উপদেষ্টাকে জড়িয়ে ভারতের গণমাধ্যমে মিথ্যা প্রতিবেদন, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের একটি অনলাইন পোর্টালে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে প্রকাশিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ধরনের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও সত্যের পরিপন্থী বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ওই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) নিউজ অ্যারেনা ইন্ডিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্পর্কে একাধিক মিথ্যা, মানহানিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মিটস টপ লস্কর–ই–তাইয়েবার অপারেটিভ পোস্ট জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর অ্যাটাক’।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, কাশ্মীরের পেহেলগামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর লস্কর-ই-তাইয়েবার একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাক্ষাৎ করেছেন, যা পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক।

প্রতিবেদনে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের ভুল পরিচয়ে তুলে ধরা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে বৈধভাবে পরিচালিত আলেম ও  ইসলামি সংগঠনগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিবেদনে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হেফাজতে ইসলামের নেতা, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তারা যুক্ত নন। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনামলে হাজার হাজার হেফাজত সদস্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও সাজানো মামলার শিকার হন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার ও আইনি সংস্কারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আসিফ নজরুল তার দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে হেফাজতের এই ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের আবেদন শুনতে হেফাজতের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে আইন উপদেষ্টার বৈঠক যেদিন হয়েছে বলে নিউজ অ্যারেনা ইন্ডিয়া উল্লেখ করেছে, তার অন্তত তিন দিন আগেই ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার বিষয় ছিল শুধু আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার তালিকা হস্তান্তর। বৈঠকের শেষে প্রতিনিধিদলের অনুরোধে একটি ছবি তোলা হয়, যা এমন সভায় প্রচলিত ও স্বাভাবিক রীতি।

হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্ব বাংলাদেশের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণ করে। হেফাজতের নেতারা ঢাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করে থাকেন, যা তাদের রাজনৈতিক বৈধতা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে প্রতিফলিত করে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠনগুলো পূর্ববর্তী সরকারের দমনমূলক কর্মকাণ্ড ও হেফাজতসহ বিরোধীদলীয় কর্মীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করেছে, সমালোচনাও করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সেই প্রতিবেদনগুলো প্রমাণ করে যে হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল, যা বর্তমান সরকারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

ভারতীয় গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পেজে ভারতের নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আসলে বিষয়টি হলো ওই পোস্ট ছিল একজন ভারতীয়র লেখা, যিনি নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা করেন। সেই পোস্টটি শেয়ার করে পেহেলগামে হামলার নিন্দা জানান আসিফ নজরুল। পরে সম্ভাব্য বিভ্রান্তির আশঙ্কা করে তিনি স্বেচ্ছায় পোস্টটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুছে ফেলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সকল গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছি, যেন তারা সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই করে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে, নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। একই সঙ্গে পেহেলগামের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

রাঙামাটিতে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৫
রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে রিয়াল, ফাইনাল ম্যাচ বয়কটের হুমকি
আইন উপদেষ্টাকে জড়িয়ে ভারতের গণমাধ্যমে মিথ্যা প্রতিবেদন, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
নিজ দেশেই বিমান হামলা চালালো ভারত, ‘অসাবধানতা’ বলছে বিমান বাহিনী
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আরও ৮৪ ফিলিস্তিনি
আইনি নোটিশ প্রসঙ্গে যা বললেন ডা. তাসনিম জারা
ভারত-পাকিস্তান বিরোধে উত্তেজনা, শান্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে এলো ইরান
তারেক রহমানকে নিয়ে দ্য উইকের কাভার স্টোরি ‘নিয়তির সন্তান’
কুয়েটের ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
মেধাসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
বেনাপোলে ৬ নারী ছিনতাইকারী গ্রেফতার
‘সংস্কার না নির্বাচন’ এই খেলা বাদ দিয়ে বিচার করুন: সারজিস আলম
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যেই মস্কোয় গাড়িবোমা হামলায় রুশ জেনারেল নিহত
পোপ ফ্রান্সিসকে শেষ বিদায় জানাতে রোমে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ সদস্য নিহত
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
নওগাঁয় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ১
শিগগিরই স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করবে সরকার: প্রেস সচিব
টাঙ্গাইলে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মাছ ব্যবসায়ী খুন