বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বাংলাদেশকে ছয় বছরে দারিদ্র্যমুক্ত করা যেতে পারে

দরিদ্রতা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বড় অন্তরায়। একটি সুস্থ্য ও সবল জাতি গঠন করা কখনোই সম্ভব হয়না যতক্ষণ না ঐ দেশ থেকে দারিদ্র্য সম্পূর্ণ হটানো বা সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনা যায়। বিশ্বে দারিদ্র্যের অস্তিত্ব ছিল, এখনো আছে; এটি বিভিন্ন প্রেক্ষিতের একটি জটিল চলমান প্রক্রিয়া। দরিদ্র মানুষগুলো নানা কৌশলে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। কোনো পথ না পেলে দরিদ্রতাকেই জীবনের সাথে একাত্ম করে নেয়। চরম দারিদ্র্য থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে, ক) দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে এবং খ) আয় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে সকল মানুষের মধ্যে আয়ের বণ্টন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ কি না অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তা সুস্পষ্ট করতে হবে। একটি দক্ষ সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাই পারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনা মুক্ত সোনার বাংলা গড়তে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল দেশদ্রোহী ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করতে হলো জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যকে। তারপর অনেকগুলো বছর চলে গেলো নানা ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যে। সমগ্র জাতি অগণতান্ত্রিক শাসকদের হাতে বন্দি হল। বাংলাদেশের মানুষ যখন চারিদিকে অন্ধকার দেখছিল সেই দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরলেন এবং এদেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি হয়ে উঠলেন শান্তিতে ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের নির্ভীক কণ্ঠস্বর, বেঁচে থাকার প্রেরণা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অকুতোভয় নেতা।

আমাদের যে প্রাকৃতিক সম্পদ আর উর্বর কৃষি জমি রয়েছে তাতে ১৬ কোটি লোকের জীবনধারণের সুযোগ খুবই সীমিত। এছাড়া শিল্প ক্ষেত্রের পরিধি এতোটা ব্যাপক নয় যে চাহিদা মোতাবেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। দেশের এ অবস্থার উন্নয়নের জন্য যেমন বিনিয়োগের পরিমান আশানুরূপ বাড়ছে না, তেমনি একটি দক্ষ মানবসম্পদের সৃষ্টিসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও ধ্যান-ধারণার প্রয়োগের অভাব রয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা প্রায় ৯০ লক্ষ পরিবারের অবস্থা আরও শোচনীয়। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে বেকার লোকের হার ৪%-৫%, যদিও ২০% লোক তাদের যোগ্যতার নিচের স্তরে কাজ করে থাকে। তবে, আত্ম-কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৪০% এবং তাদের বেশিরভাগই অশিক্ষিত বা প্রাথমিক অবধি লেখাপড়া করা। উল্লেখ্য, প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ লোক বাংলাদেশের শ্রম বাজারে প্রবেশ করে থাকে।

দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের নেয়া পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রতি বছরই দারিদ্র্য হার কমে আসছে। তবে বিদ্যমান হারে কমতে থাকলে ২০৩০ সালের পূর্বে পুরোপুরি দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নাও হতে পারে। বিশ্ব ব্যাংক সে রকমই আভাস দিয়েছে। তাই দারিদ্র্য হার আরও অধিক পরিমানে কমাতে হবে।

যারা দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করে অন্যান্যদের মতো এদেরকেও মানব সম্পদ উন্নয়ন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। তাই সর্বপ্রথম উপজেলাওয়ারী দরিদ্র পরিবারগুলো সনাক্তপূর্বক একটি সঠিক ও সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক পরিবার থেকে কাজ করতে সক্ষম এবং শিক্ষার মান অনুযায়ী একজনকে মনোনীত করে কাঠমিস্ত্রি, প্লাম্বার, ড্রাইভার, দর্জি, মোটর গাড়ির মেকানিক, ইলেকট্রিসিয়ান, ইত্যাদি পদে কাজ করতে পারে তেমন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের মনোনীত সদস্য মহিলা হলে তার প্রশিক্ষণ বাস্তবতার নিরিখে দিতে হবে। যে যেই উপজেলার মানুষ সেই উপজেলাতেই তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। বছরে ১৫ লক্ষ লোককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে যাতে ৬ বছরে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের একজন সদস্য প্রশিক্ষণ পায়। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা তেমন কঠিন হবে বলে মনে হয়না। বিদ্যমান অবকাঠামোকে ব্যবহার করেই সেটা সম্ভব। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা বিশ্বব্যাংক –এর পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

এই ১৫ লক্ষ দক্ষ লোককে তিনটি উপায়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উপায়গুলো হচ্ছে-(ক) আত্মকর্মসংস্থান, (খ) সরকারি ও বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান, এবং (গ) অভিবাসী কর্মী হিসেবে কর্মসংস্থান। অর্থাৎ প্রথম দু’টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আর তৃতীয়টি হচ্ছে বিদেশে অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

ক) প্রথম উপায় হচ্ছে দেশেই আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনীয় সুবিধাদি নিশ্চিত করা গেলে এ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব। বাংলাদেশের বর্তমান আত্মকর্মসংস্থান হার অনুযায়ী প্রতি বছর কমপক্ষে ৬ লক্ষ লোক নিজের কর্ম নিজেই খুঁজে নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই মূলধন যোগার করা প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যমান হার বেড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ব্যাংক রয়েছে এবং ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি ব্যাংক আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে অবশ্যই এগিয়ে আসবে। প্রয়োজনে সরকার ব্যাংকগুলোর সাথে আলোচনা করে যথাযথ পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারে।

খ) দ্বিতীয় উপায়টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মের সংস্থান করা। তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর বিভিন্ন পদে প্রায় ২০ লক্ষ লোক নতুন চাকুরিতে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে উচ্চ শিক্ষিত লোক, তেমনি স্বল্প শিক্ষিত লোকজনও রয়েছে। দারিদ্র্য সীমার নিচে বাসরত পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিতের সংখ্যা খুবই কম। তাই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্য সীমার উপরে তুলে আনার জন্য সরকার মনে করলে চাকুরি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রের পরিধি বিস্তারের জন্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সহায়ক পরিবেশের উন্নয়ন এবং সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করার সাথে নতুন চিন্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার সমন্নয় অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি যাতে কোনভাবেই আমাদের লক্ষ্য অর্জনে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।

গ) আমরা দেখেছি যেসব পরিবার বিদেশে কর্মরত তার কোন সদস্যের কাছ থেকে রেমিট্যান্স পায় তারা অন্যদের চেয়ে আর্থিকভাবে অনেক ভালো অবস্থানে থাকে। দারিদ্র্য সীমার নিচে যেসব পরিবার রয়েছে তাদেরকে যদি রেমিট্যান্স প্রাপক পরিবারে রূপান্তর করা যায় তাহলে সেসব পরিবার আর দরিদ্র থাকবে না। অতএব, কর্মসংস্থানের তৃতীয় উপায়টি হলো তাদেরকে অভিবাসী কর্মী হিসেবে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৬ লক্ষ লোক বিদেশে কাজ নিয়ে যায়। আমরা যদি দরিদ্র পরিবারের এই প্রশিক্ষিত লোকদেরকে অগ্রাধিকার দেই তাহলে দারিদ্র্য বিমোচন অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। এক্ষেত্রে এ বিশেষ পরিকল্পনাটি হবে ৬ বছরের জন্য। প্রতি বছর এদের থেকে কমপক্ষে ৫ লক্ষ লোক প্রেরণ করা গেলে ৬ বছরে ত্রিশ লক্ষ লোক যেতে পারবে। ফলে ৩০ লক্ষ পরিবারই দারিদ্র্য মুক্ত হবে। প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার খরচ সংকুলানের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দরিদ্র পরিবার থেকে কর্মী অভিবাসন করার সমগ্র প্রক্রিয়াটিকে পরিচালনার জন্য বিশেষ নীতিমালা এবং পদ্ধতি প্রণয়নের জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে, সরকারের বিদ্যমান কেন্দ্রীয় ডাটা ব্যাংক সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া, অভিবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ (রেমিট্যান্স) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ এবং বিদেশে কর্ম শেষে ফেরত আসা লোকদের অর্থনৈতিক কাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে যাতে ঐ পরিবারগুলো পুনরায় দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে না যায়।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ৩ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। বিশ্বব্যাংক বলেছে যে বাংলাদেশে দারিদ্র্য হার যে গতিতে কমছে সে ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। উপরে বর্ণিত এ তিনটি পদ্ধতিকে একত্রে একটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা গেলে ৬ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। নিঃসন্দেহে দারিদ্র্য বিমোচন একটি জটিল ও কঠিন কাজ এবং চ্যালেঞ্জিংও বটে। তবে দৃঢ় প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাসকে সম্বল করে সে চ্যালেঞ্জকে বাস্তবে পরিণত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারেন বাংলাদেশকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয় হিসেবে উপস্থাপন করতে। আমাদের বিশ্বাস তিনি অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষদেরকে দারিদ্র্যের গ্লানি থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

 

Header Ad
Header Ad

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বাজারে প্রবেশকারী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত জানান। এতদিন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল।

নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ৭৩৪ কোটি ডলারই তৈরি পোশাক। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘোষণায় উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও এসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক বাড়াচ্ছে। নতুন শুল্ক হার অনুযায়ী, ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া, মিয়ানমার, লাওস ও কম্বোডিয়ার পণ্যের ওপর যথাক্রমে ৪৪, ৪৮ ও ৪৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, বিদেশি গাড়ি আমদানিতেও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি দেশের শিল্পখাতের পুনর্জন্মের দিন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং নতুন এই শুল্ক নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা হবে।

বাংলাদেশের জন্য এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নতুন রপ্তানি বাজারের সন্ধান করতে হবে।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে ৩-৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে অবস্থান করবেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন।

সফরের অংশ হিসেবে ড. ইউনূস ভারতসহ বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া, সম্মেলনের সময় দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন তিনি।

বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্যাংকক সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্কের নানা দিক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশ বিমসটেকের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ৪ এপ্রিল সম্মেলন শেষে ঢাকায় ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক

ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরের ফাঁকে তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকারি সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকটি আগামী শুক্রবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সরকারি সূত্রগুলো বৈঠকটি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান বলেন, "আমরা সরকারিভাবে এই বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের আশা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।"

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বরাত দিয়ে একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা শীতল রয়েছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেও দুই নেতা মুখোমুখি হননি। মোদি দেশে ফিরে যাওয়ার পর ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছান। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠান এবং গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসেও শুভেচ্ছা জানান।

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান আরও জানান, বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সংগঠনের পরবর্তী চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং আগামী এক বছর বিমসটেকের কার্যক্রম পরিচালনার নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ।

এছাড়া সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি দুটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময়ও উপস্থিত থাকবেন।

প্রধান উপদেষ্টা আগামী ৪ এপ্রিল ব্যাংকক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ভ্যাল কিলমার আর নেই
ময়মনসিংহে সিনেমা হলে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দর্শকদের ভাঙচুর
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারের ভূমিকম্পে এক ইমামের ১৭০ স্বজনের মৃত্যু
ঈদের আনন্দে যমুনার দুর্গম চরে গ্রাম-বাংলার ঘুড়ি উৎসব, আনন্দে মেতে উঠে বিনোদনপ্রেমীরা!
ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়, দেওয়া হলো ৯ লাখ টাকার সংবর্ধনা
লন্ডনে একসঙ্গে দেখা গেলো সাবেক চার আওয়ামী মন্ত্রীকে
ঢাকায় ফিরছে ঈদযাত্রীরা, অনেকে ছুটছেন শহরের বাইরে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আবারও সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭