শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২৪

ওয়াদি এল হিতামের সরাইখানা থেকে বেরিয়ে আমরা গাড়িতে উঠতে যাব এই সময় রানা ভাই বললেন, ‘দাঁড়ান, মরু বেদুঈনের সাজ পোশাকে একটা ছবি তুলে নিই। আমি ভাবছিলাম এই ধু ধু মরুভূমিতে কোথায় বেদুঈনের পোশাক আর কোথায়ই বা পোশাক বদলের মেকআপ রুম! জোব্বার ব্যবস্থা না হলেও বাসুনি মুহূর্তের মধ্যে রানা ভাইয়ের মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দিলে আমি পটাপট বেশ কয়েকটা ছবি তুলে ল্যান্ডক্রুজারে উঠে বসলাম। এবারের গন্তব্য ম্যাজিক লেক। আবার ব্যাগ-পাইপে নাগিনের বাজনা বাজিয়ে এঁকেবেঁকে বালির সমুদ্রে চালক তার বাহন ছুটিয়ে এগোচ্ছে। এবারে মুহূর্তেই ঊর্ধ্বলোক থেকে ঝাঁকুনি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনার কসরত না থাকায় গাড়ির ভেতরে মুড়ি মশলা মাখানোর মতো যথেষ্ট ঝাঁকাঝাঁকি থাকলেও হাড়হাড্ডি ভাঙার আশঙ্কা ছিল না। কিন্তু বাসুনি তার এই আপাত ভালোমানুষির আড়ালে আসল শয়তানির চেহারাটা লুকিয়ে রেখেছিল। ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ মিনিট ধরে দুপাশে অসংখ্য দৃষ্টি নন্দন বালির ভাস্কর্য পেছনে ফেলে মরু সমুদ্র পেরিয়ে আমরা এগোতে থাকি। হঠাৎ করেই দুপাশের বালির পাহাড়গুলো আকারে ছোট হতে হতে একসময় সমতল ভূমিতে মিলিয়ে গেল। যতদূর চোখ যায় বালুময় প্রান্তর বিস্তৃত হতে হতে দিগন্তে মিলিয়ে গেছে। বাঁ দিকে তাকালে মনে হয়ে বহুদূরে চিকচিক করছে জলের আভাস। হয়তো মরীচিকা কিংবা সত্যিই কোনো জলের উৎসের দিকে যাচ্ছি আমরা। বাসুনি বামে না ঘুরিয়ে ডান দিকে গাড়ি ঘোরালে চোখে পড়ে বালির বাঁধ খাড়া পাহাড়ের উপরের দিকে উঠে গেছে। এই বাঁধের ওপারে কী আছে তখনো তা অজানা।

মোহামেদ সাদেক বলল, ‘সিটবেল্ট বাধা না থাকলে বেঁধে নাও আর শক্ত করে ধরে বসো।’
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘হোয়াট ইজ গোয়িং টু হ্যাপেন?’
‘উই আর গোয়িং টু ক্লায়িম্ব দ্য স্যান্ড হিল!’
‘ওহ মাই গড! তুমি বরং পাহাড়ে ওঠার আগে আমাকে নামিয়ে দাও।’
রানা ভাই বললেন,‘আমিও নামতে চাই, তবে ছবি তোলার জন্য।’
হেনার ভয় ডর একটু কম, সে গাড়ি থেকে নামতে রাজি নয়। রানা ভাইয়ের মতো আমিও বললাম, ‘খাড়া পাহাড়ে ওঠার দৃশ্যটা ভিডিওতে ধরে রাখার জন্যে নেমে যাওয়াও ভালো।’ আমি আর রানা ভাই নেমে যাবার পরে ডেজার্ট ডেভিল বাসুনি তার ল্যান্ডক্রুজার নিয়ে অনায়াসে খাড়া পাহাড়ে উঠে গেল। আমি অবাক হয়ে হা করে দৃশ্যটা দেখতে দেখতে ক্যামেরার শাটার টিপতেই ভুলে গেলাম।

মোহামেদ সাদেক ও রানা ভাই

মোহামেদ সাদেক ও রানা ভাই

বাঁধের উপর থেকে সাদেক চিৎকার করে বলল, ‘তোমরা নিচেই থাকো, আমরা তোমাদের তুলে নিতে আসছি।’ গাড়িটা যখন নিচে নামছে তখন আর ভুল হলো না। এবারে নেমে আসার দৃশ্যটা ভিডিওতে ধারণ করে গাড়িতে উঠে বসলাম। আবারও গাড়ি খাড়া পাড় বেয়ে সোজা উপরে উঠে গেল। না এবারে আর তেমন ভয় পাইনি। বাঁধের মতো বালির পাহাড়ের অপরিসর চূড়ায় উঠে গাড়ি থামলে আমরা নেমে গেলাম। খাড়া পাড় বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত হয়ে ক্রমশ নিচের দিকে নেমে গেছে। এখন অনেক দূরে তাকালে সত্যিই জলাভূমি দেখা যায়, চোখে পড়ে জলের ছোঁয়ায় প্রাণ পাওয়া লতাগুল্মের ঝোপঝাড়।

খাড়া পাড় বেয়ে নামছে ল্যান্ডক্রুজার

খাড়া পাড় বেয়ে নামছে ল্যান্ডক্রুজার

আমাদের উপস্থিতির সাড়া পেয়ে নিচে থেকে কয়েকজন কিশোর দূর থেকে ছুটে আসতে থাকে। মরুভূমির তপ্ত বালু পায়ে মাড়িয়ে শিগগিরই তারা খাড়া পাড় বেয়ে উপরে উঠে আসে। তাদের সবারই হাতে ঝুলছে ছোট ছোট পাথর দিয়ে গাঁথা মালা। তারা আমাদের ঘিরে ধরে আরবি ভাষায় যে নিবেদন করে তাতে আমার মনে হয় চারজন কিশোর প্রায় একই সুরে কোরআন থেকে কোনো আয়াত উচ্চারণ করছে। না, তারা একেবারেই বিরক্ত করেনি, কেবল সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে তাদের প্রোডাক্ট সেল করার চেষ্টা করেছে। মালা না কিনলেও ওদের একেবারে নিরাশ করেননি রানা ভাই। দুই একজনের আপত্তি সত্ত্বেও সবার হাতে ইজিপ্টশিয়ান পাউন্ডের ছোট একটা করে নোট ধরিয়ে দিয়েছেন।

আমি মুগ্ধ চোখে সামনে পেছনে ঘুরে দেখছি। নিচে দুপাড়ের বালুচরের মাঝখানে খালের মতো এঁকেবেঁকে যে ভূখণ্ড বহুদূর চলে গেছে সেখানে জন্ম নিয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ জলজ উদ্ভিদ। কালচে সবুজ শ্যাওলা, জলাভূমির ঘাসের মতো গাছপালা লতাগুল্মের এক অপূর্ব দৃশ্যপট প্রকৃতি নিজের হাতে সাজিয়ে দিয়েছে ধূসর মরুর প্রান্তর জুড়ে। অপসির বালির পাহাড়ের মাথায় ছড়িয়ে আছে নানা ধরনের পাথরের টুকরো। হেনা পাথরের টুকরো হাতে তুলে নিয়ে কাছে থেকে দেখে আবার ছড়িয়ে দিচ্ছে। রানা ভাই কিশোর ফেরিয়ালাদের সাথে কোন ভাষায় কথা বলে গল্প জমিয়েছেন আল্লা মালুম। তবে এই সুন্দর পাহাড় চূড়ার অবস্থান দীর্ঘ হলো না। বাসুনি বালি পাহাড়ের অপ্রশস্ত শীর্ষে তার গাড়ি চালিয়ে নিয়ে এলো পথের শেষ প্রান্তে। এখানে নেমে যাবার পরে মরুভূমির রূপ দেখে আরও একবার বলতে হলো, ‘আহ কী সুন্দর!’

ম্যাজিক লেকের কিশোর ফেরিওয়ালা

ম্যাজিক লেকের কিশোর ফেরিওয়ালা

আল ফাইয়ুমের ওয়াদি এল হিতামের মরূদ্যানে এই অসামান্য জলাধার বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোর তারতম্যের সাথে সাথে রঙ বদলায়। সেই কারণেই এই হ্রদের নাম ম্যাজিক লেক।

মোহামেদ সাদেক আগেই বলেছিল, মিশরের সবচেয়ে সুন্দর হ্রদগুলোর মধ্যেও সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দর এই ম্যাজিক লেক। নিজের চোখে না দেখলে সেই সৌন্দর্য উপলব্ধি করা কখনোই সম্ভব নয়। চারিদিকে বাদামি বালির টিলা দিয়ে ঘেরা নীল স্বচ্ছ জলের এই সরোবর শুধু চোখে দেখেই যে প্রশান্তি জাগে তার কোনো তুলনা নেই। আর যদি টলটলে পানিতে নেমে সাঁতার কেটে আসা যেত! আঁকাবাঁকা প্রায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হ্রদে সাঁতার কাটতে কোনো মানা নেই। লেকের পাড়ে বাধা রঙিন নৌকা দেখে বোঝায় যায় ভ্রমণবিলাসী পর্যটকের জন্যে এখানে নৌবহারের ব্যবস্থা করেই রাখা হয়েছে।

দু’পাশে চরভূমি মাঝে প্রবহমান সবুজ

দু’পাশে চরভূমি মাঝে প্রবহমান সবুজ

উড়িষ্যার তপ্তপানি প্রসবনের মতো ম্যাজিক লেকের পানিতে বিভিন্ন খনিজের উপস্থিতির ফলে আর্থারাইটিসের ব্যথা উপশমে বেশ কাজ করে বলে মনে করা হয়। আমাদের সবারই যে বয়স, তাতে প্রায় প্রত্যেকেই আর্থারাইটিসের ব্যথা সয়ে পাহাড়-সাগর-মরুর বাধা অতিক্রম করে চলেছি। সময় থাকলে সত্যিই ঝাঁপ দিয়ে পড়তাম ম্যাজিক লেকের পানিতে। সাদেক আরও একটা লোভনীয় তথ্য দিলে আমার মনে হলো এই একদিনের মরু অভিযান নেহায়েতই বুড়ি ছুঁয়ে যাবার মতো। সাদেকের ভাষ্য অনুসারে ম্যাজিক লেকের সূর্যাস্ত পৃথিবীর সুন্দরতম সূর্যাস্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। সূর্য অস্ত যাবার পরে লেকের পাড়ে তাঁবু টানিয়ে ক্যাম্প করে থাকার ব্যবস্থা আছে, খাবার জন্যে বার-বি-কিউ এবং এরপর নিঃসীম বালির সমুদ্রে শুয়ে আকাশের গ্রহ নক্ষত্র দেখেই নির্ঘুম সারারাত কাটিয়ে দেওয়া যায়। আমাদের সৌভাগ্যের সীমানা ততটা সম্প্রসারিত নয় বলে এই অসামান্য হ্রদের পাড়ে তাঁবুতে রাত্রিবাসের কোনো সুযোগ কখনো হবে না, আর কখনোই ফিরে আসা হবে না ওয়াদি এল হিতামের ম্যাজিক লেকে। কিন্তু নিজের চোখে যেটুকু দেখেছি তাই বা কম কিসে! আমরা সমুদ্রের বালুকা বেলায় পায়ের ছাপ ফেলে হেঁটে যাই, এখানে মরু পাহাড়ের বালির বিছানায় আমরা আমাদের পদচিহ্ন রেখে গেলাম।

ম্যাজিক লেকের একাংশ

ম্যাজিক লেকের একাংশ

দুপুর হয়ে আসছে, কিন্তু এই বিরান প্রান্তরে দুপুরের খাবার জুটবে কোথায়! আমাদের ভাবনাটা বোধ হয় পড়ে ফেলেছিল অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড মোহামেদ সাদেক। গাড়ি চলতে শুরু করলে সে জানাল আমরা ওয়াদি এল রায়ানের ওয়াটার ফলস হয়ে কুমারদের গ্রাম তিউনিসে লাঞ্চ করব। ওয়াটার ফলস মানে জলপ্রপাত! এই আদিগন্ত ছড়িয়ে থাকা মরুভূমিতে গভীর হ্রদ এবং অগভীর জলাধারসহ জলযোগের ব্যবস্থা তো কম দেখলাম না। কিন্তু সত্যিকারের জলপ্রপাত!

আরও মিনিট কুড়ি পরে আমরা যেখানে গাড়ি থেকে নেমে গেলাম সেখানে চারিদিকের রুক্ষ প্রকৃতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু খেজুর গাছ। বাঁ দিকের পার্কিংয়ে ছোট বড় অনেকগুলো গাড়ি দেখে বোঝা যায় এখানে টুরিস্ট সমাগম নেহায়েত কম নয়। পার্কিংলটের পাশেই বেশ কিছু উট এবং তাদের মালিক শুয়ে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে। মোহামেদ সাদেককে অনুসরণ করে রানা ভাই লম্বা পা ফেলে আগে চলে গেলে আমি একটু পিছিয়ে পড়েছিলাম। পুরো এলাকায় বাঁধানো চত্বরের ডান দিকে গোটা কয়েক রেস্তোরাঁ, বাঁ দিকে একটা মসজিদ। মসজিদের ওপারে আরও একটি খিলান গম্বুজওয়ালা ভবন, সম্ভবত নিরাপত্তাবাহিনী দপ্তর। ভবনের মাথায় অনেকগুলো গম্বুজের সবগুলোতেই ছোট ছোট খোপ কাটা দেখে মনে হয় কবুতরের বাসা। ঘরগুলোর দেয়াল থেকে গম্বুজ সবকিছুই দেখে মনে হয় মাটির তৈরি আর কবুতরের খোপগুলো আসলে প্রকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

ওয়াদি এল রায়ান ফলসের পথে

ওয়াদি এল রায়ান ফলসের পথে

মাটির মসজিদের মাথায় এখানেও আজান প্রচারের জন্য দুদিকে মুখ করে দুটি মাইক বাধা। সামনেই মাটি, কাঠ, খেজুর পাতা এবং বাঁশ-বেত-কাপড়ের তৈরি স্যুভেনিয়ার সাজিয়ে বসেছে স্থানীয় চারু ও কারুশিল্পীরা। অবাক লাগল, নানা ধরনের ঝুড়ি, ব্যাগ, টুপি, মালা, ফুলদানির পাশাপাশি হাতি, ঘোড়া, উট ছাড়াও মানুষের প্রতিরূপ পুতুলও সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

ওয়াদি এল রায়ান মসজিদ

ওয়াদি এল রায়ান মসজিদ

সৃষ্টিশীল লোকজ শিল্পীর কাজে বাধা দেওয়ার কেউ না থাকতে পারে, কিন্তু মসজিদের সামনে মূর্তির পশরা সাজিয়ে বসা হয়তো অ্যারাব রিপাবলিক অব ইজিপ্টের মতো দেশেই সম্ভব। ওয়াদি এল রায়ান উপত্যকার ১৭৬০ বর্গ কিলোমিটারের বিস্তৃত এলাকার একশ তেরো বর্গ কিলোমিটার জলাধার। নীল নদের চল্লিশ কিলোমিটার পশ্চিমে এই জলপ্রপাত। আসলে রায়ান এলাকার মরূদ্যানে ফসল ফলাবার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল তারই প্রত্যক্ষ প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে এই জলপ্রপাত। নীল নদ থেকে আপার লেক এবং লোয়ার লেক নামে দুই স্তরের যে দীর্ঘ খাল খনন করা হয়েছিল তারই উপরের স্তরের পানি নেমে এসেছে ওয়াদি এল রায়ানে। প্রপাতের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি মেলে দিলে চোখে পড়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত খাল। এটিই সেচ প্রকল্পের প্রধান সংরক্ষিত জলের রিজার্ভার। এর পানিতে শুধু জমির ফসল নয়, জলপ্রপাত এবং ঝরনাগুলোর আশেপাশে বড় বড় টিলার নিম্নাঞ্চলে জন্মায় বহুবর্ষজীবী নানা উদ্ভিদ।

এখানে জলাভূমি ঘিরে তেরো প্রজাতির পাখির বসবাস। এ ছাড়া প্রতি বছর প্রায় পঁচিশ ধরনের পরিযায়ী পাখি রায়ানের জলাধারগুলো মুখর করে তোলে। সরু শিংওয়ালা হরিণের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীসহ আরও বারোটি বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর শেষ বংশধরেরাও এই মরূদ্যানে নিশ্চিন্ত তাদের জায়গা করে নিয়েছে।

রায়ান জলপ্রপাত

রায়ান জলপ্রপাত

মিশরের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতের সামনে দাঁড়িয়ে অবিরাম ধারায় ঝরতে থাকা পানির প্রবাহ নিজের চোখে দেখার আগে আমার বিশ্বাসই হতে চায়নি এখানে সত্যিই কোনো ওয়াটার ফলসের অস্তিত্ব আছে! আমাদের দেখা পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের বড় বড় ওয়াটার ফলসের সাথে তুলনায় রায়ানের এই ক্ষুদ্র জলপ্রপাতটি হয়তো কিছুই নয়। তবুও উপরের স্তর থেকে ঝরে পড়া পানি সরু খালের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঊষর বালু মাটিতে ফসলের সম্ভাবনা জাগিয়ে বয়ে চলেছে অনেক দূরে। তাই বিস্মিত পর্যটকের দল রায়ান ফলস ঘিরে দাঁড়িয়ে তাদের উচ্ছ্বাস এবং বিস্ময় প্রকাশ করে চলেছেন। তাদের কথায় চাপা পড়ে গেছে রায়ানের বিরতিহীন ঝরে পড়া জলের শব্দ। আমরা কিছুক্ষণ জলপ্রপাতের কাছে দাঁড়িয়ে ফিরে চললাম। চত্বরের বাইরে একসারি খেজুর গাছের ছায়ায় বাসুনি তার ল্যান্ডক্রুজার নিয়ে অপেক্ষা করছে।

চলবে...

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>> 

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২১

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১১

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

এসজি/ 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী