শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১২

নদীর ঘাটে এসে পৌঁছাবার পরে অশ্ব শকটের কিশোর চালক বখশিশের জন্যে হাত বাড়ালো। পকেট হাতড়ে একটা কুড়ি পাউন্ডের নোট তার হাতে দিলাম। এরপর সে তার ঘোড়া দেখিয়ে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলো, এবারে ঘোড়া জন্যেও কিছু দাও। এমনিতেই আর কোনো ছোট নোট ছিল না, কাজেই আমিও তাকে বাংলায় উচ্চারণ করে এবং হাতের ইশারায় বলে দিলাম, কুড়ি পাউন্ড ঘোড়ার সাথে ভাগাভাগি করে খাও।

টুইয়াতে ওঠার সময় আবার মাথাগুণতির কার্ড জমা দিয়ে একে একে লবিতে এসে জড়ো হবার পরে দেরি না করে সোজা ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে পড়লাম। আমরা যারা এক সাথে এডফু টেম্পল দেখতে গিয়েছিলাম সেই কয়জন ছাড়া রেস্তোঁরা পুরোপুরি খালি। সকাল নয়টাও বাজেনি, এরই মধ্যে নাস্তাপানির পালা শেষ! আমাদের সামনা সামনি একটা টেবিলে একজন সঙ্গীসহ মোস্তফা এবং বিপরীত দিকের একটি টেবিলে টুইয়ার ম্যানেজার নাস্তা খেতে বসেছেন। এটা যে বুফে ব্রেকফাস্ট, বিশেষ করে মোস্তফাকে এজন্য কোনো বিল দিতে হবে না সেটা তার উপচে পড়া প্লেট দেখলেই বোঝা যায়। ম্যানেজার সাহেবের নাস্তাও নিশ্চয়ই ফ্রি। তারপরেও তিনি এতো বেলায় টেবিলে বসে কেন শুধু কয়েকটা শুকনো বনরুটি চিবাচ্ছেন বুঝতে পারলাম না।

ছবি: টুইয়ার শপিং এলাকা

আমরা জাহাজে ওঠার পরপরই নোঙর তুলে যাত্রা শুরু করেছে টুইয়া। ধীরে ধীরে শহর এলাকা ছেড়ে যাবার সময় দেখলাম, আসোয়ানের মতো এখানেও নদীর তীরেই মসজিদসহ অনেকগুলা বহুতল ভবন। খুব দ্রুতই আমরা শহর এলাকা ছাড়িয়ে এক পাশের সারি সারি খেজুর গাছের ওপারে উঁচু নিচু পাহাড় আর অন্যপাশে খেজুর বনের ভেতরে ভেতরে সবুজ ফসলের মাঠ দেখতে দেখতে এগাতে শুরু করলাম। এদিকে সবুজের ছোঁয়া অনেক বেশি, কোথাও কোথাও মনে হলো জমিতে জল জমে আছে।

জাহাজে সম্ভবত আমাদের মতো পনের কুড়িজন হাভাতে টুরিস্ট বাদ দিলে বাকিরা সকলেই অভিজাত শ্রেণির। তারা হয়তো এর আগেও অনেক বার এইপথে আসা যাওয়া করেছে। সেই কারণে তারা প্রত্নতাত্ত্বিক কোনো নিদর্শন, মন্দির-মসজিদ-দুর্গ-দেয়াল কোনোটাই দেখতে যায় না। অনেক সময় জাহাজ থেকে নামেও না। তারা হয়তো এখন শুধু রিলাক্স করতেই নীল নদে ভেসে বেড়াতে এসেছে। এখন উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে বিয়ারের ক্যান অথবা কফির মগ হাতে ছাদে বসে আছে।

ছবি: জাহাজের সুইমিং পুল

সাড়ে নয়টার দিকে নাস্তা শেষ করে উপরে ওঠার সময় ভাবলাম টুইয়ার শপিং এলাকাটা একবার ঘুরে দেখা যাক। খুব বড় আকারের না হলেও দ্বিতীয় তলার একটা বড় অংশ জুড়ে পর্যটক প্রিয় নানা সামগ্রীর বিশাল সংগ্রহের পশরা সাজানো। সেখানে বিক্রি হচ্ছে মিশরের বিভিন্ন যুগের নানা নিদর্শনের রেপ্লিকা, টি শার্ট-টুপি, মেয়েদের স্কার্ফ-হিজাব, স্কার্ট-শর্টস, ধাতব এবং পাথরের গহনা, এমন কি জুতা স্যান্ডেল, চাদর-বালিশ, ব্যাগ- স্যুটকেস পর্যন্ত। জলযানে ভ্রমণ করতে এসে দাম কিছু বেশি দিয়ে হলেও স্যুভেনিয়ার নিশ্চয়ই কেনা যায়। কিন্তু এখানে যে বিপুল পরিমাণে জিনিসপত্রের সমাবেশ তা কারা যে কিনে নিয়ে যায় আল্লাহ মালুম।

আমরা ঘুরে ফিরে দেখে কিছুই না কিনে ঘরে ঢুকে সকালের বাড়তি জামা কাপড় রেখে সিঁড়ি দিয়ে আপার ডেকে উঠে গেলাম। মাঝে দুই সারিতে চেয়ার টেবিল পাতা থাকলেও আমাদের রানা ভাইসহ মাত্র দু চারজন বসে বই পড়ছেন অথবা বিয়ারের ক্যানে চুমুক দিতে দিতে গল্প করছেন। দুপাশের ডেক চেয়ারেও অলসভঙ্গিতে শুয়ে আছে অনেকেই। জাহাজের সামনের দিকে স্যুইমিং পুলে একটা ফোয়ারা থেকে অবিরাম জল ঝরছে। কিন্তু এই ভাসমান পুলে কাউকেই জলক্রীড়া করতে দেখা গেল না। তবে স্যুইমিং পুলের ওপারে একেবারে সামনের দিকে পাতা ডেক চেয়ারের একটিও খালি নেই। সকলেই সামনে এগিয়ে যাবার দৃশ্য দেখতে চায়। নীলের নিস্তরঙ্গ জল কেটে আমাদের ঠিক পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছিল ক্রুইজ শিপ এম ভি কংক্রিট! দুই জাহাজের মধ্যে সামানে এগিয়ে যাবার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। আমি অনেক্ষণ ধরে পাশ দিয়ে পিছিয়ে যাওয়া খেজুর বনের দৃশ্য দেখছিলাম। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে একই দৃশ্য দেখার একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হবার পরে ভাবলাম ঘরে ফিরে স্নান সমাপন করে যথা সময়ে খেতে গেলেই চলবে।

ছবি: তোয়ালের বানর

জাহাজের কক্ষগুলোতে সে সময় ক্লিনিং আওয়ার চলছিল। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কারণে আমাদের কক্ষের দরজা খোলা। ঘরে ঢুকেই একটা অভাবনীয় দৃশ্য চোখে পড়লো। আমাদের কক্ষের বাথরুম এবং বিছানার মাঝখানের খোলা কপাটের উপর থেকে একটা বানর ঝুলছে! না–হাত পা এবং লেজওয়ালা আসল বানর নয়, তোয়ালে দিয়ে তৈরি বানর কাপড় শুকানোর ক্লিপ দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে একটা হ্যাঙ্গারে। রুম সার্ভিসের ছেলেটা একটা নিষ্পাপ হাসি দিয়ে বললো, ‘ডু ইউ লাইক ইট স্যার?’ লাইক না করে আর উপায় কী! মনুষ্যকুলের পূর্ব পুরুষের কথা মনে করিয়ে দেয়াটা কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। সম্ভবত ঘরের কাজ শেষ করার পরে হাতে সময় থাকায় সে একটু শিল্প চর্চায় মন দিয়েছিল। তাকে আপাতত ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় করলাম।

দুপুরে খাবার সময় হঠাৎ একটা বিপত্তি ঘটে গেল। আমাদের তিনজনের টেবিলে দুজন খেতে বসে লাঞ্চ প্রায় শেষ করে ফেলেছি, কিন্তু রানা ভাইয়ের দেখা নেই। ঘরে ফোন করেও তাঁকে পাওয়া গেল না। এদিকে লাঞ্চের সময়ও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ভাবলাম প্লেটের খাবার শেষ করেই তাঁকে খুঁজতে ছাদে যাবো। ঠিক এই সময়ে রানা ভাই এসে হাজির। বুফে কাউন্টার থেকে প্লেটে খাবার তুলে নিয়ে এসে টেবিলে রেখে যখন বসতে গেছেন তখন তাড়াহুড়ার কারণে অথবা অসাবধানতা বশত চেয়ারের কিনারায় বসে চেয়ারসহ মেঝেতে পড়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গেই রেস্তোরাঁর দুজন কর্মী ছুটে এলে আমরা তিনজনে মিলে রানা ভাইকে ধরে টেনে তুলে ফেললাম। তিনি তেমন কোনো আঘাত পাননি, তবে ঘটনাটা মারাত্মক হতে পারতো। লাঞ্চ টাইম শেষ হয়ে গেলেও চণ্ডীদাসের খুড়ো এসে বলে গেলেন, ‘নো হারি, ডোন্ট ওরি। এনজয় ইয়োর লাঞ্চ।’

ছবি: এসনা লক

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, এডফুর মন্দিরে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি এবং সব শেষে লোভনীয় লাঞ্চ যথেষ্ট পরিমাণে ‘এনজয়’ করার ফলে দুপুরে ঘরে এসেই বিছানায় গড়িয়ে পড়েছিলাম। শুয়ে শুয়ে কিছুক্ষণ নদী তীরের দৃশ্য, খেজুর বাগান আর ফসলের ক্ষেত, পাহাড়ের পাশ দিয়ে ছুটে চলা আন্তনগর ট্রেন এবং পাশ দিয়ে নৌযানের চলাচল দেখতে দেখতে চোখ ধরে এসেছিল। কিছু সময় ঘুমিয়েও নিয়ে মনে হয়। হঠাৎ জাহাজের পাশে বেশ হৈ চৈ শুনে তন্দ্রা ছুটে গেল। উঠে জানালার পাশে এসে দেখলাম আমাদের জাহাজ থেমে গেছে আর তার পাশে কয়েকটা নৌকায় ভাসমান ফেরিওয়ালা হাঁকডাক দিয়ে নদী থেকে জাহাজের আপার ডেক পর্যন্ত পুরো এলাকা সরগরম করে তুলেছে। প্রত্যেক নৌকায় একজন মাঝি হাল ধরে বসে আছে আর একজন ‘হ্যালো স্যার... ওনলি হান্ড্রেড পাউন্ড... গুড কোয়ালিটি... হ্যান্ড মেড স্যার...’ ইত্যাদি বলে সম্ভাব্য ক্রেতা আকর্ষণে ব্যস্ত। আমাদের পাশের ঘর থেকে রানা ভাইয়ের কণ্ঠও শোনা গেল। তিনি ফেরিওয়ালাদের সাথে কথোপকথন শুরু করে দিয়েছেন। একটু পরেই দেখলাম নদী থেকে বিক্রেতা উপরের দিকে কাপড়ের পোটলা ছুঁড়ে মারছে আর একটু পরেই কাপড়ের খালি ব্যাগ উপর থেকে নিচে চলে যাচ্ছে। নৌকায় দাঁড়ানো ফেরিওয়ালা ক্রিকেট বল ধরার মতো করে ব্যাগটা লুফে নিচ্ছে।

বুঝলাম আমাদের জাহাজ এসনায় পৌঁছে গেছে। শহর হিসাবে এসনা প্রাচীন মিশরীয়, টলেমিক, গ্রিকো-রোমান, ইসলামিক এবং একই সাথে বিশ শতকের আধুনিক নগরী। খ্রিস্টপূর্ব তিনশ অব্দে এসনা ছিল সে সময়ের আপার ঈজিপ্টের রাজধানী। নীল নদের উপরে এখানেই রয়েছে বিখ্যাত ‘এসনা লক!’ এডফু থেকে লক্সর অথবা লক্সর থেকে এডফু যাবার ঠিক মাঝখানে এই পথে প্রতিটি টুরিস্ট নৌযানকে একটি দীর্ঘ বাঁধের নিয়ন্ত্রিত অপরিসর পথ পেরিয়ে অপর পারে যেতে হয়। দুশ একুশ মিটার দীর্ঘ পথটুকু পেরোতে কুড়ি মিনিটের বেশি সময় লাগে না, তবে যেহেতু দু পারের নৌযান পারাপারের ক্ষেত্রে এটি একটি ‘ওয়ান ওয়ে’ বা একমুখি পারাপারের ব্যবস্থার কারণে এবং একই সাথে পানির স্তর সম্পর্কিত কৌশলগত সীমাবদ্ধতার ফলে একপাশের জাহাজকে ওপারে যাবার জন্যে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ‘লক’ মানে যখন তালা, তাহলে তালা খুলবার অপেক্ষায় তো থাকতেই হবে। এখন এই তালা খোলার চাবিটি কার হাতে সেটিই হলো আসল কথা।

ছবি: নীল নদের ভাসমান ফেরিওয়ালা

বাঁধ নির্মাণে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের দিক থেকে সতের মিটার চওড়া এবং দুশ একুশ মিটার লম্বা ‘এসনা লক’ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আসোয়ান হাইড্যাম থেকে প্রায় একশ সত্তুর কিলোমিটার ভাটিতে নীল নদের গতিপথ পরিবর্তন করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আসোয়ানের ভাটিতে নির্মিত সাতটি বাঁধের মধ্যে অন্যতম ‘এসনা লক’ নির্মিত হযেছিল নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে পানির স্তর স্থিতিশীল রাখার জন্যে। জলের গভীরতা এখানে কম বেশি সাড়ে চৌদ্দ মিটার। ১৯০৬ সালে প্রথমে ব্রিটিশদের তৈরি এই বাঁধের আধুনিকায়ন হয়েছে ১৯৯৬ সালে।

ঐতিহাসিক এসনা লক পারাপারের দৃশ্য নিজের চোখে দেখার জন্যে ক্যামেরা হাতে উপরে উঠে এলাম। এ সময় টুইয়ার আপার ডেকের সামনের দিকে ভিড় করে বিপুল সংখ্যক আর্য নরনারী যেভাবে ক্যামেরা বাগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাতে খর্বকায় দ্রাবিড়ের পক্ষে সামনে থেকে ছবি তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ালো। রানাভাইও তাঁর ভাসমান বাজারের কেনাকাটা শেষ করে উপরে উঠে এসেছেন। জানলাম একশ পাউন্ড দামের একটা শাল দরদাম করে সত্তুর পাউন্ডে কিনেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত একটা একশ পাউন্ডের নোট নিচে ছুঁড়ে দিয়ে হাল ধরে থাকা মাঝিকে কুড়ি পাউন্ড দিয়ে দিতে বলেছেন।

ছবি: এসনা লক পারাপার

এখানে অনেক সময় তালা খুলতে দেড় দুই ঘণ্টাও লাগে বলে শুনেছি। আমাদের কপাল ভালো বলে এই অপেক্ষার সময় কুড়ি পঁচিশ মিনিটের বেশি হলো না। একপাশে নদী বন্দর এসনা এবং অন্যদিকে দীর্ঘ বাঁধের দৃশ্য বেশ আকর্ষণীয় বলে ছবি তোলার জন্যে সকলেই ব্যস্ত। আমি এদিক সেদিক ঘুরে আবার যখন জাহাজের সামনের দিকে এসে দাঁড়ালাম তখন অনেকেরই উৎসাহে ভাটা পড়েছে। অতএব টুইয়া পারাপারের অনুমতি পেলে সামনে থেকে এই ‘তালাবদ্ধ’ বাঁধ পেরোবার অসাধারণ দৃশ্যটি ধরে রাখতে সমস্যা হলো না। জাহাজ চলতে শুরু করার পরে প্রায় প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল, এই বোধহয় একপাশের পাড় বা খুঁটি ছুঁয়ে দিল। কিন্তু না, আমাদের সাড়ে চৌদ্দ মিটার চওড়া এবং বাহাত্তর মিটার লম্বা জাহাজ ধীরে ধীরে বলা যায় অতি ধীরে সরু পথ পাড়ি দিয়ে নির্বিঘ্নে ওপারে পৌঁছে গেল।

এই শীর্ণ নৌপথে যদি এতো বড় জাহাজ পারাপার করতে পারে, তাহলে আমাদের লঞ্চগুলো পদ্মা সেতুর দুই খুঁটির নিচে দিয়ে যাবার সময় যথেষ্ট জায়গা থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝেই ধাক্কা দেয় কেন! আমাদের আমলা কর্মচারীরা কতো কিছু শিখতে বিদেশে যান, জাহাজ পারাপারের কৌশল শিখতে জাহাজের ক্যাপ্টেন সারেং বা মাস্টারদের নীল নদে পাঠানো যেতে পারে।
এসনা লক পার হয়ে আসার পরে ‘টুইয়া’ আবার পূর্ণ গতিতে ছুটতে শুরু করল।

চলবে...

এসএ/

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১১

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী