শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২১

বিকেল বেলাটা ব্যালকনিতে বসে কফি খেয়ে কিছুটা আলসেমি করে সময় কাটালাম। অবশ্য বেশিক্ষণ অলস কাটাবার উপায় ছিল না। সন্ধ্যায় সৈয়দ আজিজ এবং মান্নি ভাবির বাসায় দাওয়াতে যেতে হবে। কায়রো আসার পর প্রথম দিনেই পরিচয় ঘটেছে মরুর দেশে এই চমৎকার এক টুকরো বাংলাদেশের সঙ্গে। 

সৌরভ বাসায় ফেরার কিছু পরেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম। পথে ফুলের দোকানের পাশে গাড়ি থামিয়ে সৌরভ একগুচ্ছ ফুল কিনে আনলে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোনো উপলক্ষ আছে কিনা? সেক্ষেত্রে আমরাও কিছু একটা নিতে পারতাম।’ সৌরভ জানালো কোনো উপলক্ষ নেই, এমনিতে মাঝে মধ্যে ওরা একত্রিত হয়। ধারণা করলাম, আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করা কায়রো নিবাসী বাংলাদেশি এবং সঙ্গে বিদেশি ঘনিষ্ঠজনদের এই ঘরোয়া আয়োজন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এবারে রানাভাইসহ আমাদের সংক্ষিপ্ত মিশর সফর উপলক্ষে আজকের আয়োজন।  

            মোকাত্তম থেকে রাতের কায়রো

সৈয়দ আজিজ কাজ করেন আন্তর্জাতিক রেডক্রসে, বসবাস আপাতত কায়রোতে। বিস্তৃত মরুভূমির দেশে দিনযাপন করেন ব্যস্ততার মধ্যে, কিন্তু সম্ভবত মন পড়ে থাকে সবুজ শ্যামল বাংলাদেশে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এবং তারুণ্যের উদ্দাম দিনগুলোতে মেতেছিলেন কবিতায়, যুক্ত ছিলেন আবৃত্তি চর্চায়। কণ্ঠশীলনের মতো সংগঠন আর অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের মতো শিক্ষক যে ভিত্তিভূমিতে তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন তা তিনি শুধু আঁকড়ে ধরে আছেন বললে ভুল বলা হবে। সৈয়দ আজিজ নিজে চর্চা অব্যাহত রেখেছেন, যুক্ত আছেন দেশের কবি ও আবৃত্তি শিল্পীদের সঙ্গে। ‘শব্দরূপ’ ঐতিহ্যের অঙ্গীকার নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান প্রচার করছেন। কায়রোতে বসে দেশের ও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কবি ও আবৃত্তিকারদের তিনি যুক্ত করে চলেছেন এই অনুষ্ঠানে। 

           সৈয়দ আজিজ ও মান্নি ভাবির সঙ্গে

বৈমানিক রাজি তাঁর বিদেশিনী স্ত্রী ভ্যালেরি এবং দুই পুত্র কন্যাসহ আমাদের আগেই পৌঁছে গেছেন। তাঁরা ছাড়াও অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বিদেশি অতিথি এলেন। শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আড্ডার গল্প গুজব ছড়িয়ে পড়ল কোভিড পরবর্তী পৃথিবীর বিভিন্ন সংকট, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের নানা প্রসঙ্গে। স্বাভাবিকভাইে আমরা বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনায় ঢুকে পড়ি। সৈয়দ আজিজ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশের কিছু সংখ্যক বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেল যেভাবে ইংরেজি মেশানো বিকৃত বাংলায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছে, তাতে ভবিষ্যতে প্রমিত বাংলা খুঁজে পাওয়াই কঠিন হবে। আজীবন বিশুদ্ধ বাংলায় নিবেদিত এই আবৃত্তি শিল্পী বাংলাদেশের কয়েকজন লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার বিরুদ্ধেও ভাষা বিকৃতির অভিযোগ তুলে ধরেন। সস্তা জনপ্রিয়তার লোভ সংবরণ করতে না পারা লেখক বুদ্ধিজীবী চলচ্চিত্র নির্মাতারা অবলীলায় বিকৃতি ঘটিয়ে বাংলা ভাষার সর্বনাশ করে চলেছেন অথচ তাদের প্রচার প্রপাগান্ডার সুফলভোগী হিসাবে আমরা কেউই তার প্রতিবাদ করছি না। 

           মোকাত্তম পাহাড়ে রেস্তোরাঁর সারি

মান্নি ভাবি যখন তাঁর নিজের হাতে রান্না করা খাবার এনে টেবিল জুড়ে সাজিয়ে রাখছেন সে সময় সৈয়দ আজিজ আমাকে নিয়ে এলেন তাঁর স্টুডিওতে। তাঁর বাসায় একটি ঘরকে পুরোপুরি টেলিভিশন স্টুডিওতে রূপান্তরিত করে ফেলেছেন। এটি একটি ছোট অথচ পূর্ণাঙ্গ প্রফেশনাল অডিও-ভিজ্যুয়াল স্টুডিও। সেট-লাইট-ক্যামেরা-মাইক্রোফান ছাড়াও চমৎকৃত হবার মতো যা দেখেছি তা হলো অডিও ইক্যুয়ালাইজার, ভিডিও সম্পাদনার ব্যবস্থা, এমন কি ক্রোমাকি বা কালার সেপারেশন ওভার-লের সবুজ পর্দা। আমি নিজে দীর্ঘদিন এই মাধ্যমে কাজ করেছি বলে সহজেই বুঝতে পারি এবং বিস্মিত হই কতটা পেশাদারিত্ব এবং কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে এই স্টুডিও। 
অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের প্রয়াণ দিবসে ২৭শে নভেম্বর শব্দরূপের পরিবেশনায় প্রচারিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য নাটক ‘বিসর্জন’। তিন দশক আগে ধারণকৃত এই শ্রুতি নাটকের উপদেশক ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন আশরাফুল আলম। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস। সে সময়ের প্রথিতযথা আবৃত্তিকার এবং অভিনেতাদের অনেকেই হয়তো অনন্তলোকে যাত্রা করেছেন, কিন্তু শ্রুতি নাটকের মধ্য দিয়ে সৈয়দ আজিজ ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন অতীতের সোনালী দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শব্দরূপ শুধু কথায় নয় কাজেও ঐতিহ্যের অঙ্গীকার রেখে চলেছে। আমি সৈয়দ আজিজকে বললাম, ‘দেশে ফিরেই আশরাফুল আলম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে আপনার উদ্যোগের কথা বলবো।’

                আড্ডা

খাওয়া-দাওয়ার বিপুল আয়োজন শেষ করে সৈয়দ আজিজ মান্নি ভাবির কাছে থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠার পরে সৌরভ বলল, ‘রাত খুব বেশি হয়নি। মোকাত্তম থেকে ঘুরে আসা যায়।’ কোথায় মোকাত্তম আর কীই বা তার বৈশিষ্ট্য কিছুই জানা নেই। কাজেই সৌরভের পরিকল্পনার কাছে নিজেদের ছেড়ে দিয়ে  আমরা গাড়িতে বসে থাকি। কায়রোর আলোকোজ্জ্বল শহর ছেড়ে এগুতে থাকি আরও দক্ষিণ দিকে। ক্রমেই আলো জ্বলা ঝলমলে শহর নিষ্প্রভ হতে থাকে। শহরের যানবাহন চলাচলের ব্যস্ততা কমে আসে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে মনে হয়ে আমরা ক্রমেই উপরের দিকে উঠে যাচ্ছি। মিনিট পনের কুড়ি পরে অনেকটা উপরে উঠে গাড়ি পার্ক করে সৌরভ।

                মোকাত্তম পাহাড়ে

এখানেও গাড়ি রাখার জায়গা খুঁজে বের করতে সময় লাগে। নদী তীরের একটি দীর্ঘ বাঁধের মতো উঁচু ছোট ছোট ব্লকে ঘিরে রাখা জায়গায় এসে ঢুকলাম আমরা। এখানে কোথাও কয়েক সারি চেয়ার টেবিল পাতা, কোথাও টেবিল ঘিরে বৃত্তাকারে সাজানো আসনে বসে চলছে তুমুল আড্ডা আবার কোথাও বসার ব্যবস্থা এক একটি বৃত্তাকার সোফার মতো কাপড়ে ঢাকা গদিতে। প্রত্যেকটি বর্গক্ষেত্র বা আয়তক্ষেত্রই এক একটি অস্থায়ী রেস্তোরাঁ। রেস্তোরাঁর সীমানা ঘিরে আলো জ্বলছে, কোথাও ফ্লুরোসেন্ট বাগান বাতি আবার কোথাও রঙিন আলো। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফুটলাইট হিসেবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে লম্বা নিয়ন বাতি অথবা টিউব লাইট। বাতিগুলো কী সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্যে, নাকি অন্ধকারে অতিথিদের পথ দেখাতে অথবা কেবলই রেস্টুরেন্টের সীমানা নির্ধারণের জন্যে জ্বালানো হয়েছে বুঝতে পারলাম না। কিছু এলাকায় মনে হলো ইচ্ছে করেই খানিকটা আলো আঁধারি ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। আমরা বাঁধের কিনারায় তেমনি এক আলো আঁধারিতে ঘেরা জায়গায় এসে বসলাম। বালির চত্বরের উপরে কাপড়ে ঢাকা গোলাকার আসনগুলো দৃষ্টিনন্দন হলেও বসে আরাম নেই। তবে যেখানে বসেছি সেখান থেকে নিচে তাকিয়ে দেখলাম যেমনটা কখনো ভাবিনি তেমনি এক কায়রোকে। দূরে— যতো দূরে দৃষ্টি যায় অলোর মালায় সাজানো কায়রো ঝলমল করছে। আলো অন্ধকারে ঘেরা প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন শহরটা যে এতোটা আলোর ঝিলিক ছড়াতে পারে তা এই মোকাত্তম পাহাড়ের উচ্চতায় এসে না দাঁড়ালে কখনোই জানা হতো না। 

       রাতের কায়রো টাওয়ার

কায়রো শহরের দক্ষিণে এক সারি পাহাড়ের নাম আল মোকাত্তম। আরবি মোকত্তম বাংলায় রূপান্তর করলে অর্থ দাঁড়ায় ভেঙে ফেলা বা বিচ্ছিন্ন করা। এখানে উঁচু নিচু পাহাড়ের দীর্ঘ বিন্যাস কোনো এক কালে ভেঙে তিনটি টুকরোয় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তাই বর্তমান তিন পাহাড়ের নাম হয়ে গেছে মোকাত্তম। আমাদের যেমন ‘দুই পাহাড়ের মাঝে মওলায় মসজিদ বানাইছে’, তেমনি এই তিন পাহাড় নিয়েও গল্প গাথার অভাব নেই। কথিত আছে খ্রিস্টিয় দশম শতকে আলেক্সান্দ্রিয়ার কপটিক পোপ আব্রাহাম তাঁর গুরু সেইন্ট সাইমন ট্যানরের পরামর্শ অনুসারে পাহাড় সংলগ্ন ভূমিতে একটি গণ প্রার্থনার আয়োজন করেন। মিশরের তৎকালীন মুসলিম খলিফার কাছে তিনি প্রমাণ করে দেন, যার মনে শরিষা দানার মতো বিশ্বাস আছে তিনি ইচ্ছা করলে একটি পাহাড়কেও সরিয়ে দিতে পারেন। কপটিট চার্চে এই বিশ্বাস প্রবল হলেও প্রকৃত পক্ষে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন যুগে পিরামিড থেকে শুরু করে নানা ধর্মমতের মন্দির মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের চুনাপাথর আহরণের ফলে পাহাড়ের তলদেশে শূন্যতার সৃষ্টি হয়ে হয়তো তিনভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে এই পাহাড় শ্রেণি। মোকাত্তম পাহাড়ের পক্ষে বিপক্ষে বিশ্বাস কিংবা যুক্তি যাই থাকুক, বর্তমানের বাস্তবতা হলো কায়রোর সবচেয়ে গরিব কুড়ি হাজার মানুষের বসবাস ‘গার্বেজ সিটি’ নামে পরিচিত এই মোকাত্তম এলাকায়। 

               মান্নি ভাবির সঙ্গে

সৈয়দ আজিজ মান্নি ভাবির বাসায় রীতিমতো নৈশ্যভোজ শেষ করেই আবার কোনো রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ার কথা নয়। তবে আমরা তো এখানে খাবার খেতে আসিনি, উপরের পাহাড় থেকে রাত্রিকালীন কায়রোর সৌন্দর্য দেখতে এসেছি। তারপরেও নেহায়েত কিছু অর্ডার না দিলে কেমন হয় বলেই সৌরভ চায়ের কথা বলে এলো। দূরের আলোকিত কায়রোর দিকে তাকিয়ে বোঝার উপায় নেই ঠিক এই পাহাড়ের ভাঁজে অথবা পায়ের কাছে, চড়াই উৎরাইয়ের ফাঁকে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে অসংখ্য মানুষ। আবর্জনাই যাদের অধিকাংশের আয়ের একমাত্র উৎস! সারা শহরের বর্জ্য এবং বাতিল জিনিসপত্র থেকে বিক্রয়যোগ্য কিছু খুঁজে বের করাই এদের নিত্যদিনের কাজ। কয়েক মিনিটের ভেতরে আমাদের মাথার উপর দিয়ে আকাশে এক এক করে গোটা তিনের বিমান উড়ে যায়। জনা তিনেক ফেরিওয়ালা তাদের সাম্ভাব্য ক্রেতার সন্ধানে আমাদের সামনে দিয়ে ঘুরে যায়। কায়রো শহরে একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখেছি, ট্রেনে বাসে তো বটেই, কোনো রেস্টুরেন্টে হকারর ফেরিওয়ালা, এমন কি সাহায্যপ্রার্থীরা অবাধে প্রবেশ করতে পারেন, কেউ তাদের বাধা দেন না।

কিছুক্ষণের মধ্যে চা এসে গেলে আমরা হাতে হাতে চায়ের কাপ নিয়ে দূরে তাকিয়ে থাকি। কায়রোর স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে মোকাত্তম পাহাড়ের উচ্চতায় মনে হয় উষ্ণতা কম, মাঝে মাঝে কোথাও থেকে একটু বাতাস বয়ে যায়। সে বাতাস মরুভূমির লু হাওয়া নয়, বসন্তের ঝিরঝিরে হাওয়া। কাজেই চায়ের কাপ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বেশ কিছু সময় বসে থাকি। এভাবে হয়তো আরও অনেকক্ষণ বসে কাটিয়ে দেওয়া যেতো, কিন্তু পরদিন ভোরে আমাদের আল ফাইয়ুম যাবার কথা। সেই কারণে ইচ্ছে না থাকলেও তাড়াতাড়ি উঠে পড়তে হলো। বাঁধ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় উঠে দেখলাম রেস্তোরাঁ এলাকার বাইরেও পাহাড়ের গায়ে বহুতল ভবনের সারি। পাহাড় থেকে নিচে নেমে ফেরার পথে অন্ধকার আবর্জনার স্তূপের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তার পাশে চোখে পড়ে হতদরিদ্র মানুষের ভাঙাচোরা বসত বাড়ি। একেই বোধহয় বলে প্রদীপের নিচ অন্ধকার! 

চলবে... 

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১১

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত