বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

কে চলে গেলেন?

পুরানা পল্টনের ২৪/৪, সেগুন বাগিচার নামটি প্রায় সবারই জানা, যারা বই পড়েন। এখানে পা পড়েনি বা শোনেননি এমন মানুষ বিরল। কেননা, সেবা প্রকাশনীর প্রতিটি বইয়ের কাভারের পরের পাতায় লেখা থাকে ঠিকানাটি। প্রকাশকের নাম লেখা কাজী আনোয়ার হোসেন। এই অফিসে ঢুঁ মারতে গিয়ে ফিরেছেন, তাদের সংখ্যা কোনোদিন কী হিসেব করা হয়েছে? তবে আজ সেটি খোলা আছে। খোলা মানে গেটে তালা নেই কোনো। ঠিক যেন কোনো ওয়ের্স্টানের সেলুনের গেটের সমান। সেটি ঠেলে ভেতরে ঢুকে যেতে, যেতে অবাক বনতে হলো। তারপর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে বারটেন্ডারের মতো বসে আছে একটি ছেলে। তবে বয়স্ক কোনো বারটেন্ডার নয় সে, বয়স তার একেবারে কম। ওয়েসলি হারডিন, রক বেননের মতো মুখে তার কাঁচা দাড়ি ভর্তি। ক্ষুরের অভাবে কাটা হয়নি। তাকে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলাম, কাজী আনোয়ার হোসেনের সাহেবকে কোথায় রাখা হয়েছে? প্রশ্নের সঙ্গে, সঙ্গে আততায়ী বা এমন কোনো নামের পশ্চিমের বইয়ের মতো মোটাসোটা একজন লোক বেরিয়ে এলেন। ছেলেটি উঠে দাঁড়িয়ে বললো, ‘আমি আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।’

কাঠের টেবিল-চেয়ার বইগুলোর প্রতিটির মতো, চেয়ার সরিয়ে সে বেরিয়ে এলো আগে। তাকে নিয়ে আবার নামতে, নামতে চোখে পড়লো একটি চৌবাচ্চা। পরিস্কার পানিতে ভরা। তাতে একটি রূপালি অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ একা একা ভেসে বেড়াচ্ছে। সে মুখ হাঁ করে পানিতে শ্বাস নিচ্ছে। ঠিক যেন নি:সঙ্গ আততায়ী। তারপর চমকে যেতে হলো। পাশের যে গলি সেটিই যে সেবা প্রকাশনীর তিন লেখকের বাড়ি কোনোদিন জানা ছিল না। পরতে, পরতে গোপনীয়তায় ঠাসা, উত্তেজনায় ভরা ক্লাসিক বইগুলোর মতো; যেগুলো নামকরা নন, তবে বিদেশী নামের; সেগুলোর মতোই অবিশ্বাস্য বিষয়ের মধ্যে পড়ে যেতে হলো।

এটিই লাগোয়া, সেবা প্রকাশনীর পেছনের বিরাট আটতলা বাড়ি। রঙিন বাড়িতে থাকেন আরো রঙিন তিন লেখক, কাজী আনোয়ার হোসেন ও তার দুই ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং কাজী মায়মূর হোসেন। শুরুতেই সেলুনের গেটের মতো অ্যালুমিনিয়ামের গেট। তাদের বইগুলো মতো সাজানো আছে। লেখা-সেলুন পার্লার ফর ম্যান। ঠিকানা লেখা আছে, ২৪/২, সেগুন বাগিচা। এই হলো কাজীদার বাড়ি। কেউ কী জানেন, লেখকরা ছাড়া?

নীচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ের কালো একটি কার পড়ে আছে, মাসুদ রানার ব্যবহার করা কোনো কারের মতোই। তার বাতির সামনে শুয়ে আছেন লম্বা মানুষটি। একহারা গড়নের, সবুজ জায়নামাজে মোড়া তার তার শরীর। ঠিক যেন পশ্চিমের ঢেউ খেলানো কোনো তৃণভূমি। তার পায়ের কাছে স্বযত্নে মোড়া ফুলের তোড়ার ভেতরে জ্বলজ্বল করে ফুটে আছে লাল একটি গোলাপ। সেবার বাগানের মালির জন্য অর্ঘ্য সবার। তোড়াটির গায়ে কাগজ ও কস্টটেপ দিয়ে লাগানো একটিই সাদা পৃষ্ঠা-‘নবাবকে শ্রদ্ধাঞ্জলী, গেরিলা ’৭১।”

কে জানাতো, কোনোদিন বলেননি তো তিনি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন যোদ্ধা ছিলেন। এই নবাব কাজী মোতাহার হোসেনের বড় আদরের দুলাল। তাকে কোনো কোনো সময় দেখানো হচ্ছে দর্শনাথীদের দেখার জন্য। মাথার দুপাশে তার দুটি কালো ক্ষতচিহ্ন। মুখটি একেবারে পান্ডুর। ঠিক তার অতি বিখ্যাত ছাত্র ও সহকমী রকিব হাসানের বিশ্বখ্যাত ক্লাসিক অনুবাদ বাম স্ট্রোকারের ড্রাকুলার মতো। তেমন লম্বা, তেমনি শরীর হয়ে গিয়েছে কাজী সাহেবের। এই সময়ে তার সমাধি যাত্রায় কেউ নেই। মানে কোনো হৈ, চৈ। নানা বয়সের নয়জন নারী বসে আছেন এই বিখ্যাত শবদেহকে ঘিরে।

অতি সুন্দরী এক মহিলা আছেন মুখে সবুজ মাস্ক পরে শবদেহের পাশে। শোকে আকুল একহারা গড়নের এক বয়স্ক নারী দূর থেকে, বাড়ির ছাউনির নীচ থেকে তাকিয়ে আছেন এক দৃষ্টিতে তার দিকে। বহুকালের চেনা তার আপনজন, পরিবেশই বলে দিচ্ছে। সেবার বইগুলোতে এমন পরিবেশের ছড়াছড়ি আছে। সেবার লাখ, লাখ পাঠকরা ভাবতেই পারবেন নির্জন এই গলির ভেতরের বাড়িতে পশ্চিমের দুনিয়ার কোনো বইয়ের মতো মোটে ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষকে সঙ্গী করে শেষ যাত্রায় চলেছেন কিংবদন্তীকে ছাড়িয়ে যাওয়া কাজী আনোয়ার হোসেন। তার ও তাদের নি:স্তব্ধ, চুপচাপ চারধারে শব্দের বাহুল্য নেই। প্রতিটি বইয়ের মতো। কথার তোড়েও নেই কারো ফুলঝুড়ি। কয়েকটি বেতের টুলে বসে আছেন কাজী সাহেবের স্টিলের শবাসনটির ডান পাশে। একেবারে মাথার কাছে বেতের টুলে বসে মাথার পাশের শবাসনের একটি কোনা ধরে আছেন দুই হাতে শক্ত করে কিশোর, তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সের একটি ছেলে। তার মতো বয়সের ছেলেমেয়েরাই তার লক্ষ্য ছিলেন। কাজী সাহেবের উত্তর পুরুষটি চুপচাপ কাঁদছে। থেকে, থেকে কেঁদে উঠছে। কান্নার দমকে শরীর কাঁপছে তার। ভাষাহীন ছেলেটি তাকে ছাড়ছে না। দৃষ্টিও পড়ে আছে ওই মানুষটির ঢেকে থাকা লাশের দিকে। উল্টো দিকের আসনে, তার মতোই লম্বা-চওড়া এক মহিলা; যৌবনে ভরপুর, প্রতিটি বিদেশী কাহিনীর মতো; এই পরিবারেরই একজন; দাপুটে, তিনি ঘুরে, ঘুরে কথা বললেন সবার সঙ্গে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ওই বয়স্ক, শীর্ণ নারীটির সঙ্গে সামান্য ক্ষণ কথা বললেন। তাদের সান্তনা বিনিময় হলো চোখের জলে।

তারপর ভেতরের সাদা দালানের বাড়িটির ভেতর থেকে লিফটে সাদা সালোয়ার কামিজের একটি তরুণী নেমে এলেন। রকিব হাসান ও শেখ আবদুল হাকিমের বহুতল বাড়িগুলোও এমন। আবার তারা দুজনে শোকের সাগরে ভাসলেন। লম্বা সেই নারীর উচ্চারণ স্পষ্ট, কোনো কথাতেই কোনো জড়তা নেই। নাতির দিকে তাকিয়ে অন্য একজনকে বললেন, ‘ও এখানে থাকুক না। থাকুক। দাদার সঙ্গে তার সম্পক খুব ভালো ছিল। সবসময় দাদার কাছে কাছে থাকতো।’ তার পরের বেতের টুলে বসে আছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা দুই গায়িকার একজন, সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি আছেন মুখের গড়নে চেনা গিয়েছে। মুখে তার কালো মাস্ক, কোনো কথা নেই। চুপচাপ বসে আছেন শান্ত মানুষটি। তার হাতে কালো ভ্যানেটি ব্যাগ, ছোটখাট এই নারী আজ বড় বেশি চুপচাপ। তার পায়ে কালো জুতো। ইস্ত্রি করা পাজামা পরণে। কারা এসেছেন কী আসেননি খোঁজ নিলেন একটু পরে সামান্য হেঁটে। তারপর আবার গিয়ে বসলেন কাজী সাহেবের পায়ের কাছের বেতের চেয়ারে। সাবিনা ইয়াসমিনের মাথা চাদরে মোড়া। সাদা।

এই গলিটি সবসময় চুপচাপ থাকে। কোনো শব্দ, বাহুল্যতা কোনো সময়ই দেখতে পান না কাছের বা দূরের কোনো মানুষ। এমনকি পাশের গাজী টিভি ও সারাবাংলা অনলাইনের অফিসের কেউই কখনো হৈ চৈ করেন না। এটি যে সেবা প্রকাশনীর পিতৃপুরুষের ভিটে। সাবিনা ইয়াসমিন ঘুরে আবার বসে পড়লেন।

‘বাবা জাত যোদ্ধা ছিলেন’
ফর্সা, একহারা গড়নের (আমরা বলি হালকা, পাতলা) সাদা সুয়েটার পরা, হাতে ঘড়ি। তিনি সামনে এসে দাঁড়ালেন। আট, দশটি টিভির ক্যামেরা অন হয়ে গেল। তিনি বললেন, “আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। তিনি জন্মযোদ্ধা ছিলেন। জাত যোদ্ধা ছিলেন। তার জীবনের শেষ সময়ে ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। তবে তিনি দেশেই চিকিৎসা করিয়েছেন। বিদেশে যেতে রাজি ছিলেন না। বলেছিলেন, ‘যা হয় হোক আমি এই দেশেই মারা যাব।’ এরপর আরো কিছু বললেন যুবক। কেঁপে, কেঁপে কাঁদছেন তিনি। তারপর ক্যামেরা অফ হয়ে গেল। পাশ থেকে জানা গেল তার নাম কাজী শাহনূর হোসেন। কাজী সাহেবের বড় ছেলে, লেখার প্রথম উত্তরাধিকার। লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যান-কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের, তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা পেছনের দুটি দরজা খুলে ফেললেন তার বইগুলোর দরজার মতো। সেখানে আত্মীয়, পরিজনরা তাকে নিয়ে নিলেন। সাইরেন বাজাতে, বাজাতে গাড়িটি সামনের দিকে চলে গেল। বাঁক ঘুরলো। আবার সামনের দিকে এগুলো। এমন দৃশ্য কেবল তার বইতেই মেলে। পেছনে সাংবাদিকের দল, তারা হোন্ডা ও পায়ে হেঁটে। দুজন নারী কাঁদতে, কাঁদতে চলেছেন ওদিকে।

নির্জন, পাতা ঝরার দিনের মতো, হালকা পায়ের আওয়াজে মৃদু শব্দ উড়ছে সেগুন বাগিচার এই পথে। যেখানে কচি, কাঁচার মেলার প্রধান অফিস। কাজী মোতাহার হোসেন সড়কের বাড়ির ছেলে কাজী সাহেব আজ চলেছেন।

জানাজার আগে ও পরে
ফ্রিজিং ভ্যানটি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের। তারা ওই পুরানা পল্টনেরই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন রোডের স্থায়ী বাসিন্দা। চলে এলেন একেবারে লক্ষ্যে। তখন কী আশ্চয, আজান হচ্ছে মসজিদে। সময় ও ক্ষণ পুরোপুরি মিলে গিয়েছে। ১০/এ সেগুন বাগিচা, মসজিদ-ই-নূর’র সামনে এসে থামলো গাড়ি। খুব সুন্দর, সুললিত কন্ঠে আজান ভেসে আসছে। মসজিদে ইমাম সাহেব মাইকে বললেন, ‘সেগুন বাগিচা নিবাসী কাজী আনোয়ার হোসেন সাহেব ইন্তেকাল করেছেন।’ কয়েকবার তিনি বলে গেলেন ঘোষণার মতো। উল্টোদিকে কমিশনারের কার্যালয়টি আছে। তাতে নামফলকে বিএনপির নেতা চৌধুরী আলমের নাম খোদাই। তবে এই পুরো এলাকার সবচেয়ে নামকরা লোকটি আজ চলে গিয়েছেন, জানেন সবাই।

সেবা প্রকাশনীর সুদীর্ঘকালের ম্যানেজার মহিউদ্দিন সাহেব ও কাজী শাহনূর হোসেনের মধ্যে আলাপ হলো। ‘তিনি লেখাপড়ার দিকে খুব জোর দিতেন’ বললেন মহিউদ্দিন। এইখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এমন সব মানুষরা, যারা তার ও তাদের লেখাগুলোর প্রিয় চরিত্র। তিন গোয়েন্দার শুটকি টেরির মতো একজন আছেন, তেমন হালকা গড়নের; আরেকজন ওয়েসলি হারডিনের মতো, শক্ত কাঠামোর, মাথায় টাক। শক্ত শরীর। এই মানুষটি কাজী সাহেবের আত্মীয়। তার পরনে নীল জিন্ম ও গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। পশ্চিমের আইনের মানুষের মতো সাদা পোশাকে আজ। কিংবদন্তীর প্রেত ম্যানিটুর মতো একজন মানুষ আছেন হুইল চেয়ারে। তিনি ভিক্ষুক। প্রাচীন রেড ইন্ডিয়ান ওই ওঝাও ছিলেন তাই। তার শরীরের নিচের অংশটি নেই।

নামাজের পর মসজিদের ভেতরে তার নামাজের জানাজা হলো। মানুষজন কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে এলেন, জায়গা ফাঁকা হয়ে গেল। সামনে এগুলেন তারা। জায়গা ভরাট করলেন। সেসব লেখা আছে পশ্চিমের দুনিয়ার ওয়ের্স্টান সিরিজগুলোতে। নামাজ পড়ালেন ইমাম।

কে চলে গেলেন?

‘পত্রিকাটি ছিল পুরোপুরি ভিন্ন ধরণের’
আস্তে, আস্তে কথা বলছেন তারা এখানে, সেখানে। লেখা আছে যেমন তার সম্পাদিত বইগুলোতে। শেখ মহিউদ্দিন বললেন, ‘তার ব্যক্তিত্ব খুব প্রখর ছিল। সময়ের বিষয়ে খুব মনোযোগী ছিলেন। নিয়ম করে চলতেন। সম্পূণ ভিন্ন ধরণের একজন মানুষ ছিলেন।’ তিনি কাজ করেছেন রহস্য পত্রিকাতে। ২০ বছরের বেশি লিখেছেন। জানালেন, ‘তার এই পত্রিকাটিও ছিল পুরো ভিন্ন ধরণের। সেখানে রহস্য গল্পগুলো অনুবাদ করিয়ে ছাপাতেন। রূপান্তরকারী সম্পাদক হিসেবে খুব বড় ও সবচেয়ে নামকরা লোক ছিলেন।’ তার লেখা বই প্রিয়-তিনটি উপন্যাসিকা, পঞ্চ রোমাঞ্চ, ছয় রোমাঞ্চ।

‘প্রতিটি কাজ খুব যত্ন করে করতেন’
মাসুম কাজ করেছেন তার সঙ্গে। আগে সময় টিভিতে কাজ করতেন। এখন বেকার। বললেন, “নানা লোকের কাছ থেকে তিনি তার ও তাদের উপন্যাসগুলোর রশদ যোগাড় করতেন। সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল ইংরেজি। কাজী আনোয়ার হোসেন প্রতিটি কাজ খুব যত্ন করে করতেন বলে সেগুলো মানোত্তীর্ণ হয়েছে। সম্পাদক হিসেবে অসাধারণ ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ তার স্টাইল বদলাতে চাননি বলে সেবা প্রকাশনী থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। কাজীদা বলেছিলেন, ‘আমার ছেলেদের স্টাইলে লেখা ছাপা হবে আপনারও।’ তাতে অবশ্য হুমায়ূনের কোনো খেদ ছিল না। নিজেও বিরাট লেখক। বলেছেন, ‘কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখাপড়া খুব ভালো ছিল। তার বাবা ছিলেন নামকরা শিক্ষাবিদ। বইয়ের প্রতি অফুরান ভালোবাসা ছিল যার। বোনরাও খুব লেখাপড়া করেছেন। এই পরিবারটি লেখালেখির মানুষ।’ কাজী সাহেবই সেটিকে ধারণ করেছেন পূর্ণভাবে।

‘আমি পদকের কাঙাল নই’
আত্মীয় কাজী রওনক হোসেন বলেছেন, “বেতার ও সিনেমাতে গান লিখেছেন সঙ্গীতপ্রেমী দুই বোনের মতো কাজী আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পযন্ত সাহিত্যতেই ডুবে গেলেন; তাও আবার বিদেশী! গড়লেন সেবা প্রকাশনীর ভুবন। তবে তিনি তার জীবদ্দশাতে কোনো পদক লাভ করেননি। একুশে বা স্বাধীনতা পুরস্কার কোনোটিই নয়। তিনি বলেছেন, ‘আমি পদকের কাঙাল নই’।”

‘তাকে ছোট থেকে গড়ে তুলেছেন নিজের হাতে’
এ বি এম সাদী তাদের আত্মীয়। তার শ্যালিকা আয়েশা তাহনূর টিংকুর বিয়ে হয়েছে এই পরিবারে। সাদী ব্যবসা করতেন। এখন বয়স হয়েছে। বললেন, ‘চমৎকার ছিলেন। কোনো ধরণের ঝামেলার মধ্যে থাকতেন না খালু। সেবা প্রকাশনীর পুরোনো লেখক ও তার স্টাফরা সবাই জানেনÑকেমন মানুষ ছিলেন। স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন। যেসব কাজ ভালো তাই করতেন। তারা মানে কাজী মাহবুব হোসেন, সন্জীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও কাজী আনোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন খুব নরমাল ছিলেন। অন্যদের সঙ্গেও তারা খুব স্বাভাবিক ব্যবহার করতেন। দেখলে মনে হতো না, বিখ্যাত পরিবারের অত্যন্ত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। কারো সঙ্গেই কোনো রাগারাগি তারা করেননি।’

নিজের প্রথম বইয়ের কথা বললেন ১৯৭৪ সালে পড়া ‘কুয়াশা’ সিরিজের একটি বই। এটিই কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রথম সিরিজ। জানিয়েছেন, “খালু সবার সঙ্গে খুব আন্তরিকতা নিয়ে মিশতেন। আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। গল্প করতেন মন দিয়ে। পরিবার ও আশপাশের এবং অন্যদের খোঁজখবর রাখতেন। প্রচুর বই পড়তেন। কাজী আনোয়ার হোসেন প্রথম পড়েছিলেন বিখ্যাত রবিন হুড’। সেটিই তাকে অনুবাদ ও এই সাহিত্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারপর তো সুদীর্ঘ জীবন। দুই বছর ধরে মানুষটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমি গিয়ে বলতাম, ‘খালু কেমন আছেন?’ বলেছেন, ‘ভালো আছি।’ মানুষটি কী না শেষ ছয় মাসে ক্যান্সারে বিছানায় পড়ে ছিলেন। যখন মাসুদ রানা নিয়ে আলোচনার শুরু হলো, তিনি শারীরিকভাবে সক্ষম ছিলেন না। খালু কী করতেন? হঠাৎ তো তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। যে মানুষটিকে দিয়ে তিনি কাজ করিয়েছেন, যাকে ছোট থেকে গড়ে তুলেছেন নিজের হাতে; সেই শেখ আবদুল হাকিম বিপক্ষে যাবার পর তিনি এত ব্যথা পেয়েছেন যে এই নিয়ে একটি কথাও বলতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি দুঃখ পেয়েছেন। তবে এই নিয়ে তিনি ও হাকিম সাহেব কেউই বাড়াবাড়ি করেননি। তার ছেলেরা তো নিরীহ প্রকৃতির, লেখক মানুষ। তারাও এই বিষয়ে সবার মধ্যে ফাইট করতে আগ্রহী নন।”

তার জীবন কেমন ছিল, বলেছেন, ‘তিনি সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে সকালের নাস্তা করে ফেলতেন। এই বাড়ির সবারই এমন অভ্যাস তিনি গড়ে দিয়েছেন। দুপুরে সময় মতো খেতেন। একেবারে রুটিন লাইফ কাটাতেন তার উপন্যাসগুলোর চরিত্রের মতো। টেলিফোনে সবার নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন।’

চলে যাচ্ছেন
আস্তে, আস্তে আঁধার নেমে এলো। লাল সাইরেন বাজাতে, বাজাতে ভ্যানটি চলে যাচ্ছে। পেছনে ওয়েস্টানের যেকোনো সিরিজের মতো আলোচনায় মগ্ন একদল মানুষ। কে চলে গেলেন?

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী