বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | ১০ বৈশাখ ১৪৩২
Dhaka Prokash

পুতুল নাচ বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্দিন যাচ্ছে শিল্পীদের

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়া কুড়িগ্রামের মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার শিল্পীদের চরম হতাশায় দিন কাটছে। চরম দুর্দিন থাকার পরেও স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে মেলে না সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা।

এক সময় গ্রামগঞ্জ, হাট-বাজার, স্কুল কিংবা খোলা মাঠে মঞ্চ সাজিয়ে যে পুতুল নাচের আসর জমতো এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ এখন স্বপ্নের স্মারক। শুধু পুতুল নাচ-ই বিলুপ্তি হয়নি, পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিল্পীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘ সময়ের পেশাকে আগলে রেখে জীবিকা নির্বাহ করা শিল্পীরা অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এক সময়ে পুতুল নাচ দেখিয়ে আনন্দ দেওয়া মানুষের দুঃখ কষ্টে দিন কাটলেও খোঁজ রাখে না কেউ।

উত্তরবঙ্গের মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একমাত্র কুড়িগ্রাম মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার। জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথর ডুবি গ্রামের এই সংগঠন। মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটারের মালিক-মকবুল হোসেন, সভাপতি ভানু চন্দ্র বর্মন, সদস্য আবুল হোসেন, প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মন, হোসেন আলী, মোজাম্মেল হক, শ্রী স্বপন বর্মন। এ ছাড়াও মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটারের ম্যানেজার আব্দুর রহিম ২০২০ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যান। এই সংগঠনের সরকারি তালিকাভুক্ত শিল্পী মকবুল হোসেন ও আবুল হোসেন। মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে বছরে ১৮ হাজার টাকা পান তারা।

মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার মকবুল হোসেন প্যারালাইজড হয়ে প্রায় ৩ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামে দুই স্ত্রী, ৫ ছেলে এবং ৬ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সহায় সম্পদ বলতে বাড়িভিটা-২০ শতক। ছেলেরা কৃষি কাজ করেই সংসার চালাচ্ছে।

তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার ‘মা কালি পুতুল নাচ’ সংগঠনের মুরালী বর্মণের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনে নেন দক্ষিণ পাথর ডুবি গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন। এরপর ১৯৮৪ সালে সেই নাম বদলে রাখা হয় মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার। ভারতের কোলকাতা, কোচবিহার শিলিগুঁড়ি থেকে পুতুল নাচের মাস্টার এনে প্রায় ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নেন বাংলাদেশের ৯ জন শিল্পী।

প্রথমে কুড়িগ্রামে পুতুল নাচ দেখালেও ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নিবন্ধন পাওয়ার পর ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গে পুতুল নাচ দেখান তারা। এক ফুল দুই মালি, কাশেম মালার প্রেম, সতী রূপভান, রাম বনবাস, দানবীর রাজা হরিশ চন্দ্র, রাবন বধ, মহাসতী সাবিত্রী সত্যবান, সাগর ভাষাসহ ২১টি পালা নিয়ে মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার পালা ছিল। শিল্পকলা থেকে পুরস্কার পেলেও যোগাযোগ আর অর্থাভাবে মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার দল বিদেশে শো করতে পারেনি। সময়ের ব্যবধানে যাত্রাপালার সঙ্গে পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের মতো তাদের ডাক আসে না। প্রায় ২০ বছর ধরে তারা পুতুল নাচ দেখাতে না পেরে আয় রোজগারও নেই সংগঠনের শিল্পীদের। দিনমজুরি করে সংসার চলছে এসব শিল্পীর। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৯ সদস্যের মধ্যে একজন মারা গেছেন আর একজন অসুস্থ। সংগঠনের বাকি ৭ সদস্যের মধ্যে দুইজনের শিল্পী ভাতা পাচ্ছে। আর অন্যরা এখনো সেই ভাতার অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ ছাড়াও সীমান্ত আর প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের খোঁজ-খবর রাখে না। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাড়াইটারী গ্রামের বাসিন্দা মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটারের সভাপতি শ্রী ভানু বর্মণ। অসুস্থ শরীর নিয়ে তারই আয়ে চলে স্ত্রী আর মেয়েসহ ৫ জনের সংসার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তিনিই। বাড়িভিটা ৬ শতক ছাড়া আর কোনো অর্থ-সম্পদ নেই ভানু বর্মণের।

তিনি বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে এই দলে কাজ করছি। প্রায় ২১টি যাত্রাপালায় সুরের তালে তালে পুরুষ-মেয়ে কণ্ঠ দেই। আগে পুতুল নাচ দেখিয়ে প্রতি শো-তে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আয় হতো। তাই দিয়ে স্বচ্ছলভাবে চলেছিল সংসার। কিন্তু গত ২০-২২ বছর থেকে পুতুল নাচ বন্ধ থাকায় অভাব আর অর্ধাহারে পরিবার নিয়ে দিন কাটে তার। মাঝে মধ্যে হঠাৎ সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে পুতুল নাচের খেলা দেখালে তাই দিয়ে চলে অভাবে সংসার।

পালাকার আবুল হোসেন বলেন, পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সরকারিভাবে দুয়েকটি অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে। এতে করে ৩/৪ শো টাকা পাওয়া যায়। আর সারা বছর দিনমজুরি করেই সংসার চলে।

তবলা বাদক স্বপন বর্মণ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পুতুল নাচের সঙ্গে জড়িত। প্রযুক্তি ও আধুনিক যুগে এসে মানুষ আর পুতুল নাচ দেখে না। ফলে শো না থাকায় আয়ও কমে গেছে। সরকারিভাবে কোনো ভাতা জোটেও না এবং স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানরাও কোনো খোঁজ রাখে না। ভিজিডি, ভিজিএফসহ সরকারের অনেক সুযোগ সুবিধা থাকলেও তারা আমাদের দেয় না। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।

ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রোজন চন্দ্র বলেন, প্রায় ২০ বছর পর পুতুল নাচ দেখতে পেলাম ঘরোয়াভাবে। আগে পুতুল নাচ দেখতে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দলবলে বাংলাদেশে এসে টিকিট কেটে পুতুল নাচ দেখতাম।

বাংলাদেশি সোহেল রানা জানান, যাত্রাপালার অশ্লীলতায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচও এখন বন্ধ। ক্ষণিকের জন্য পুতুল নাচ দেখতে পেয়ে ৩০/৩৫ বছর আগের শৈশবের কথা মনে পড়ে যায় তার। আগে ১/২ টাকায় টিকিট কিনে পুতুল নাচ দেখেছেন। ঐতিহ্যবাহী এই পুতুল নাচ টিকিয়ে রাখতে সরকারে কাছে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ প্রসেঙ্গ কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু জানান, উত্তরবঙ্গের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনিকা পুতুল নাচ অ্যান্ড থিয়েটার দলের দুজন সরকারিভাবে ভাতা পাচ্ছেন। বাকিদের পর্যায়ক্রমে ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে। পুতুল নাচ টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এসএন

Header Ad
Header Ad

পাকিস্তানিদের বিশেষ ভিসা সুবিধা বাতিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানিদের জন্য ‘সার্ক ভিসা ছাড়’ সুবিধা বাতিল করেছে ভারত। সেই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দেশটির মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত:

সিদ্ধান্তগুলো হলো:

১. সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত ঘোষণা। ভারত বলছে, পাকিস্তান যতদিন সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধ না করবে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ত্যাগ না করবে ততদিন এটি স্থগিত থাকবে। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর করাচিতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খান সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় বহুল আলোচিত এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

২. অবিলম্বে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাদের বৈধ নথি রয়েছে তারা ১ মে এর আগে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবেন।

৩. সার্ক ভিসা এক্সেম্পশন স্কিম (এসভিইএস) এর আওতায় পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারতে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাকিস্তানি নাগরিকদের অতীতে জারি করা যেকোনো এসভিইএস ভিসা বাতিল বলে গণ্য হবে। এসভিইএস ভিসায় বর্তমানে ভারতে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদেরও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে।

৪. নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনের সামরিক, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারত ছাড়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় পাবেন তারা। ইসলামাবাদের ভারতীয় হাইকমিশন থেকে প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ভারত। সংশ্লিষ্ট হাইকমিশনের এই পদগুলো বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় হাইকমিশন থেকে সার্ভিস অ্যাডভাইজারের পাঁচজন সাপোর্ট স্টাফকেও প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

৫. হাইকমিশনের সামগ্রিক জনশক্তি ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা ১ মে এর মধ্যে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার বিকালে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা হয়। অস্ত্রধারীরা জঙ্গল থেকে বের হয়ে পর্যটকদের ওপর গুলি চালাতে থাকেন। হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছে, নিহত ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ২৬।

পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর–ই–তৈয়েবার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) মঙ্গলবার বিকালের হামলার দায় স্বীকার করেছে।

এদিকে এ ঘটনায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অবৈধভাবে দখলকৃত জম্মু-কাশ্মীর’র পেহেলগামে হামলার ঘটনায় পাকিস্তান উদ্বিগ্ন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পেহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় পাকিস্তান নিন্দা প্রকাশ করছে। নিহতের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করছে পাকিস্তান।

এ হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বার্তায় তিনি বলেন, কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় আমার গভীর সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমরা এ জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আবারও নিশ্চিত করছি যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় দৃঢ়।

Header Ad
Header Ad

বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষিত বেকারদের জন্য চালু হবে ভাতা: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশে সরকার পরিবর্তন হলে শিক্ষিত বেকারদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর যারা চাকরি খুঁজেও পাচ্ছেন না, তাদের জন্য এক বছরের ‘শিক্ষিত বেকার ভাতা’ চালু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই তাদের কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে সরকার।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর, নীলফামারী ও সৈয়দপুর জেলা বিএনপির নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত পরিকল্পনা নিয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা একটি পরিকল্পনা করছি—যাতে যারা এখনো চাকরি পাননি, তারা যেন সরকারের সহযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহায়তা পান। এই সময়টিতে সরকার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে উভয়ের উদ্যোগেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেক তরুণ নেতাকর্মী, যাঁরা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তারা বয়স পার করে ফেললেও কোনো চাকরি পাননি। “শুধু ছাত্রদল নয়, আরও অনেক সাধারণ মানুষ আছেন যারা সরকারের অনুগত না হওয়ায় চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে,” বলেন তারেক।

বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা চালু করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, “২০ কোটির বেশি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বিশাল বাজেট ও কাঠামোগত পরিকল্পনা দাবি করে। এটা অব্যবস্থাপনার জায়গা নয়, এটা করতে হলে বাস্তবতা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে এগোতে হবে।”

তিস্তা নদী ঘিরে রংপুর অঞ্চলের মানুষদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “তিস্তা শুধু নদী নয়, রংপুর বিভাগের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতীতে তিস্তাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিএনপি সরকারে গেলে তিস্তা সমস্যা সমাধানে বাস্তব ভিত্তিক ও জনগণকেন্দ্রিক প্রকল্প গ্রহণ করবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। সঞ্চালনায় ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

Header Ad
Header Ad

এস আলমের ৪০৭ কোটি টাকার ১৫৯ একর জমি ক্রোকের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১৫৯ একর জমি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জমিগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০৭ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব জমি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে আবেদন করেন উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, এস আলম ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে চলমান তদন্তে দেখা যায়, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ তারা অন্যত্র বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। ফলে তদন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় এসব জমি ক্রোকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

জমিগুলো যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ট্রেড লিংক, ইভেন্ট টাইটান ইন্টারন্যাশনাল, পাইথন ট্রেডিং কর্নার, ইসলাম ট্রেডার্স, ডায়মন্ড বিজনেস হাউস, এএইচ সেন্টারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফুল আলমের সরাসরি আর্থিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

এর আগেও এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক দফায় আদালত সম্পদ ও শেয়ার অবরুদ্ধ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু করে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তার ও তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে থাকা শেয়ার, জমি ও ব্যাংক হিসাব পর্যায়ক্রমে অবরুদ্ধ ও ক্রোক করে আদালত।

এস আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৩০০-এর বেশি ব্যাংক হিসাব, হাজার একরের বেশি জমি এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্তে আরও নতুন সম্পদের তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

দুদক বলছে, মানি লন্ডারিং ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

পাকিস্তানিদের বিশেষ ভিসা সুবিধা বাতিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষিত বেকারদের জন্য চালু হবে ভাতা: তারেক রহমান
এস আলমের ৪০৭ কোটি টাকার ১৫৯ একর জমি ক্রোকের নির্দেশ
সীমান্তের সব ভিডিও সত্য নয়, আবার সবটা যে মিথ্যা তাও নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ না করার অনুরোধ ডিএমপির
টাঙ্গাইলে বেড়েছে গরমের তীব্রতা, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
সরকার সরিয়ে না দিলে পদত্যাগ করব না: কুয়েট ভিসি
বিরামপুরে ছিনতাইকালে পুলিশের হাতে 'ভুয়া সেনাসদস্য' আটক
হাসিনাকে যারা খুনি হতে সাহায্য করেছে, তাদেরও বিচার করতে হবে: সারজিস আলম
কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, খুললো আবাসিক হল
কাশ্মীরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, মসজিদে ঘোষণার পর বিক্ষোভ শুরু
ইতিহাস গড়ল জিম্বাবুয়ে, ঘরের মাঠে লজ্জার হার বাংলাদেশের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'এ' ইউনিটে প্রথম আব্দুল্লাহ
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পারভেজ হত্যা: প্রধান আসামি মেহরাজ গ্রেপ্তার
তুরস্কের ইস্তানবুলে একের পর এক ভূমিকম্প
এবার সেই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন পরীমণি
দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে: প্রধান উপদেষ্টা
আমরা সংস্কারও চাই, নির্বাচনও চাই: মির্জা আব্বাস
কাশ্মীরের হামলা ‘সাজানো’ দাবি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের
ভাইরাল ভিডিও সমন্বয়ক রুবাইয়ার নয়, দাবি এনসিপি নেতার