বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শিক্ষক গড়ার কারিগর কে?

সাইফুল ইসলাম তালুকদার রনি

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে ১৯৬৬ এবং ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর আয়োজনে দুইটি বড় সম্মেলন হয়েছিল । সেই সম্মেলনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ১৯৯৫ সাল থেকে ইউনেস্কোর নেতৃত্বে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফ, আন্তর্জাতিক শিক্ষা (আইই)’র সহযোগিতায় সারা বিশ্বের ১শ টি দেশে ‘আন্তজাতিক শিক্ষক দিবস’ উদযাপন হচ্ছে।

শিক্ষকতা সমাজের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশা। সমাজের অন্য সব পেশার মানুষদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতেও শিক্ষকতার বিকল্প নেই। ইউনেস্কো মনে করে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস হল, এমন একটি দিবস-যা শিক্ষকরা কীভাবে যুগের সাথে এই পেশার পরিবর্তন হচ্ছে, আগামীর পরিবর্তনের সাথে সহজে তাল মিলিয়ে নিতে ও শিক্ষকদের জন্য চারপাশের যেমন দেশ এবং জনসাধারণের যে সমর্থন প্রয়োজন তা ব্যক্ত করার জন্য উদযাপন। তারা আরও মনে করেন, এই দিবসের মাধ্যমে শিক্ষকদের অধিকার ও দায়িত্ব এবং তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি, পরবর্তী শিক্ষা, নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষণ ও শেখার শর্তের মানদন্ড নির্ধারণ করার একটি উপলক্ষ্য।

ইউনেস্কো প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি শ্লোগান নির্ধারণ করে থাকে। এবারের-‘শিক্ষার পরিবর্তন শুরু হয় শিক্ষকদের মাধ্যমে।’ তার মানে, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হলে আগে শিক্ষকদের পরিবর্তন করতে হবে। সমাজে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে, মানুষ গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষকরা। তবে যারা সমাজ ও দেশের আগামীর ভবিষ্যৎ গড়বেন তাদের গড়বেন কে? ফলে শিক্ষক হলেন সমাজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত, সকল প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান উৎপাদনকারী, সমাজে যেকোনো সমস্যার পরামর্শকারী ও দেশের যেকোন উন্নয়নের নীতিগত অংশীদার।

কিন্তু দুঃখের বিষয় সাম্প্রতিক কালের দৈনিক পত্রিকা পড়লে শিক্ষকদের ইতিবাচক দিকের চেয়ে নেতিবাচক দিকগুলো বেশি পড়তে হয়। চলতি বছরের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদনে আছে, ১ হাজার ১শ ৮ জন শিক্ষক পাওয়া গেছে, যারা জাল সনদে চাকরি করছেন বছরের পর বছর। ১০ বছরে ২৪ হাজার ১শ ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে জাল সনদধারী এই শিক্ষকদের সনাক্ত হয়েছে। দেশে প্রায় দুই লাখের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সনদ যাছাই করলে জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা কমবে না বরং বাড়বে। তাহলে এই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দেবেন? সমাজের আগামী প্রজন্ম গড়ার কারিগরদের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ কীভাবে বিনির্মান করা যাবে? আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, বাংলাদেশের স্বনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুন নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কিছু শিক্ষক ঘুষের মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন। এই উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে সব সময় প্রশ্ন ওঠে এবং তাদের সবচেয়ে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে তার সমাধান ঘটে। তবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা অনেক বেশি রয়েছে। ভেতরে অনেক গলদ। ঢাকার আরেকটি নামকরা বেসরকারী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অবৈধভাবে নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেই যাচ্ছেন। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের র্দুনামের শেষ নেই। আবার সুনামও অশেষ। তবে এমনদের কারণ হলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৎভাবে চালু রাখতে না পারা।

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আন্ত:বিভাগীয় মামলার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষক ও যোগ্যকর্মীর অভাব প্রবল। দেশের অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকবিহীন চলছে। অধ্যক্ষ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে, তার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তো দলীয় লোক ছাড়া শিক্ষক বাদে আর কোনো পদে নিয়োগ হয় না এবং তারা কেউ মনোযোগ দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেন না। ফলে সরকারের ভর্তুকি নয়, তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুষ্ঠু কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রত্যেকটি উপজেলায় অন্তত একটি কলেজকে সরকারি করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে জাতীয়করণে সম্মতি প্রদান করেছেন শেখ হাসিনা। এখন পর্যন্ত ৩শ ২৪টি কলেজকে জাতীয়করণ করার গেজেট জারি হয়েছে ও সেগুলো জাতীয়করণ হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে গত ৬ বছরে মাত্র ১০টি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি সরকারি হয়েছে। এর কারণও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অযোগ্যতা। এক্ষেত্রে ঢাকাসহ সারা দেশের আইইআর এমএডধারীদের প্রাতিষ্ঠানিক পদে চাকরি প্রদান ভালো সমাধান।
পত্রিকার মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পারলাম, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যাপক বেশি, প্রভাষক কম! শিক্ষকরা প্রভাষক হয়েই চেষ্টায় থাকেন কখন অধ্যাপক তকমা নেওয়া যায়। কারণ সুযোগ, সুবিধা, আরাম, আয়েশ হাজার গুণ বেশি। সবাই পদোন্নতির পেছনে দৌড়াতে, দৌড়াতে ক্লাসে পড়ানো ও গবেষণা ভুলে গিয়েছেন। অথচ শিক্ষকতা আরাধনা। সময়ের শ্রেষ্ঠ তপস্যাটি অধ্যাপনায় নিযুক্ত হবার দিনটি থেকে তারা ভুলে যেতে থাকেন। এই সত্য যেকোনো নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চরম বাস্তবতা।

এই ভুলের যাওয়ার কারণগুলো শিক্ষাবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এবং নিজেও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কর্মের সুবাদে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতার ফলে তুলে ধরছি।

শিক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই : আমাদের দেশে শিক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই। যা আছে তারও সুষম বন্টন হয় না। সুষ্ঠুভাবে ও দুর্নীতিমুক্ত বরাদ্ধ করা অর্থও কাজে লাগালে শিক্ষকতার বেহাল দশা তৈরি কখনো হয় না। ভারতের নোবেলজয়ী শিক্ষাবিদ কৈলাশ সত্যার্থী বলেন, শিক্ষায় ১ ডলার বিনিয়োগ করলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ১৫ গুণ ফেরত পাওয়া যায়। এছাড়াও যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ছাত্র ও ভালো মানুষ তৈরি করে বলে এই সত্যটি যথার্থ। ফলে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আগ্রহ বাড়াতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী মূল্যায়নের মাধ্যমে এই পেশায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে।

মানসম্মত নিয়মিত প্রশিক্ষণের অভাবঃ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে শিক্ষক হওয়ার জন্য ব্যাচেলর ইন এডুকেশন ও মাস্টার্স অব এডুকেশন ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। তিনি যে পর্যায়ের, যে বিষয়ের শিক্ষকই হতে চান না কেন, তার নিজস্ব বিষয়ে ডিগ্রির পাশাপাশি ব্যাচেলর ইন এডুকেশন ডিগ্রি থাকতেই হবে। বাংলাদেশে প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। আইইআর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। আবার আমাদের দেশে এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যাদের এই ডিগ্রি লাগে না। ফলে এই বিষয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তেমন নেই বললেই চলে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের জন্য সারা বাংলাদেশে মাত্র ৬৭টি পিটিআই রয়েছে। এই পিটিআইগুলো চরম শিক্ষক সংকটে রয়েছে। এগুলো তো উন্নত প্রতিষ্ঠান। তাহলে অবহেলা কার? ২০১৯ সালের পর থেকে পিটিআইগুলোতে নতুন করে কোন প্রশিক্ষক নিয়োগই হচ্ছে না মামলা জটিলতায়। শিক্ষক দলাদলি প্রাথমিক শিক্ষাকেও গিলে খাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)। তাদের কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করতে হবে। কোনোভাবেই তারা মূল্যায়িত হন না। এই ইনস্টিটিউটগুলোর মান ও স্বকীয়তা আরও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের জাতীয় পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ণসহ নানান নীতিমালা তৈরিতে যথাযথ ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

শিক্ষকতা আকর্ষনীয় পেশা নয় : বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় বাদে এবং নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে এখনো শিক্ষকতা বাংলাদেশে টিউশনি ও কোচিং নির্ভর। ফলে আকর্ষনীয় পেশা নয়। বেতন যার যা খুশি দেন। কোনো নজরদারি নেই। ঘুষ পিয়ন, দারোয়ান, অফিস স্টাফকে বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দিলে ছাত্র মানবিক ও ভালো মানুষ কীভাবে হবে? ফলে এখনো নিরুপায় হয়ে বা পিছনে থেকে শিক্ষকতায় আসতে হয়। সবাই বিসিএস অ্যাডমিন বা পুলিশ ক্যাডার হতে চায়। ছোট বেলায় সবাই শিক্ষক হতে চাইলে অন্যরকম দেশ হতো। স্বেচ্ছায় ও লক্ষ্য সামনে রেখে আসার সুযোগ নেই।

শিক্ষকদের পর্যাপ্ত স্বীকৃতি নেই : সরকারীভাবে শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি পর্যাপ্ত নয়। বেসরকারীভাবে নেই। দেশে প্রথম আলো সীমিত পর্যায়ে ‘সেরা শিক্ষক সম্মাননা’ চালু করেছে। আলোকিত টিচার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের ‘আইডিয়া চ্যালেঞ্জ’ নামে প্রতি বছর স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করে। সরকারী স্বীকৃতি উপজেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু আছে। তবে যেহেতু রাজনীতির চাষাবাদ হয় প্রতিটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে এবং সরকার তরফে ফলে এই ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।

এই দিবস উপলক্ষ্যে শিক্ষকদের জন্য কিছু দাবি : প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত সংখ্যার যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকা উচিত। বাংলাদেশে এই অভাব খুব। যারা সত্যিকারের শিক্ষক হতে চায় তাদের সুযোগ দেওয়া হোক। ছাত্র শিক্ষকের ক্লাসরুমের অনুপাত কোথাও ঠিক নেই। যারা ভালো তাদের বেশি, যারা খারাপ তাদের ছাত্র, ছাত্রী নেই। অথচ খারাপ ছাত্রকে ভালো করে তোলাই শিক্ষকের কাজ। কোন উপায় না পেয়ে আমাদের দেশের চাকরিপ্রার্থীরা এই পেশায় আসেন। ফলে কাংখিত ফল লাভে ব্যর্থ হন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আরো পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। সমাজে নেতৃত্ব দানেও শিক্ষকদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে দুইজন মন্ত্রীই অশিক্ষক! প্রাথমিক ও গণ-শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও তাই। ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মত এই মন্ত্রনালয়গুলোর মন্ত্রীরা শিক্ষক হলে দেশ আরো অনেক বেশি উপকৃত হয় বলে দৃঢ় বিশ্বাস। ফলে সমাজের প্রতিটি স্তরে শিক্ষকদের নেতৃত্ব দানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তাদেরকে রাজনীতি এগিয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশে আলাদা রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু করতে হবে। সামাজিক ও নীতি-সংলাপে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে হবে। সমাজের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও শিক্ষকদের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। সামাজিক ও নীতি-সংলাপে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে হবে। সমাজের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও শিক্ষকদের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। সমাজের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও শিক্ষকদের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বৃত্তি ও কাজের স্বীকৃতস্বিরূপ তাদের বই প্রকাশ করে দিতে হবে সরকারী ও বেসরকারীভাবে। তাদের বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার তৈরি করে দিতে হবে। তাদেরকে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিদ্যালয় উন্নত করে দেওয়াও পুরষ্কার হতে পারে।

বাংলাদেশে হাতেগোনা যেকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে ‘আলোকিত টিচার্স’ নামের একটি অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। ২১ শতকের আধুনিক ও যুগোপযুগী শিক্ষক গঠনে প্রতিষ্ঠানটি নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজারের মত সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে প্রায় ২২টির মতো কোর্স, যেগুলো সামাজিক, দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষক তৈরিতে ভূমিকা পালন করে চলছে। একজন শিক্ষক হলে অথবা শিক্ষকতা যদি স্বপ্ন হয় তাহলে সেই প্ল্যাটর্ফমে যেতে পারেন এক ক্লিকে। ইন্টারনেটে ইংরেজিতে আলোকিত টিচার্স সার্চ দিলেই হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন শিক্ষক প্রশিক্ষিত হওয়ার পথ।

পরিশেষে নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের চমৎকার উক্তি দিয়ে শেষ করছি। মালালা বলেছিলেন, একটি বই, একটি কলম, একটি শিশু ও একজন শিক্ষক বিশ্বকে পরিবর্তন করে দেয়। সত্যিই একজন শিক্ষক চাইলেই গোটা বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তবে বিশ্ব পরিবর্তন করতে চাইলে, শিক্ষকেই পিরিবর্তিত হতে হবে যুগ, সময় এবং বিশ্বের একধাপ আগে। বাংলাদেশে এই চর্চা তিন চারজন শিক্ষক ছাড়া আর কারো নেই। একজন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আরেকজন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অন্যদের খুঁজে বের করতে হবে।

লেখক : জনসংযোগ কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), সাবেক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মকর্তা, আলোকিত টিচার্স।

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী