আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দল পুনর্গঠনের উদ্যোগে শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারায় দলকে গড়ে তুলতে কাজ করছেন। এ লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষিত, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং ক্লিন ইমেজধারী তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী তালিকায় জনপ্রিয় তরুণ নেতাদের স্থান দেওয়া হবে। যদি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে এ তরুণ নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখবেন। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন নেতারা এবার গুরুত্ব হারাবেন এবং যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন, বিশেষ করে যারা ওয়ান-ইলেভেন থেকে এখন পর্যন্ত নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যুগোপযোগী সংস্কারের জন্য তরুণ, দক্ষ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব অপরিহার্য। একই কথা বলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, যিনি জানান যে একদল পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক ইতোমধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন।
ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের সম্ভাব্য তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের তালিকাও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, নিপুণ রায়, আফরোজা আব্বাস, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামা ওবায়েদসহ অনেকে। তাদের দলের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পর কারা তার সঙ্গে মিশন চালাবেন, সে ব্যাপারে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি মনে করছে, তরুণ ও মেধাবীদের সঙ্গে নিয়ে দলকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তুললে তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হবে।
দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল একথা স্পষ্ট করে বলেন, “ভবিষ্যৎ পৃথিবী তরুণ, শিক্ষিত ও মেধাবীদের। আমার ধারণা, দলীয় মনোনয়ন থেকে দলীয় পদ-পদবি—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের প্রাধান্য থাকবে।”