সাক্ষাৎকার
পদ্মায় দুর্নীতি হয়নি, বিশ্বকে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: দুলাল

পদ্মা সেতুর আইন উপদেষ্টা আইনজীবী মো. আবদুন নূর দুলাল বলেছেন, তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব গেছে, সচিব জেল খেটেছিলেন, অর্থনৈতিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের অনেক অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় এই তিনজনকে পাশে রেখেছিলেন। তাদেরকে পাশে রেখে প্রধানমন্ত্রী পুরো জাতির কাছে, পুরো বিশ্বের কাছে একটি বার্তা দিয়েছেন যে, পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি। আর যাদের তোমরা দুর্নীতিবাজ বলেছ তারা আমার পাশেই আছে।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৫ জুন রাতে ঢাকাপ্রকাশ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মো. আবদুন নূর দুলাল এসব কথা বলেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে জাজিরা প্রান্তে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মো. আবদুন নূর দুলাল। ওই প্রান্তে জনসভা শেষে আবার সেতু দিয়ে ঢাকায় ফিরেন। উদ্বোধনের দিন প্রথম যে কজন মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পদ্মা সেতু পার হয়েছিলেন, তাদের একজন হিসেবে তার অনুভূতিও প্রকাশ করেন তিনি। সেতু নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের উচ্ছ্বাসও তুলে ধরেন তিনি।
আইনজীবী আবদুন নূর দুলাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের সর্ববৃহৎ অর্জন পদ্মা সেতু। তাছাড়া এই পদ্মা সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেতু পার হয়েছি। এটি অনেক আনন্দের এক অনুভূতি। অনেক গর্বের এই অনুভূতি। আত্মবিশ্বাসের এক অনুভূতি। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এই অনুভূতি প্রকাশ করার কোন ভাষা আমার নেই।
পদ্মা সেতু নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উদ্বোধনের পর সেতু পার হয়ে আমরা যখন অপর প্রান্তে শিবচরে জনসভার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম, তখন ওই প্রান্তের অপেক্ষমাণ মানুষ শুধু যে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানিয়েছিল তা নয়, আমরা যারা প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী ছিলাম, তাদেরকেও তারা অভিনন্দন জানিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি থেকে আমাদের গাড়ি একটু পেছনে ছিল। দেখলাম হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, সেখানে কাউকেই আটকানো যাচ্ছিল না। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, কারও পক্ষে তাদের আটকানো সম্ভব হয়নি। তারা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে, গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলেছে। আমরাও গাড়ি থেকে তাদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়েছি। আমার মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধের পর একটা জাতির জেগে ওঠা, এমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা, আমার জীবনে আমি আর দেখিনি। এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমার জীবনে।
পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের কথিত মিথ্যা-বানোয়াট দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, বিশ্বব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এটা (মিথ্যা অভিযোগ) আশা করা যায় না। এটা অনাকাঙ্খিত একটা কাজ করেছে তারা। একটি টাকাও না দিয়ে বিশ্বব্যাংক যেভাবে ঢালাও একটা অভিযোগ আনলো আমাদের বিরুদ্ধে, জাতি হিসেবে আমাদের ছোট করলো সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, জানি না বিশ্বব্যাংক কীভাবে আমাদের এই ক্ষতিপূরণ দেবে। কোন কিছু দিয়েই তারা আমাদের এই ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, মিথ্যা দিয়েই বিশ্বব্যাংক সব কিছু প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল। পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ওই সময়ে দেশের সুশীল সমাজের বক্তব্য প্রসঙ্গে পদ্মা সেতুর আইন উপদেষ্টা বলেন, উনারা উনাদের মতো করে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু তারা শেখ হাসিনাকে বুঝতে পারেননি। কারণ শেখ হাসিনার ধমনীতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত। অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্যই শেখ হাসিনার জন্ম হয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান, আবার সেই স্বপ্ন তিনিই বাস্তবায়ন করে দেখান। তিনি দেখিয়েছেন একটি অসম্ভবকে কিভাবে সম্ভব করা যায়।
এনএইচবি/এএজেড
