উন্নয়ন প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হচ্ছে কিনা দেখা দরকার

আমাদের দেশে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে রোড আছে, ব্রীজ আছে, রেল আছে। সেগুলির শহর কেন্দ্রিক সুবিধাগুলি বেশি থাকবে। কিন্তু পদ্মা ব্রীজ, যমুনা সেতু এগুলির সুদূর প্রসারি ইম্প্যাক্ট রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যম এগুলি। বিভিন স্থান থেকে গুডস আনা নেওয়াসহ ব্যবসা বানিজ্য বাড়াতে সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি হয়। তবে উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি কিছু ক্ষেত্রে সন্তোষজনক হলেও খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে কিনা দেখা দরকার। কারণ এসবের সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বানিজ্য জড়িয়ে থাকে। সাথে সাথে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, বড় বড় ব্রীজ কালভার্ট ইত্যাদির জন্য প্রজেক্ট নেয়া হলেও আমাদের শহর, উপশহর, গ্রামাঞ্চলে যে রাস্তাঘাটগুলি আছে সেগুলি অবহেলিত। সেগুলির মেইন্টে্নেন্স এবং সেগুলির কানেক্টিভিটি সেগুলি কিন্তু নজরে নেয়া দরকার। কারণ এতে যেটি হয় যে, বড় বড় শহরগুলিতে বড় বড় হাইওয়ে হলো কিন্তু সামগ্রিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা কিন্তু অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। সেগুলিকে যদি আমরা মেইন্টটেনেন্স করতে পারি তবে ঠিক আছে।
মেগা প্রজেক্টের দিকে লক্ষ রাখলেই শুধু হবে না। রেলওয়ের ক্ষেত্রে যদি বলি, এই খাতে বহু টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু বিশ্বমান টাওয়ার আমরা দেখছি না। সেদিকেও সচেতন দৃষ্টি দেয়ার দরকার আছে। সঙ্গে পোর্টের দরকার আছে। এখনো পায়রা পোর্টের বিষয়টি এখনো কিন্তু পরিষ্কার অনুভূত হছে না যে কবে হবে। তবে সার্বিকভাবেই এই প্রকল্পগুলি যথাসময়ে করা উচিত বলে আমি মনে করি। সময় ক্ষেপণ অথবা সময় বাড়ানো উচিত না। সময় নষ্ট মানে ব্যয় বৃদ্ধি। পদ্মাব্রীজ জুন নাগাদ উদ্বোধন হয়ে যাচ্ছে সেরকমই বলা আছে।
মনে রাখতে হবে, পদ্মা সেতু কিন্তু আমাদের দেশের সম্পদ। আমাদের যেঁটি দেখা দরকার, ভ্যলুস অফ মানি অ্যান্ড ওয়ার্ক অর্থাৎ টাকার সদ্ব্যবহার এটি ঠিক আছে কিনা। কোয়ালিটি ওয়ার্ক অর্থাৎ গুণগত মান। অনেক রাস্তাঘাট বড় অনুমোদন নিয়ে সম্পন্ন করা হলেও সুসম্পন্নভাবে শেষ করা হয় নাই। সেগুলি ভেঙ্গে গেছে অথবা সঠিকভাবে করা হয় নাই। সেগুলি আবার কিছু ঠিক করা হয়েছে, কিছু আগের মতোই রয়ে গেছে। এগুলির পরিকল্পনারও ঘাটতি আছে। শুধু কাজ করলেইতো হবে না সেগুলি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। সার্বিকভাবে যে কাজগুলি চলছে তার সঙ্গে যদি আমাদের আইটি সেক্টরটি সঠিকভাবে ডেভেলপ করা যায় এটি একটি ভাল কাজ হবে বলে আমি মনে করি। আজকে সারা বিশ্বই প্রযুক্তি নির্ভর বলা যায়। সারা পৃথিবীতেই এর প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত।
আমি মনে করি, তুলনামূলকভাবে আমরা সেদিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছি। কাজেই আইটি সেকটরটিকে যদি আমরা আরও বেশি উন্নত করি, সেটি ব্যবসা বানিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রেই সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করবে। আমরা যতই জিজিটালাইজেশনের কথা বলছি সেটি কিন্তু কার্যক্ষেত্রে খুব বেশি একটা পরিলক্ষিত না। অর্থাৎ সেটি আমাদের চাহিদা অনুযায়ী খুব বেশি এডভান্স না আমি বলবো। সেদিকটিতে আরও বেশি নজর দিতে হবে বলে আমি মনে করি।
সার্বিকভাবে আমাদের দক্ষ লোক দিয়ে উন্নয়ন সেক্টরগুলি পরিচালনা করতে হবে। মনিটরিং করতে হবে একই সঙ্গে ইমপ্লিমেন্টেশন করতে হবে অর্থাৎ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
লেখক: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
