শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

পল্লি উন্নয়নে স্বপ্ন যার আকাশচুম্বী

১৯১৪ সালের ১৪ জুলাই ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরিলিতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিল এক শিশু। বেড়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে তার মস্তিষ্কে আবর্তিত হলো মা, মাটি ও পল্লির ভাবনা। পল্লির ভাবনায় তাকে ইতিহাসের এক অনন্য মর্যাদার মুকুট পরিয়ে দিল- তিনি হলেন ড. আখতার হামিদ খান।

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান হয়েও ভাবনায় এঁকেছিলেন পল্লিকে নিয়ে সবুজ স্বপ্ন। একজন ধার্মিক মায়ের অনন্য সন্তান হিসেবে মা তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন উচ্চমানের চিন্তা-চেতনা ও সাধারণ জীবনযাপনের। সমন্বয়বাদী চিন্তাধারার ধারক হিসেবে নিজে অবিচল থেকে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট মানুষের দুঃখ-কষ্টকে উপলব্ধি করেছিলেন; যে কারণেই তিনি হতে পেরেছিলেন বিশ্ববরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী, বাংলাদেশের পল্লি উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ ও পথিকৃৎ। দর্শনের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। সেই থেকে তিনি জার্মান দার্শনিক নীটশের একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে পড়েন। আইসিএস অফিসার হয়েও ড. আখতার হামিদ খান নিজেকে আবিষ্কার করলেন পল্লিবাসীর পল্লির মায়া জাগানো আনন্দ-দুঃখ-কষ্টের এক ভিন্ন কোলাহলে।

বাংলাদেশ পল্লিউন্নয়ন একাডেমি, কোটবাড়ী, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত আখতার হোসেন খানের লেখা ‘আখতার হামিদ খান একটি স্মৃতিচারণ’ গ্রন্থের ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন “একটি অতি চিন্তাশীল মেজাজ নিয়ে আমি পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং আমার জীবনের একটি আধ্যাত্মিক গোপনীয়তা আছে। দেখা যায়, নাটকের অনুপ্রেরণায় তিনি যে সুপারম্যান হয়েছিলেন বা ইকবালের অনুপ্রেরণায় যে পর্বত চূড়াবাসী জাকাল বাজপাখি হয়েছিলেন তা তাকে ধরে রাখতে পারেনি। দূরে থেকেও তিনি হলেন সুদূরের পিয়াসী।”

এভাবেই পল্লি উন্নয়নের পথিকৃৎ আখতার হামিদ খানের নেতৃত্বে চলল গবেষণা। প্রথমে সরকারি অফিসাররা গ্রামের মানুষের জন্য কী কী কাজ করতে পারছেন না সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলেন তিনি ও তার সহকর্মীরা। এ স্তরের গবেষণা হলো অবজারভেশনাল রিসার্চ। দ্বিতীয় স্তরে চলল সার্ভে রিসার্চ। তৃতীয় স্তরের গবেষণার নাম দেন অ্যাকশন রিসার্চ। চতুর্থ পর্যায়ে তিনি আসেন পরীক্ষামূলক প্রজেক্টে। এই প্রকারের গবেষণার নাম দেন তিনি পাইলট প্রজেক্ট। পল্লি উন্নয়নে আখতার হামিদ খানের সৃজনশীল গবেষণা আজ সর্বত্র অনুসৃত।

ড. আখতার হামিদ খানের অক্লান্ত চেষ্টায় সফল হয়েছিল পল্লি উন্নয়নে কুমিল্লা পদ্ধতি। তিনি এক আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে ঘুরলেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত মানুষকে কর্মক্ষম করে তোলার মানসে গড়ে তুললেন কো-অপারেটিভের প্রাথমিক স্তর। থানা পর্যায়ে গড়লেন দ্বিতীয় স্তরের কো-অপারেটিভ থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি। ফলে দরিদ্র কৃষকেরা সঞ্চয় শেয়ার ক্রয় ও সর্বোপরি পেল ঋণ সুবিধা। ঋণের টাকায় কৃষিযন্ত্র কিনে যান্ত্রিক চাষাবাদ, উন্নত সার ও বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি শুরু করলেন।

থানা সমিতি থেকে ঋণ দিয়ে কৃষকেরা রাইচমিলের মতো কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুললেন। ড. আখতার হামিদ খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘কুমিল্লায় যে সার্বিক গ্রাম উন্নয়নের ধারণা তিনি পেয়েছিলেন, তা তিনি ডেনমার্ক ও তাইওয়ান থেকে মনে প্রাণে গেঁথেছিলেন।’ নারী মুক্তি সম্বন্ধে তিনি বলেছিলেন, ‘ইতিহাস নারীকে পুরুষের সমান অধিকার দেয়নি। কিন্তু ইতিহাসের কোনো পর্যায়ে নারী ছিল মাতৃদেবতা।’ নারী মুক্তি, নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায়, নারী শিক্ষার প্রবক্তারূপে তিনি কুমিল্লাতে বেশ কিছু কাজ করেছেন।

ড. আখতার হামিদ খান

থানা টেইনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি পল্লি উন্নয়ন ভাবনার আরও এক রক্তিম পালক যুক্ত করেছিলেন। সেন্টার অন ইনটেগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক এবং কুমিল্লা পল্লি উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক মো. আজিজুল হক, ড. আখতার হামিদ খান সম্পর্কে চমকপ্রদ ঘটনার বর্ণনা দেন। মো. আখতার হোসেন খানের বইয়ের ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়, একবার গ্রামের এক সভায় এককৃষক উঠে দাঁড়িয়ে ড. আখতার হামিদ খানকে বলল, ‘আমাকে কিছু ঋণ দিন’। শুনে ড. আখতার হামিদ খান বললেন, আমি কোথা থেকে আপনাকে ঋণ দেব? আপনাদের নিজেদের আমানতের যে পয়সা সঞ্চিত আছে সে পয়সা থেকেই ঋণ নিন, কবে নেবেন তা আপনারা বসে ঠিক করে নেন। আর এক সভায় কয়েক জন কৃষক উঠে দাঁড়িয়ে বলল,‘আমরা গরিব আমাদের ঋণ দেন।’ ড. আখতার হামিদ খান বললেন, আপনারা গরিব বলেই তো আপনাদের দরকার সঞ্চয় করে সঞ্চয়ের অর্থ আপনাদের গ্রুপের ফান্ডে রাখার। আর একজন দাঁড়িয়ে বলল, আপনাদের ঋণ আপনি মাফ করে দেন। তিনি বললেন, ‘এটা তো আমার পয়সা না, আপনাদেরই জমানো পয়সা থেকে আপনারাই ঋণ নিয়েছেন, সে পয়সা আমি কী করে মাফ করে দেব?’ ১৯৫৯ সালে কৃষকদের নিজেদের সঞ্চয় আমানতের পথ ধরে যে গ্রামভিত্তিক কো-অপারেটিভ তৈরি হলো এবং যেদিন কোনো ক্ষুদ্র কৃষক কো-অপারেটিভের সে ফান্ড থেকে প্রথম ঋণ নিল সেদিন থেকেই শুরু হলো মাইক্রোক্রেডিটের শুভযাত্রা।

বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি, কুমিল্লার প্রধান নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হক ড. আখতার হামিদ খানের সঙ্গে একত্রে দীর্ঘ দিন কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। তিনি স্মৃতিচারণে বলেন, ‘ক্লাসে পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে প্রায়ই দেখতাম কলেজের সামনে দিয়ে একজন মানুষ হেঁটে যাচ্ছে, ইয়া উঁচু শরীর, হলুদের মতো গায়ের রঙ, সারস পাখির মতো উঁচু নাক। শিক্ষকদের কেউ কেউ বলতেন, তিনি আইসিএস পাস ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বড় চাকুরে। কেউ বলতেন, তিনি ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লা কোর্টে বসে বিচার করেন।’ কিন্তু আমরা জানতাম তিনি আখতার হামিদ খান, একজন মুসলমান বড় অফিসার, বুকটা গর্বে ফুলে উঠত।

আমাদের দেশের মতো দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রতিফলিত হয়েছে। অবহেলিত মানুষের জন্য ভাবনা তার দেহ ও মনকে অসহায় করে তুলেছে। তাই তিনি পল্লি উন্নয়নের জন্য ছিলেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন দেশপ্রেমিক। পল্লি উন্নয়নের এই অকুতোভয় সৈনিকের জীবনাবসান ঘটে ১৯৯৯ সালের ৯ অক্টোবর। কীর্তিমানের কখনো মৃত্যু ঘটে না, তিনি এখনো জীবন্ত হয়ে রয়েছেন তার প্রতিটি কর্মের মধ্যে দিয়ে। পল্লির মানুষের জন্য তার ভাবনার প্রথম ধাপটিই তিনি রেখেছেন কুমিল্লা পল্লি উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এটিই তাকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল। আজ বিস্ময়ে অবিভূত হতে হয় কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠিত পল্লি উন্নয়ন একাডেমি নিয়ে।

ড. আখতার হামিদ খানের সুচিন্তিত চিন্তার বিকাশ ও তার সফলতা আমরা বর্তমানে পল্লি উন্নয়ন একাডেমির সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে দেখতে পায়। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একাডেমি এগিয়ে চলছে একটা দর্শন বা আদর্শ নিয়ে এটা তার গতিধারা বজায় রাখছে এবং রাখবে এটাই প্রত্যাশা। গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জল, জমি, জনতা এটার সঠিক ব্যবহার এখন জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছি। ছদ্ম বেকারত্বকে ঝরিয়ে ফেলতে হবে বেশি মাত্রায়। গ্রামের মানুষের সমস্যা সমাধানে সুদূরপ্রসারী গবেষণা জরুরি যা পল্লির মানুষের দারিদ্র্য নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।

গ্রামের মানুষকে কাছে টানার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল ড.আখতার হামিদ খানের। তার প্রখর পাণ্ডিত্য, নিম্ন আয়ের অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশের কৃষি সমাজের প্রতি অবদান তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। দেশব্যাপী পল্লি প্রশাসনের ক্ষেত্রে জাতিগঠনমূলক বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বার্ড এর ভূমিকা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক প্রকাশনার ক্ষেত্রে এটি একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বার্ড অনেকগুলো সফল পল্লি উন্নয়ন মডেলের উদ্ভাবক। ড. আখতার হামিদ খানের স্বপ্নে ঘেরা পল্লি উন্নয়ন একাডেমি ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন এলাকায় সফল প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা করবে সেটাই প্রত্যাশা রাখি।

লেখক: সহকারী সম্পাদক, ঢাকাপ্রকাশ ও গবেষক

এসএন

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী