শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বঙ্গবন্ধুর ছিল অসাধারণ সম্মোহনী ক্ষমতা

বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। আমি কলেজে পড়ার সময় থেকেই উনার সঙ্গে পরিচিতিটা বাড়তে থাকে। সারাদেশেই সেটি বাড়ছিল। তখন থেকেই আমদের মাঝে একটি আকর্ষণ তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধুর কথা, উনার বক্তব্য সবকিছুর প্রতিই একটি প্রচণ্ড রকম আগ্রহ ছিল। উনার যেকোনো সভা থাকলে অথবা যদি জানতাম উনি কোথাও আসবেন আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হতাম। ৭মার্চের ভাষণেও আমি ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখার সুযোগ হয়েছিল খুব কাছে থেকেই। তখন থেকেই তাঁর প্রতি প্রচণ্ড শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়েছিল।

একটি সম্মোহনী ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর ছিল। উনার চলাফেরা কথা বার্তা কাপড় চোপড় সবই ছিল আমাদের জন্য বিশেষ এক ভাললাগার বিষয়। উনি কোথাও উপস্থিত হয়েছেন জানতে পারলে সহজে বাদ দিতাম না। সবাই অংশগ্রহণ করতাম। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর অন্ধভক্ত ছিলাম। যখন থেকে উনি বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা তখন থেকে তাকে আসলে নিজের পিতা বলেই মনে হত।

সরকারি চাকরি করাকালীন সময়ে তখন আমি সমবায় সমিতি বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সেসময় মনে হত দেশটিকে নতুন করে গড়তে হবে। আমাদের কিছু দাবি দাওয়া যেগুলো ছিল, আমরা ভাবলাম সেটি নিয়ে বংগবন্ধুর সঙ্গে কথা বলা যায় কি না। দাবি দাওয়ার চেয়ে বেশি এক্সাইটেড ছিলাম যে, বঙ্গবন্ধুর সামনে গিয়ে কথা বলব। যাইহোক, উনার সঙ্গে কথা বলার সময় আমরা আড়ষ্ট ছিলাম। কিন্ত আমাদের বক্তব্যগুলো শুনে উনি যখন কথা বললেন, উপদেশ দিলেন, মনে হল আমাদের কথাগুলোই উনি বলে দিলেন। প্রথম দিনের আলোচনা শেষে বংগবন্ধুর কথামত আমরা কাজ শুরু করে দিলাম। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উনার কথা শুনতাম এবং তার উপদেশ মতো সেভাবেই আমরা কাজ করতাম।

একটি নেতার বৈশিষ্ট্য যেমন একজন মানুষকে অনুসরণ করার বিষয়টি সেটি উনাকে দেখে আমরা শিখতাম। এমন নেতৃত্ব আর আসবে না বলেই আমার মনে হয়।

আমরাতো প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করি। সেটি নিয়ে আমাদের বহুবার সুযোগ হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার। একবার ফরমাল মিটিংএ তিনি ইনফরমালভাবেই বললেন যে, আসাদ গেটের সামনে অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ ছিল। তারা এখন কোথায় এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি তাদের কীভাবে চিনেন? কথা প্রসঙ্গে উনি আরও বললেন, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে আমি ওখানে যেতাম ওদের জন্য খাবার নিয়ে।বাবার ছায়া তার কন্যার মাঝেও দেখেছি।

১৫ আগস্টে ভোর রাতে গোলাগুলি শুনে আমরা সকলেই পথে বের হয়ে এসেছিলাম। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই সবাই বলাবলি করছিল যে, বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলেছে। একবার শুনি দুইজনকে মেরে ফেলেছে, একবার শুনি পাঁচজনকে মেরে ফেলছে, একবার শুনি শেখ কামালকে মেরে ফেলেছে, একবার শুনি বঙ্গমাতাকে মেরে ফেলেছে। সারাটা দিন গেল শুধু নিজের কাছে একটাই প্রশ্ন, বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলল, আমরা কিছুই করতে পারলাম না! আমরা কেন কিছুই করতে পারলাম না! এটিরই কোনো উত্তর নেই আমাদের কাছে।কেউ এগিয়ে এল না। কেন এগিয়ে আসেনি তখন। এই কষ্টটুকু এখনো মনের মধ্যে লাগে। আমরাও তো পারতাম যেতে। আমরা কেন সেই উদ্যোগটুকু নিতে পারিনি।

৩০০ গজের ভেতরে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। কাছে যেতে পারছি না।সেই কষ্টটা এখনো বুকের মাঝে কাঁটা হয়ে বাজে ।তারপর তো সবই ইতিহাস। ৭৫ মানেই বাঙালি জাতিস্বত্তার জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক সবচেয়ে বেদনার সবচেয়ে কলঙ্কজনক ইতিহাস।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ডিস্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত