শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

কলেজে অনার্স-মাস্টার্স থাকা উচিত কি না

দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ করে দেওয়ার কথা প্রায়ই শোনা যায়। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী প্রায়ই বলে থাকেন, ‘সব কলেজে অনার্স-মাস্টার্সের তেমন কোনো প্রয়োজন হয়তো নেই। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকার তৈরি হচ্ছে। আমরা সেটা চাই না। আমরা জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে চাই।’

বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ করে সেখানে ডিগ্রি স্তরে পড়াশুনা চালু রাখার পরিকল্পনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কলেজগুলো থেকে ডিগ্রি পরীক্ষা দেবে, নানা ধরনের শর্ট কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্সগুলো করানো হবে। যেগুলো অনেক বেশি কর্মমুখী, আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে উপযুক্ত হবে সে ধরনের কোর্স করানো হবে। জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত করতেই সরকার এ পরিকল্পনা নিচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ করার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তারা কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তবে নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এখনই কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ কাজটি একদিনে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। যারা এখন অনার্স-মাস্টার্সে ভর্তি হচ্ছেন, তাদের শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। যখন থেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সম্বব হবে, তখনই তা করা হবে। তবে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, সব কলেজেই অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ হবে না। শতবর্ষী ১৩টি কলেজ আছে, বেশকিছু ভালো কলেজ আছে, যেখানে সব ধরনের উপযুক্ত ব্যবস্থা আছে, সেগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স চালোনো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, বেসরকারি অনার্স কলেজে পড়াশুনা করে অনেকেই চাকরি পাননা। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিরাট একটা ব্যবধান তৈরি হয়ে যায়। যারা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিযে যনা, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেসরকারি কলেজগুলোকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি পরিমাণে প্রায়োগিত জ্ঞান পাবেন। যেটা তাদের চাকরি পেতে সহায়ক হবে। দেশও উপকৃত হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম.স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘এখন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এজন্য বহুমুখী উদ্যোগ জরুরি। এর মধ্য অন্যতম হচ্ছে স্কুল-কলেজগুলোতে পাঠ ও কারিকুলামকে কর্মবান্ধব করে তোলা। এজন্য বেসরকারি কলেজগুলোয় কারিগরি শিক্ষা যোগ করা উচিত।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সনদধারী বেকার তৈরি করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছেন। কাজেই যারা অনার্স-মাস্টার্স করবেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই করবেন। ডিগ্রি পাস কোর্সে পাশাপাশি বিভিন্ন শর্টকোর্সও খোলা হবে।’ এদিকে অনার্স-মাস্টার্স কলেজগুলোতে ডিপ্লোমা ও শর্ট কোর্স চালু করতে কৌশল নির্ধারণে কাজ করছে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি। এ কমিটির কেউ কেউ অনার্স কোর্স বন্ধের পক্ষে নন। বলা হচ্ছে, বন্ধে গুরুত্ব নয়, গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কলেজে ডিপ্লোমা কোর্স চালুর। অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালুর পাশাপাশি যদি শর্ট কোর্স ডিপ্লোমা কোর্স চালু হয়, তাহলে বন্ধ হলো কোথায়?

কৌশল নির্ধারণী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘আমরা অনার্স মাস্টার্স কোর্স বন্ধ করাকে প্রাধান্য দিচ্ছি না। শর্ট কোর্স বা ডিপ্লোমা চালুর বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছি। অনার্স কোর্স ধরে রেখে তার গুণমান ধরে রাখা হবে।’ তবে অনার্স কোর্স সীমিত করার কথাও বলেন তিনি।

কমিটির সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কমিটি ২৭টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে থেকে ১০টি ডিসিপ্লিনের ওপর কাজ করছে। বাছাই করা কলেজগুলোতে এসব ডিসিপ্লিনের ওপর ডিপ্লোমা/শর্ট কোর্স চালু করা হবে। এই কোর্স চালু হবে ডিগ্রি পাস/অনার্স স্তরের পড়াশুনা শেষে। সংশ্লিষ্ট সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। তাদের নিয়েই সিলেবাস, কারিকুলাম তৈরি হবে। ডিপ্লোমা কোর্সের বা শর্ট কোস পরিচালনার সামর্থ্য আছে শুধু সে কলেজেই এসব ডিসিপ্লিনের কোর্সগুলো চলবে। কমিটির অন্য এক সদস্য বলেন, গ্রামে অনেক অনার্স-মাস্টার্স কলেজ রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা। এসব কলেজে অনার্স-মাস্টার্স চালুর প্রয়োজন নেই। কোনো কোনো কলেজের মানও নেই। নেই অবকাঠামো সুবিধাও। এসব কলেজগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে, এসব কলেজে অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ করা হবে।’

বেসরকারি কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার তাদের ও তাদের পরিবারের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেছেন, অনার্স মাস্টার্স কোর্স বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শিক্ষিত বেকার যাতে তৈরি না হন, শিক্ষার্থীরা যদি উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চান, অনার্স-মাস্টার্স করতে চান তাদের এই কোর্সের পাশাপাশি অন্যান্য পেশাগত কোর্স করার ওপর জোর দেওয়ার কথা আমরা বলছি।

বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরামের সভাপতি নেকবর হোসেন বলেন, ‘২৮ বছর ধরে কোর্সগুলো চলছে, বন্ধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা ছিল না; কিন্তু আমরা যখনই এমপিওভুক্তির দাবির জন্য সোচ্চার হলাম, তখনই অনার্স-মাস্টার্স কোর্স বন্ধের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরা হলো। এটা অমানবিক। কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু রেখে এমপিওভুক্তির দাবি জানান তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘কোনো কোনো কলেজে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়না। যে শিক্ষক বেতন পান না, তিনি ক্লাসে কি পড়াবেন? তখন চিন্তা করা হলো, এভাবে কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি করে ভাল মানের শিক্ষা যদি দিতে না পারি, তার চেয়ে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি পড়ুক। তারপর কিছু শর্ট কোর্স ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে দেব, যাতে চাকরি পাওয়া সহজ হয়।’

এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে ১৯৯৩ সালে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সারাদেশে এ ধরনের মোট ৩১৫টি সরকার অনুমোদিত বেসরকারি কলেজ রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলে শিক্ষকদের মূল বেতন দেওয়ার শর্তে অনার্স-মাস্টার্সের বিষয় পড়ানোর অনুমোদন নেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কলেজের টিউশন ফি থেকে শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এসব কলেজে ৬ হাজারের মতো শিক্ষক আছেন। আর শিক্ষার্থী আছে ৭ লাখের বেশি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কেউ চাকরি হারাবেন না। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছেন মন্ত্রী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, এই কমিটির শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়ে কিছু বলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি জানান, কলেজগুলোতে যখন অনার্স -মাস্টার্স কোর্স অনুমোদন দেওয়া হয় তখন শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, এমপিওভুক্তি দাবি করতে পারবে না। বেতন-ভাতা দেখার দায়িত্ব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের না।

ইউজিসি বলছে, মাস্টার্স স্তরের শিক্ষা শুধু বাছাই করা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। এখানেও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বছাই করা উচিত। বর্তমানে স্নাতক শেষেই নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, দেশের উচ্চ স্তরে চার বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রিকে প্রান্তিক বা সর্বশেষ ডিগ্রি হিসেবে গণ্য করা হয়। কাজেই মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম কেবলমাত্র বাছাইকৃত মেধাবী স্নাতকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। স্নাতক পর্যায়ে ডিগ্রি অর্জনের পর সরাসরি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ না রেখে উন্মুক্ত প্রতিযোগতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। এসব বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছে ইউজিসি। তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি ১০৭টি মিলিয়ে মোট ১৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ১৯ হাজার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ হাজার, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়ছেন। এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অন্য সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন ৫৫ হাজার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পড়ছেন ২৩ হাজার শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে মাস্টার্সে পড়ছেন ৪ লাখ শিক্ষার্থী। ইউজিসি বলছে এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর এই স্তরে পড়ার প্রয়োজন নেই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও অনার্স কলজেসমূহে মাস্টার্স পর্যায়ে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকা সত্ত্বেও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষাদান সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যানবেইসের হিসাবে, দেশের ৪ হাজার ৭০০ কলেজের মধ্যে মাস্টার্স কলেজ রয়েছে ১৯১টি। এসব কলেজের মধ্যে বেশিরভাগেরই নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। নেই সুযোগ-সুবিধা। ফলে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৪ সালে প্রকাশিত ৪১তম প্রতিবেদনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়র অধীনস্ত কলেজগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ইউজিসি। সেই প্রতিবেদনেও মাস্টার্সে ঢালাও ভর্তির বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে, দেশের কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ করে কতিপয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও উচ্চশিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটছে, তবু শিক্ষার প্রত্যাশিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইউজিসির এসব সুপারিশের বিরোধিতা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, সবার উচ্চশিক্ষার অধিকার থাকা উচিত। নীতিমালা করে উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ করা কোনভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীরা সুপারিশ সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। অবকাঠামোগত সুবিধা নেই বিধায় উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে সেটি উচ্চশিক্ষা সংকোচন, অনেক শিক্ষক নেতারাও এর বিরোধিতা করছেন। তারা বরং অবকাঠামো তৈরি করার কথা বলছেন, শিক্ষক তৈরি করার কথা বলছেন, আরও বলছেন সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তবে উচ্চশিক্ষার সংকোচন চায় তার প্রমাণ হচ্ছে বেসরকারি কলেজগুলোর অনার্স স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত না করা।

উপরোক্ত আলোচনাগুলো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদক্ষেপ এবং বিরোধিতা সবগুলোই অত্যন্ত বাস্তব। আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের কলেজগুলো থেকে যারা অনার্স মাস্টার্স করছেন ব্যতিক্রম ছাড়া তাদের অনেককেই চাকরির বাজারে অনেক বেগ পেতে হয়। তাই তার পাশাপাশি একটি কর্মমুখী শিক্ষার কথা, টেকনিক্যাল এডুকেশনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। আমার মনে আছে, আমি যখন বরিশাল সরকারি বি এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ি, তখন দেখতাম অনেক বড় ভাইয়েরা সেখানে অনার্স ও মাস্টার্স পড়তেন। তাদের অনেকেই ডিগ্রি হোস্টেলে সিট না পেয়ে আমাদের উচ্চ মাধ্যমিকের হোস্টেলে থাকতেন। সেখানে তাদের বয়স্ক বাবা-মা মাসে মাসে টাকা পাঠাতেন, কেউ কেউ এসে টাকা দিয়ে যেতেন। আমার তখন থেকেই মনে হতো এসব ভাইয়েরা যদি উচ্চশিক্ষা গ্রহনের পাশাপাশি একটি টেকনিক্যাল কাজও শিখতেন পারতেন তাহলে এই বৃদ্ধ বাবা-মা’র কাছ থেকে অর্থ নিতে হতোনা। অনেকবার পত্রিকায়ও লিখেছি,কয়েকবার বড় ফোরামেও কথা বলেছি। বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। একদিকে শিক্ষার অধিকার সবার রয়েছে। শিক্ষাগ্রহনে কারুর জন্য কোন ধরনের বাধাঁর সৃষ্টি করা যাবেনা। সুকুমার বৃত্তির চর্চা, মানবিক গুণাবলীর চর্চা ও বিস্তার ঘটাতে হবে শিক্ষার মাধ্যমে, সেটি কলেজে হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ে হোক, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেখানেই হোক না কেন। কর্মমুখী করার উদ্দেশ্যে শিক্ষাকে যান্ত্রিক করা যাবেনা। একজন মানুষ উপার্জন করতে পারবে এজন্য তাকে মানবিক গুণাবলীর চর্চা না করিয়ে শুধু উপার্জন উপযোগী করে তৈরি করলে সমাজে অর্থনৈতিক উন্নতি কিছুটা হবে হয়তো, কিন্তু মানবিক গুণাবলীর কি হবে? তাই, উচ্চশিক্ষার সংকোচন নয়। যে যে কাজই করুক না কেন, যে বয়সেরই হোক না কেন কেউ যদি চান যে, তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবেন তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে। এটি রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। শিক্ষাকে ধরাবাধা, কঠিন নিয়মের শৃঙ্খলে আটকানো যাবে না। আবার এটিও দেখতে হবে যে, শুধু চাকরির জন্য উচ্চশিক্ষাগ্রহণ করে কেউ যাতে পরিবার ও সমাজের প্রতি বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। এটি দেখার দায়িত্বও সমাজ ও রাষ্ট্রের।

লেখক: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত