শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বাজার হবে বিনিয়োগকারীদের, জুয়ারিদের জন্য নয়

শেয়ার বাজার কোনো ব্যাকরণ মেনে চলে না। শেয়ার বাজারে যখন কোনো গুজব তৈরি হয়, তখন বাজার পড়ে যেতেও দেখা গেছে। যত না পড়ার কথা তার চেয়েও বেশি পড়ে যায়। ঠিক একইভাবে যত না উঠার কথা তার চেয়েও বেশি উঠে যায় একই কারণে। এজন্যই বলা হয় যে, শেয়ার বাজার কোনো ব্যাকরণ মেনে চলে না। তবে চলা উচিত। কুচক্রি মহলের জন্য যেটি সুবিধাজনক।

মার্জিন লোনে অনেকেই অপারেট করে। শেয়ার কেনার জন্য লোন দেয় হাউজগুলো। যখন শেয়ার বাজার থমকে দাঁড়ায় অথবা পড়ে যায়, তখন সুদ বেড়ে যায়। তখন তারা সুদও দিতে পারে না, অন্যদিকে লোন বাড়তে থাকে আর বাধ্য হয়ে দ্রুত বিক্রয় করতে শুরু করে শেয়ার। গতদিন যেটি হয়েছে, এখানেও দেখা যাবে মার্জিন লোন যারা নিয়েছে, তারাই বেশি বিক্রি করেছে। আরও একটি ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের ৬৫ শতাংশ ইনভেস্টরের বিনিয়োগ দশ লাখ টাকার নিচে এবং তারা শেয়ার বিক্রি করে দেয় ভয়-ভীতিতে। সেটিই ঘটেছে গতদিনে। যুদ্ধ তো আছেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এসব বিষয়।

মানুষের হচ্ছে বোকামি ও লোভ শেয়ার বাজারে ধোঁকা খাওয়ার অন্যতম কারণ। তারা জেনে বুঝে শেয়ার কিনেন না। যে শেয়ারের দাম ২০টাকা, এরা সেটি কিনেছে ৫০টাকা দিয়ে। গুজবের মধ্যে পড়ে গিয়ে জুয়ারিদের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে। এটা বাড়বে, ওটা বাড়বে। এটা এই হবে, ওটা ওই হবে ইত্যাদি। ১৭টাকার শেয়ার ছয় মাসে হয়ে গেছে ১২০ টাকা। ১০টাকার শেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে হয়ে গেছে ২৮ টাকা। এগুলো স্থিতিশীল না। গত দুই সপ্তাহ আগেও কিন্তু শেয়ার বাজার ভাল যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই ধ্বস নেমেছে এবং বিশ্বব্যাপী এই ধস নেমেছে। এটি বঙ্গতে যেমন পড়েছে, নিউ ইয়র্কে পড়েছে, হংকংয়ে পড়েছে, জাপানে পড়েছে। এখন যারা শেয়ার বাজারে আছে, তারা লোকসান গুনছে। আবার যখন লাভ করে তখন লাভ নিয়ে খুশি থাকে। এখানে কাউকে রোধ করার কিছু নাই। কেউ কাউকে রোধ করতে পারবে না। সরকারও পারবে না। এটি যে যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনেকে বিক্রয় করে দেয় না বুঝেই। মূলকথা স্থিতিশীলতা নাই বলা যায়।

গুজব ছড়িয়েছে, এগুলোতে মানুষই দায়ী। এতগুলো সিস্টেম, এতগুলো পার্ট আমাদের শেয়ার বাজারের সঙ্গে জড়িত। এখন কিছু গুজবকারি আছে যারা গ্যাম্বলিং করে, শেয়ারবাজারে পলিউশন করে। বিনিয়োগকারীদের না বুঝে, না জেনে শেয়ার বাজারে আসা ঠিক না। কারা বুঝতে পারে কোথায় কি হচ্ছে? যারা বুঝতে পারে তারা তো এসবে যাবে না। তারা যতখুশি কিনতে পারে, বিক্রয় করতে পারে।

ওরা বলে যে, ওরা চালাক। যারা আসল ঘটনা জানে–সরকারের পক্ষে শেয়ারবাজারের এই পড়ে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হবে না। সরকারের পক্ষে এটি সম্ভব যে, ভালো শেয়ার জোগান দেওয়া। সেটি করলে সমস্যা কিছুটা সমাধান হবে। আমাদের বাজার তৈরি করতে হবে ইনভেস্টরদের জন্য। গ্যাম্বলারদের জন্য নয়। যারা গ্যাম্বলিং করছে তারা সংখ্যায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। জনগণও না বুঝে দলবদ্ধভাবে চলে। তারা গুজবে আকৃষ্ট হয়, এইটা না ওইটা ধরো। তবে ভাল নিয়ম হচ্ছে ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে শেয়ার কিনতে হবে। যেটির গ্রোথ হবে। যেটির ভবিষ্যত বেশি। ব্যবসা আছে ব্যাপকভাবে। কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে খবর রাখেন না, অথচ কোম্পানির শেয়ার কিনেন, আর বলেন–আমি তো ক্ষতিগ্রস্থ হলাম। এটা তাদেরই ভুল! আগে জানতে হয় কোম্পানি সম্পর্কে। আমরা জানতে চাই না। জানতে ইচ্ছুকও না। এভাবে তো লাভবান হওয়া যায় না। এখানে অনেক কিছু জড়িত। যেমন–স্কিলড, মানি, প্যাশন, প্রফেশানিলজম–এগুলোর কম্বাইন্ড এট্রিবিউটস। আমি কিছুই জানলাম না। হুজুগে বাড়ছে, কিনছে এবং ক্ষতগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা না জেনে বুঝে গ্যাম্বলারদের সুযোগ করে দিচ্ছি।

ইউক্রেনের যুদ্ধটিও দারুণভাবে ধাক্কা দিয়েছে। এরপর সবাই দিশেহারা হয়েছে। তবে জেনে বুঝে শুনে শেয়ার ক্রয় করে উইন করা যেমন সম্ভব, তেমনি অনেকেই একইভাবে রাঘববোয়ালদের টোপ গিলছে এবং অবধারিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সারা পৃথিবীতেই এখন এই গ্যাম্বলিং চলছে। অন্যদেশে হয়তো তুলনামূলকভাবে কম কিন্তু আমাদের এখানে বেশি হচ্ছে। তবে এটিও সত্যি যে, গ্যাম্বলিং এ না জড়িয়েও অনেকেই ভালো করছে। কারণ তারা জেনে বুঝে ইনভেস্ট করছে এবং সেটিই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত