শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ২৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান

তার চুল কাটার ধরনে নানির জন্য অবশ্যই চমক একটা ছিল বটে। নানি তাকে আপাদমস্তক এক নজর দেখে তার ওই অপূরণীয় বিপর্যয় সম্পর্কে এক মুহূর্ত চিন্তা করে জ্যাকের সামনেই তার মাকে উদ্দেশ্য করে শুধু বললেন, তোকে এখন আস্ত একটা বেশ্যার মতো দেখাচ্ছে। কথাগুলো বলেই নানি রান্না ঘরের দিকে চলে গেলেন। ক্যাথরিন করমারির মুখ থেকে হাসি উবে গেল।

সমস্ত পৃথিবীর দুঃখ আর ক্লান্তি এসে জমা হলো তার মুখে। জ্যাকের প্রকাশ-উদ্যত মুখের দিকে তাকিয়ে একটুখানি হাসার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তার ঠোঁট কাঁপতে থাকায় মা যেন নিভে গেলেন। কাঁদতে কাঁদতে নিজের শোয়ার ঘরের দিকে দৌড়ে চলে গেলেন। ওটাই তার বিশ্রামের জায়গা, নৈঃসঙ্গের জায়গা, দুঃখ বিলাসের আশ্রয়।

হতবিহ্বল জ্যাক মায়ের পিছে পিছে শোয়ার ঘরে গিয়ে দেখল, মা বালিশে মুখ ডুবিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। তার হালকা পলকা পিঠ কান্নার দমকে দমকে ওঠানামা করছে। চুল ছোট করে ফেলার কারণে মায়ের ঘাড়ের অনেকখানি অনাবৃত।

মাকে হাত দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে জ্যাক ডাক দিল, মামণি, মা। তুমি চুল কাটলেও খুব সুন্দর, মা।

কিন্তু মা মনে হলো শুনলেন না। হাতের ইশারায় তাকে চলে যেতে বললেন। জ্যাক ফিরে এসে দরজার বাজুতে হেলান দিয়ে মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর নিজের অসহায়ত্ব নিয়ে নীরবে কাঁদতে শুরু করল।

পরবর্তী কয়েক দিন নানি তার মেয়ের সঙ্গে একটা কথাও বললেন না। আঁতোই লোকটাকেও কেউ আর তেমন উষ্ণতায় গ্রহণ করল না। আর্নেস্ট মামা সদানন্দ স্বভাবের এবং বাচাল হলেও আঁতোইয়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলল। আঁতোই লোকটা কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছিল হয়তো: কী হচ্ছে? জ্যাক বেশ কয়েকবার তার মায়ের সুন্দর চোখ জোড়ায় অশ্রু দেখতে পেয়েছে। আর্নেস্ট সব সময় চুপচাপ নীরবতায় ডুবে রইল এবং কারণে অকারণে ব্রিলিয়ান্টকে মারপিট করতে লাগল। গ্রীষ্মের এক বিকেলে জ্যাক খেয়াল করল, মামা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কী যেন দেখার চেষ্টা করছে।

বালক জ্যাক জিজ্ঞেস করল, ডানিয়েল আসছে না কি?

মামা মুখে কিছু না বলে রাগে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করতে লাগল। জ্যাক দেখতে পেল, আঁতোই আসছে। বেশ কয়েকদিন আসেনি লোকটা। আর্নেস্ট দ্রুত বের হয়ে গেল এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিঁড়ির দিক থেকে ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ আসতে লাগল। জ্যাক তাড়তাড়ি এগিয়ে গিয়ে দেখল, দুজন অন্ধকারের মধ্যে মারামারি করছে। নিজের দিকে কীভাবে কেমন আঘাত আসছে সেদিকে বিন্দুমাত্র নজর না দিয়ে আর্নেস্ট তার লোহাদণ্ডের মতো শক্ত মুষ্টিতে সমানে ঘুষি চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই আঁতোই সিড়ি দিয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে গেল। সে উঠে দাঁড়াতেই দেখা গেল, তার সারা মুখে রক্ত। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছে নিল সে।

তবে এতক্ষণ আর্নেস্টের ওপর থেকে এক পলকের জন্যও দৃষ্টি সরানোর সাহস পায়নি লোকটা। তখনও আর্নেস্ট উন্মাদের মতো রাগে ফেটে পড়ছে। ভেতরে গিয়ে জ্যাক দেখল, মা নিথর মুখে খাবার টেবিলে বসে আছেন। জ্যাকও চুপ করে বসে রইল তার পাশে। জোরে জোরে গালিগালাজ ঝাড়তে ঝাড়তে আর্নেস্ট ভেতরে চলে এল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বোনের দিকে আগুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে গেল শুধু। মুখে কিছু বলল না। রাতের খাবার যথারীতি শেষ হয়ে গেল। মা কিছুই খেলেন না। নানি তাকে খেতে বললে মা শুধু বললেন, আমার ক্ষিধে নেই। সবার খাওয়া শেষ হয়ে গেলে মা উঠে শোয়ার ঘরে চলে গেলেন। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে জ্যাক বুঝতে পারল, মা নির্ঘুম বিছানায় এপাশ ওপাশ করছেন। পরদিন সকালেই মা কালো পোশাক পরে নিলেন, শুধু গরীবের পোশাক, আর কিছু নয়। জ্যাকের মনে হলো, মায়ের সৌন্দর্যে ঘাটতি পড়েনি; বরং গরীবের পোশাকে তার সৌন্দর্য আরো বেশি করে ফুটে উঠেছে। কারণ মা আরো দূরবর্তী হয়ে গেছেন, নিজের আত্মার ভেতর গুটিয়ে গেছেন। দারিদ্র, নৈঃসঙ্গ আর আসন্ন বার্ধক্যে থিতু হয়ে গেছেন মা।

আর্নেস্ট মামার প্রতি জ্যাক বেশ কিছুদিন অসন্তোষ পুষে রেখেছিল; তবে কেন পুষে রেখেছিল তার উত্তর জানা ছিল না। আবার এরকমও মনে হয়েছে, মামাকে কিছুতেই দোষ দেয়া যায় না। তাদের পরিবার দারিদ্র, দুর্বলতা আর অতীব প্রয়োজনীয়তার ভেতর জীবন অতিবাহিত করত। সেগুলো যদি কোনো কিছুর সঙ্গেই আপোষ না করত তাহলে পরিবারের যে ব্যক্তিটি ওই অসুবিধাগুলোর শিকার হতো তাকে তারা নিশ্চয়ই বিচারাধীন করতে পারত না কিছুতেই।

তাদের পরিবারের লোকেরা একে অন্যকে আঘাত দিতে বাধ্য হয়েছে নিরুপায় হয়েই। তারা প্রত্যেকেই অন্যকে কষ্ট দিয়েছে শুধু যখন আপাত দায়ী ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব দেখতে পেয়েছে জীবনের অতীব প্রয়োজনীয়তার ভেতর। প্রথমত নানির প্রতি, তারপর তার মায়ের প্রতি এবং তাদের প্রতি মামার গভীর অনুরক্তিতে জ্যাক কখনওই সন্দেহ পোষণ করতে পারেনি। তার প্রতি মামার গভীর অনুরক্তি দেখতে পেয়েছে বিশেষ করে যেদিন মামার কারখানায় সে একটা দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল সেদিন। জ্যাক প্রতি বৃহষ্পতিবার মামার কারখানায় যেত। অন্যান্য দিন রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার জন্য জ্যাক উৎফুল্ল হয়ে ছুটে যেত।

বৃহষ্পতিবার বাড়ির কাজ থাকলে সেগুলো তাড়াতাড়ি গুছিয়ে রেখে মামার কারখানাতেও সেরকম উৎফুল্ল হয়ে ছুটে যেত সে। কারখানাটা ছিল প্যারেড গ্রাউন্ডের পাশেই। কারখানাটা উঠোনের মতো একটা ফাঁকা জায়গায়। ময়লা আবর্জনা, পুরনো চাকার বলয়, ধাতুমল আর নিভিয়ে ফেলা আগুনের ছাইয়ে ভরা। একদিকে সমান দূরত্বের বড় বড় পাথরের থামের মাথার ওপরে তৈরি ইটের ছাদ। পাঁচ ছয়জন কারিগর ওই ছাদের নিচে কাজ করত।

ওইটুকু জায়গার মধ্যেই প্রত্যেকের কাজের আলাদা আলাদা সীমানা ছিল: দেয়াল ঘেঁষা একটা বেঞ্চ, তার সামনে ফাঁকা জায়গা, সেখানে পিপা কিংবা মদের জালা জড়ো করে রাখা যেত এবং পাশের কারিগরের এলাকা থেকে আলাদা করা যায় এমনভাবে খাঁজকাটা বেঞ্চের মতো ছিল। সেটার মধ্যে পিপার মাথা ঢুকিয়ে দেওয়া যেত। তারপর চাকুর মতো একটা অস্ত্র দিয়ে হাতে সেটার আকার দেওয়া হতো।

তবে এর ধারালো পাশটা থাকত কারিগরের দিকে মুখ করা এবং এর হাতল ধরা থাকত কারিগরের হাতে। আসলে এরকম বিন্যাস প্রথম দর্শনে চোখে পড়ার মতো ছিল না। প্রথম থেকে পরিকল্পনা অবশ্য এরকমই ছিল। তবে আস্তে আস্তে বেঞ্চগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। বেঞ্চের মাঝখানের জায়গা ভরে উঠেছে চাকার বলয় জমা হয়ে। এখানে ওখানে নাটবল্টুর কেনেস্তারা পড়ে আছে। প্রত্যেক কারিগর নিজ নিজ জায়গার মধ্যে যে সব কাজকর্ম সম্পাদন করছে সেগুলো খুটিয়ে দেখতে গেলে অনেক সময়ের দরকার। মামার খাবার নিয়ে তার কাছে পৌঁছনোর আগে দূর থেকেই জ্যাক চাকার বলয়ের ড্রাইভারের ওপরে হাতুড়ির শব্দ শুনে চিনতে পারত।

কাঠের টুকরোটা ঠিক জায়গায় বসানোর পরে ড্রাইভার যন্ত্রটা দিয়ে ধাতব বলয় পিপার গলায় নামিয়ে দেওয়া হতো এবং কারিগর ড্রাইভার যন্ত্রটির এক প্রান্তে বাড়ি মারতে থাকত এবং অন্য প্রান্ত দক্ষতার সঙ্গে বলয়ের চারপাশে ঘোরাতে থাকত। দূর থেকে আরো বেশি ভারী এবং ধীর পৌনঃপুনিকতার শব্দ শুনে জ্যাক আরো বুঝতে পারত, হয়তো কোনো কারিগর দোকানের বাইসের সঙ্গে আটকানো কোনো বলয়ের সঙ্গে নাটবল্টু সেট করছে। হাতুড়ির কোলাহলের মধ্যে জ্যাক ওখানে গিয়ে পৌঁছনোর সময় তাকে সানন্দে গ্রহণ করা হতো এবং এরপর হাতুড়িগুলোর নাচ আবার শুরু হতো। আর্নেস্টের পরনে থাকত পুরনো তালি মারা নীল ট্রাউজার, ঘুণঢাকা কাপড়ের তৈরি দড়ির তলাঅলা জুতা, হাতাছাড়া ধূসর রঙের শার্ট আর একটা রঙচটা পুরনো কিনারাবিহীন টুপি। টুপিটা তার সুন্দর চুলকে ধূলি আর চাঁচনি থেকে রক্ষা করত।

ওখানে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে মামা জ্যাককে বুকে জড়িয়ে নিত আর মামার কথাবার্তায় জ্যাক বুঝতে পারত, মামার কাজে হাত লাগালে ভালোই হয়। মাঝে মাঝে জ্যাক নেহাইয়ের ওপরে বলয়টাকে ধরে থাকত। আর মামা সেটার সঙ্গে বল্টু লাগানোর জন্য জোরে জোরে বাড়ি মারত। বলয়টা জ্যাকের হাতের মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠত। হাতুড়ির প্রত্যেকটা বাড়ির সঙ্গে সেটা তার তালুতে বসে যেত। কখনও কখনও মামা বেঞ্চের এক প্রান্তে দুপা দুদিকে ছড়িয়ে দিয়ে বসে পড়ত। জ্যাকও একই ভঙ্গিতে অন্য প্রান্তে বসত। জ্যাক পিপার নিচের পাশটা ধরত। আর মামা সেটার আকার দিতে থাকত।

তবে জ্যাকের সবচেয়ে মজা লাগত কাঠের টুকরোগুলো উঠোনের মাঝখানে এনে জড়ো করতে যাতে মামা সেগুলো মোটামুটি চাকার একটা বলয়ের কাছাকাছি সাজিয়ে রাখতে পারে। দুপাশ খোলা পিপার মধ্যে আর্নেস্ট একগাদা চাঁচনি ঢুকিয়ে দিত। আর জ্যাকের দায়িত্ব ছিল সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া। আাগুনের তাপে লোহা আকারে আরো বেশি বিস্তৃতি লাভ করত এবং আর্নেস্ট সে সুযোগে হাতুড়ির সজোর আঘাতে বলয়টাকে বসিয়ে দিত।

এই কাজে ধোঁয়ার কারণে দুজনেরই চোখ জুড়ে অশ্রু নামতে থাকত। বলয়টা জায়গা মতো বসিয়ে দেওয়া হয়ে গেলে জ্যাক উঠোনের কোণের কল থেকে পানি ভরে রাখা কাঠের বালতি নিয়ে আসত। বালতি নামিয়ে দিয়ে জ্যাক খানিকটা সরে দাঁড়াত এবং আর্নেস্ট পিপার ওপরে সজোরে পানি ঢেলে দিত। বলয় ঠাণ্ডা হতে হতে সংকুচিত হয়ে কাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ত। সঙ্গে সঙ্গে ওপরের দিকে বাষ্পের কুণ্ডলী উঠে আসত।

চলবে...

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের