শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ২৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান

আর্নেস্ট মামার রাগের আরেকটা ঘটনা মনে আছে জ্যাকের: সেটা খুব বেশি গুরুতর। কারণ আর্নেস্ট মামা আর যোসেফিন মামার বাগবিতণ্ডা শেষ পর্যন্ত ঘুষোঘুষিতে গড়িয়েছিল। যোসেফিন মামা রেলওয়েতে কাজ করত। সে রাতে কোনোদিন বাড়িতে ঘুমাত না। অবশ্য কোথায় ঘুমাত তা সে-ই জানে। পাড়ায় কোথায় যেন একটা রুম ছিল তার। বাড়ির কাউকে সেখানে কোনোদিন নেয়নি। জ্যাকও দেখেনি সে জায়গাটা। খাবার খেত বাড়িতেই এবং সেজন্য সামান্য কিছু টাকা তার মাকে দিত। ভাই হিসেবে যতখানি আলাদা হওয়া যায় ঠিক ততটাই আলাদা ছিল সে আর্নেস্টের থেকে। আর্নেস্টের চেয়ে বয়সে সে দশ বছরের বড় ছিল। ঠোঁটের ওপরে হালকা একগাছি গোঁফ আর নাবিকদের মতো করে কাটা চুলের যোসেফিন মামা ছিল ধীর-স্থির মেজাজের, চাপা এবং হিসেবি। আর্নেস্ট বলত তার ধনসম্পদের প্রতি লোভ বেশি। তার দোষ ধরার ধরনটা ছিল আরো সোজাসাপটা; বলত, ও একটা মোজাবাইট।

তার ব্যাখ্যায় মোজাবাইট মানে হলো, পাড়ার মুদি দোকানদার যারা মোজাব থেকে এসে বহু বছর এই এলাকায় দোকানদারী করত। থাকত তেল আর দারুচিনির গন্ধে ভরা দোকানের পেছনে। তাদের বউ বাচ্চা কেউ থাকত না এখানে। তাদের এই নির্বাসনের মতো জীবনের একটাই উদ্দেশ্য ছিল: এভাবে একাকী জীবন যাপন করে পরিবার পরিজনের জন্য টাকা পয়সা যোগাড় করা। তাদের পরিবার পরিজন সব বাস করত মোজাব এলাকার পাঁচটা শহরে। মরুভূমির যেখানে ওইসব খারেজি গোঁড়া ইসলামপন্থীরা বাস করত সেখানে ধর্মীয় কারণে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির প্রচলন ছিল। সেখানে তাদের আগমন ঘটে বহু শত বছর আগে। ওই এলাকাটাকে তারা নিজেদের বলে বেছে নেয়। কারণ তারা জানত, ওই পাথুরে এলাকায় তাদের কাছ থেকে জমিজমা কেড়ে নেওয়ার জন্য যুদ্ধ করতে আসবে না কেউ। পৃথিবী থেকে গর্তে ভরা প্রাণহীন অন্য কোনো গ্রহ যত দূরে ওই জায়গাটা উপকূলীয় আধা সভ্য এলাকা থেকে ঠিক ততেটাই দূরে। সেখানে তারা বসতি স্থাপন করে এবং অগভীর টোলের পাশে অল্প জায়গায় শহর গড়ে তোলে। অদ্ভূত কৃচ্ছব্রতী বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে তাদের সবল শরীরের পুরুষদের উপকূলবর্তী এলাকায় পাঠিয়ে ব্যবসায়ে নিয়োজিত করে যাতে তারা একমাত্র আত্মিক লাভালাভের জগৎ তৈরি করতে পারে। এরপর আরেক দল যখন আসে তাদের ব্যবসায় কর্ম চালাতে তখন শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে আসে তাদের মাটি আর কাদা ঘেরা শহরে যাতে এতদিনের বিশ্বাসে অর্জিত রাজত্বে ভালোভাবে থাকতে পারে। এভাবেই তাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জীবন যাপন এবং মিতব্যয়িতাকে তাদের গভীর বিশ্বাসের আলোকে বিচার করা হতো। কিন্তু পাড়ার শ্রমজীবি শ্রেণির কেউ ইসলাম ধর্ম এবং এর নবতন্ত্র সম্পর্কে তেমন কিছু জানত না বলে শুধু তাদের ওপরের অবস্থাটাই দেখত।

অন্য সবার মতো আর্নেস্টও যখন তার ভাইকে মজাবাইট বলে দোষারোপ করত তখন তাকে হারপাগোনের সঙ্গেও যেন তুলনা করা হয়ে যেত। যোসেফিন মামা ছিল টাকা পয়সার ব্যাপারে ব্যয়কুণ্ঠ। অন্যদিকে আর্নেস্ট মামা নানির মতে ছিল ‘উদারহস্ত’। আর্নেস্টের ওপর নানি কখনও ক্ষিপ্ত হলে অভিযোগ করে বলতেন, ওর আঙুলের ফাঁক দিয়ে টাকাপয়সা বের হয়ে যায়। দুজনের মধ্যে অমিলের বাইরে আরো একটা বিষয় হলো, আর্নেস্ট মামার চেয়ে যোসেফিন মামার উপার্জন একটু বেশি ছিল। যার কিছুই নেই তার পক্ষেই উদার হওয়া সম্ভব। উদার হওয়ার সামর্থ অর্জনের পর খুব কম মানুষই উদার থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু রাজকুমারেরা যাদের সামনে সবাইকে মাথা নত করতে হয়। যোসেফিনের আর্থিক অবস্থা টাকার বিছানায় গড়াগড়ি দেওয়ার মতো পর্যায়ের ছিল না। খুব হিসাবের সঙ্গে কিছু ব্যবসায় করে তার বেতনের বাইরেও কিছু টাকা উপার্জন করত সে। তথাকথিত খাম ব্যবস্থাপনা চালু করেছিল যোসেফিন।

অবশ্য নতুন খাম কেনার মতো উদারতা তার ছিল না। সে পুরনো খবরের কাগজ কিংবা মুদির দোকানের ঠোঙা থেকে খাম তৈরি করত। রেলওয়েতে কাজ করার সুবাদে সে দুসপ্তাহে একবার করে ভ্রমণের সুযোগ পেত। এক রবিবার পর পর সে ট্রেন ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জংলা এলাকায় চলে যেত। আরব লোকদের খামারে গিয়ে ডিম, মুরগির বাচ্চা কিংবা খরগোশ কিনে নিয়ে এসে পাড়ার লোকদের কাছে বিক্রি করত। তাতে মোটামুটি ভালো মুনাফা পেত। তার জীবন সব দিক থেকেই গোছানো ছিল। তার কোনো নারী সংসর্গ ছিল না। সপ্তাহের কাজের দিনগুলো এবং রবিবারের অবসর সময়ের ফাঁকে নারী সংসর্গ লাভের জন্য ব্যয় করার মতো সময় তার ছিল না। তবে সে সব সময় বলে এসেছে চল্লিশ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠিত কোনো মহিলাকে বিয়ে করবে। তার আগ পর্যন্ত সে ভাড়া করা ওই রুমে থাকবে, টাকা পয়সা জমাবে এবং মায়ের বাড়ির সঙ্গে খণ্ডকালীন সম্পর্ক রাখবে।

তার স্বভাবের মধ্যে চমৎকারিত্বের অভাবসহ যেরকম বলেছিল তেমন করেই চালিয়ে নিয়েছে তার পরিকল্পনা। যোসেফিন বিয়ে করেছিল এক পিয়ানো শিক্ষককে, চেহারাসুরত মোটেও খারাপ নয় এবং আসবাবপত্রসহ প্রায় বছর পাঁচেকের বুর্জোয়া সম্পত্তি নিয়ে এসেছিল যোসেফিনের সংসারে। সত্য কথা হলো, যোসেফিন আসবাবপত্রগুলো রাখতে পারল ঠিকই, স্ত্রীকে রাখতে পারল না। সে অবশ্য আলাদা কাহিনী। কিন্তু যোসেফিন যেটা বুঝতে পারেনি সেটা হলো, আর্নেস্টের সঙ্গে তার ঝগড়ার পর থেকে সে আর মায়ের বাড়িতে খেতে আসতে পারবে না। তাকে বরং বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর দামী খাবার খেতে হবে। তাদের ঝগড়ার মূল কারণ অবশ্য জ্যাকের মনে নেই।

অনেক সময় আজানা কারণে কলহবিবাদ পরিবারের সদস্যদেরকে ভাগ করে ফেলত এবং সত্যিকার অর্থেই কেউ সেই বিবাদের কারণ আর খুঁজে পেত না। তাদের স্মৃতিশক্তি প্রচণ্ড রকমের দুর্বল থাকার কারণে ঝগড়ার কারণ কারো মনে থাকত না। তবে ঝগড়ার ফলাফল নিজেদের মধ্যে জিইয়ে রাখত এবং সেটাকে হজম করার মতো করে চিরতরে মেনেও চলত। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে জ্যাকের শুধু মনে আছে, আর্নেস্ট খাওয়ার মাঝখানে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তার ভাইয়ের উদ্দেশে যেসব কথা বলছিল সেগুলোর মধ্যে শুধু মজাবাইট কথাটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। যোসেফিন তখন বসা অবস্থাতে খেয়ে যাচ্ছে। তারপর আর্নেস্ট তার ভাইয়ের ওপর চড়াও হলে সেও উঠে দাঁড়িয়ে আর্নেস্টের দিকে তেড়ে আসতে চেষ্টা করে। ততক্ষণে অবশ্য নানি আর্নেস্টকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছেন এবং জ্যাকের মা আবেগে ফ্যাকাশে হয়ে যোসেফিনকে পেছন থেকে আটকানোর চেষ্টা করছেন আর বলছেন, বাদ দে, ছেড়ে দে, ওকে কিছু বলিস না।

বালক হেনরি এবং জ্যাক ফ্যাকাশে হা করা মুখে তাকিয়ে সামনের নাটকীয় ঘটনা দেখছে আর একদিকে প্রবাহিত গালিগালাজের বন্যা শুনে যাচ্ছে। অবশেষে যোসেফিন উঠে বলল, ও একটা বোবা পশু; তোমরা ওকে কিছু বলতে পারো না! বলেই টেবিলের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত ঘুরে অর্নেস্টকে ধরার চেষ্টা করল। কিন্তু নানি আর্নেস্টকে ধরে আড়াল করে রেখেছেন বলে আর্নেস্টকে ছুঁতে পারল না সে। আর্নেস্টও মায়ের আড়াল থেকেই হম্বিতম্বি করতে লাগল ভাইয়ের উদ্দেশে।

দরজা ধপাস করে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও আর্নেস্ট চিৎকার করতেই লাগল, যেতে দাও আমাকে, যেতে দাও। আমি তোমাকে মারবোই।

কিন্তু নানি তাকে চুল ধরে টেনে এনে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বললেন, কী, তুই আমাকে মারবি, তোর মাকে মারবি! এত বড় সাহস তোর!

আর্নেস্ট ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার চেয়ারে বসে পড়ে বলল, না, না, তোমাকে না, ওকে। তুমি তো আমার আশীর্বাদের ঈশ্বরের মতো।

জ্যাকের মা খাওয়া শেষ না করেই নিজের ঘরে চলে গেলেন এবং পরদিন তার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো। সেদিনের পর থেকে যোসেফিন আর বাড়ি ফিরে আসেনি। আর্নেস্ট বাড়িতে নেই জানলে কালে ভদ্রে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।

আর্নেস্ট মামার ক্ষিপ্ত অবস্থার আরেকটা উদাহরণ ছিল। সেটা মনে করতে জ্যাকের ভালো লাগেনি কখনও। কারণ জানারও তাগিদ বোধ করেনি সে। আর্নেস্ট মামার মোাটামুটি পরিচিত আঁতোই নামের একটা লোক তাদের বাড়িতে কিছুদিন আসা যাওয়া করেছে। বাজারে তার মাছের ব্যবসায় ছিল। লোকটা মালতিজ থেকে আগত। দেখতে মোটামুটি ভালোই ছিল। হালকা পাতলা গড়নের এবং লম্বা। অদ্ভূত ধরনের কালো একটা হ্যাট পরত; গলায় একটা দোপাট্টা জাতীয় কাপড় থাকত।

সেটার ভাঁজ করা গিট্টু থাকত শার্টের নিচে। তখন মাথায় না এলেও জ্যাক পরে বুঝতে পেরেছে, ওই লোকটার যাওয়া আসার সময়ে তার মায়ের পোশাক আশাকও অনেকটা কেতাদুরস্ত হয়েছিল। উজ্জ্বল রঙের জামা কাপড় আর মুখে রুজ মাখতেন তিনি। ওই সময়টাতে মহিলারা তাদের চুল ছোট করে কাটা শুরু করে। তার পূর্বে তারা লম্বা চুলই রাখত। মাকে এবং নানিকে চুল বাঁধার দৃশ্যে দেখতে ভালো লাগত জ্যাকের। ঘাড়ের ওপরে একটা তোয়ালে ফেলে দিয়ে মুখে একগুচ্ছ চুলের কাঁটা আটকে রেখে অনেকক্ষণ ধরে তারা চিরুনি চালাতেন চুলের মধ্যে। তারপর চুলের গোছা ওপরের দিকে তুলে একটা ব্যান্ড দিয়ে আটকে দিতেন ঘাড়ের ওপরে। একটুখানি ফাঁকা ঠোঁটের মধ্য দিয়ে দেখা যেত দাঁতের সঙ্গে চুলের কাঁটা আটকে রেখেছেন। একটা একটা করে কাঁটা বের করে এনে চুলের খোপায় গুঁজে দিচ্ছেন। নতুন স্টাইল নানির কাছে হাস্যকর এবং লজ্জাকর মনে হয়েছিল। নতুন ফ্যাশনের কিছু না জানার কারণে যুক্তি-তর্কের বালাই না মেনেই নানি বলতেন যেসব মেয়েরা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তাদের জন্য ওই রকম হাস্যকর ফ্যাশন প্রযোজ্য।

জ্যাকের মা নানির মতামতের কথা মনে রেখেছিলেন বলা যায়। তবে বছর খানেক পর যখন আঁতোই লোকটার আনাগোনা শুরু হয়েছে তাদের বাড়িতে তখন একদিন সন্ধ্যায় মা চুল কাটা অবস্থায় বাড়িতে ঢুকলেন। সতেজ এবং নবযৌবনা মনে হলো তাকে। মা বললেন সবাইকে চমকে দেওয়ার জন্য তার ওই ধরনের কেতায় চুল কাটা। আসলে মুখে হাসি ফুটিয়ে কথা বললেও তার ভেতরটা উদ্বিগ্নতায় ভরা ছিল।

চলবে...

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের