বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

পর্ব-২

শিক্ষকের মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু

স্বাধীন বাংলাদেশে পথপরিক্রমায় এখনো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অনেকখানি বাকি রয়ে গেছ। যে দুঃখী মানুষের ভাবনা, তার মৌলিক চিন্তার অংশ-সেই জায়গাটি পূরণ করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু জনগণের সেই নেতা, যিনি বারবার উল্লেখ করেছেন তাদের কথা। তিনি ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোবর পাকিস্তান টেলিভিশন সার্ভিস ও রেডিও পাকিস্তান থেকে প্রচারিত ভাষণে বলেছিলে, ‘অর্থনীতির সর্বত্র মজুরি কাঠামো ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির গ্রাস থেকে নিম্ন বেতনভুক কর্মচারী ও অল্প উপার্জনশীল ব্যক্তিদের বাঁচাবার জন্য দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীলতা আনতে হবে।’ আজকের দিনে তাই বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু আর একবার এসে দাঁড়ান আপনার বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের পাশে।

করাচি মিয়ানওয়ালী কারাগারে নারীদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তাকে আটক করে রাখা হয়। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের দিন ছিল ৪ ডিসেম্বর। সেইদিন ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে বঙ্গবন্ধুর বিচারকারী ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের ডেকে পাঠান। তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির রায় লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই রায় স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে তাকে ভয় দেখানোর জন্য তার সেলের পাশে কবর খোঁড়া হয়েছিল। তিনি তার দশ জানুয়ারির ভাষণে বলেছিলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমার ফাঁসির হুকুম হয়েছিল, আমার সেলের পাশে আমার জন্যে কবরও খোঁড়া হয়েছিল। আমি মুসলমান। আমি জানি, মুসলমান মাত্র একবারই মরে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম, আমি তাদের নিকট নতি স্বীকার করব না। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয়বাংলা।’

বঙ্গবন্ধু তার অধিকাংশ ভাষণে নিজের জাতিসত্তা, নিজের দেশ, নিজের মাতৃভাষার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনিই সেই মানুষ, যিনি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেছিলেন নিজের মাতৃভাষায়। বাংলা ভাষাকে একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার আগে সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ১৯৭১ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউটে তাকে প্রদত্ত একটা সংবর্ধনা সভায় তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ-শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাক্সক্ষাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতি।’ একটি জাতির জন্য তিনিই সেই নেতা যিনি বুঝেছিলেন যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা কতটা জরুরি। এটাতো সত্যিই যে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা একটি জাতিকে মননে চেতনায় শাণিত করে। যে জাতি নিজস্ব সাংস্কৃতিক বোধে দীপ্ত নয়, সে জাতি শিকড়হীন পরগাছা মাত্র। বাংলাদেশের অনেক অর্জনে নিজেদের সাংস্কৃতিক বোধকে সমুন্নত রাখতে পেরেছিল বলেই বাঙালি তার আত্মমর্যাদায় দরিদ্র নয়। প্রতিটি সংকটে-সংগ্রামে সাংস্কৃতিক বোধ দিয়ে এ জাতি তার সংকটের উত্তরণ ঘটিয়েছে।

আবার ফিরে আসি বঙ্গবন্ধুর দশই জানুয়ারির ভাষণে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করি...। আমি যখনই চাইব, ভারত বাংলাদেশ থেকে তার সৈন্য বাহিনী তখনই ফিরিয়ে নিবে।’ আমরা জানি কোনো দেশ থেকে সাহয্যকারী সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়া কত কঠিন। বঙ্গবন্ধুর মত অসাধারণ ব্যক্তি সেদিন আমাদের সামনে ছিলেন বলেই বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের সেনাবাহিনী ’৭২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়েছিল। নিজেদের সার্বভৌমত্বের দিকে তাকিয়ে এ কথা বলতেই হয় যে, বঙ্গবন্ধুর এই নানামুখী চিন্তা এই দেশ ও জাতিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে।

সে দিনের ভাষণে তিনি আর একটি প্রসঙ্গের কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা অন্যায়ভাবে আমাদের মানুষদের মেরেছে তাদের অবশ্যই বিচার হবে। বাংলাদেশে এমন পরিবার খুব কমই আছে, যে পরিবারের লোক মারা যায়নি। আজকে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু হচ্ছে। আমাদের গভীর বিশ্বাস এ বছর বিচারকাজ সম্পন্ন হবে এবং রায়ও কার্যকর হবে। যতদিন একটি দেশে অপরাধ টিকে থাকে ততদিন সে দেশের মানুষের মাথা অবনত থাকে। মানুষ চায় ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে নিজের মাথাকে সোজা করে রাখতে। আমাদের বিপুল অর্জন আছে। ব্যর্থতার জায়গাও কম নয়। তারপরও নিজেদের জন্য নিজেদেরকে বড় করে তোলার পক্ষে চেষ্টা নিরন্তর। আমরা এই নিরন্তর সাধনা থেকে বিচ্যুত হব না। এই প্রতিজ্ঞা আমাদের আগামী প্রজন্মের। এ প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগোতে চাইলে পিছু হটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। মৌলবাদের উত্থান রহিত হলে যুদ্ধাপরাধী দেশ থেকে নির্মূল হবে।’ সেদিনের ভাষণে তিনি এ প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশে যে নির্বিচার গণহত্যা করেছে, তার অনুসন্ধান ও ব্যাপকতা নির্ধারণের জন্য আমি জাতিসংঘের নিকট একটা আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠনের আবেদন জানাচ্ছি। আমরা মনে করি যুদ্ধাপরাধীর দায় বহন করার মত গ্লানি থেকে মুক্ত হবে এই জাতি।’

বঙ্গবন্ধু ১০ই জানুয়ারির ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, আমাদের দেশ হবে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক দেশ। এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, হিন্দু, মুসলমান সবাই সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে।’ প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে এটি একটি বড় শিক্ষা। চেতনা সমৃদ্ধ করার দিকদর্শন। প্রত্যেক ব্যক্তি যদি এমন ভাবনায় আলোকিত থাকেন তবে দেশে দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। মৌলবাদের উত্থান ঘটবে না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার দিন নিঃশেষ হবে। মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করবে। সব ধর্মের অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রত্যেক ধর্মের মৌলিক সত্যকে নিজেরা বুঝবে। আমাদের সামনে এক অসাধারণ শিক্ষার বার্তা। আমি এই বার্তা ধারণ করে শিক্ষক বঙ্গবন্ধুর কাছে কৃতজ্ঞ থাকি।

বইপড়ার বিষয়টি বঙ্গবন্ধু যেভাবে দেখেছেন এটিও আমার জন্য শিক্ষার একটি দিক। সাধারণ মানুষ যদি কাজের অবসরে বই পড়েন তাহলে সামাজিক মূল্যবোধের একটি বড় জায়গা তৈরি হবে। পরিবারে বইপড়ার চর্চা থাকলে শিশুদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুদের হাতে ওদের পছন্দের বই পড়তে দিলে ওদের মানসিক বিকাশ বড় পরিসরে গড়ে উঠবে। ও চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদি যেভাবেই জীবন ধারণ করুক না কেন মানসিক বিকাশ গড়ে উঠবে ভিন্ন মাত্রায়। এর দ্বারা আমাদের সামাজিক অবক্ষয় রোধ হবে। মূল্যবোধের অভাব আমাদেরকে নিকৃষ্ট ধারণায় ফেলে দেবে না। বই পড়ার চিন্তা রেখে শিশুরা গড়ে উঠুক। আমরা সুন্দর সামাজিকতায় দিনযাপনের সুযোগ পাব। নারী ও শিশুদের প্রতি নানা ধরণের নির্যাতন আমাদের মর্মাহত করবে না। বঙ্গবন্ধুর এই শিক্ষা সামগ্রিকভাবে সমাজ বিনির্মানের বড় দিক।

বঙ্গবন্ধু নিজে লেখক ছিলেন। তিনটি বই রচনা করেছেন। এই তিনটি বইয়ে বঙ্গবন্ধুর লেখক সত্তার অসাধারণ পরিচয় পাওয়া যায়। ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ে লিখেছেন: ‘বন্ধু শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ বইটি পড়তে শুরু করেছি। লাগছে ভালই, বাইরে পড়তে সময় পাই নাই।...রুমে বসে লেখাপড়া করা ছাড়া উপায় কি! তাই পড়লাম বইটা...।’ তিনি আর এক জায়গায় লিখছেন : ‘আজ আর খবরের কাগজ আসবে না। মিলাদুন্নবীর জন্য বন্ধ। দিন কাটানো খুবই কষ্টকর হবে। আমি তো একাকী আছি, বই আর কাগজই আমার বন্ধু। এর মধ্যেই আমি নিজকে ডুবাইয়া রাখি। পুরানা কয়েকটা ইত্তেফাক কাগজ বের করে পড়তে শুরু করলাম।’ এই বইয়ে বঙ্গবন্ধুর পড়া বিদেশি বইয়েরও উল্লেখ আছে। তিনি এমন বইপ্রিয় মানুষ ছিলেন। এখানেও তাকে আমি শিক্ষক হিসেবে পাই। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চেতনায় তিনি একজন প্রদীপ্ত মানুষ। তিনি আমাদের সামনে নেই, কিন্তু জীবন পরিচর্যা করার দিকদর্শন রেখে গেছেন। আমাদের দায়িত্ব স্বাধীন দেশের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে আমার যা করতে পারিনি, এই নৈরাজ্য যেন আমরা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারি। আগামী পঞ্চাশ বছরে গড়ে উঠুক স্বাধীনতার স্থপতির স্বপ্নের বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর সব কথার মধ্যে শিক্ষার অন্তর্নিহিত বাণী গেঁথে আছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয় ব্যক্তি মানুষের জন্যও এই কথাগুলো শিক্ষার বড় দিক। শিল্প-সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে মানুষের প্রতি অনুভবের মাত্রা বাড়ানোর এটি একটি দিক। এ জন্য বঙ্গবন্ধুকে আমি জীবন-শিক্ষক মনে করি। বাংলা ভাষার একজন লেখক হিসেবে শিক্ষক বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণে রাখি। তিনি আমার সামনে গৌরব অর্জনের নীতি নির্ধারক। শিক্ষকতার মানদন্ডে তার বিপুল পরিসর চেতনায় রাখি।

লেখক: সভাপতি, বাংলা একাডেমি ও কথাসাহিত্যিক

 শিক্ষকের মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু: পর্ব-১

Header Ad
Header Ad

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা ভারতজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূসের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর এক আলোচনায় এস জয়শঙ্কর ভারতের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "ভারতের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধুমাত্র পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে না, বরং তাদের অনেককে সংযুক্তও করে। ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।”

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও কৌশলগত সংযোগকে আরও মজবুত করেছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এই বৃহত্তর ভৌগোলিক অঞ্চলে পণ্য, পরিষেবা ও মানুষের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভারত সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত এক দশকে ভারত বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে।"

তিনি আরও দাবি করেন, "সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়, পক্ষপাতমূলক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের বক্তব্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে এনেছে। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। বিশেষ করে, ভারত যে বাংলাদেশকে ভৌগোলিক প্রবেশাধিকার ছাড়াই নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে চায়, তা আরও স্পষ্ট হলো।

এই বিতর্ক বিমসটেকের কৌশলগত পরিকল্পনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বর্ণের দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেল ৪টার দিকে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করা সব দেশের ওপর নতুন রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশভেদে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮.৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১২৯.৪৬ ডলারে, যা আগের চেয়ে ০.৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ দাম প্রায় ৩,৭৬,৮৯৯.৩৩ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে বলেন, “নতুন এই শুল্ক পরিকল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কঠোর। এর ফলে স্বর্ণের বিক্রি আরও বাড়বে এবং ডলারের মান কমতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্বর্ণের বাজার এখনো চাঙা, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে। খুব শিগগিরই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,২০০ ডলার (প্রায় ৩,৮৫,৩৯৪.৮৮ টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। করোনা মহামারির পর থেকেই ডলারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের অন্যতম বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া, বিনিয়োগকারীরাও ডলারকে পুঁজি রাখার পরিবর্তে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন শুল্ক নীতি বাস্তবায়ন করে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা এর মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

Header Ad
Header Ad

গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং চিৎকার করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানান। কেউ কেউ চিৎকার করে বলছিলেন, ‘ভাই, পানি দেন, আমাদের বাঁচান।’

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সাতখামাইর রেলস্টেশন এলাকায় ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলের কর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ধলা স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে হঠাৎ ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। মুহূর্তেই সেই ধোঁয়া আগুনে রূপ নেয়। আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকলে যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং অনেকে দ্রুত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর অনেক যাত্রী জানালা দিয়ে পানি চেয়ে চিৎকার করেন। চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে দমবন্ধ হয়ে পড়েন অনেকেই।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল রুটের জয়দেবপুর জংশনের স্টেশন মাস্টার আবুল খায়ের চৌধুরী জানান, ‘জয়দেবপুর জংশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও আগুন লাগার পর সাতখামাইর এলাকায় সাময়িকভাবে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।’

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ফায়ার ফাইটার বেলাল আহমেদের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন নেভানোর পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহতের তথ্য জানতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ভ্যাল কিলমার আর নেই