বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ২২ মাঘ ১৪৩১
Dhaka Prokash

লবণের দাম চড়া, কারণ জানে না বিসিক!

দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা। অথচ লবণ দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হওয়া লবণের দাম কে বা কারা নির্ধারণ করে সেটা জানে না সরকারের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। দেশে উৎপাদিত লবণের দাম কেন এত বৃদ্ধি পেয়েছে তার কারণও জানে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিক।

চাল-ডাল, তেল, সাবানের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই তরকারিকে সুস্বাদু করা লবণের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। বিশেষ করে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ লবণ, কনফিডেন্স, মোল্লা, এসিআই বাজারে যে লবণ বিক্রি করছে তা ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি দরে। আর দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টিকে।

রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপগুলোতে যে বেশি দামে লবণ বিক্রি করা হচ্ছে সেটি ধরা পড়েছে খোদ জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার অভিযানে।

অবশ্য ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার দেখভাল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাই চাল, চিনি, সয়াবিন তেল, আটা-ময়দা কোম্পানির ব্যাপারে আমরা খতিয়ে দেখছি। কিন্তু লবণ কোম্পানির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এর দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে এটা তারা বলতে পারবে। কারণ লবণ কোম্পানিগুলো লাইসেন্সও বিসিক থেকে নিয়ে থাকে। কাজেই কিছু জানতে হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

লবণের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে বিসিকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহবুবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘আমরা লবণের উৎপাদন ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটা দেখে থাকি। কিন্তু দাম নির্ধারণ করি না। কাদের সঙ্গে আলোচনা করে লবণ কোম্পানিগুলো দাম নির্ধারণ করে তাও জানি না। তবে কিছু দিন আগে তাদের বলা হয়েছিল কোনোক্রমেই যাতে লবণের দাম বৃদ্ধি করা না হয়। কারণ দেশে প্রচুর লবণের চাষ হচ্ছে। তাই লবণের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ দেখি না। আবারও তাদের বলা হবে।’

এদিকে মোহাম্মদপুরের খুচরা মুদি ব্যবসায়ী রুবেলের প্রশ্ন-লবণ দেশে উৎপাদন হয়। শুধু প্রসেসিং ও প্যাকেটের জন্য যা খরচ হয়। সেই লবণের প্রতি কেজির দাম কেন ৩৮ টাকা? এটাও কি ডলারের সঙ্গে যুক্ত, না ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত? অন্য জিনিসের মতো এতো দাম বৃদ্ধি হয় কীভাবে? এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা তো দাম বাড়াতে পারি না। কোম্পানিই তো ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করছে। আর আমরা কাস্টমারের গালি খাচ্ছি। এটা দেখা দরকার সরকারকে। কারণ কয়েক মাস আগে প্রতি কেজি প্যাকেট লবণ ৩৫ টাকার কম বিক্রি করা হতো।

শুধু ওই খুচরা ব্যবসায়ীই যে ক্ষুব্ধ তা না, তার মত অন্য ব্যবসায়ীরা এবং ভোক্তারাও চরমভাবে ক্ষুদ্ধ লবণের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে। রুবেল নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন অভিযোগ করে বলেন, যে যার মতো করে দাম নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের বেতন তো বাড়েনি। এমন কি হয়েছে যে কেজিতে আট থেকে ১০ টাকা বেশি নিতে হবে। এভাবে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিনাবাজার, আগুরা, স্বপ্ন সুপারশ, নন্দনসহ বিভিন্ন সুপারশপে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ লবণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি। সেই লবণ তাদের কাছে মেঘনা গ্রুপ বিক্রি করেছে ২৯ টাকা ৬৪ পয়সা। সুপারশপ লাভ করেছে আট টাকা ৩৬ পয়সা বা ২৮ শতাংশ। একইভাবে কনফিডেন্স লবণের কেজি ওই সুপারশপে ২৮ টাকা ৫০ পয়সা বিক্রি করা হয়েছে। ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ৩৮ টাকায়। কেজিতে লাভ করছে সাড়ে ৯ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

একইভাবে মোল্লা সল্টও বিভিন্ন সুপারশপে ৩১ টাকা ১৬ পয়সা বিক্রি করা হচ্ছে। সেই লবণ ভোক্তারা কিনছেন ৩৮ টাকা কেজি। কেজিতে লাভ করছে ছয় টাকা ৮৪ পয়সা বা ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে এসিআই একটু কমে অর্থাৎ ৩৩ টাকা ৯ পয়সা বিক্রি করছে সুপারশপে। আর ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি দরে। কেজিতে বিভিন্ন সুপাশপ লাভ করছে চার টাকা ৯১ পয়সা বা ১৪ দশমিক ৮০ পয়সা। এ ছাড়া বিভিন্ন দোকান থেকে প্রায় সব কোম্পানির লবণ ৩৮ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

ফ্রেশ বান্ডের লবণ বেশি দামে বিক্রির ব্যাপারে জানতে মেঘনা গ্রুপের ডেপুটি অ্যাডভাইজার মো. শফিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হাসনাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে প্রথমে বলেন, এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাডভাইজার সব কিছু নির্ধারণ করেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন। তার ফোন বন্ধ তাই আপনার কাছে চানতে চাওয়া হচ্ছে। তখন তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সুপারশপসহ খুচরা পর্যায়ে যে লবণ বিক্রি করি তার এমআরপি আমরাই নির্ধারণ করে থাকি। তারা সেই দরে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে। লাভের অংশ খুব বেশি না, ২৮ শতাংশ। তা স্বীকার করে তিনি বলেন, হ্যাঁ, অন্য পণ্যের তুলনায় লাভ একটু বেশি। তা বিবেচনা করা হবে।

এসিআইর ব্র্যান্ড ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, এটা আমি দেখি না। পরে এসিআই লবণ এর ম্যানেজার মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, কোম্পানি থেকে লবণের এমআরপি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন সুপারশপের সঙ্গে চুক্তি করে ৩৩ টাকা ৯ পয়সা বিক্রি করি। তারা ৩৮ টাকা কেজি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে। এ ছাড়া ডিলারদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছেও লবণ বিক্রি করা হয়। ৩৮ টাকা কেজি বেশি না। তেমনভাবে দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ ৫ থেকে ৬ মাস আগে ৩৫ টাকা কেজি ছিল। এরপর ম্যাটেরিয়ালসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এটা তো দেশে উৎপাদন হয়, প্রসেসিং ও প্যাকেটিংয়ের জন্য কি বেশি দাম? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদা বেশি পাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মোল্লা সল্ট ও কনফিডেন্স সল্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, চাল, চিনি, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, মুরগি ও ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সম্প্রতি বিভিন্ন কারখানার মালিক, ডিলার, পাইকারি ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির নেতাদের ডেকে বৈঠক করেছে। সেখানে এভাবে দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওযা হয়। কিন্তু তারা কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশি দাম আদায় করার প্রমাণ পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশও করেছে।

তাদের এই সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন অনুসন্ধান করে দেখে যে, কোনো কারণ ছাড়াই ইউনিলিভার, সিটি, প্রাণ, এসিআই, মেঘনা গ্রুপসহ রশিদ, এরফান চালকল মালিকরা বেশি দাম আদায় করছে ভোক্তাদের কাছে। বাধ্য হয়ে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওই সব মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। কেউ সঠিত তথ্য দিতে পারছে না। জবাব দিতে সবাই সময় নিচ্ছে।

এনএইচবি/আরএ/

Header Ad
Header Ad

আজ বন্ধুর সাথে গোসল করার দিন

আজ বন্ধুর সাথে গোসল করার দিন। ছবি: সংগৃহীত

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি, বন্ধুর সাথে গোসল করার দিন। প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে গোসল উপভোগ করতে পারেন। আবার গোসলকে নিয়মিত কাজের থেকে একটু বেশি আকর্ষণীয় বা স্মরনীয় করতে চলে যেতে পারেন দূরে কোথাও।

সেটা হতে পারে সমুদ্র বা সুইমিং পুল। আবার চলে যেতে পারেন গ্রামের পুকুরে। শৈশবের মতো দাপিয়ে গোসল করতে পারেন নদী, খাল-বিলেও। এতে বন্ধুর সাথে সুসময় কাটানোর পাশাপাশি শরীর ও মনে আসবে তাজা অনুভূতি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ডেনভার শহরের একটি কোম্পানি ২০১৪ সালে ৫ ফেব্রুয়ারিকে 'ন্যাশনাল শাওয়ার উইথ এ ফ্রেন্ড ডে'- হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করে। পরে ২০১৫ সালে এটিকে দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য সুস্থ ও জীবানুমুক্ত গোসলে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইন। মূলতে শীতকালে গোসলের ভীতি দূর করে উপভোগ্য করতে করণীয় নানা বিষয় মাথায় রেখে কোম্পানিটি পণ্য উৎপাদন করে। যেমন, উন্নতমানের শাওয়ার, ওয়াটার হিটার, গিজার, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার ইত্যাদি।

 

Header Ad
Header Ad

২ আলাদা বিভাগসহ দেশকে ৪ প্রদেশে ভাগ করার সুপারিশ

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।

পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশকে ৪টি প্রদেশে ভাগ করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশও করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে গ্রেটার সিটি ‘ঢাকা ক্যাপিটাল সিটি’ গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন।

এছাড়া ইমিগ্রেশনের জন্য পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। পাবলিক সার্ভিস পৃথক করে তিনটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

এদিকে বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিচার বিভাগ কোনো দিনও স্বাধীন ছিল না, তাই কমিশন পুরোপুরি স্বাধীন করার প্রস্তাব দিয়েছে। স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস নিয়োগের সুপারিশ করেছে কমিশন। এছাড়া স্বতন্ত্র তদন্ত সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছে বিচার সংস্কার কমিশন। পুলিশী তদন্ত অনেক সময় রাজনৈতিক হয়ে থাকে এজন্য এটা দরকার বলে জানানো হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট উপজেলা পর্যন্ত নেয়ার সুপারিশ, আর বিভাগীয় পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

কমিশনগুলোর প্রস্তাবনা নিয়ে সবার সঙ্গে আলাপ করে প্রাইরোটি বেসিসে কিছু প্রস্তাবনাকে একত্রিত করা হবে যেখানে সব পক্ষের স্বাক্ষর থাকবে সেটার নাম হবে জুলাই চার্টার। এই জুলাই চার্টাররের কতটুকু বাস্তবায়ন করতে চায় রাজনৈতিক দলগুলো তার উপর নির্ভর করছে নির্বাচন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর।

Header Ad
Header Ad

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামিসহ সবাই খালাস

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

হাইকোর্টের রায়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনসহ সকল আসামি খালাস পেয়েছেন। ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এই রায় দেওয়া হয়।

আজ বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কায়সার কামাল ও মো. মাকসুদ উল্লাহ, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান।

এর আগে, গত ৩০ জানুয়ারি মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ মামলায় ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং আসামিরা খালাস চেয়ে আপিল করেন। আজকের রায়ে সবাইকে খালাস দেওয়া হলো।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "এই মামলায় আইনের চরম অপপ্রয়োগ হয়েছে। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল একটি পক্ষপাতদুষ্ট রায়। মামলার তদন্তও ছিল দুর্বল, অবহেলাজনিত ও কাল্পনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।"

তিনি আরও বলেন, "এই মামলায় দণ্ডিত ৪৭ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে দুজন মারা গেছেন। বাকি ৪৫ জনের মধ্যে ৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন, আর বাকিরা গত ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।"

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে হামলার শিকার হন। ট্রেন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। প্রথমদিকে বিএনপির ছাত্রদল নেতা ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

পরের বছর তদন্তে কোনো সাক্ষী না পাওয়ায় পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যা তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে গৃহীত হয়। তবে আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল পুলিশ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ৫২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘদিন বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর অবশেষে আজ হাইকোর্টের রায়ে সকল আসামিকে খালাস দেওয়া হলো।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

আজ বন্ধুর সাথে গোসল করার দিন
২ আলাদা বিভাগসহ দেশকে ৪ প্রদেশে ভাগ করার সুপারিশ
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামিসহ সবাই খালাস
হাসিনার লাইভ প্রচারের আগেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজ উধাও
হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা
বিচারবিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর
গাজীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবজিবাহী পিকআপ খাদে, চালকসহ নিহত ৩
নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে জনগনের মতামত চাইলো হাসনাত  
এই ফটো তোলোস কেন? আদালত চত্বরে শাহজাহান ওমর  
মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার ভক্ত : প্রেস সচিব  
পটুয়াখালীতে বাংলাভিশনের সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম  
উত্তরবঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল বিক্রি বন্ধ
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাত আজ  
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে কড়া বার্তা হাসনাত আবদুল্লাহর  
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আজ    
সুইডেনে স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত ১০ জন  
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত গ্রেফতার  
জাবিতে পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের ঘোষণা  
মুসলিম লীগ যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, আওয়ামী লীগও বিলুপ্ত হবে : সলিমুল্লাহ খান
ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ রাব্বীসহ ৮ বুয়েট শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার